সাজ্জাদ সাঈফ এর গদ্য

স্মৃতির কুশল

স্মৃতি নেই, সম্প্রীতি গেছে ঘুড়ির উড়াল কেটে, সাকরাইন মাঠের ধুলাতে ভেসে

ছায়াকে এগিয়ে ধরেছে, তোমার ঘুমের ভিতরে কেউ মনে করো পাঠশালাটির পথ, আরো পথ কেটেকুটে এসে হেলান দিয়েছে বুকে, সেই ভোরের বাতাস, কাঠপেন্সিল, আরো কত কি হারালো!

এর নাম স্মৃতি যদি হয়, এর থাকে জ্বরের প্রলাপ কিছু! একটা আয়নাকে ডাকো তবে, মেলে দাও বলিরেখা তার গায়েহঠাৎ অনিশ্চয়, তোমার তমালতরু ভ্রু; আর, প্রেম, এইভাবে আসা আর যাওয়া সামলায়, পুরনো চিঠিতে এসে ভীড় করে ময়ূরকণ্ঠী বিকেল, চোখ সরু করে তাকায় খাঁচার পাখি;

একটা ঝরো হাওয়াকে সঙ্গ দিতেছে ভাষা, অন্তর্গত; আধভাসা ডুমুর লক্ষ্য করে এগিয়ে আসছে ফড়িঙএইসব হাতে কড় পড়া সিন, সুস্থ প্রেমেই মানায়; তোমাকে মানায় ফুলে, টোপর বসানো দুলে!

স্মৃতি নেই যদি, আজ সারাদিনই ঘামছে হৃদয় একাবৃষ্টিতে আজ সারাদিন মাথার ভিতরে মেঘ, পিছল খাচ্ছে পাতায়, মোড় ঘুরতেই চায়ের দোকান, বৃষ্টিকে কুশল জিগায় প্রেম!

বৃষ্টির তবে মনে আছে সেই স্নান? হাত ধরে বসে নৌকাতে ভিজে যাওয়া?

আযানের দিক থেকে আসে ঝাঁকবাধা কবুতর,

স্মৃতিই যদি হবে এ আযান নিশ্চয়ই সমর্পিত!

 

.

 

গোধূলীচূর্ণ হাওয়া

আর কিছু দূরতম স্নেহকে, পেলে পুষে ছায়ার আদল দেয় ছাতিমবোধ করি ছায়ার আধুলি পেয়ে, তুমি কোনো ঝনৎকার, প্রেমের কুশলে;আমাকে তিতিক্ষারা ডাকে, আমাকে একা রেখে গেছে ধানভরা লোকাল মেঘেরা!             আর, তুমি সন্নিহিত, সকল পেখমে ন্যাস্ত করেছো উড়াল!

এই দিক দিয়ে গোরস্থানের পথ, আকুতিসমান চাহনীতে ম্লান কেউ কেউ মাথা নিচু করে হাঁটে; কুয়ার ভিতরে কতগুলো ব্যাঙ তাল সামলে বসে যাচ্ছে পাতায়,এই দিক দিয়ে যেতে গা ছমছম করে তোমার?                                                                

আমাকে দগ্ধ হৃদয়েরা ডাকে, প্রাণান্ত সুর খেলে গোধূলীচূর্ণ হাওয়ায়, যে তাকায় সে মরমী আলোকে দেখে? কিংবা মায়া? দূর হতে ইচ্ছেজাগা নদী, আছড়ে পড়ে বুকে বৈকুন্ঠে;

তারপর প্রেম নিশাচর, তারপর কঠিনেরে উঁচিয়ে ধরছে স্নায়ু; তুমি আছো নাকি? পৃথকতা ভালোবাসো নাকি? হাত নেড়ে ডাকছে তেপান্তরআজকাল, চুপচাপ বসে, দেখো নাকি ঝড়?

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত