সৌরিশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একগুচ্ছ কবিতা

১৪ মে কবি সৌরিশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার কবি কে জানায় জন্মতিথির শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


“তোমার সাথে একটা রাতে শহর জুড়ে অসুখ যাপন,
একফালি চাঁদ হাতের মুঠোয় আরেক মুঠোয় অবুঝ শাসন !
তোমার সাথে দু এক পায়ে নীল কুয়াশার সন্ধ্যে নামে
ডানায় ভেসে মেঘের দেশে সময় যদি একটু থামে ll

 

 

বৃষ্টি

ফিরে যাওয়া সম্পর্কের হাতে মাথা নিচু করে ভিক্ষা করেছি একটা পূর্ণিমা রাত , আরও একবার খুঁজে নিতে স্বচ্ছতাকে, আরও একবার খুঁজে নিতে কলঙ্কের প্রকাশ । ভিক্ষা করেছি জোয়ারে সমর্পিত বিচ্ছিন্ন জলরাশিকে যা শুধুই সময়ের হিসেবে মিশে যায় স্রোতের পিঠে স্রোত জমিয়ে । চোরা বালিতে হারিয়ে যাওয়া দুটো হাত হয়ত মিলবে ভূখণ্ডের কেন্দ্র বিন্দুতে, তাতে মধ্যাকর্ষনের প্রভাব কতটা তা না জানলেও চলে, কারণ তাতে প্রকট আত্মার পুনর্মিলন চাহিদা । আমি তারই ভিক্ষা করে চলি প্রতিটা প্রবীণ সূর্যের কাছে, প্রতিটা নবীন সূর্যের প্রতীক্ষায় । ফিরে আয় বৃষ্টি তুই ফিরে আয় আরও একবার তুই ফিরে আয় ।।

 

 

অ – রাজনৈতিক খুন

একটা নির্ভেজাল রাত আর কিছু গুটি পোকা
শহরেরে বুকে বেড়ে চলেছে সময় ঘণ্টার হিসেব বেঁধে ,
দল বদলের সাথে কস্মেটিক্স এর রং ফ্যাকাশে হয়ে উঠছে…
ঝরে পড়ছে লবনাক্ত জল ,
চেটে নিচ্ছে ওজন পাল্লার কারিগর –
প্রতিটা ল্যাম্প পোষ্ট এর নিচে জমা আলো আধাঁরীতে ।
গড়ের মাঠে কান পেতে শুয়ে থাকে বেকার যুবক
কিছু অক্ষর সন্ধানে , প্রতিবাদ সন্ধানে
গুনে যায় রাতের তারা একটা , দুটো , তিনটে করে,
চৌরাস্তার মোরে কুয়াশা মাখা পাতায় ভরে ওঠে ফ্যাসিবাদী বর্বরতা।
পান চেবানো মুখে রায় দিতে বসেন মার্কস
সর্ব শেষ খুঁজে না পাওয়া , গুটি পোকাদের চিহ্নিত করনের ।।

 

 

মুক্তির জানালা

সভ্যতার সীমানা ছাড়িয়ে যেতে যেতে যেদিন হারিয়ে গিয়েছিলাম নিরুদেশে , শ্মশানের বুকে পড়ে থাকা আধ পোড়া মাংসে লেখা হয়ে গেছিল আমার দিনলিপি , আর সিগারেটের ধোঁয়ায় উড়তে থেকেছিল আমার আত্মার আকুতি। সেদিন ঘোমটার আড়ালে বসন্তের রোদ সেঁকে নিতে নিতে খ্যাঁক খ্যাঁকে হাসিতে ফুটে উঠেছিল আমার মৃত্যুর ফরমান । আমি ঘুম ঘুম চোখে শেষ বারের মত তোর হাতটা চেয়েছিলাম , তুই বারোয়ারি রঙ ঘসে দিয়েছিলি আমার চোখে মুখে , গলায় জড়িয়ে দিয়েছিলি ফাঁসুড়ের বরমাল্য । সময়ের সাথে আমার চোখ দুটো যখন ঠেলে বেড়িয়ে আসছিল, নিঃশ্বাস যখন আটকে যাচ্ছিল গলার কাছে ,অবিন্যস্ত ভাবে ছুটে চলেছিল আমার পা , তখুনি দেখেছিলাম তোর হাত ছুঁয়ে আছে স্বপ্নের রামধনু আগামীর প্রতীক্ষায় ।
সুখে থাক তুই সুখে থাক মুক্তির জানালায় ।

 

 

এক মিনিট নীরবতা

অন্ধকার যখন আরও ঘন হয়ে উঠেছিল ,
পাখিদের বোবা কান্না যখন মুখ থুবড়ে পড়েছিল
অশান্ত সমুদ্রের পাথুরে তটে , আমি এক মিনিট নীরবতা পালন করেছিলাম ।

তোর হিংস্র ভালবাসার আঁচড়ে যখন আমার সমস্ত অস্তিত্ব রক্তাক্ত হয়ে উঠেছিল ,স্যাক্সোফোনের সুরে আমার প্রেম উড়তে উড়তে মরিচিকায় যেদিন হারিয়ে গিয়েছিল , আমি এক মিনিট নীরবতা পালন করেছিলাম ।

আমি এক মিনিট নীরবতা পালন করেছিলাম যে সময়ে আমি প্রথম প্রহসনের আদালতে পা রেখেছিলাম ,
তোর চোখে নতুন কাজলে অন্য রঙিন স্বপ্ন দেখেছিলাম ,
তোর হাঁসির ঠোঁটে বিষাক্ত গরল খুঁজে পেয়েছিলাম ,

আমি এক মিনিট নীরবতা পালন করেছিলাম কলেজ কেটে দুহাতে দুহাত রাখার অপমৃত্যুর দিনে সেই ফেলে আসা কলেজের আমতলায় ।

আজ এক মিনিট , এক মিনিট , এক মিনিটের হিসাবে হয়ত আরও বেশি সময়ের অনন্ত নীরবতায় একটা গোটা জীবন কাটিয়ে দিলাম তোর ডুবন্ত ভালোবাসায় ।।

প্রচ্ছদ কৃতজ্ঞতাঃ অনির্বাণ রায়চৌধুরী

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত