শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি

ঋতুবৈচিত্র্যের বাংলাদেশে শরৎকাল শুরু হয়েছে। বর্ষার বিপুল প্লাবনে মাঠ-ঘাট, নদী-নালা এখন জলে টইটম্বুর। নদীর পাশে কিংবা খোলা জায়গায় অযত্নে বেড়ে ওঠা ঘন কাশের বনে শাদা ফুল উঁকি দিচ্ছে। শ্রাবণ মাসের শেষে বর্ষাকালের বিদায় হলেও বৃষ্টি এখনো আনুষ্ঠানিক বিদায় নেয়নি। মাঝেমধ্যে ঘন কালো মেঘের সমাহার লক্ষ করা যাচ্ছে আকাশে। কোথাও অঝোরে বৃষ্টিও ঝরছে। তবে বেশিরভাগ সময় আকাশে ছেঁড়া ছেঁড়া, পেঁজা তুলার মতো শাদা মেঘ ভাসমান। শূন্যে উড়ন্ত শাদা শাদা মেঘের সঙ্গী হয়ে শৈশবের স্বপ্নরাও যেন ঘুরে বেড়াচ্ছে আকাশময়। শরৎ মানেই প্রত্যুষে গ্রামের মেঠো পথে হালকা কুয়াশা। সূর্যোদয়ের মুহূর্তে মৃদু ঠাণ্ডা হাওয়ার দুলুনি। মূলত শরৎকালের শুরু থেকেই প্রকৃতি নতুন সাজে সাজতে শুরু করে। অপরূপ বিভা ও সৌন্দর্যের কারণে শরৎকালকে বলা হয়ে থাকে ঋতুরানী। অন্তরে সৌন্দর্যবোধ রয়েছে এমন মানুষমাত্রই শরৎকালে প্রকৃতির রূপ-লাবণ্য দেখে মোহিত না হয়ে পারে না। শরৎ যেমন বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতিতে প্রভাব বিস্তার করেছে তেমনি সাহিত্যকর্মেও শরতের উজ্জ্বল উপস্থিতি লক্ষণীয়। যুগে যুগে কবি-সাহিত্যিকরা প্রকৃতি বর্ণনায় শরৎকালকে ব্যবহার করেছেন; শরৎ বন্দনায় পঞ্চমুখ থেকেছেন শব্দভাষ্যে। তাই শারদ সম্ভার নিয়ে রচিত হয়েছে অসংখ্য কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ। চর্যাপদের পদকর্তা থেকে শুরু করে আজকের তরুণতম কবির রচনায়ও শরৎকাল তার নান্দনিক ব্যঞ্জনা নিয়ে উদ্ভাসিত।

বাঙলা সাহিত্যে জগতে মহাকবি কালিদাস ‘মেঘদূত’ কাব্যের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন। এ কাব্যে তিনি মেঘের খামে পুরে প্রিয়ার কাছে চিঠি পাঠানোর কথা বলেছেন। উচ্চারণ করেছেন যক্ষের যন্ত্রণাদগ্ধ কথামালা। তবে শুধু মেঘ-ই নয়, মহাকবি কালিদাস শরৎ বন্দনায়ও ছিলেন অগ্রবর্তী। তিনি বলেন- ‘প্রিয়তম আমার, ঐ চেয়ে দেখ, নববধূর ন্যায় সুসজ্জিত শরৎকাল সমাগত।’ কবি ‘ঋতুসংহার’ কাব্যে শরৎকাল বিষয়ে লিখেছেন- ‘কাশফুলের মতো যার পরিধান, প্রফুল্ল পদ্মের মতো যার মুখ, উন্মত্ত হাঁসের ডাকের মতো রমণীয় যার নূপুরের শব্দ, পাকা শালিধানের মতো সুন্দর যার ক্ষীণ দেহলতা, অপরূপ যার আকৃতি সেই নববধূর মতো শরৎকাল আসে।’ কবি কল্পনায় কী দারুণ শরৎ-পরিবেশনা! শরতের সাথে প্রকৃতি ও নারীর এই উপমা দেখে বিস্ময়াভিভূত না হয়ে উপায় কী। আবার বাংলা সাহিত্যের আদি মধ্যযুগের কবি, চণ্ডীদাস তার কবিতায় বলেন-

‘ভাদর মাঁসে অহোনিশি আন্ধকারে

শিখি ভেক ডাহুক করে কোলাহল।

তাত না দেখিবোঁ যঁবে কাহ্নাঁঞির মুখ

চিনিতে মোর ফুট জায়িবে বুক।’

কবি চণ্ডীদাস তার কবিতায় ‘শিখি’ বলতে ‘ময়ূর’, ‘ভেক’ অর্থে ‘ব্যাঙ’ ও ‘ডাহুক’ পাখির কোলাহল শোনা যায় বলে উল্লেখ করেছেন। বাংলাসাহিত্যের মহীরুহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও শরৎ নিয়ে প্রচুর কবিতা-গান রচনার মধ্যদিয়ে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ ও সুবাসিত করেছেন। তিনি বলেছেন-

‘শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি

ছড়িয়ে গেল ছাড়িয়ে মোহন অঙ্গুলি।

শরৎ, তোমার শিশির-ধোওয়া কুন্তলে-

বনের পথে লুটিয়ে পড়া অঞ্চলে

আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি।’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বেশিরভাগ রচনায় প্রকৃতির জয়গানে মুখর। তিনি শরতের ময়ূরকণ্ঠী নীল নির্মল আকাশে শিমুল তুলার মতো শুভ্র মেঘেদের দলবেঁধে ছুটে বেড়ানো দেখে লিখেছিলেন- ‘অমল ধবল পালে লেগেছে মন্দ মধুর হাওয়া…’। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য শরৎ পঙ্ক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরির খেলা/নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা’, ‘ওগো শেফালি বনের মনের কামনা’, ‘সকল বন আকুল করে শুভ্র শেফালিকা’, ‘আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ’, ‘শিউলি সুরভিত রাতে বিকশিত জ্যোৎস্নাতে’, ‘শরৎ প্রাতের প্রথম শিশির প্রথম শিউলি ফুলে’, ‘হৃদয় কুঞ্জবনে মঞ্জুরিল মধুর শেফালিকা’। বলা যায়, রবীন্দ্রনাথের হাতেই শরৎকালীন প্রকৃতির অমেয় রূপ কাব্য-সাহিত্যে চিরন্তন হয়ে আছে।

ভাদ্র-আশ্বিন মাস জুড়ে বাংলাদেশে শরৎকালের রাজত্ব। বর্ষার বিদায়ে প্রকৃতি এ সময় মহাকবি কালিদাসের ভাষায়, ‘নববধূর’ সাজে সজ্জিত হয়ে উঠে। পৃথিবীর বুকে এক অনাবিল আনন্দের ঝর্ণাধারা ছড়িয়ে দেয় এই ঋতু। শরতের নিজস্বতা মিশে রয়েছে কাশফুলের সঙ্গে। এ ছাড়া গাছে গাছে ফুটতে শুরু করে ছাতিম, বরই, দোলনচাঁপা, বেলি, শিউলি, শাপলা, জারুল, রঙ্গন, টগর, রাধাচূড়া, মধুমঞ্জুরি, শ্বেতকাঞ্চন, মল্লিকা, মাধবী, কামিনী, নয়নতারা, ধুতরা, কল্কে, স্থল পদ্ম, সন্ধ্যামণি, জিঙে, জয়ন্তীসহ নাম না জানা আরো নানা জাতের ফুলে বিমোহিত হয়ে ওঠে বাংলার প্রকৃতি। অনেকে মনে করেন, ঋতুরাজ বসন্তের অভাব পূরণে সৌন্দর্য বিলাতে হাজির হয় ঋতুরানী শরৎ। আকাশে সাদা মেঘের পালক উড়ে বেড়ায় পেঁজা তুলার মতো। প্রকৃতির এমন রূপের বাহারে প্রবল আবেগ আর উৎসাহ এসে জমা হয় কবি-সাহিত্যিকের মনোজগতে। ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ তখন মেতে ওঠে কবিমন। প্রকৃতির অমেয় ধারা সাধারণে সঞ্চারিত করতে সৃষ্টি করেন নতুন নতুন সাহিত্যকর্ম।

শরৎ বন্দনায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অবদানও কম নয়। তিনি অসংখ্য গান ও কবিতায় শরতে বাংলার প্রকৃতির নিখুঁত আল্পনা এঁকেছেন। তার ‘শিউলি ফুলের মালা দোলে শারদ রাতের বুকে ঐ’, ‘এসো শারদ প্রাতের পথিক’সহ অনেক গানই শরৎ-প্রকৃতির লাবণ্যময় রূপ নিয়ে হাজির রয়েছে। শরতের অসম্ভব চিত্ররূপময়তা ফুটে উঠেছে এসব রচনায়।

‘এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলি বিছানো পথে

এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ-কিরণ রথে।

দলি শাপলা শালুক শতদল এসো রাঙায়ে তোমার পদতল

নীল লাল ঝরায়ে ঢল ঢল এসো অরণ্য পর্বতে।’

বাঙলার প্রকৃতিতে শরৎ মানেই নদীর তীরে তীরে কাশফুলের সাদা হাসির প্লাবন। মাঠে মাঠে সবুজের হৃদয়গ্রাহী মেলা। নদীর তীরে কাশফুলের কমল-ধবল রূপে জ্যোসনা-প্লাবিত রাতে জাগে স্বপ্নের শিহরণ। অনুপম রূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত শরৎ ঋতু শারদ লক্ষী নামেও পরিচিত। শরৎকালের মধ্যেই যেন বাংলাদেশের হৃদয়ের স্পর্শ মেলে। তাই শরতের প্রকৃতি দরশনে অন্তরে প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য লাভের বাসনা জাগাও অমূলক নয়। প্রিয়জনের হাত ধরে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে কার না সাধ জাগে। রবীন্দ্রনাথের এই রচনাটিই যার উৎকৃষ্ট প্রমাণ- ‘আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায়/লুকোচুরির খেলা।/নীল আকাশে কে ভাসালে/সাদা মেঘের ভেলা।’

সত্যিকার অর্থে শরতের মন মাতানো প্রকৃতিতে মন কী যে খুঁজে ফেরে, তা বোঝা বড়ই মুশকিল! প্রকৃতির মতো রোদ-বৃষ্টির দোদুল্যমানতায় মনের মধ্যেও যেন অভিমানের মেঘ জমে। আবার কখনো হয়ে ওঠে রৌদ্রকরোজ্জ্বল। কবি জসীমউদ্দীন শরতকে দেখেছেন ‘বিরহী নারী’ মননে। তিনি বলেন-

‘গণিতে গণিতে শ্রাবণ কাটিল, আসিল ভাদ্র মাস,

বিরহী নারীর নয়নের জলে ভিজিল বুকের বাস।

আজকে আসিবে কালকে আসিবে, হায় নিদারুণ আশা,

ভোরের পাখির মতন শুধুই ভোরে ছেয়ে যায় বাসা।

কৃষিবিধৌত বাংলার লোকসংস্কৃতিতে ঋতু পরিক্রমা বিশেষ একটা স্থান দখল করে আছে। যেমন বৈশাখে হালখাতার রেওয়াজ, হেমন্তে নবান্ন ইত্যাদি। তেমনি শরৎকালেও নববধূকে পিতার বাড়িতে পাঠানোর রেওয়াজ বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি। বিশেষ করে ভাদ্র মাসে নববিবাহিতা পতœীকে তার পিতার বাড়িতে রেখে আসতে হয়। ভাদ্র মাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই পতœী আর স্বামীর গৃহে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন না। কবি জসীমউদ্দীনও যেন ‘নক্সী কাঁথার মাঠ’ কাব্যগ্রন্থে রূপাই আর সাজুর বিচ্ছেদ বেদনা এভাবেই অঙ্কন করেছেন।

তিরিশ সময়পর্বের অন্যতম কবি জীবনানন্দ দাশকে বলা হয় রূপসী বাংলার কবি, নির্জনতার কবি। আবার বাংলা সাহিত্যের শুদ্ধতম কবি হিসেবেও তিনি আখ্যায়িত। তার কবিতার পঙ্ক্তিতে পঙ্ক্তিতে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে বাংলার প্রকৃতি, যেখানে শরতের সার্থক উপস্থিতি লক্ষণীয়। তিনি ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যের ‘এখানে আকাশ নীল’ কবিতায় বলেন-

‘এখানে আকাশ নীল-নীলাভ আকাশ জুড়ে সজিনার ফুল

ফুটে থাকে হিম শাদা-রং তার আশ্বিনের আলোর মতন;

আকন্দফুলের কালো ভীমরুল এইখানে করে গুঞ্জরণ

রৌদ্রের দুপুর ভরে;- বারবার রোদ তার সুচিক্বণ চুল

কাঁঠাল জামের বুকে নিঙড়ায়ে;- দহে বিলে চঞ্চল আঙুল

বুলায়ে বুলায়ে ফেরে এইখানে জাম লিচু কাঁঠালের বন,

ধনপতি, শ্রীমন্তের, বেহুলার, লহনার ছুঁয়েছে চরণ;

মেঠো পথে মিশে আছে কাক আর কোকিলের শরীরের ধূল,’

শরতের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো- এ সময় মাঠ জুড়ে থাকে সবুজ ধানের সমারোহ। ধানের কচি পাতায় জমা হওয়া শিশিরের ওপর প্রভাতের তরুণ আলো মুক্তার মতো দ্যুতি ছড়ায়। আমাদের দেশের কৃষকরা নবান্নের আশায় দিন গোনে। আর বাঙালির সর্বজনীন প্রাণের উৎসব, হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গা উৎসবের কথা বলাই বাহুল্য। শরৎকাল শারদীয় আরাধনায় হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষকে যেমন উৎসবমুখর করে, তেমনি বিজয়ার বেদনায়ও করে তোলে ব্যথিত। শরৎ বাংলার প্রকৃতিতে আসে শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে, নানামাত্রিক আনন্দের বারতা নিয়ে। কবি বিনয় মজুমদার শরতের একটি চিত্র এঁকেছেন-

‘শরতের দ্বিপ্রহরে সুধীর সমীর-পরে

জল-ঝরা শাদা শাদা মেঘ উড়ে যায়;

ভাবি, একদৃষ্টে চেয়ে, যদি ঊর্ধ্ব পথ বেয়ে

শুভ্র অনাসক্ত প্রাণ অভ্র ভেদি ধায়!’’

বাংলার আরো অনেক কবি শরৎ ঋতুকে শব্দ সমবায়ে বন্দি করেছেন তাদের কবিতায়। যেমন, সৈয়দ শামসুল হক শরতের অপার বিস্ময়ের কথা লিখেছেন তার কবিতায়- ‘সে কী বিস্ময়! কী যে বিস্ময়! কী করে ভুলি!/আকাশের নীল ঘন শাদা মেঘ, কবেকার গ্রামপথে ডুলি!’ রফিক আজাদ ‘আমার শরৎ’ কবিতায় বলেন-‘শরৎ’ শব্দটি উচ্চারণ মাত্র আমার চোখের সামনে/অর্থাৎ দৃষ্টিসীমার মধ্যে শারদ-আকাশ কিংবা/কাশফুল এসে দাঁড়ায় না-/বরং শরৎচন্দ্র মূর্তিমান হন;/না, শরৎচন্দ্র, নীলাকাশে সমুজ্জ্বল কোনো চাঁদ নয়- /মহামতি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্বয়ং’। আসাদ চৌধুরী আত্মবিবরণের আশ্রয় খুঁজেছেন কাশফুল আর জ্যোৎস্নায়- ‘শাদা কাগজের ওপর রেগে যাই,/সাড়ে চুয়াত্তরে এসে/বাক্যালাপে মেতে ওঠে/অসমাপ্ত পদ্যগুলো/স্মৃতিরাশি শাদা মেঘমালার চেয়েও/অধিক এলোমেলো।’ তবে শরৎকে কবিগুরু বরাবরই দেখেছেন শান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধির ঋতু হিসেবে। তিনি বলেছেন- ‘আমরা বেঁধেছি কাশেরগুচ্ছ শেফালী ফুলের মালা/নবীন ধানের মঞ্জুরি দিয়ে সাজিয়ে এনেছি ডালা/এসো হে শারদ লক্ষী তোমার শুভ্র মেঘের রথে/এসো চির নির্মল নীল পথে…’

শরৎ যেমন প্রকৃতিকে অপরূপ রূপে সাজিয়ে যায় তেমনি সংস্কৃতিতেও ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা করে মানুষের ক্লান্তি মোচনের ক্ষেত্র তৈরি করে। শরৎ অবসাদগ্রস্ত মনে নতুন প্রেরণার সঞ্চার করে। শরতের কাশবন আর জ্যোৎস্নায় প্রিয়জন সান্নিধ্যে হারিয়ে যাওয়ার বাসনা প্রবল হয়, শত কষ্ট গোপন করেও।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত