সোনালী মিত্রের কবিতাগুচ্ছ

আজ ১৮ নভেম্বর কবি, সম্পাদক সোনালী মিত্রের শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার কবিকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


 

স্বর্গীয় পাপ

কাউকে বলা হয়নি

আমার স্বর্গীয়পাপ এবং দুরারোগ্য ব্যাধির কথা

কাউকে বলা হয়নি

প্রতিটি বৃক্ষের কোটরে থাকে ভালোবাসার স্পর্ধা

বাকলে থাকে ভাঙনের রুদালি

#

কৃষ্ণগহ্ববরের অতলে প্রসিদ্ধ ঠোঁট ডুবিয়ে দেখেছি

নোনাস্বাদ নেই , জলীয়গন্ধ নেই , এমনকি ঘামের অনুতাপ নেই

চোখের বোধিসত্ত্বে নির্মাণ কিংবা নির্বাণ নেই

শুধু প্রাণীজ হাড়ে ক্ষয়বিষ প্রবাহ

#

অস্বস্তিকর সংখ্যাতত্ত্ব জুড়ে বসে আছি ঘড়িরকাঁটায়

অদক্ষ আগুনে বারবার ঝলসে যাচ্ছে দেহ , পোড়া রূপ নিয়ে

কোনভাবেই ছুঁয়ে দেওয়া যায় শিল্পসম্ভার ?

কাউকে বলা হয়নি , রূপহীন মগজে শুধু কেমিক্যাল বন্ধন

ছুঁয়ে দাও , ছুঁয়ে যাও — লয়, স্থিতির আগে সৃষ্টি বারংবার

ডোনেশন কাম্প

চুমুর বোধহয় কোন জাত-ধর্ম হয়  হয় না,

ডোনেশন ক্যাম্পের  এর-ওর রক্তচুম্বন করতে করতে,

যদি বলতে পারতাম –  খালাসীটোলার বদরক্ত,

লবণ-ঘাম দেহাতী রক্তপ্লাজমা আহা: কী স্বাদ !

চুমুর কোন জাত হয় না বলেই ফুটের শিশুভোলানাথ,

মায়ের রোদপোড়া স্তনে মুখ রেখে  এঁকে দিচ্ছে

প্রাগৈতিহাসিক পোর্ট্রেট। একে -অপরের মদথুথু- দুর্গন্ধথুথু

চেটে খেতে খেতে  অপভ্রংশ চুমু থেকে

প্রেমিকার স্ফীতোদরে রেডলাইট এই শহুরে যীশু

লিপস্টিকে তখন  মদ মায়া  আর সমুদ্রঘাত

রাজ আইন  ভেঙে একবার প্রকাশ্যে চুমু খাব…

তোমাদের ধ্বজভঙ্গ দরজায় খিল এঁটে  দিও  , যদি ভাবো

ইদানীং শরীর থেকে শরীর তুলে নিতে রোমকূপে  জেগে

উঠছে অপূর্ব কামজল।রক্তরসে জিভে যাক ধর্মের ও

প্রগতির  পেটিকোট ত্বকের নীচে বাজতে থাকুক

নস্টালজিক দেহেরবাতিক…

এস নগ্ন স্কেলটোনে,ভ্যাম্পেয়ার ,   লকলকে  ঠোঁটে

এস এস, তোমার  রক্তে প্রকাশ্যে  চুমু খাই

পাপ-৩

পেটের আগুন গিলে নিয়েছে অতীত
খিদের কোনও লৌকিক সমাজ থাকে না
থাকে না পয়সার কোন ধর্ম কিংবা জাত।
সাদা ব্লাউজের মসলিনপর্দায় কালো অন্তর্বাস ফিতে
লোলুপ গিলে নিচ্ছে তামাম শহর…তামাম জীবন্ত আগুন
রাতের এক- একটা দানব ট্যাক্সি ধেয়ে আসছে
হরিণী ধরা বাঘের মত
সিটে চেপে বসতে পারলেই শরীর কখন যে
ছোট খোকাখুকির ভাত হয়ে যায় !
ভাত আর লিঙ্গের মাঝখানে আমৃত্যু থাকে
ঈশ্বরের মৃতমুখ…


পাপ-৪

এ তদন্ত থেকে মুক্তি দিন মহামান্য …
শহরের আনাচে কানাচে ডাস্টবিনে মিলেছিল দেহ টুকরো।
জোড়া দিয়ে দিয়ে ছোট্ট একটা শরীর
কতই বা হবে!আট কিম্বা দশ!
তার মাকে দেখেছিলাম পাথরপ্রতিমা সম
শোকে -তাপে!… না পরিতাপে?
কি দোষ ছিল সে খোকার!
পরিতোষ কাকুর দেওয়া খেলনা গাড়ি ফেলে
প্রতি দুপুরে মা আর কাকুর ঘাম ঘাম খেলা খোকার চক্ষু বন্দী!
মা -পাথর চোখে জল দেখিনি
কাঁদ মা একবার তুই কাঁদ,
তুই না কাঁদলে জন্মভূমি কর্দমাক্ত হবে
তোর চোখ ও বৃষ্টির মাঝখানে থাক খোকা জন্মের নাড়ি ছেঁড়া ধন।
কাঁদ মা একবার কাঁদ,
তোর মা নামের সংজ্ঞায় জন্মাক দূর্গন্ধহীন একটুকরো পবিত্রকাপড়।


পাপ-৯

লোকটার বড্ড খিদে পায়।সে চেটেপুটে খেয়েছে কামদুপুর
এখন পড়ে আছে, নিথর ছোট্ট তুলতুলে শরীর
যেন বাঘে খাওয়া হরিণের ছানা।
বড্ড খিদে পায়…
লজেন্স খাবে খুকুমণি?এই দেখো পকেটে ভর্তি ললিপপে,
এই নাও। আরো দেবো ঘরের ভিতরে যদি আস!
গেম খেলার মোবাইলও আছে।নেবে!
শিখিয়ে দেবো সব খেলা।শিখিয়ে দেবো ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা,
সুড়সুড়ি… সুড়সুড়ি।খুব মজা হবে।
মা কে বলবেনা কেমন!
বড্ড কষ্ট হচ্ছে সোনামণি?এই হয়ে এল।আর একটুখানি …
আহা শিহরণ… ঝিম ঝিম
বলবেই মাকে?ওরে সর্বনাশ …
খুব খিদে পায়।বয়োবৃদ্ধ বাঘ খায় কামছবি খায় কামদুপুর
কচি মাংসের সাথে খায় প্রাণবায়ু ।
লোকটার বড্ড খিদে পায়।
নিথর শরীর খেয়ে ধুয়ে ফেলে দাঁতে লাগা বিকৃত কামকষ ।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত