সরি বাবা…


বাবা বিশ্বনাথ বসুর সাথে চন্দ্রাণী বসু

আমি খুব নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার এর মেয়ে।আমি তখন ক্লাস সিক্স এ পড়ি।বাবার ব্যাবসা হঠাৎ ই বন্ধ হয়ে যায়।পরিবারে ছয়জন সদস্য। আমার বাপীই একমাত্র রোজগেরে মানুষ। অর্থনৈতিক টানাপোড়েন তখন আমাদের দুই বোনের বোঝার বয়স ছিলও না আর বুঝতে দেওয়াও হত না।
সেই সময় ই  একদিন স্কুলে একটি অঙ্কন প্রতিযোগিতা ছিল।আমার রং এর বাক্স ছিল।তবে বেশ পুরোনো।বন্ধুদের সবার নতুন রঙের বাক্স। ফলে বাড়ি এসে বায়না জুড়লাম।প্রচন্ড কান্নাকাটির পর বলেছিলাম নতুন রঙের বাক্স না পেলে স্কুল ও যাব না আঁকতেও না। মা এর কাছে দু ঘা খেয়েওছিলাম মনে আছে। বাবা ই বাধা দিয়েছিল মা কে।রাতের বেলা বাবা বাড়ি ফিরল।বায়নার তোড় অনেকটাই কমে এসেছে তখন।
আমায় ডেকে রং এর বাক্স টা হাতে দিল। ক্যামেলর চব্বিশটা রঙের নতুন বক্সের বায়না ছিল। হাতে পেলাম আটচল্লিশ কালারসের বাক্স। স্বাভাবিক ভাবেই খুশী দ্বিগুণ।
বাবা বলেছিল……যা মন ভরে রং কর।কোথাও কোনো রং যেন তোর একটু ও কম না পড়ে।….
সেদিন বুঝিনি এ কথার মানে। আজ বুঝি। এখানে ঘটনাটা শেষ হলে বেশ ভালোই হত। কিন্তু এর পরের দৃশ্যের জন্যই আজ ও আমার স্মৃতিতে দিনটা রয়ে গেছে।
এরপরই বাবা গায়ের শার্ট টা খুলে ফেলে। বাবার গায়ের গেঞ্জীটা শতচ্ছিন্ন। পরা আর না পরা সমান। তার আগে কখনো খেয়াল করিনি। রঙের বাক্স হাতে সেদিনই যেন খেয়াল পড়ল। খুব কান্না পেল। নিজের অপরাধ বোধ থেকেই। সবাই জানতে চাইল আবার কাঁদছি কেন? আমি আর বলতে পারি নি কেন।
বাবা ই শিখিয়েছিল…. বাবা কে কোনোদিন সরি না বলতে। বাবা এখনো বলে মুখে সরি বলতে হবে না । ভুল নিজে ফিল করলেই হবে। তাই সরিটা আর কোনোদিনই বলা হয় নি। কিন্তু ওই দিনের অপরাধ বোধটা আজও আমায় তাড়া করে বেড়ায়।
SORRY BABA…

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত