দুটি ছড়া

চাঁদের বুড়ির খেয়াল

দূর আকাশে চাঁদের মাঝে থুত্থুরে এক বুড়ি
একা একা খাচ্ছে বসে শুকনো কটা মুড়ি
পাশে পড়ে চরকাটা তার; খাচ্ছে লুটোপুটি-
হলুদ, সবুজ, নীলের মত রঙিন সুতোর গুটি।

হঠাৎ বুড়ি তাকায় নিজের সাদা শাড়ির দিকে
‘সাদা বড়ই ম্যাড়ম্যাড়ে রং, সে যে বড়ই ফিকে!
চরকাটাতে বানাই আমি রঙিন জামা কত
অমন রঙের একটি শাড়ি  আমার যদি হত!’

যেই না ভাবা অমনি যে তার শুরু হল কাজ
টকটকে লাল শাড়ির উপর চুমকি দেওয়া সাজ
এরপরে সে সবুজ দিয়ে রঙ করল নখ
চাঁদের শিশু বলল হেসে, ‘ছোট হওয়ার শখ!’

 

 

 

মনের যত আজব কাণ্ড

মন বলে, ঐ দূর আকাশের চাঁদখানাকে দেখছ
ওকে নাকি ‘চাঁদ ফ্রাই’ করা যায়,
চন্দ্র শুনে বলে হেসে,’  দে রে না আমাকে ভেজে
দূরে বসে রান্না হবে? আয়!’

মন যে আমার দাবি করে, সাগরকে সে বাগে পেলে
মেরে-ধরে করে দেবে সারা
সাগরমামা বলে কেঁদে, ‘মেরো নাকো আমায় বেঁধে
তবে আমায় দেখতে চাবে কারা?’

নিভিয়ে দেবে সূর্যটাকে; হুমকি দিল মন
গ্রহগুলো কাঁদছে যে ভেউভেউ
পৃথিবীটা লাজুক বেশে, ঘোমটা দিয়ে বলল শেষে,
‘সূর্য গেলে বাঁচবে না তো কেউ!’

বসুন্ধরার গভীর স্বরে গলল মনের ‘মন’
আজকে থেকে সবার এখন ছুটি!
কাজের পালা সাঙ্গ করে; ক্লান্ত হয়ে ঘুমের ঘোরে
মন বলল, ‘গান শোনা  তো দুটি!’

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত