চিরচেনা বাংলার গ্রেটা গার্বো


ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলার গ্রেটা গার্বো তিনি। আজ তাঁর ৮৮ তম জন্মদিন। বাঙালির রহস্যময়ী এই ডিভা হয়ে ওঠার আগে তিনি ছিলেন রমা দাশগুপ্ত। পাবনা শহরে তাঁর বাড়ি। আদিনাথ সেনের পুত্র দিবানাথ সেনকে বিবাহসূত্রে কলকাতায় আসা, সিনেমায় নামা, এই সবগুলো আমাদের কাছে জানা। আজ বরং সেদিকে একটু তাকানো যাক, যেদিন ‘সুপারওম্যান’ কনসেপ্টটাই ছিল না, তা সত্ত্বেও ‘মিসেস সেন’ কেমন করে বাংলা সিনেমার সম্রাজ্ঞী হয়েছিলেন–


ছবিঃ সংগৃহীত

ইন্দিরা গান্ধীর আমলে নিষিদ্ধ ছিলেন সুচিত্রা সেন!

রোমান্টিক নায়িকা হিসাবে সুচিত্রা সেন পুরো ভারতে অতুলনীয় ছিলেন। কিন্তু ভারতজুড়ে তার ‘আঁধি’ ছবিটি তুলেছিল আলোচনার ঝড়। ‘আঁধি’ ছিল একটি পলিটিক্যাল-রোমান্টিক সিনেমা। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অনুকরণে পর্দায় হাজির হয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। মূলত ছবিটির কাহিনী গড়ে উঠেছিল বিহারের রাজনীতিক তারকেশ্বরী সিনহার জীবন অবিলম্বে। দর্শকের আগ্রহ সৃষ্টির জন্যই ইন্দিরা গান্ধীর সাজ পোশাক ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু সুচিত্রা সেন তার অভিনয়েও ইন্দিরা গান্ধীর চলা, বলা ও তার ম্যানারিজমকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছিলেন গুলজার। আর প্রযোজক ছিলেন জে ওম প্রকাশ।


ছবিঃ সংগৃহীত

ছবির প্রচারণায় বলা হয়েছিল ‘এসো তোমার প্রধানমন্ত্রীকে দেখে যাও’ এবং ‘এ গল্প ভারতের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের সেই বিখ্যাত নারী রাজনীতিবিদকে নিয়ে’। এই প্রচারণায় ভারতজুড়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। অবশ্য চলচ্চিত্রটিতে সুচিত্রা সেনের ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে শুধু সাজ পোশাকেই মিল ছিল। তত্কালীন তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক মন্ত্রী আই কে গুজরালও চলচ্চিত্রটি দেখেন। দুয়েকটি দৃশ্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। ফলে ছবিটি মুক্তি দেয়ার ২০ সপ্তাহ পরে তা ‘নিষিদ্ধ’ করা হয়। ১৯৭৫ সালে চলচ্চিত্রটি যখন নির্মিত হয় তখন ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ভারতে জরুরি অবস্থা চলছিল। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী হেরে যাবার পর তত্কালীন ক্ষমতাসীন জনতা পার্টি ছবিটিকে মুক্তি দেয়। আর ভারতের জাতীয় টেলিভিশন ‘দূরদর্শন’ এ চলচ্চিত্রটির প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয়। তবে আপত্তিকর দৃশ্যগুলো বাদ দিয়ে সিনেমাটি মুক্তি দেয়া হয়েছিল।


ছবিঃ সংগৃহীত

চলচ্চিত্রটির কাহিনী গড়ে উঠেছিল একজন নারী রাজনীতিবিদকে নিয়ে যার একজন হোটেল ম্যানেজার জে কে’র (সঞ্জীব কুমার) সঙ্গে প্রেম ও পরে বিয়ে হয়। নারী নেত্রীর বাবা প্রবীণ রাজনীতিবিদ, যিনি চান তার মেয়ে আরতি দেবি (সুচিত্রা সেন) রাজনীতিতে সময় দিক। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। রাজনীতির টান আরতি উপেক্ষা করতে পারে না। ফলে সংসার থেকে বিচ্যুত হন তিনি। এর দীর্ঘদিন পরে আরতি দেবির আবারো তার স্বামীর সঙ্গে দেখা হয়। তিনি তখন প্রতিষ্ঠিত একজন রাজনীতিবিদ। নিজের আসনে ভোটের প্রচারণায় আসেন তিনি। সেই শহরে তিনি যে হোটেলে ওঠেন সেই হোটেলের দায়িত্বে ছিলেন তার স্বামী। এখানে দুজনের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়, পুরনো প্রেম নতুন করে জেগে ওঠে। হোটেল কর্মকর্তার সঙ্গে আরতি দেবির সম্পর্ক নিয়ে ভোটের মাঠে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই নিয়েই চলচ্চিত্রটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।


ছবিঃ সংগৃহীত


এক নজরে সুচিত্রা সেন অভিনীত সিনেমাঃ

১৯৫২ – শেষ কোথায়
১৯৫৩ – সাত নম্বর কয়েদী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য, সাড়ে চুয়াত্তর, কাজরী
১৯৫৪ – সদানন্দের মেলা,অগ্নিপরীক্ষা, ওরা থাকে ওধারে, গৃহপ্রবেশ, অ্যাটম বম্ব, ধূলি, মরণের পারে, অন্নপূর্ণার মন্দির, দেবদাস (হিন্দি)
১৯৫৫ – সাঁঝের প্রদীপ, মেজো বউ, ভালোবাসা
১৯৫৬ – সাগরিকা, ত্রিযামা, আমার বউ, শিল্পী, একটি রাত, শুভরাত্রি
১৯৫৭ – হারানো সুর, পথে হল দেরি, জীবনতৃষ্ণা, চন্দ্রনাথ, মুসাফির (হিন্দি), চম্পাকলি (হিন্দি)
১৯৫৮ – রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত, সূর্যতোরণ, ইন্দ্রাণী
১৯৫৯ – দীপ জ্বেলে যাই, চাওয়া পাওয়া
১৯৬০- হসপিটাল, স্মৃতিটুকু থাক, বোম্বাই কা বাবু (হিন্দি), সরহদ (হিন্দি)
১৯৬১ – সপ্তপদী, সাথীহারা
১৯৬২ – বিপাশা
১৯৬৩ – সাতপাকে বাঁধা, উত্তরফাল্গুনী
১৯৬৪ – সন্ধ্যাদীপের শিখা
১৯৬৬ – মমতা (হিন্দি)
১৯৬৭ – গৃহদাহ
১৯৬৯ – কমললতা
১৯৭০ – মেঘ কালো
১৯৭১ – ফরিয়াদ, নবরাগ
১৯৭২ – আলো আমার আলো, হার মানা হার
১৯৭৪ – শ্রাবণসন্ধ্যা, দেবী চৌধুরানি
১৯৭৫ – প্রিয় বান্ধবী, আঁধি (হিন্দি)
১৯৭৬ – দত্তা
১৯৭৮ – প্রণয়পাশা


ছবিঃ সংগৃহীত

এক পলকে সুচিত্রা সেন

 

বলিউডের প্রথম ছবিতেই তিনি ‘বেস্ট অ্যাক্টর ফিমেল’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হন। ছবির নাম ‘দেবদাস’। সুচিত্রা সেন দিলীপকুমারের বিপরীতে পার্বতীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

 

উত্তমের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রায় ৩০টি ছবি করেছিলেন সুচিত্রা।

 

সত্যজিৎ রায়ের পরিকল্পনায় সুচিত্রাই ছিলেন ‘দেবী চৌধুরানী’। সত্যজিতের সঙ্গে এই ছবিটি যদিও হয়নি। তবে অন্য পরিচালকের নির্দেশনায় সুচিত্রাই হয়েছিলেন ‘দেবী চৌধুরানী।’

 

সুচিত্রা সেন অভিনীত প্রথম বাংলা ছবি ‘শেষ কোথায়।’ ছবিটি মুক্তি পায়নি।


ছবিঃ সংগৃহীত

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত