সুহিতা সুলতানার কবিতাগুচ্ছ

অরণ্যের গান
কতদূরে আছো তুমি তারপরও ভালোবাসার কোনো দূর পথ-
থাকে না। সব যেন নিকটবর্তী অরণ্যের গান। আজ একুশ জ্যৈষ্ঠ
বরষার জল চুঁইয়ে পড়ছে কাঁচের দেয়ালের ওপর।
তুমি বধির হলে বিশ্বাসও ফণা তুলে বসে। আমি প্রতিদিন যখন তোমাকে
ভাবি, হারিয়ে যাওয়া পথের কথা ভাবি, তুমি তখন মনের ভেতরে
আগুন পুষে রাখো। সময়ের খেরো খাতা ছাই হয়ে হাওয়ায় উড়তে
থাকে। প্রকৃতির কী ভয়াবহ নির্জনতা তুমি জানো না?
ঈগলের ডানায় ভর করে তুমি যখন উড়ে যাচ্ছিলে ইনসব্রুকের দিকে
তখন আমাদের শহরে বরষা নেমেছিল। স্বপ্নের রং বদলে গেলে
মানুষও সং হয়ে ওঠে। অদ্ভুত চকচকে চোখে তুমিও ভ্রমণের
ফাঁদে পড়ে আটকে গেলে বিভ্রান্তির জালে

কিয়ৎকাল বাঁশিও থেমে যায়
ওয়াইফাই নিভে গেলে কিয়ৎকাল বাঁশিও থেমে যায় শুরু হয় হৃৎকম্পন।
চোখের ওপর ঝুলে পড়ে পরাবাস্তব চাঁদ। কখনো কখনো তোমাকেও দুর্বোধ্য
ও রহস্যময় মনে হয়। যখন তুমি গণ্ডোলায় ভেসে ভেনিস পৌঁছে গেলে কী
অদ্ভুত ভাব তোমার, ফিরে এলে যে কি সেই যদিও তুমি আমার দেশে থাকো না!
সে দৃশ্য দেখবার অবকাশও আমার নেই। যুগপৎ দুলে ওঠে সমুদ্রের
ঢেউ আর বরফের চাঁই, এবার তাকাও আমার দিকে-সব অপশক্তি
পেছনে ফেলে চলো যাই চারিদিকে বাজিছে জলতরঙ্গ আর রৌপ্যখচিত
পথের ছায়া আমাদের ঠিকই পৌঁছে দেবে স্বপ্নময় দিগন্তের দিকে; দীর্ঘ
অপেক্ষা শূন্যতায় উড়ে উড়ে মেতে ওঠে অবলোকনের খেলায় !আমাদের
কখনো দেখা না হওয়ার দিনগুলি কেমন হতে পারে তা আমরা কেউ
জানি না। ঝলমলে শহরে নেচে বেড়ায় মদ ও বাঈজীর কেচ্ছা
মৃত্যু ও স্বপ্ন ভয়ংকর উঁচু- নিচু নলখাগড়ার পথের মতন।
তুমি যেদিন আমাদের শহরে বিশদ সত্য জানবে বলে পা রাখবে সেদিন
জ্যোৎস্নাময় হয়ে উঠবে স্তব্ধ সকল পথের ক্যানভাস।নিঃশব্দে নীল হ্রদ
প্লাবিত হবে, নিদ্রিত জলপাই বন তোমাকে স্বাগত জানাবে, জেগে
উঠবে প্রতিক্ষীত চোখ ও শৃঙ্খলিত কাশফুল আর আমাদের অস্তিত্ব

তুমি আসবে বলে
তুমি আসবে বলে কাঁপন লেগেছে বনে বনে দুর্গে পাহাড়ে
সমুদ্রের জলে উছলে উঠেছে উচ্ছ্বাসের ঢেউ।
তোমার সারল্য আমাকে মুগ্ধ করেছে বলেই ভেবো না সব লণ্ডভণ্ড
করে অস্থির স্বভাবে সবুজ বৃক্ষের পাশে বেঁকে চুরে অবোধ হয়ে থাকবে।
আজকাল আমার কোনো পিছুটান নেই, এসো
উড়ে উড়ে মেঘেদের বাড়ি যাই। চেয়ে দেখ শস্য দানা পাখির-
পালক উড়ন্ত ঘূর্ণিঝড় আমাদের দূরত্বকে কতটা নিকটবর্তী
করেছে।
আমাদের সম্পর্ক এখন নীল রঙের হাওয়ায় ভেসে বেড়ায়!
দূরের যাত্রা শেষে তুমি কতদিনে ফিরে আসবে তা তুমি
না জানলেও আমি জানি। ইদানিং বায়োস্কোপের ছবির সাথে
উঠে আসে নকল প্রজাপতি। শুরুর আগেটা বোঝোনি বলে
শেষটাও বুঝবে না তা কী করে হয়? লোভের সাঁকোর ওপর
ঘাতক তস্কর। কেউ যেন জানতে না পারে আমি তোমাকে
ভালোবেসেছিলাম একদিন।জানলে জানুক মধ্যরাতের তপ্ত
হাওয়া , নিয়ন আলোর গ্রীবার রেখা।তোমাকে নিজের করে
দেখার মতো বিস্তর আকাঙ্ক্ষা আজকাল তোমার মত
আমার ভেতরেও আবর্তিত হতে থাকে

জলঢেকী
মগজ সরিয়ে নিলে চোখ খুলে খুলে পড়ে
সেই কবে লোভের ভীড়ে আমার প্রত্যাশা
সামান্য করেছি। অত কৌশল জেনে কী হয় বলো?
যে যত বেশি বোঝে আসলে
সে ততবেশি জ্ঞানী হতে পারে?
মাঝে মাঝে আলোও বেঁকে চুরে বসে।
কে কাকে দ্যাখে? আমিই আমাকে দেখি। যে পথ ছিল
চির চেনা তাও অচেনা হয়েছে বহুদিন,
এখন সম্পর্ক বলতে দূরত্বের মাপকাঠিতে জীবন
জলঢেকীর মতন। কেউ কেউ ছোট হতে
হতে অহেতুক কালো হতে থাকে, মানুষের
রঙ বদলে গেলে কী থাকে বলো? এ যাত্রায়
তুমি যদি জিতে যেতে পারো বক ধার্মিকের
মুখোশবন্দী মু্খ গড়িযে যাবে আগুনের দিকে
আমি সকলের ভালো চাই বলেই এতো গোল

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত