শোষক শ্রেণীর সঙ্গে শোষক শ্রেণীর দ্বন্দ্ব

Reading Time: 5 minutes

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর একক পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র পুঁজিবাদী বিশ্বের নেতৃত্ব গ্রহণ করে। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ডব্লিউটিওর মতো আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম গঠন করে নিজেদের স্বার্থে আন্তর্জাতিক নীতিমালা প্রণয়ন করতে থাকে। কিছু আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামে কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই একক ভোটো ক্ষমতা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য পুঁজিবাদী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হলেও তার বিপুল অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির কাছে নতি স্বীকারে বাধ্য হয়। তাছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়নের মোকাবেলায় পুঁজিবাদী শক্তিগুলোর ঐক্য প্রয়োজন ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সকলে একজোট হয়। এ প্রসঙ্গে আর্মস্ট্রং মন্তব্য করেছেন: ‘যুক্তরাষ্টের পরিকল্পনা হলো এ বিশ্ব শাসন করা। এর বাহ্যিক রূপ হচ্ছে একপাক্ষিকতাবাদ, কিন্তু চূড়ান্তভাবে এটি একটি আধিপত্যের উপাখ্যান, এটি (ডিফেন্স প্ল্যানিং গাইডেন্স) যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বব্যাপী সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে অক্ষুণ রাখতে এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে তাকে চ্যালেঞ্জকারী নতুন কোনো প্রতিদ্বদ্বীর বিকাশে বাধা দান করতে বলে। এটি বন্ধু ও শত্রুর প্রতি একইভাবে কর্তৃত্ব বজায় রাখার আহবান জানায়। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল অধিক বা সর্বোচ্চ শক্তিশালী হতে বলে না, বরং পরম শক্তিধর হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।’

বর্তমানে অঞ্চলভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বাধা হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এজন্য ইউরোপীয় দুর্গের বিকাশ প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র দ্বৈত কৌশল প্রবর্তন করেছে। প্রথমত, তাদের ওপর নব্য-উদারবাদী নীতিমালা চাপিয়ে দিয়েছে। ডব্লিউটিও অপরিসীম গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রব্য বিনিময় ও পুঁজি সঞ্চালন এর উপর ভিত্তি করে এসব নীতিমালা প্রণীত হয়। দ্বিতীয়ত, ইইউ’র অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের জন্য কিছু রাজনৈতিক ও সামরিক উপায় অবলম্বন করা হয়। এসব উপায়ের মধ্যে রয়েছে ব্রিটেন, স্পেন, ইটালি এবং পূর্ব ইউরোপীয় ব্লকের কিছু দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া। যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর মাধ্যমে ইউরোপের সঙ্গে স্থায়ী জোট গঠনের অপরিহার্যতার কথা বললেও তার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো এর মাধ্যমে ইউরোপীয় সামরিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিকাশে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব বজায় রাখা।

একইভাবে, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিজ আর্থিক ও উৎপাদিকা শক্তির পুঞ্জীভবনে যুক্তরাষ্ট্র সর্বদা জাপান, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারগুলোর ওপর রাজনৈতিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তাছাড়া চীনের উত্তরোত্তর বিকাশ ঠেকাতে ভারতের মাধ্যমে ভারসাম্য স্থাপনের একটি প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু জাপানের মতো চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই বৈশ্বিক আধিপত্য রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন চীনের রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং বিভক্তি সৃষ্টি করে ইউরোপকে শোষণ করা।

বর্তমানে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণে ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে পিছিয়ে আছে। বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো (যাদের অনেকেই সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবে সুপরিচিত) ওয়াশিংটনের কাছে নতি স্বীকারে বাধ্য হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার ‘বাজার দ্ব›দ্ব’ এখন নৈমিত্তিক রূপ পরিগ্রহ করেছে।২২ প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ফ্রান্স ও জার্মানির দ্রব্য বর্জিত হচ্ছে, একইভাবে ইউরোপীয়রা যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বর্জন করে। বিদেশী দ্রব্য তাদের কারো অর্থনীতিতে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন না করলেও উগ্র জাতীয়তাবাদী মনোভাব থেকে তারা এ ধরনের ঘোষণা দিয়ে থাকে। নব্য-উদারবাদী ব্যবস্থার অধীনে আন্তর্জাতিক পুঁজির সঞ্চালন ও পুঞ্জিভবনকে কেন্দ্র করে এ অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের সূত্রপাত ঘটে। এ অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ বিগত বিশ্বযুদ্ধগুলোর উদগাতা। একবিংশ শতাব্দীতে উপনীত হয়ে আমরা আরও একটি সভ্যতার সংঘাতে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছি। শোষক শ্রেণীর নিজেদের মধ্যকার দ্ব›দ্ব ছাড়াও শোষিত শ্রেণীর সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্বও আজকের দিনের সভ্যতার সংঘাতের অন্যতম চরিত্র। এর পেছনে কাজ করছে পুঁজিবাদের চিরাচরিত সংকট পুঁজি ও শ্রমের দ্বন্দ্ব।

 

পুঁজি ও শ্রমের দ্বন্দ্ব

ব্যক্তি মালিকানার উপর প্রতিষ্ঠিত পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থা এক ধরনের বৈরি উৎপাদন সম্পর্ক সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে উৎপাদনের পদ্ধতি (উৎপাদনের বস্তুগত শক্তিগুলো) এবং অস্তিত্বশীল মালিকানাধীন সম্পর্ক (উৎপাদনের সম্পর্ক) এক ধরনের স্ববিরোধিতায় উপনীত হয়। কারণ এখানে উৎপাদিকা শক্তি শ্রমিক শ্রেণী উৎপাদন কাঠামো নিয়ন্ত্রণে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। এ উৎপাদন কাঠামোর নিয়ন্ত্রক হিসেবে পুঁজির মালিক শ্রেণীটি সমাজের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও বৌদ্ধিক প্রক্রিয়াগুলোকেও নিয়ন্ত্রণ করে। আর সমস্ত অধিকার হারিয়ে শ্রমিক তার শ্রম দিয়ে কেবল পুঁজিপতি শ্রেণীর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

শ্রেণী বৈরি এ সমাজে রাষ্ট্র হচ্ছে একটি রাজনৈতিক উপকরণ যা বিদ্যমান শোষণের সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে কাজ করে। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে শোষণের রূপ দ্বিবিধ। অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক। শোষক রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচি হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও তাদের অল্পসংখ্যক শোষক গোষ্ঠীর অধীনস্থ করে রাখা। উৎপাদনের উপকরণের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ থাকায় অর্থনৈতিক ক্ষমতার জোরে তারা রাষ্ট্রের ওপর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। একটি শোষক রাষ্ট্রের বাহ্যিক কাজ হলো, স্বরাষ্ট্র নীতির আলোকে পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করা। তাই নিজ রাষ্ট্রে যেমন শ্রমজীবীদের বঞ্চিত করে ও অন্যান্য প্রগতিবাদী শক্তিকে সমূলে উৎপাটিত করে শাসন ক্ষমতা রক্ষা হয়, তেমনি বহির্বিশ্বে প্রতিক্রিয়াশীল ও লুণ্ঠনমূলক পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করে আজকের সাম্রাজ্যবাদ উৎকর্ষ লাভ করেছে সুতরাং, পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের বাহ্যিক কাজ হলো অন্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর দখলদারিত্ব, নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। সাম্প্রতিক সাম্রাজ্যবাদ তার চূড়ান্ত শোষণমূলক পর্যায়ে এসে এ নীতিকে আরও বেশি প্রতিক্রিয়াশীল স্তরে নিয়ে গেছে। রাষ্ট্রের কার্যাবলির ভিত্তিতে পুঁজি ও শ্রমের সাম্প্রতিক দ্বদ্বকে দু’ভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। প্রথম দ্বদ্বটি হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রের সঙ্গে তার নিজের জনগণের দ্বন্দ্ব। দ্বিতীয় দ্বন্দ্বটি হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের জনগণের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব।

 

সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রের সঙ্গে তার জনগণের দ্বন্দ্ব

শোষণমূলক পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থায় প্রতিটি রাষ্ট্রই সুবিধাভোগী ও সুবিধাবঞ্চিত এ দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। শিল্পোন্নত বাজার অর্থনীতিতে কিছু মানুষ অতিমাত্রায় সম্পদ ভোগ করে, কিছু মানুষ মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে আর কেউ কেউ দারিদ্রের মধ্যে কালাতিপাত করে। সম্পদ, আয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও চাকরীলাভের সুযোগ এবং অবসর সময়ের ভিত্তিতে যাচাই করলে সর্বোচ্চ সুবিধাপ্রাপ্ত ও সর্বনিম্ন সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে এক বিশাল ফারাক লক্ষ্য করা যায়। আশির দশক থেকে রক্ষণশীল করনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রবর্তনের পরে এ অসমতা দিন দিন বেড়েছে। রাষ্ট্রের শক্তিশালী কার্যসাধন পদ্ধতি ক্রমশ অসম উপাদানগুলোকে ক্রিয়াশীল করে তুলেছে। তাই এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে নব্য মানবীয় পুঁজি অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীর তুলনায় অধিক দানবীয় রূপ ধারণ করেছে।

বাজার অর্থনীতি প্রতিটি ব্যক্তিমানুষের অনিয়ন্ত্রিত ও স্বাধীনভাবে দ্রব্য বিনিময় ও বণ্টন ব্যবস্থার যে ধারণা দেয় তাকে আপাতদৃষ্টিতে সমতা প্রতিষ্ঠার শর্ত মনে হলেও চূড়ান্তভাবে এটি রাষ্ট্র কর্তৃক ব্যক্তিমানুষের ওপর নির্মম বলপ্রয়োগের ধারাবাহিক অনুশীলনের অনুমোদনদানকারী আদর্শ। কিন্তু রাষ্ট্র যে বলপ্রয়োগের দায়িত্ব নেয় তা সবসময়ই ক্ষুদ্র একটি এলিট শ্রেণীর হাতে কুক্ষিগত হয় এবং সাধারণ মানুষ প্রতি মুহূর্তে তাদের অপ্রতিরোধ্য নিশানায় পরিণত হয়। এই শোষক অভিজাত শ্রেণীটি একটি সমাজের নাগরিকদের মধ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার চর্চায় বিপুল অসমতা সৃষ্টি করে। এই রাজনৈতিক অসমতা অনেক সময় ধন ও আয়ের অসমতাজনিত কুফলগুলোকে ম্লান করে দেয়।

দার্শনিকরা সব সময় সমতার স্বতঃমূল্যকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাঁরা মনে করেন, সমাজে আয়ের বৈষম্য থাকার কারণে অতি দরিদ্র ও অতি ধনী শ্রেণীর জন্ম হয়। সমতাবাদীদের মতে, অন্যান্য সব দিক সমান হলে মানুষের সমান অর্থ (বা বৃহত্তর অর্থে সমান সম্পদ) থাকা নৈতিকভাবে কাংখিত। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারা ধনী-দরিদ্রের ব্যবধানের করুণ চিত্র তুলে ধরেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, দরিদ্ররা পর্যাপ্ত পুষ্টি, বস্ত্র এবং আশ্রয়ের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিভিন্ন রোগ তাদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, কিন্তু তা নিরাময়ের জন্য চিকিৎসা সেবা নেবার সামর্থ্য তাদের থাকে না। তারা মানসম্মত শিক্ষার ব্যয়ভার বহনে সমর্থ না হওয়ার কারণে অমর্যাদাকর ও অদক্ষ পেশায় নিয়োজিত হয়। তারা প্রায়শই নিজেকে অপরাধ জগতের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়। বিপরীতক্রমে, ধনীরা আকাংখিত জীবনের সকল উপকরণ বিপুলভাবে উপভোগ করে।

পৃথিবীর অন্যতম ধনী রাষ্ট্র ও বৃহত্তম পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এ বাস্তবতা অত্যন্ত নির্মম। বিশ্বের সবচেয়ে আকাশছোঁয়া ভবনের ছড়াছড়ি যে নিউ ইয়র্ক শহরে, সেখানেও দরিদ্র মানুষেরা সেতুর নিচে পুরনো খবরের কাগজ জড়িয়ে রাত্রিযাপন করে। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ লক্ষ মানুষ এরকম দারিদ্রের যাঁতাকলে পিষ্ঠ। এভাবেই রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শোষণ যন্ত্র বৈষম্যমূলক ধনিক শাসন টিকিয়ে রাখতে চায়। তাই যেকোনো নাগরিক অধিকার অর্জিত হয়েছে বহু রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে। যেমন, ষাটের দশকেও যুক্তরাষ্ট্রে কালো মানুষদের ভোটাধিকার ছিল না। বহু সংগ্রামের পথ পেরিয়ে তারা এ অধিকার অর্জন করেছে। কিন্তু আজও বিদ্যমান রাষ্ট্রযন্ত্রের শোষণের শৃঙ্খল তারা ছিন্ন করতে পারেনি। আফ্রিকান আমেরিকানরা মার্কিন জনসংখ্যার মাত্র ১২ শতাংশ হলেও ভিয়েতনাম যুদ্ধে তাদের মৃত্যুর হার ছিল ২২ শতাংশ। নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের আইনসভার এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মেক্সিকান আমেরিকানরা এই রাজ্যের জনসংখ্যার মাত্র ২৯ শতাংশ হলেও রাজ্য যাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে, তাদের ৬৯ শতাংশই ছিলেন মেক্সিকান আমেরিকান এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রথম বছরগুলোতে এই রাজ্যের মৃতদের মধ্যে এদের হার ছিল ৪৩ শতাংশ। সুতরাং, রাষ্ট্র যাদের সুবিধাবঞ্চিত রেখেছে, ত্যাগ স্বীকারের জন্য আবার তাদেরকেই বলি হিসেবে ব্যবহার করেছে। এই ২০১৪ সালেও কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত ফার্গুসন শহরে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার কর্তৃক কৃষ্ণাঙ্গ যুবক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্র এ হত্যাকান্ডের বিচার তো করেইনি, অপরাধীকে শনাক্তকরণেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। উপরন্তু, বিচারপ্রার্থীদের শান্তিপূর্র্ণ আন্দোলন নির্মমভাবে দমন করেছে। উল্লেখ্য যে, ফার্গুসন শহরে ৬৭.৪ শতাংশ মানুষ কৃষ্ণাঙ্গ হলেও ৫৩ জন পুলিশ অফিসারের ৫০ জনই শ্বেতাঙ্গ। এই বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রনীতি দেশীয় গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে পরিব্যাপ্তি লাভ করেছে। তাই সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রের বাহ্যিক কর্মকান্ড হচ্ছে বহির্বিশ্বের সম্পদ ও পরিবেশ শোষণ করে কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষা করা। অর্থাৎ, সাম্রাজ্যের সঙ্গে নিজ দেশের জনগণের দ্বন্দ্বের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের জনগণের দ্বন্দ্বও সমানভাবে ক্রিয়াশীল।

           

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>