Site icon ইরাবতী

ক্রীড়াপ্রেমী প্রধানমন্ত্রীর ছায়াতলে হাসিব হলি

Reading Time: 2 minutesক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ‘ক্রীড়াপ্রেমী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সান্নিধ্য পাওয়া, তাঁর সঙ্গে দেখা করা-কথা বলার বিরল সৌভাগ্য সবার হয় না। আমি গর্বিত, আমিও সেই সৌভাগ্যধারীদের তালিকায়। ১৮ মার্চ, সোমবার, ২০১৯। এই তারিখের কথা কোনদিনও ভুলবো না। চিরজীবন এই দিনটির কথা মনে থাকবে।’ আবেগে আপ্লুত হয়ে যিনি কথাগুলো বলেন, তার নাম হাসিব হলি। ‘হলি’ শব্দের অর্থ হচ্ছে পবিত্র। অথচ আন্তর্জাতিক বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতায় এই দেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণজয়ী এই হলিকেই কি না অন্যায়ভাবে আজীবন নিষিদ্ধ করে নিজেদেরই কলঙ্কিত ও অপবিত্র করেছিল বাংলাদেশ শরীরগঠন ফেডারেশন! আর সেই হলি যে আসলেই ‘হলি’, নিজের কাছে ডেকে নিয়ে সেটাই প্রমাণ করে দিলেন ক্রীড়াপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী। জানতে ইচ্ছে করে, এই ঘটনা কি শরীরগঠন ফেডারেশনের মুখে চপেটাঘাতের সামিল নয়? প্রধানমন্ত্রী কেন এবং কিভাবে ডাকলেন হাসিব হলিকে? জানতে চাইলে হলি জানান, ‘সোমবার সকাল ৮টার দিকে হঠাৎই প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ফোন আসে। তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী আমাকে ডেকেছেন গণভবনে, কাজেই দ্রুত যেতে হবে। আমি তো নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারিনি। যদিও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য প্রক্রিয়া চলমান ছিল, কিন্তু আমার সাবেক কোচ ও শুভাকাঙ্খী শাহরিয়ার মুরাদ যে এত তাড়াতাড়িই যে বিষয়টা সম্পন্ন করে ফেলবেন, তা ভাবতেই পারিনি। মুরাদ ভাইকে এজন্য অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’ কেন ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী? ‘মুরাদ ভাই আমার বডিবিল্ডিংয়ে অর্জন-সাফল্য-সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানিয়েছিলেন। সেখান থেকে এসব জেনে প্রধানমন্ত্রী আমার সম্পর্কে আগ্রহী হন এবং আমার সাথে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর খেলাধুলা সম্পর্কে গভীর আগ্রহ দেখে অবাক হয়েছি। তিনি আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন আরও ভাল খেলে দেশের জন্য সাফল্য নিয়ে আসার জন্য। আরও বলেছেন, এজন্য তোমার যা লাগে সব আমি দেব, কোন চিন্তা করো না। তাঁর এই আশ্বাসবাণী পেয়ে খুবই খুশি হয়েছি। আবারও নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে।’ প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি আবেদনপত্রও তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম লেভেল এ্যাডভান্সড সার্টিফাইট ট্রেনার হাসিব। আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরে বিশ্ব বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপে এবং মিস্টার ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় যে অংশ নিতে চান এবং এজন্য যে প্রচুর অর্থের দরকার, সেটাও জানান। সবশুনে প্রধানমন্ত্রী তাকে খুব শিগগীরই এ ব্যাপারে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাইয়ে সিঙ্গাপুর অনুষ্ঠিত ‘মিস্টার ইউনিভার্স ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ অংশ নিয়ে ভাল ফল করে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেন হলি। বিচ মডেল ম্যানস্ ফিজিক ক্যাটাগরিতে ১৬ জনের মধ্যে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেন তিনি। বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বিচারকরা সেরা ছয় জনকেই মে ডেকে নেন, তবে পুরস্কৃত করেন প্রথম তিন জনকে। সে অনুযায়ী হলির এই অর্জন বেশ আশাব্যঞ্জবকএবং কৃতিত্বপূর্ণই বলতে হবে। মিস্টার ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা এই প্রথম এশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়। এবং প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এই আসরে অংশ নেন হলি (এ্যাথলেটিক বডিবিল্ডিং ক্যাটাগরিতে, উচ্চতা : ১৬৫-১৭০ সে.মি., ওজন : ৭০-৮০ কেজি)। ৫০তম এই আসরে ৫০ দেশের অসংখ্য বিশ্বমানের বডিবিল্ডার অংশ নেন। হাসিবের লক্ষ্যই ছিল প্রথম থেকে ষষ্ঠ স্থানের মধ্যে থাকা। কথা রেখেছেন ২৭ বছর বয়সী হলি। এর আগে ২০১৫ সালে জাতীয় বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়ন ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ খ্যাত হলি বডিবিল্ডিংয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রথমবার (এখন পর্যন্ত একমাত্র) স্বর্ণপদক এনে দেন এই সিঙ্গাপুরের মাটি থেকেই, ২০১৭ সালো জানুয়ারিতে সিঙ্গাপুরে ‘নাব্বা ওয়ার্ল্ড ফিটনেস ফেডারেশন এশিয়া মাসল ওয়ার’ বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতায় (অংশ নেয় ১৩ দেশ) অংশ নিয়ে অনুর্ধ-২৪ জুনিয়র বিভাগে জিতে নেন স্বর্ণপদক।    
Exit mobile version