ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল (শেষ পর্ব)

অস্তরবির শেষ আশীর্বাদ নিয়ে যে কয়েকটি মেয়ে এ যুগেও নিবু নিবু প্রদীপের সলতে উস্কে দিয়ে ঠাকুরবাড়ির ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন বা এই সেদিন পর্যন্ত রেখেছিলেন তারা এসেছিলেন বধূরূপে। এঁদের নাম শ্ৰীমতী, অমিতা, অমিয়া, মেনকা ও পূর্ণিমা। এ প্রসঙ্গে আরেক জনের নাম করতে পারি তিনি নন্দিনী, রথীন্দ্র ও প্রতিমার পালিতা কন্যা। কবির আদরের পুপে দিদি সে গল্প এঁকে শোনানোর জন্যেই লেখা হয়েছিল। তিনিও বিভিন্ন নৃত্যগীতানুষ্ঠানে নিয়মিত যোগ দিতেন। এবার তাকানো যাক অন্যান্যদের মুখের দিকে।

ঠাকুরবাড়ির বৌ হবার অনেক আগেই শ্রীমতী রবীন্দ্রনাথের সংস্পর্শে এসেছিলেন। আমেদাবাদের অভিজাত হাতিসিং পরিবারের মেয়ে শ্রীমতী মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে সেখানকার কলেজে পড়া ছেড়ে দিয়ে চলে আসেন শান্তিনিকেতনে। সেটা বোধহয় ১৯২১ সাল। উদ্দেশ্য ছিল ছবি আঁকা শেখা। শুরুও করেছিলেন কিন্তু তার প্রতিভা বিকাশের মাধ্যম হল চিত্র নয়, অন্য একটি শিল্প। শান্তিনিকেতনে তখন প্রতিমার তত্ত্বাবধানে ভাবনৃত্য শেখার ব্যবস্থা হচ্ছে, মণিপুর থেকে এসেছেন নৃত্যশিক্ষক নবকুমার তাদের দলেই ভিড়লেন শ্ৰীমতী। নৃত্যছন্দে নূপুরের ঝংকারে দেহভঙ্গিতে ফুটে উঠল নতুন রূপ। তবে নন্দিতা-যমুনা-নিবেদিতার মতো শ্রীমতীকে শান্তিনিকেতনের ছাত্রী বোধহয় বলা চলে না কারণ তার নৃত্য ছিল তার একান্ত নিজস্ব আবিষ্কার। তবু তাঁর শিক্ষা শুরু হয়েছিল শান্তিনিকেতনেই তাতে সন্দেহ নেই। প্রচলিত ধরাবাঁধা কোনো নাচের মধ্যেই শ্রীমতীর নৃত্যভাবনা সার্থক রূপ নিতে পারেনি। তাই তিনি নৃত্যকে নতুন রসে পুষ্ট করে সৃষ্টি করলেন নব্য আঙ্গিকের। সেই প্রথম পর্বে এটা কি করে সম্ভব হল কে জানে, তবে শ্রীমতীর নাচ আজও একটা ব্যতিক্রম বলেই মনে হবে।

শান্তিনিকেতনের শিক্ষা শেষ করে শ্রীমতী জার্মানীতে গিয়েছিলেন শিশুশিক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে। কিন্তু ওখানে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত পক্ষে যা শিখলেন তা হল নাচ। য়ুরোপে তিনি নানা জায়গায় ঘুরেছেন, নাচ দেখেছেন, দেখিয়েছেনও। বিদেশে তিনি দেখাতেন ভারতীয় নৃত্য—যার সবটাই তার নিজস্ব, মণিপুরী আঙ্গিকের ওপর গড়ে তোলা অভিনব নৃত্যভঙ্গিমা। শোনা যায়, এসময় তিনি য়ুরোপের মডার্ণ ডাসের আঙ্গিক আয় করেন মেরি উইম্যান প্রবর্তিত আধুনিক নাচের স্কুলে, জার্মানীতে। নাচের স্কুলে ধরাবাঁধা শিক্ষা তিনি খুব বেশি নেননি, তবে নাচ দেখেছেন প্রচুর। ভারতে ফিরে শ্রীমতী যখন তাঁর নতুন আঙ্গিকের ভাবনৃত্য রবীন্দ্রনাথকে দেখালেন তখন কবিও খুব আনন্দিত হলেন।

ভারতবর্ষে শ্রীমতী নৃত্য পরিবেশন করেন রবীন্দ্র-কবিতা আবৃত্তির সঙ্গে। সে এক নতুন জিনিষ। গানের সঙ্গেও নেচেছেন শ্রীমতী কিন্তু তেমন আনন্দ পাননি। ছন্দ-সুরের দোলায় মন যে আপনি নেচে ওঠে। শ্রীমতীর নৃত্যে যে অমিত বিত্ত রয়েছে তার চরম ঘূর্তি ঘটবে কিসে? প্রথমে ঝুলন কবিতা আবৃত্তির সঙ্গে নিজস্ব আঙ্গিকে নেচে শ্রীমতী সবাইকে মুগ্ধ করলেন। দেখা গেল, যে কবিতায় সুরের দোলা নেই, সেই কবিতাকে অবলম্বন করেই শ্রীমতীর ভাবনা রূপের মধ্যে আকার নিয়েছে। স্কুলনের পর শিশুতীর্থ আরো কঠিন। আরো দুরূহ! তা হোক। সহজের সাধনায় মন ভরে কই? শিশুতীর্থ কবিতা নাচের পক্ষে বড়ো শক্ত। কল্পনাটাই কষ্টকর। শ্ৰীমতী তাকেই বেছে নিলে উৎসাহিত হয়ে উঠলেন রবীন্দ্রনাথও। য়ুনিভারসিটি ইন্সটিটিউট হলে সব ব্যবস্থা। রবীন্দ্রনাথের আবৃত্তির সঙ্গে শ্রীমতী দেখালেন তার নিজস্ব আঙ্গিকে ঝুলন ও শিশুতীর্থের ভাবনৃত্য। এখনকার দিনেও এ পরিকল্পনা অসম্ভব রকমের আধুনিক কবিতার সঙ্গে ভাবনৃত্য পরিবেশনে শ্ৰীমতীর সঙ্গে আরো একজনের নাম অবশ্য আমরা করতে পারি। তিনি কবি অমিয় চক্রবর্তীর বিদেশিনী স্ত্রী হৈমন্তী। তিনি নেচেছিলেন কল্পনার দুঃসময় কবিতার সঙ্গে। কিন্তু এঁদের উত্তরসূরি হিসেবে আর কাউকে এখনও পাওয়া যায়নি। শ্ৰীমতীর নিপুণ নৃত্যভঙ্গি মুগ্ধ করেছিল কবিকে। মুগ্ধ হয়ে তিনি লিখলেন :

She takes delight in evolving new dance forms of her own in rythmic representation of ideas that offer scope to her spirit for revelling in its own everchangiug creations which according to me is the proper function of dance and a sure sigo of her geuius. It has often caused me great surprise to see how with perfect trutlı aid forcefuluess she has harmouised her movemeuts with my owu recitation of my poems–a most difficult task requiring not ouly a perfect Auency of techuique but sympathy which is creative in its adaptability. Her dance is never languid and suggestive of allurements that cheapen the art. She is alert and vigorous and the cadence of her limbs carries the expression of au inner meaning and never are ou exhibition of skill bound by some external canous of traditiou.

পরবর্তী জীবনে শ্ৰীমতী আরো রবীন্দ্র-কবিতা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন কম তবে নাচ দেখিয়েছেন অনেক জায়গায়, সুদূর মাদ্রাজে, সিংহলে। সর্বত্র পেয়েছিলেন অভাবিত সমাদর। নাচ দেখেওছেন—রুক্মিণী দেবীর নাচ শ্ৰীমতীর খুব ভাল লেগেছিল। তার নিজের বিশ্বচ্ছন্দ, লীলাবৈচিত্র কিংবা দি রোড টু ফ্রিডম্ ব্যালেও বেশ নতুন ধরনের। অভিসার কবিতা অবলম্বনে বাসবদত্তা নৃত্যানুষ্ঠানে নাম ভূমিকায় শ্রীমতীর অনবদ্য নৃত্য যারা দেখেছিলেন তারা ভুলতে পারেননি। তাঁর সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য নাচের অনুষ্ঠান হয় নিউ এম্পায়ারে ১৯৫০ সালে। সেখানে তিনি সৌম্যেন্দ্রনাথের আবৃত্তির সঙ্গে স্বপরিকল্পিত নাচ দেখিয়েছিলেন। এ কবিতাটি একটি অসাধারণ নির্বাচন কারণ ঝড়ের খেয়া কবিতার দূর হতে কী শুনিস মৃত্যুর গর্জন-কে নৃত্যভঙ্গিমায় ফুটিয়ে তোলা কষ্টসাধ্য। শিল্পকলার প্রতিটি শাখাই যেন শ্ৰীমতীর স্পর্শে শ্রীময়ী হয়ে উঠেছিল। তার মধুর কণ্ঠে গাওয়া ভজন শুনতে মহাত্মা গান্ধী খুব ভালবাসতেন। পরেও ভজন গানের কয়েকটা রেকর্ড করেছিলেন। শান্তিনিকেতনে শিখেছিলেন ছবি আঁকা। শেষ জীবনেও ছবি আঁকা, কারুশিল্প এসব নিয়েই থাকতেন। সব সময় চেষ্টা করতেন নিজের পারিপার্শ্বিককে কিভাবে সুন্দর করে ভোলা যায়। তাই মাঝে মাঝে লিখতেনও নাচ কিংবা ছবি সম্বন্ধে দু-চারটে প্রবন্ধ। গানের স্কুল, আর্ট স্কুল প্রভৃতির সঙ্গেও তার যোগ ছিল তবে আন্তরিক উৎসাহ ছিল নাচের বেলায়। কলকাতায় নিজের বাড়িতে একটা স্কুল খুলেও ছিলেন কিন্তু সত্যিকারের উৎসাহী ছাত্রের অভাবে হতাশ হয়েই তাকে বন্ধ করতে হল নৃত্যকলা। গতানুগতিকের পুনরাবৃত্তি তার কাছে ছিল অসহ্য।

শ্ৰীমতী ঠাকুরবাড়ির বৌ হয়েছিলেন ১৯৩৭ সালে। এই প্রথম ঠাকুরবাড়ির ছেলের সঙ্গে গুর্জর তনয়ার বিয়ে। রাজনৈতিক জীবনে সৌম্যেন্দ্র ছিলেন চরমপন্থী। কিন্তু শ্ৰীমতী যোগ দিয়েছিলেন অসহযোগ আন্দোলনে, গিয়েছিলেন জেলে। তারপরের জীবনে শ্ৰীমতী সরে এসেছেন রাজনীতির জগৎ থেকে। সংগঠনের কাজে তার কৃতিত্ব কম ছিল না। চল্লিশের দশকে রচনা নামে নারী প্রতিষ্ঠান তারপর অভিযান, বৈতনিক, সবশেষে সোসাইটি অব ওরিয়েন্টাল আট তার গঠনমূলক কাজের পরিচয় বহন করে। শিল্প জগতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগ থাকলেও তার কোন সার্থক উত্তরাধিকারী নেই। বাংলা দেশে নৃত্য নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলেছে। এসেছেন উদয়শংকর ও অমলাশংকর। শান্তিনিকেতনেও হয়েছে রবীন্দ্র-নৃত্যধারার সযত্ন অনুশীলন তবু শ্ৰীমতীর প্রতিভা সার্থক হল না অন্যের মধ্যে। এখনও কবিতার সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন, ঝুলন, ঝড়ের খেয়া বা শিশুতীর্থের সঙ্গে ভাবনৃত্য পরিকল্পনা অসম্ভব রকমের আধুনিক।

অমিতার সঙ্গেও রবীন্দ্রনাথের যোগাযোগ বহুদিনের। তিনি একাধারে কবির নাতনী, নাতবৌ এবং মহিষী। অমিতা লাবণ্যলেখার মেয়ে। যাকে কবি নিজের মেয়েদের সঙ্গে পরম স্নেহে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। অকালবৈধব্যের অভিশাপ থেকে বাঁচাবার জন্যে পুনর্বিবাহ দিয়েছিলেন স্নেহাস্পদ অজিত চক্রবর্তীর সঙ্গে। অমিতা তারই মেয়ে, পরে তার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল দ্বিজেন্দ্রনাথের এক পৌত্র অজীনেন্দ্রনাথের। অভিনয় এবং গান শান্তিনিকেতনের অনুকূল পরিবেশে খুব সহজেই শিখতে পেরেছিলেন অমিতা। তবু শংকা ঘুচত না। একরকম জোর জার করেই রবীন্দ্রনাথ ও দিনেন্দ্রনাথ তাকে স্টেজে নামাতেন। নন্দিতাকে লেখা কবির চিঠি পড়লে দেখা যায় তিনিও লিখছেন, বহু কষ্টে অমিতাকে সুদর্শনার পালায় নামাতে পেরেছি। শেষ পর্যন্ত টিকলে হয়।

অভিনয় অবশ্য ভালই করতেন অমিতা। নটীর পূজায় অমিত সাজতেন মালতী। আকন্দ ফুলের মালা জড়ানো বেণী চূড়ো করে বেঁধে, গলায় কুঁচ ফলের মালা, একটু উঁচু করে পরা শাড়ির আঁচলটি কোমরে জড়িয়ে আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে আকুল স্বরে তিনি যখন বার ডাকে আমার ভাই গেল চলে। যার ডাকে আমার— বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়তেন তখন সমস্ত দর্শক যেন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যেত। অভিনয় শেখাতেন রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং।

তপতীর অভিনয় হয়েছিল আরো পরে। অমিত তখন জোড়াসাঁকোয় বৌ হয়ে এসেছেন। হঠাৎ ডাক এল। তপতীর ভূমিকায় অভিনয় করতে হবে। রবীন্দ্রনাথ অবশ্য প্রথমে ইতস্ততঃ করেছিলেন। ও কি পারবে? এ. বেশ শক্ত মেয়ের কাজ। তবু দিনেন্দ্রনাথের প্রস্তাবে দ্বিধান্বিত মন নিয়ে ডেকে পাঠালেন অমিতাকে। অভিনয় দেখে অবশ্য খুব পছন্দ হয়ে গেল। এক নাগাড়ে মাস খানেক রিহার্সাল চলল। তারপর অভিনয়। রাজা বিক্রম রবীন্দ্রনাথ আর অমিতা তার মহিষী। সে অনবদ্য অভিনয় যারা দেখেছেন তারা ভোলেননি। একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী অবন ঠাকুর। তিনি নটীর পূজায় নন্দলাল বসুর মেয়ে গৌরীর অভিনয় দেখে যেমন মুগ্ধ হয়েছিলেন তেমন অভিভূত হয়েছিলেন তপতী দেখে। অমিতা তপতী সেজে অগ্নিতে প্রবেশ করেছে। সেও এক অদ্ভুত রূপ। প্রাণের ভিতরে গিয়ে নাড়া দেয়। সেই সঙ্গে স্বীকার করেছেন পরে যত অভিনয়ই হয়ে থাক অমন আর দেখলুম না।

এর একটা উল্টোদিকও ছিল অবশ্য রবীন্দ্রনাথকে নতুন কিছু করতে বারবার বিরুদ্ধ সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে। রাজা ও রাণীর প্রথম অভিনয়ের সময় হয়েছিল, এবারও হল। এই যুগেও একজন সরাসরি রবীন্দ্রনাথকে আক্রমণ করে লিখলেন, কবি রবীন্দ্রনাথ নিজে রাজার ভূমিকা গ্রহণ করিয়া ভ্রাতুস্পুত্রবধূকে রানী সাজাইয়া অভিনয় করিয়াছেন। রবীন্দ্রনাথ যে দৃষ্টান্ত দেখাইয়াছেন, অন্য সকলে তাহাই অনুসরণ করিতেছে মাত্র। কিংবা চুল দাড়িতে কলপ মাখিয়া কচি সাজিয়া তিনি কখনো কখনো কিশোরী কুমারীদের সঙ্গে নাট্যাভিনয় করেন। সুতরাং যুগ বদলালেও জ্ঞানদানন্দিনীকে যে পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল অমিতাকেও সেই পরিস্থিতিতে পড়তে হল। তবে। ঠাকুরবাড়ির কেউই এসব তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামাননি, অমিতাও না।

তপতী সাজবার পরে কবি অমিতাকে ডাকতেন মহিষী বলে। পাঠাতেন পত্রলিপি :

মহিষী
তোমার দুটি হাতের সেবা
জানি না মোরে পাঠালো কেবা
যখন হোলো বেলার অবসান–
দিবস যখন আলোক হারা
তখন এসে সন্ধ্যা তারা
দিয়েছে তারে পরশ সম্মান।

৩ বৈশাখ ১৩৪৬ বিক্রম।

অমির হাতের সেবা ছাড়াও আরো একটা দুর্লভ গুণ ছিল। তিনি লিখতে পারতেন। কিন্তু বড় সংকোচ। মা বকেন। কতজন এসে কবিকে লেখা দেখায়, ভুল শুধরে নিয়ে যায় আর অমিত পারবেন না? শেষে বাধ্য হয়েই ভীরু পায়ে গেলেন গুরুদেবের কাছে। কবি বললেন, তুই লিখিস, না? পড়ে খুশি হয়ে বললেন, এত সহজ তোর ভাষা যে আমি আর এতে হাত দিতে চাই নে।

উৎসাহ পেয়ে অমিতার খাতা ভরে ওঠে। ছাপা হয় অঞ্জলি আর জন্মদিন। আশ্চর্য সহজ সরল প্রাণের কবিতা :

যবে শুধায় সকলে মোরে, তুমি কি পেয়েছ
কই দেখালে না আজি?
মৌন নতমুখে থাকি, কি দিব উত্তর–
কি পেয়েছি আমি?…
অন্তহীন পাওয়া সে যে ঋতুতে ঋতুতে।
বর্ণে গানে বিচিত্রিতা মাঝে,
শূন্য পাত্র পূর্ণ করি রাখে যে সদাই
তাই মোর দুঃখ কিছুই নাই।

কবিতার মতো অমিতার গদ্য লেখার হাতও ভাল। মনেই হয় না যে প্রবন্ধ পড়ছি। প্রবন্ধ পড়তে পড়তে স্মৃতিকথা, ছবি আঁকা, গল্প বলা—একটার পর একটায় আপনি মন চলে যায়, পড়া শেষ হলে পর মনের কোণে মিশে থাকে মাধুরীর বেশ। দেখা যায়, অমিতা খুব সংক্ষেপে একটা চরিত্রকে চোখের সামনে তুলে ধরেছেন। অথচ জীবনী-স্মৃতিকথা-প্রবন্ধ কোনটাই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। একবারও স্মৃতি এসে হাত চেপে ধরেনি প্রবন্ধের, তত্ত্ব এসে ঘুরিয়ে দেয়নি মাথা। অমিতার প্রবন্ধ থেকে রবীন্দ্রনাথের অভিনয় এবং অভিনয় সংক্রান্ত অনেক তথ্য পাওয়া যায়। যেমন, কবি কণ্ঠস্বরের ওপর জোর দিতেন। নজর রাখতেন। শেষের কথাগুলি অস্পষ্ট বা অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে না যায়। কবি প্রায়ই সংলাপ ভুলে যেতেন বলে সহ-অভিনেতাদের সব সময় কবির ডায়লগ মনে রাখতে হত, নয়ত তিনি নতুন কথা বানাতে শুরু করে দিতেন, আর তাল রাখতে হিমসিম খেতে হত অন্যদের। অমিতা এখনও বড় করে বিশেষ কিছু লেখেননি। ছোট ছোট প্রবন্ধেই অনেক কথা বলতে চেয়েছেন। রেকর্ডেও গেয়েছেন একটিমাত্র গান, সেও পঞ্চকন্যা নামক এল পি রেকর্ডে। গানটি হল তোমার মোহন রূপে কে রয় ভুলে। অমিতার মেয়ে স্মিতাও অভিনয়ে পারদর্শিনী, অনেক অভিনয় করেছেন, এখনও করছেন। অমিয়ার স্মৃতিকথা কী ধ্বনি বাজে পড়ে জানা যা ছোট বেলা থেকেই স্মিতা গানের দলে যোগ দিয়েছিলেন।

পূর্ণিমার সঙ্গে ঠাকুরবাড়ির যোগ অন্যান্য বৌয়েদের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি দ্বিপেন্দ্রনাথের দৌহিত্রী আবার সুরেন্দ্রনাথের পুত্রবধূ। মনে হতে পারে, কেমন করে সম্ভব হল। সাধারণত এত নিকট সম্বন্ধের মধ্যে বৈবাহিক সম্বন্ধ নিষিদ্ধ না হলেও প্রায়ই হয় না; কিন্তু ঠাকুরবাড়ি নিজেদের মধ্যেই একটা সমাজ গড়ে নিয়েছিল। না হলে পিরালী ও ব্রাহ্ম এই দুই বাধা অতিক্রম করতে অনেক সমষেই খুব কষ্ট হয়েছে। দ্বিপেরে মেয়ে নলিনীর বিয়ে হয়েছিল বিখ্যাত চৌধুরী পরিবারে। অর্থাৎ নলিনী তার দুই পিসী প্রতিভা ও ইন্দিরার ছোট জা হয়েছিলেন। তার তিন মেয়ে সুরমা, অপর্ণা ও পূর্ণিমা। অপর্ণার কথা আগেই বলেছি। তার বিয়ে হয়েছিল গগন ঠাকুরের ছেলের সঙ্গে। পূর্ণিমার বিয়ে হয়েছিল সুবীরেন্দ্রের সঙ্গে। ডায়াসেশন থেকে বি এ পাশ করে পূর্ণিমাও যোগ। দিয়েছেন পারিবারিক গান ও অভিনয়ের আসরে। তবে খুব বেশি নয়। তার মেয়ে সুপূর্ণ। রবীন্দ্রসঙ্গীতের আসরে সুপরিচিতা, নাতনী শ্রীনন্দার নামও ছড়িয়ে পড়েছে। পূর্ণিমা ছোটখাট আসরেই যোগ দিতেন বেশি। লক্ষ্মীর পরীক্ষায় লক্ষ্মী, বাল্মীকি-প্রতিভায় বালিকা, মায়ার খেলায় অমর, চিরকুমার সভায় পুরবালা এই সব চরিত্রে অভিনয় করতেন। পূর্ণিমা গ্র্যাজুয়েট হবার পর রবীন্দ্রনাথ বললেন নলিনীকে, তোর মেয়েকে নিয়ে যাব। আমার স্কুলে ইংরেজী পড়াবে। স্কুলে পড়ানো ঠাকুরবাড়ির ছেলেমেয়েদের রক্তে আছে। তাই খুব সহজেই পূর্ণিমা শান্তিনিকেতনে এসে একটানা দেড় বছর ইংরেজী পড়ালেন। এসময় তার সঙ্গে আলাপ হল লীলা মজুমদারের। আজও তাঁদের মধ্যে নিবিড় সখ্য অটুট রয়েছে।

সুবীরেন্দ্রের সঙ্গে বিয়ে হয় গৌড় বিল অনুসারে, রেজিষ্ট্রি করে। সেজন্য পুরোহিত পাওয়া গেল না। পৌরোহিত্য করেন ঠাকুরবাড়িরই দুজন মহিলা সরলা ও হেমলতা। ঘটনাটি ইন্দিরা তার অপ্রকাশিত আত্মজীবনী শ্রুতি ও স্মৃতিতে উল্লেখ করেন। এর পরেও পূর্ণিমা শান্তিনিকেতনের পাঠভবনে শিক্ষকতা করেছেন দীর্ঘদিন। ঘরের কাজ ছাড়াও ছিল আলপিনী সমিতি ও নারী-কল্যাণ সমিতি। সব কাজেই তিনি সবচেয়ে বেশি উৎসাহ পেতেন তার। নমা অর্থাৎ ইন্দিরার কাছ থেকে। জন্ম থেকেই দেখছেন সেই মহিয়সী নারীকে। তাই ইন্দিরার মৃত্যুর পরে পূর্ণিমা নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন একটা গুরুতর কাজ। কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়ে তিনি শুরু করলেন ইন্দিরার প্রামাণ্য জীবনচরিত লিখতে। ইন্দিরা-সংক্রান্ত সমস্ত উপাদান ও স্মৃতিকথা জড় করা হল। সত্যি কথা বলতে কি, যে কাজে অনেকদিন আগেই হাত দেওয়া উচিত ছিল অথচ আজও মনোযোগ দেওয়া হয়নি ঠিক সেই কাজটাই ধরেছেন পূর্ণিমা। বান্ধবী লীলা মজুমদার উৎসাহ ও প্রেরণা জোগালেন। আপাতত লেখা শেষ, শুধু প্রেসে দেওয়া বাকি। তার লেখাটি মন দিয়ে পড়লে লক্ষ্য করা যাবে, অতি প্রিয়জনের জীবনী লিখতে বসেও পূর্ণিমা নিজেকে সরিয়ে নিয়ে গেছেন অনেক দূরে। তিনি ইন্দিরার খুব কাছের মানুষ, স্বাভাবিক কারণেই বইয়ের মধ্যে একটি চরিত্র হয়ে উঠেছেন। কিন্তু কোথাও বিনা কারণে তাকে পাওয়া যাবে না। এই সংযম আছে তার লেখার মধ্যেও। ইন্দিরার জীবনী লিখছেন তিনি। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি ও চৌধুরীবাড়ির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়ে তিনি ইন্দিরার জীবনকথা আলোচনা করেছেন এবং সেই সঙ্গে বিভিন্ন দিক থেকে যারা ইন্দিরাকে দেখেছেন তাঁদের রচনাংশও উদ্ধৃত করা হয়েছে। এর ফলে ইন্দিরার জীবনী যতটা প্রামাণ্য গবেষণাধর্মী হয়ে উঠেছে ততখানি সরস হয়ত হয়নি কিন্তু ঘরোয়া ইন্দিরাকে যেন এখানেই সবচেয়ে বেশি আপন করে পাওয়া গেল। পূর্ণিমার লেখার ভাষাটিও সাবলীল। অনাবশ্যক গল্প করে বইকে লঘু ও সরস করে তোলার প্রলোভন যেমন জয় করেছেন তেমনি মানবী ইন্দিরাকে জীবন্ত করে তুলেছেন। একটা ছোট্ট উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। বিশ্বভারতীর উপাচার্য। হিসেবে ইনিরাকে অনেক কাজ করতে হত। একবার এক অধ্যাপক, বিশ্বভারতীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ-এনকোয়ারী ইত্যাদি হলে তিনি খুব সরস করে অন্তরঙ্গদের বলতেন, দেখ, জীবনে নানারকম অভিজ্ঞতা হয়েছে দীর্ঘায়ু হবার দরুন—কিন্তু এ এক অভিনব পরিস্থিতি। শেষ বয়সে জেলে গিয়ে না লপসী খেতে হয়। পূর্ণিমার বই প্রকাশিত হলে ইন্দিরার সম্বন্ধে অনেক নতুন কথা জানা যাবে। পূর্ণিমার প্রসঙ্গে আরো তিনজনের কথা এখানে বলে নিতে পারি। সুরেন্দ্রের অপর তিন পুত্র প্রবীরেন্দ্র, মিহিরেন্দ্র ও সুণতেন্দ্র। প্রবীরেন্দ্রের স্ত্রী অণিমা, মিহিরেন্দ্রের স্ত্রী লীলা ও সুণতেন্দ্রের স্ত্রী সতীরাণী। এঁদের মধ্যে সতীরাণী সুগায়িকা হিসেবে যথেষ্ট পরিচিত।

হেমেন্দ্ৰপরিবারে এসেছেন ভিন্ন পরিবারের আরো পাঁচটি মেয়ে। অমিয়া, মেনকা, আরতি, পারুল ও স্মৃতি। শেষের তিনজনের কথাই আগে বলি। কারণ এঁরা ঠাকুরবাড়ির বৌ হলেও আমাদের নির্দিষ্ট কালসীমার একেবারে শেষ পর্বে তারা এসেছেন। শুভো ঠাকুরের স্ত্রী আরতি মুলেখিকা। লক্ষ্মীনাথ বেজবড়ুয়ার কয়েকটি বইয়ের অনুবাদ ছাড়াও আরতি লিখেছেন দু-তিনটি উপন্যাস অসমিয়া ও বাংলা উভয় ভাষায়। ছায়ারঙ্গ স্বচ্ছন্দ গতিতে লেখা অধুনিক উপন্যাস। তার অনূদিত বেজবড়ুয়ার আমার জীবন স্মৃতি ও লক্ষ্মীনন্দন বরার গাঙচিলের ডানা অত্যন্ত সুখপাঠ্য সরল অনুবাদ। সিদ্ধীন্দ্রনাথের স্ত্রী পারুল প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক ধীরেন গঙ্গোপাধ্যায়ের মেয়ে। তার মা প্রেমিকা দেবীও পাথুরেঘাটার ঠাকুরবাড়ির মেয়ে। পারুল নিজেও প্রথম যুগের কয়েকটা ছবিতে অভিনয় করেন। তাঁকে আমরা কেশবচন্দ্র সেনের নাতনী সাধনা বস্তুর সমসাময়িক বলতে পারি। বাসবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী স্মৃতি জানেন ভাল ছবি আঁকতে। এঁরা তিনজনেই ঋতেন্দ্রনাথের তিন পুত্রবধূ। এরপর আমরা গান-পাগল ঠাকুরবাড়ির দুটি সুযোগ্যা বন্ধুর কথায় আসি। অমিয়া ও মেনকা দুজনেই সুগায়িকা, অসাধারণ সুকণ্ঠের অধিকারিণী।

হিতেন্দ্রনাথের পুত্রবধূ অমিয়া ঠাকুর বাড়িতে বৌ হয়ে আসার আগেই সুগায়িকারূপে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। অমিয়ার বাবা সুরেন্দ্রনাথ রায় ছিলেন সঙ্গীতরসিক। তাই খুব ছোটবেলা থেকেই মুসলমান ওস্তাদের কাছে গান শিখতেন অমিয়া। উদ্ গজল, হিন্দুস্থানী গান—প্রথম প্রথম ভাল লাগত না কিন্তু গলা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। আজও শুনলে প্রাণে বাজে। একবার শুনলে মনে হয় আবার শুনি। অমিয়াকে ঠাকুরবাড়িতে এনেছিলেন হেমেন্দ্রনাথের মেয়ে মনীষা। সরলা তখন মায়ার খেলার অভিনয়ের জন্যে মেয়ে খুঁজছেন। ভারী পছন্দ হয়ে গেল অমিয়াকে। প্রমদার ভূমিকায় সুন্দর মানাবে। যেমন রূপ তেমনি গলা। খুব ছোট থেকেই অভিনয় করছেন অমিয়া। বাল্মীকিপ্রতিভায় কখনও বালিকা সাজছেন কখনও সরস্বতী। বেথুনে পড়তেন অমিয়া। সেখানে স্কুল-কলেজের মেয়েরা মাঝে মাঝে নাট্যাভিনয় করত। সবেতেই অংশ নিতেন তিনিচন্দ্রগুপ্তে হেলেন, নূরজাহানে নূরজাহান। বাংলা দেশে তখন দ্বিজেন্দ্রলালের যুগ চলছে। সরলা দুদিনে অমিয়াকে প্রমদার সব গান শিখিয়ে নিয়ে গেলেন কবির কাছে। দুরুদুরু বুকে কবির কাছে এসে দাঁড়ালেন অমিয়া। তবে তিনি নিজেকে যতটা অপরিচিত ভাবছিলেন, তা নয়। কবি তার নাম আগেই –শুনেছিলেন স্নেহলতা সেনের কাছে। ১৩২৯ সালে প্রশান্ত মহলানবীশকে লেখা চিঠিতেও দেখা যাবে তিনি লিখছেন, বেথুন কলেজে অমিয়া রায় বলে একটি মেয়ে আছে; তার গলা ঝুনুর চেয়েও ভাল। সুতরাং কোন অসুবিধে হল না। সরলা কবিকে বললেন, অমিয়াকে প্রমদার গানগুলো সব শিখিয়ে দিয়েছি, তুমি গানগুলোর সঙ্গে অ্যাকশন দেখিয়ে দাও। রবীন্দ্রনাথ বিস্মিত হয়ে বললেন, সে কী? এর মধ্যেই সব গান তোলা হয়ে গেল! সরলা খুব জোরের সঙ্গেই বললেন, হ্যাঁ, ওর সব গানই ভোলা হয়ে গেছে! তুমি অ্যাকশন দেখিয়ে দাও। কবি তখন খুব ব্যস্ত তবু অনিন্দ্যসুন্দর ভঙ্গিতে নেচে নেচে অমিয়াকে শিখিয়ে দিলেন দে লো সখি দে, বলে রেখে দে, কে ডাকে আমি কভু ফিরে নাহি চাই, ওকে বলো সখি বলো, দূরে দাঁড়ায়ে আছে, আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল, আর কেন আর কেন গান। এবার অবাক হবার পালা অমিয়ার। কী সুন্দর কোমল রমণীয় ভঙ্গি! দীর্ঘদিন রিহার্সাল চলার পর রক্সি সিনেমা হলে যে সেই মায়ার খেলার অভিনয় দেখেছে সেই শুধু বলতে পারে কি সুন্দর অভিনয় হয়েছিল। শান্তা সেজেছিলেন রুমা গুহের মা সতী দেবী। অমর সেজেছিলেন শান্তি দত্ত। কুমার বোধহয় সুধীন্দ্রনাথের মেয়ে রমা। মায়াকুমারীদের দলে ছিলেন রেবা রায়, জয় দাশ, মায়া রায়, সুমনা সেন, গৌরী দাশ। প্রধান মায়াকুমারী সেজেছিলেন রেবা রায়। সবাইকে সাজিয়ে দিয়েছিলেন কবির পুত্রবধূ প্রতিমা; শাড়ি পরিয়ে দিলেন পারুল ঠাকুর আর সুজাত। সবার অভিনয় ছাপিয়ে চোখে পড়েছিল প্রমদাকে। মায়ার খেলার প্রথম প্রমদা—ইন্দিরা তো ভারি খুশি, এমনটি বুঝি আর দেখা যায় না।

এরপর বৌ হয়ে ঠাকুরবাড়িতে এলেন অমিয়া। নিভৃতে সবার চোখের আড়ালে চলে সঙ্গীত সাধনা। আগে শিখেছিলেন গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ও যোগীন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। এবার শিখলেন দিনেন্দ্রনাথ ও ইন্দিরার কাছে। কবি যখন শান্তিনিকেতন থেকে আসতেন ডেকে পাঠাতেন অমিয়াকে! গান শুনতেন, শেখাতেন—এভাবেই অনেক কিছু শেখা হয়ে গেল। কবির সত্তর বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রথম প্রকাশ্যে গান করলেন অমিয়া। এ ব্যাপারে তার স্বামী বিশেষ আগ্রহ দেখাননি বলে অমিয়া আড়ালে থাকতেই ভালবাসতেন। অবশ্য গান শেখায় তিনি বাধা দেননি বরং উৎসাহই দিয়েছেন। য়ুনিভারসিটি ইন্সটিটিউট হলে অমিয়া প্রথমদিন গাইলেন মরি লো মরি আমায় বাঁশিতে ডেকেছে কে। শিখেছিলেন কবির কাছেই। আরো শিখেছিলেন কী রাগিনী বাজালে, বড় বিস্ময় লাগে, ওগো কাঙাল আমারে কাঙাল করেছ, আকুল কেশে আসে প্রভৃতি। অনুষ্ঠানে সঙ্গে এস্রাজ বাজালেন দিনেন্দ্রনাথ। সবাই। চিত্রার্পিত। এমন মধুর সাবলীল কণ্ঠ! যেন পাখির মতে! সুধীন্দ্রনাথের মেজ মেয়ে এ কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন যে, সেকালে তিনি অন্যদের মুখে শুনেছিলেন অমিয়ার গলা নাকি অভিজ্ঞার কণ্ঠের মতো সুন্দর কিন্তু তিনি নিজে তো আর অভিজ্ঞার গান শোনেননি তাই তুলনা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। রবীন্দ্রনাথেয় খুব ভাল লেগেছিল অমিয়ার গান; তাই পরদিন আবার শুনতে চাইলেন। দ্বিতীয় দিন অমিয় গাইলেন ওগো কাঙ্গাল আমারে কাঙ্গাল করেছ।

এরপর যখনই কোথাও গিয়েছেন তখনই লোকে অমিয়ার কণ্ঠে শুনতে চেয়েছেন মরি লো মরি আমায় বাঁশিতে ডেকেছে কে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী উৎসব পরিষৎ-এর তরফ থেকে যখন শাপমোচন আর নটীর পূজা অভিনয়ের আয়োজন হয়েছিল তখন অমিয়াকে শচীর ভূমিকায় অভিনয় অভ্যাস করলেন দিনেন্দ্রনাথ। কবি স্বয়ং বললেন, অমিয়া সখি এ আঁধারে একেলা। ঘরে গাইবে। সম্প্রতি প্রকাশিত অমিয়ার স্মৃতিকথা কী ধ্বনি বাজে পড়লে। আরো অনেক কথা জানা যায়। তিনি বলেছেন, শেষ বয়স পর্যন্ত রবিদাদার সমান আগ্রহ ছিল হিন্দী গান শেখার। বলে বোলে যাওরে ভৈরবী সুরের গান শুনতে খুব ভালবাসতেন অথচ সেই গানটা ভেঙে কবি বাংলা গান লিখেছেন বলে জানি না। ভাঙা গান তৈরি করায় তার গুণপনার কথা আজ কারও অজানা নয়। কিন্তু আমার গলায় শুনে একটি হিন্দী গান ভেঙে বাংলা গান তৈরি আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় স্মৃতি। রবীন্দ্রনাথ অমিয়ার কণ্ঠে পূরবীতে এ ধনি ধ্বনি চরণ পরসত খেয়াল গানটা শুনে কিছুক্ষণের মধ্যে একটা বাংলা গান তৈরি করে ফেললেন, সেই অসাধারণ গানটি হল কী ধ্বনি বাজে গহন চেতনা মাঝে। তাই অমিয়ার স্মৃতিকথার নামও কী ধ্বনি বাজে। একটা রেকর্ডও করেছিলেন অমিয়া। শৈলজারঞ্জন মজুমদার খুব যত্নে শিখিয়েছিলেন হে নূতন দেখা দিক ও সমুখে শান্তি পারাবার। কিন্তু স্বামীর অকালমৃত্যু হবার পর ছেলেমেয়েদের মানুষ করা, উড়িষ্যায় নিজেদের জমিদারী দেখাশোনা করার কাজেই ব্যস্ত ছিলেন অমিয়া। তারই মাঝে মাঝে গান শিখতে বা বুঝে নিতে এসেছে কেউ কেউ—শিখিয়ে দিয়েছেন তাদের। গানের ক্লাস নিয়ে নয়, গান শুনিয়ে। স্বরলিপি দেখে নয়, অমিয়া গান শিখতেন শুনে। কটকেও বোধহয় বর্ষামঙ্গল বা এইরকম আরো কয়েকটা অনুষ্ঠানে তিনি মেয়েদের গান শিখিয়েছিলেন।

ইদানীং আবার সকলের অনুরোধে গান গাইছেন অমিয়া। গান গাইতে তার ভালই লাগে। এণর মেয়ে কৃষ্ণা থাকেন প্যারিসে। সেবার এসে অমিয়ার কয়েকটা গান নিয়ে গেলেন টেপ করে। বললেন, নিয়ে যাব। ওখানে শোনাব। খালি গলায় গাওয়া, তার বয়স হয়েছে। কি জানি ওদের কেমন লাগবে। সংকোচ যায় না যেন। কৃষ্ণা শুনলেন না। তারপর ফ্রান্স থেকে এলো প্রশংসামুখর চিঠি। ভাষা বোঝে না। তবু অমিয়ার গানের দরদ নাড়া দিল বিদেশীর মনকে। এরপর এলেন সত্যজিৎ রায়। তার কাঞ্চনজঙ্ঘ ছবির জন্যে একটা গান গাইতে হবে। একেবারে খালি গলায়। কারণ ছবিতে ম্যালের এক নির্জন বেঞ্চে বসে গানটিতে ঠোঁট মেলাবেন করুণা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার রেকর্ডিং করতে হবে? একেবারে ভাল লাগে না অমিয়ার। একবার বলে এটা হয়নি, আবার বলে ওটা হয়নি। ওসব ঝামেলা তার ভাল লাগে না। তাঁর মাসতুতো বোনেরা তো এককালের নামী-দামী অভিনেত্রী লীলা দেশাই ও মণিকা দেশই। তাঁরা বলতেন, তুমি যদি ফিল্মে গান কর অনেক নাম হবে। অনেক টাকা হবে। তাতেই অমিয়া কান দেননি। আর এখন! তবু সবার অনুরোধে গাইতে হল। কাঞ্চনজঙ্ঘার এ পরবাসে রবে কে গান রেকর্ডিং হবার পর দেখা গেল ভালই হয়েছে।

এই সেদিনও, ১৯৭৬ সালে গানের জন্যে তিনি মেডেল পেয়েছেন, কালিদাস নাগ মেমোরিয়াল কমিটি থেকে। এর আগে অবশ্য মেডেল পেয়েছেন অনেকবার সঙ্গীত সংঘ থেকে। বেথুন স্কুল ও কলেজ মিলিয়ে একটা প্রতিযোগিতায় ধ্রুপদ গেয়ে অমিয় পেয়েছিলেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায় গোল্ড মেডেল। মাঝে মাঝে বেশ ভাল অনুষ্ঠানে তার গান শোনা যায়। সম্প্রতি নতুন এল. পি. রেকর্ডে বেরিয়েছে পঞ্চকন্যার গান, তাতে অমিয়া গেয়েছেন দুটি গান বড় বিস্ময় লাগে ও তবু মনে রেখো। এখনো অমিয়ার গান যারা একবার শোনে তারা আবার শুনতে চায়। অমিয়া এসব বিশ্বাস করতে চান না। তাঁর মতে, আজ যারা তার গান শুনতে চায় তারা শুনতে চায় সেযুগের গায়কী বৈশিষ্ট্য, কবির নিজের শেখানো গান। নয়ত এখন কি আর আমার গানে সেই মায়ার খেলার মাকে খুঁজে পাওয়া যায়? অমিয়ার সঙ্গে হয়ত কেউ-ই একমত হবেন না। এখনো তার গলায় মধু ঝরে, সাতটি সুরের পোষা পাখি তান-লয়মীড়ের সূক্ষ্ম কারুকাজ দেখায়। একজন সাক্ষী উপস্থিত করি। এই সেদিন দেবব্রত বিশ্বাস তার ব্রাত্যজনের রুদ্ধসঙ্গীত-এ লিখেছিলেন, অমিয়া ঠাকুর বোধহয় তার ৭০ বৎসর পার করে ফেলেছেন। তিনি এখনও গান করেন। এখনও তার গলায় যা স্বাভাবিক কাজ বেরোয় তা স্বরলিপি করা তো দূরের কথা, বর্তমান কালের অথরিটিরা কেউ তা নিজের গলায় গেয়ে দেখাতে পারবেন না। মেনকা অবন ঠাকুরের নাতনী, উমারাণীর একমাত্র মেয়ে। তার বাবা নির্মলচন্দ্রও ছিলেন সঙ্গীতরসিক। ফলে মেয়ে ছোটবেলা থেকেই গানের তামিল নিতে শুরু করেন। এখনকার দিনে এমন উদাত্ত কণ্ঠ বড় বেশি পাওয়া যায় না। গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ও ওস্তাদ বচ্চন মিশ্রের কাছে গান শেখার পরে বেনারসে একদিন মেনকার গান শোনেন দিনেন্দ্রনাথ। শুনে মুগ্ধ হয়ে মেনকার বাবাকে বলেন, ওকে আমার কাছে দাও—দেখবে এ রত্নকে পালিশ করে কেমন ঝকঝকে করে তুলি। তুলেছিলেন। শেখাবার মতো গলা পেয়ে উজাড় করে ঢেলে দিয়েছিলেন নিজের সমস্ত ঐশ্বর্য। মেনকাও শিখেছিলেন প্রাণভরে। গলা তৈরি হবার পর রেকর্ড বেরোল এসো এসো আমার ঘরে আর শেষ বেলাকার শেষের গানে। দিনেন্দ্রনাথ সঙ্গে বাজালেন এস্রাজ। আর একটা রেকর্ডও হল তোমার বীণা আমার মনোমাঝে ও তোমার সুরের ধারা কিন্তু আর নয়। কারণ এ সময়ে মেনকার বিয়ে হয়ে গেল ক্ষিতীন্দ্রনাথের একমাত্র পুত্ৰ ক্ষেমেন্দ্রের সঙ্গে। ১১ই মাঘের উৎসবে মেনকার গান শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন ক্ষেমেন্দ্র। তাই গান শেখা বন্ধ হল না। অতি সম্প্রতি পঞ্চকন্যার গানে মেনকা আবার গেয়েছেন সেই পুরনো গানটি এসো, এসো আমার ঘরে।

রবীন্দ্রনাথ তখন শান্তিনিকেতনে। তার কাছে গান শিখতে না পাওয়ার দুঃখ ঘুচিয়েছিলেন দিনেন্দ্রনাথ। তাই তো দিনেরে অভাবটা বড় বেশি বাজে মেনকার মনে। তাঁর নাম যেন লোকে ভুলেই গেছে। অথচ কবির সকল গানের ভাণ্ডারী ছিলেন তিনি, কাণ্ডারীও। তাকে নিয়ে কেন কিছু হয় না? নিজের গানের স্কুলের নাম দিনেন্দ্র শিক্ষায়তন দিয়ে তিনিই সেই ক্ষোভ। খানিকটা মেটাতে চেয়েছেন। মেনকার গানের স্কুল করাও বেশ মজার ঘটনা। জোড়াসাঁকোয় তারা যেদিকটায় থাকতেন সেখানেই ঠাকুরবাড়ির শেষ সীমানা। ওপাশের বাড়ির একটি মেয়ে সকাল-সন্ধ্যে বেসুরো গলায় রবীন্দ্রসঙ্গীত সাধে। বিরক্ত হয়ে উঠলেন ক্ষেমেন্দ্র। দিনের পর দিন এ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্ত্রীকে অনুরোধ করলেন মেয়েটিকে গান শেখাতে। অর্থাৎ নিজেদের কানের দুঃখমোচনের জন্যেই মেনকাকে গানের ক্লাস খুলতে হল।

তারপর দিনে দিনে বড় হয়েছে তার প্রতিষ্ঠান। তিনিও যুক্ত হয়েছেন বৈতনিক ও পারাণি গানের স্কুলের সঙ্গে। ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ দেখে রবীন্দ্রসঙ্গীত ছাড়াও ঠাকুরবাড়ির অন্যান্য গীতিকারের গান শেখাতে শুরু করলেন। সত্যেন্দ্রনাথ, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ, দিনেন্দ্রনাথ, সৌম্যেন্দ্রনাথ, স্বর্ণকুমারী, ইন্দিরা, প্রতিভা আরো অনেকেই তো গান লিখেছেন। চর্চা না রাখলে হারিয়ে যাবে যে। জীবনে অনেক সম্মান পেয়েছেন মেনকা। এখন শুধু চান ঠাকুরবাড়ির গানকে অন্যদের গলায় তুলে দিতে। একালে অবশ্য আরো কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ঠাকুরবাড়ির গান প্রচারে উৎসাহী।

কিছু-না-কিছু না করেও মেনক। কিন্তু আরেকটা কাজ করেছেন। সেটা হল উড়িষ্যায় তাঁর টেগোর ভবনে বহু ছাত্রছাত্রীকে রবীন্দ্রসঙ্গীত শেখাবার চেষ্টা। কটক-ভুবনেশ্বরে ঠাকুরবাড়ির সম্পত্তি আছে। সেখানে কিছুদিন থাকার সময় তার আগ্রহে ও উৎসাহে বেশ কিছু ওড়িয়া ও প্রবাসী বাঙ্গালী ছেলেমেয়ে এসেছিল গান শিখতে। দশ বছরে প্রায় চল্লিশ জনকে গান শিখিয়েছিলেন মেনকা। তারপর তারা আবার কত শিখিয়েছে কে জানে। এখনও দেখা যাবে ওড়িয়াদের রবীন্দ্রসঙ্গীত শেখার আগ্রহ খুব বেশি। অন্য কোন প্রদেশবাসী রবীন্দ্রনাথের গান

অত উৎসাহ নিয়ে কমই শেখে। মেনকা কলকাতাতেও অনেককে শিখিয়েছেন দিনেন্দ্রনাথের গান। এখনও গান করেন, তবে খুব ছোটাছুটি করতে আর ভাল লাগে না বরং ভাল লাগে গানের মধ্যে হারিয়ে যেতে।

অন্দরমহলের গল্প শেষ। আর ঠাকুরবাড়ির কথা? তার শেষ নাহি যে শেষ কথা কে বলবে। পতন-অভ্যুদয়ের বন্ধুর পথ পেরিয়ে এই বিশাল পরিবারের উত্তরাধিকারীরা এসে পৌছেছেন বর্তমান যুগে। কিন্তু এখন রবীন্দ্র ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার তো ঠাকুর পরিবারে সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে গেছে সর্বত্র। তার হাতে গড়া শান্তিনিকেতনে, শিষ্য-প্রশিষ্য অনুরাগীদের মধ্যে। সেই পরিবারও বড় হতে হতে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ঠাকুরবাড়িতে গড়ে উঠেছে রবীন্দ্র ভারতী—পুরনো ঘর বাড়ি ভেঙে তৈরি হচ্ছে নতুন বাড়ি। তবু এক একটা বিশেষ বাড়ি কৌটোর মতো জীবনের একটা নির্দিষ্ট সময়কে চার দেওয়ালের মধ্যে ধরে রাখে। এই পুরনো দেওয়ালগুলো কত ঘটনার নীরব সাক্ষী। কত সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, জল্পনা-কল্পনা, উত্তেজনা-শিহরণ ঘরের কোণে কোণে জমে উঠেছিল তার হিসেব কে রাখে? আজ তো সে শুধু স্বপ্ন। যা হারিয়ে যায় তা আগলে বসে থাকে শুধু ইতিহাস। সে ইতিহাস তো আছেই, চিরকাল তার টানাপোড়েনে বোনা হয়ে থাকবে ঠাকুরবাড়ি থেকে কি পেয়েছি আর কি পাইনি তার হিসেবের নকশা। অবন ঠাকুর বলতেন, মানুষ হিসেব চায় না, চায় গল্প। স্মৃতির ছায়াবীথি বেয়ে আমরা সেই গল্পের জগতেই ফিরে যেতে চেয়েছি যেখানে নানা রঙের সুতোয় বোনা বালুচরী শাড়ির আঁচলার মতোই ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলের জীবনের সঙ্গে বোনা হয়ে গেছে বাংলার নারী জাগরণের আলোছায়ার নকশা।

পরিশিষ্ট, গ্রন্থঋণ, বংশলতিকার সংযোজন

১. সেই কবে পুরুষোত্তমের বংশধর …শুরু করলেন।
(পৃষ্ঠা ৮ পংক্তি ৯.১১)

জগন্নাথের দ্বিতীয় পুত্র পুরুষোত্তম হইতে ঠাকুরবংশের ধারা চলিয়াছে, পুরুষোত্তমের প্রপৌত্র রামানন্দের দুই পুত্র মহেশ্বর ও শুকদেব হইতে ঠাকুরগোষ্ঠীর কলিকাতা-বাস আরম্ভ।

কথিত আছে, জ্ঞাতি কলহে বিরক্ত হইয়া মহেশ্বর ও শুকদেব নিজ গ্রাম বারোপাড়া হইতে কলিকাতা গ্রামের দক্ষিণে গোবিন্দপুরে আসিয়া বাস করেন। সে সময়ে কলিকাতা ও সুতানুটিতে শেঠ বসাকরা বিখ্যাত বণিক। এই সময়ে ইংরেজদের বাণিজ্যতরণী গোবিন্দপুরের গঙ্গায় আসিয়া দাঁড়াইত। পঞ্চানন কুশারী ইংরেজী কাপ্তেনদের এইসব জাহাজে মালপত্র উঠানে নামানো ও খাদ্য পানীয় সংগ্রহাদি কর্মে প্রবৃত্ত হন। এই সকল শ্রমসাধ্য কর্মে স্থানীয় হিন্দু-সমাজের তথাকথিত নিম্নশ্রেণীর লোকেরা তাঁহার সহায় ছিল। সেই সকল লোক ভদ্রলোক ব্রাহ্মণকে তো নাম ধরিয়া ডাকিতে পারে না। তাই তাহারা পঞ্চাননকে ঠাকুরমশায় বলিয়া সম্বোধন করিত। কালে জাহাজের কাপ্তেনদের কাছে ইনি পঞ্চানন ঠাকুর নামেই চলিত হইলেন; তাহাদের কাগজপত্রে তাহারা Tagore, Tagoure লিখিতে আরম্ভ করিল। এইভাবে কুশারী পদবীর পরিবর্তে ঠাকুর পদবী প্রচলিত হইল।

–প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় : রবীন্দ্রজীবনী (১ম খণ্ড /পৃষ্ঠা ৩)।

২. সে যুগে ঠাকুরবাড়ির মতো ধনী…লাভ করেছিলেন।
(পৃষ্ঠা ৮ / পংক্তি ২৪-২৫ ও পৃষ্ঠা ৯ পংক্তি ১-২)।

আমরা উনিশ শতকে অনেক ধনী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্ধান পাই। এই নব্য ধনী সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষেরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছিলেন দেওয়ান বেনিয়ান কিংবা ব্যবসায়ী। এঁদের অনেকেই ধনী এবং দাতা হিসেবে সর্বজনপরিচিত ছিলেন। কিছু কিছু সমাজ সংস্কার ও অন্যান্য সৎকর্মেও এঁরা মুক্ত হস্তে দান করেন। যেমন, শোভাবাজারের দেব পরিবার (প্রতিষ্ঠাতা : দেওয়ান নবকৃষ্ণ দেব), খিদিরপুরের ঘোষাল পরিবার (প্রতিষ্ঠাতা : দেওয়ান গোকুলচন্দ্র ঘোষাল), আন্দুলের রায় বংশ (প্রতিষ্ঠাতা : দেওয়ান রামচরণ রায়), জোড়াসাঁকোর সিংহ পরিবার (প্রতিষ্ঠাতা : দেওয়ান শান্তিরাম সিংহ, কুমোরটুলীর মিত্র পরিবার (প্রতিষ্ঠাতা : দেওয়ান গোবিন্দরাম মিত্র), পাথুরেঘাটার ঠাকুর পরিবার (প্রতিষ্ঠাতা : দেওয়ান দর্পনারায়ণ ঠাকুর), বাগবাজারের মুখুজ্যে পরিবার (প্রতিষ্ঠাতা : দেওয়ান দুর্গাচরণ মুখোপাধ্যায়), কুমোরটুলীর সরকার পরিবার (প্রতিষ্ঠাতা : দেওয়ান বনমালী সরকার), শ্যামবাজারের বসু পরিবার (প্রতিষ্ঠাতা : দেওয়ান কৃষ্ণরাম বসু), রামবাগানের দত্ত পরিবার (প্রতিষ্ঠাতা : বিত্তবান ও বিদ্বান সমাজে প্রতিষ্ঠিত রসময় দত্ত), সিমলের দেব পরিবার (প্রতিষ্ঠাতা : ধনকুবের রামদুলাল দে, নিমতলার মিত্র পরিবার (প্রতিষ্ঠাতা : ব্যবসায়ী গঙ্গাধর মিত্র), কলুটোলার শীল পরিবার (প্রতিষ্ঠাতা : বেনিয়ান ও ব্যবসায়ী মতিলাল শীল), বহুবাজারের মতিলাল পরিবার (প্রতিষ্ঠাতা : ব্যবসায়ী বিশ্বনাথ মতিলাল), ঠনঠনিয়ার ঘোষ পরিবার (প্রতিষ্ঠাতা : ব্যবসায়ী রামগোপাল ঘোষ) ইত্যাদি। আরো কয়েকটি পরিবারও ধনী হিসেবে পরিচিত ছিলেন যেমন, মল্লিক পরিবার, শেঠ পরিবার, বসাক পরিবার, লাহা পরিবার, পালচৌধুরী পরিবার, দেওয়ান সুখময় রায়ের পরিবার, দেওয়ান গঙ্গাগোবিন্দ সিংহের পরিবার, দেওয়ান রামহরি বিশ্বাসের পরিবার, গঙ্গানারায়ণ সরকারের পরিবার, দেওয়ান কাশীনাথের পরিবার, ব্যবসায়ী মদন দত্তের পরিবার, বেনিয়ান রামচন্দ্র মিত্রের পরিবার প্রভৃতি। কাশীমবাজার রাজপরিবার, জোড়াসাঁকো রাজপরিবার ও পাইকপাড়া রাজপরিবারের নামও এ প্রসঙ্গে করা যায়।

৩. তাঁর নতুন গৃহসঞ্চার-এর কথা:..সেদিনকার কাগজে।

(পৃষ্ঠা ১১ / পংক্তি ৯-১০)

(সমাচার দর্পণ : ২০ ডিসেম্বর ১৮২৩ / ৬ পৌষ ১২৩৩)

নূতন গৃহসঞ্চার ।।–মোং কলিকাতা ১১ ডিসেম্বর ২৭ অগ্রহায়ণ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে শ্ৰীযুত বাবু দ্বারিকানাথ ঠাকুর স্বীয় নবীনবাটীতে অনেক ২ ভাগ্যবান সাহেব ও বিবিরদিগকে নিমন্ত্রণ করিয়া আনাইয়া চতুর্বিধ ভোজনীয় দ্রব্য ভোজন করাইয়া পরিতৃপ্ত করিয়াছেন এবং ভোজনাবসানে ঐ ভবনে উত্তম গানে ও ইংগ্লণ্ডীয় বাদ্য শ্রবণে ও নৃত্য দর্শনে সাহেবগণে অত্যন্ত আমোদ করিয়াছিলেন। পরে ভাঁড়েরা নানা শং করিয়াছিল কিন্তু তাহার মধ্যে একজন গো বেশ ধারণপূর্বক ঘাস চর্বণাদি করিল।

(ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় : সংবাদপত্রে সেকালের কথা, প্রথম খণ্ড পৃষ্ঠা ১৩৮-১৩৯)

৪. মহর্ষি পরিবারে…গৃহের রক্ষয়িত্ৰী। (পৃষ্ঠা ১৯ পংক্তি ১০-১১)

আমার শ্বশুর আমার বড়ো ননদকে বড়ো ভালোবাসিতেন। তাঁহার এই সকল সৎকার্যে খুশি হইয়া তাহাকে তিনি গৃহরক্ষিতা সৌদামিনী নামকরণ করিয়াছিলেন।

(প্রফুল্লময়ী দেবী : আমাদের কথা, স্মৃতিকথা পৃষ্ঠা ৩২)

৫. দেবেন্দ্রনাথ সুকুমারীর বিয়ে ব্রাহ্মবিবাহ।

(পৃষ্ঠা ২১ / পংক্তি ২২-২৪) ব্রাহ্ম ধর্মমতে দেবেন্দ্রনাথের ইহাই প্রথম অপৌত্তলিক বিবাহ-অনুষ্ঠান।… পৌত্তলিকতা রহিত করিবার উদ্দেশ্যে তিনি তুলসীপত্র বিল্বপত্র কুশ শালগ্রামশিলা গঙ্গাজল ও হোমাগ্নি বর্জন করিয়া এক নূতন অনুষ্ঠানপদ্ধতি সংকলন করিলেন ও তদানুযায়ী কন্যার বিবাহ দিলেন।

(প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় : রবীন্দ্রজীবনী, ১ম খণ্ড / পৃষ্ঠা ১১)

৬. উন্নতমনা মহর্ষিও…শোনা যায়নি। (পৃষ্ঠা ৬৫ / পংক্তি ২২-২৬)

প্রসঙ্গত বলে রাখি, আমাদের নির্ভর করতে হয়েছে একমাত্র প্রফুল্লময়ী দেবীর লেখা আমাদের কথার ওপরে। সেখানে দেখি, বলেরে মৃত্যুর পর প্রফুল্লময়ীর মনে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্যে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথ দুজনে বিদ্যারত্ন মহাশয়কে নিযুক্ত করেছিলেন গীতা ও উপনিষদ পড়ে শোনাবার জন্যে। বিদ্যারত্ন মহাশয় এক বছর প্রতিদিন প্রফুল্লময়ীকে ধর্মপুস্তক পড়ে শোনাতেন। এছাড়া দ্বিজেন্দ্রনাথের পুত্রবধূ হেমলতা দেবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসতেন পরমহংস শিবনারায়ণ স্বামী। তিনিও বহু সদুপদেশ দান ও আহুতি অনুষ্ঠান করে প্রফুল্লময়ী দেবীর মনে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। রবীন্দ্রনাথও তাকে একদিন সমম্বোপযোগী সুন্দর গীতা শ্লোক শোনান। কিন্তু মহর্ষি তাঁকে নিজে কোন উপদেশ দান করেছিলেন কিনা জানা যায়নি।

৭. তাই কৌতুক করে…মামলা হতো।

(পৃষ্ঠা ৬৯ পংক্তি ১৪-১৬ পর পৃষ্ঠা)

কবির এই কৌতুককর অনবদ্য উক্তিটি আমাদের উপহার দিয়েছেন মৈত্রেয়ী দেবী তার রবীন্দ্রনাথ গৃহে ও বিশ্বে গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১০)।

৮. প্রজ্ঞা বিবাহসূত্রে অসমিয়া …কেন কে জানে!

(পৃষ্ঠা ১১৮ / পংক্তি ১৮-২০)।

রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর ভ্রাতুস্পুত্রী প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবীর যোগযোগ সত্যই ছিন্ন হয়েছিল বলে মনে হয় না। তবে লক্ষ্মীনাথ বেজবড়ুয়ার আমার জীবনস্মৃতি পড়ে বোঝা যায় রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে লক্ষ্মীনাথের ভাষা সম্পর্কে নানারকম তর্কবিতর্ক হয় এবং কবি পরে অপ্রীতিকর তর্কে যোগ দেওয়া থেকে বিরত হন। লক্ষ্মীনাথের ভাষায়, রোজ রোজ ভাষা সম্পর্কে তাদের সঙ্গে এই তর্ক বিতর্ক বেড়েই চলতে লাগলো আর এই যুবকদের নেতা রবিকাকা অবস্থা বিষম দেখে মৌনবলম্বন করলেন। তখন থেকে আজ এই বুড়োবয়স অবধি ঠাকুরমশাই তাদের এই পোষ না মানা জামাইয়ের সঙ্গে তর্ক করা ছেড়ে দিলেন।

আবার অন্যত্র,

…আমার সঙ্গে যখন আমার সাহিত্যিক শ্যালকদের তর্কাতর্কি হতে শুরু হলো এবং পরে রবিকাকার কাছে গিয়ে পৌঁছালো তখন শ্বশুর জামাইয়ের মধ্যেও একটি ছোটখাটো তর্কযুদ্ধ বাধলো। তারপরে মুখের তর্ক বন্ধ হলে রবিকাকা ভারতী পত্রিকায় অসমিয়া ভাষার উপর মন্তব্য প্রকাশ করে লিখলেন এই প্রবন্ধ। আমি তার প্রতিবাদ লিখে ভারতীতে ছাপাবার জন্যে পাঠিয়ে দিলাম। প্রতিবাদটা ভারতীতে ছাপা হয়। ওদিকে পুণ্য পত্রিকাতেও আমার প্রতিবাদ বেরুল। এরকম ভাবে তর্কযুদ্ধের শেষ হল। (পৃষ্ঠা ১৩০)

হয়ত এসব কারণেই প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবীর আমিষ ও নিরামিষ আহার প্রসঙ্গে কবির কোন মতামত জানা যায়নি।

৯. তবে এই প্রতাপাদিত্য উৎসব শুরু হয়।

(পৃষ্ঠা ১৬৮ / পংক্তি ১৬-১৭)

রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সরলা দেবীর মতবিরোধ সুবিদিত ঘটনা। এ প্রসঙ্গে নিত্যপ্রিয় ধোষ রবীন্দ্রনাথ বনাম সরলা দেবী (অমৃত / বর্ষ ২৫ সংখ্যা ২৩ কার্তিক ১৩৮৫) প্রবন্ধে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। আমরা সেই দীর্ঘ প্রসঙ্গে প্রবেশ করিনি, তবে মনে হয় এই মতান্তরের সূচনা হয় প্রতাপাদিত্য উৎসব নিয়েই। কবির কোন লিখিত মন্তব্য এ সময় হয়তো প্রকাশিত হয়নি কিন্তু সরলা দেবী জীবনের ঝরাপাতায় লিখেছেন,

…তীর এসে বিধলো আমার বুকে রবীন্দ্রনাথের হাত থেকে—সাক্ষাতে নয়, দীনেশ সেনের মারফতে। দীনেশ সেন একদিন তার দূত হয়ে এসে আমায় বললেন,—আপনার মামা ভীষণ চটে গেছেন আপনার উপর।

কেন?

আপনি তার বৌঠাকুরাণীর হাটে চিত্রিত প্রতাপাদিত্যের ঘণ্যতা অপলাপ করে আর এক, প্রতাপাদিত্যকে দেশের মনে আধিপত্য করাচ্ছেন। তাঁর মতে, প্রতাপাদিত্য কখনো কোন জাতির hero-worship-এর যযাগ্য হতে পারে না।

(পৃষ্ঠা ১২৯)।

১০. কবির ইচ্ছে ছিল …দিলেন নাতনীকে। (পৃষ্ঠা ২৪৭ / পংক্তি ৪-৫)

সুরঙ্গমার part তত শক্ত নয়, সেটা তোকে শিখিয়ে নিতে পারব।… কতবার ভেবেছি আমি নিজেই সাজব সুরঙ্গমা—এ প্রস্তাবে অন্যেরা রাজি হচ্ছে

—সবাই বলছে আমার শরীর ভালো নয় অতটা বাড়াবাড়ি সইবে না, নতুবা খুবই ভালো হোত।

– চিঠিপত্র, ৪র্থ খণ্ড। পৃষ্ঠা ২০২)

———————

গ্রন্থঋণ

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর : ঘরোয়া, জোড়াসাঁকোর ধারে, আপনকথা

অমিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় : মহিলাদের স্মৃতিতে রবীন্দ্রনাথ

অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় : ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ ও বাংলা সাহিত্য, দুই নারী ও তিন নায়িকা

আবদুল আজীজ : কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ

ইন্দিরা ঠাকুর : আমার খাতা

ইন্দিরা সঙ্গীত শিক্ষায়তন : ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণী

কমল দাসগুপ্ত : স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার নারী

ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর : দ্বারকানাথ ঠাকুরের জীবনী, মহর্ষি পরিবার (পাণ্ডুলিপি, ডঃ অমৃতময় মুখোপাধ্যায়ের সৌজন্যে)

খগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় : রবীন্দ্রকথা

গৌতম চট্টোপাধ্যায় ও সুভাষ চৌধুরী (সম্পাদিত): সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর

জগদীশ ভট্টাচার্য : কবিমানসী

জসীম উদ্দীন : ঠাকুরবাড়ির আঙিনায়

জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর : জ্যোতিরিন্দ্র রচনাবলী, আমার জীবনস্মৃতি (বসন্তকুমার চট্টোপাধ্যায় অনুলিখিত)

জ্যোতিষচন্দ্র ঘোষ : হেমলতা ঠাকুর

দীনেশচন্দ্র সেন : ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য

দেবব্রত বিশ্বাস : ব্রাত্যজনের রুদ্ধসঙ্গীত

দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর : স্বরচিত জীবন চরিত

দ্বারকানাথ চট্টোপাধ্যায় : ঘরের মানুষ গগনেন্দ্রনাথ

নির্মলকুমারী মহলানবিশ : বাইশে শ্রাবণ

পশুপতি শাসমল : স্বর্ণকুমারী ও বাংলা সাহিত্য

পার্থ চট্টোপাধ্যায় : বাংলা সংবাদপত্র ও বাঙালীর নবজাগরণ

পূর্ণেন্দু পত্রী : গত শতকের প্রেম

প্রভাতকুমার গঙ্গোপাধ্যায় : বাংলার নারী জাগরণ

প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় : রবীন্দ্র জীবনী (১ম-৪র্থ খণ্ড), গীতবিতান কালানুক্রমিক সূচী (১ম-২য় খণ্ড), রবীন্দ্র বর্ষপঞ্জী, ফিরে ফিরে চাই (১ম খণ্ড)

প্রমথ চৌধুরী : আত্মকথা

প্রসন্নময়ী দেবী : পূর্বকথা

বামা রচনাবলী (প্রথম ভাগ): বামাবোধিনী সভা হইতে প্রকাশিত

বিনয় ঘোষ : সাময়িক পত্রে বাংলার সমাজচিত্র (১ম-৫ম খণ্ড), কলকাতা কালচার

বিপিনচন্দ্র পাল : সত্তর বছর

বিপিনবিহারী গুপ্ত : পুরাতন প্রসঙ্গ

জেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় : সংবাদপত্রে সেকালের কথা (১ম-২য় খণ্ড), বঙ্গসাহিত্যে নারী, সাময়িক পত্র সম্পাদনে বঙ্গনারী, বঙ্গীয় নাট্যশালা

ভবতোষ দত্ত : বাঙালীর সাহিত্য

মৃণালিনী দেবী : বিশ্বভারতী প্রকাশিত

মোহনলাল গঙ্গোপাধ্যায় : দক্ষিণের বারান্দা

মৈত্রেয়ী দেবী : রবীন্দ্রনাথ গৃহে ও বিশ্বে, মংপুতে রবীন্দ্রনাথ

যোগেশচন্দ্র বাগল : বাংলার স্ত্রী শিক্ষা, বেথুন সোসাইটি, জাতীয় আন্দোলনে বঙ্গনারী

রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর : পিতৃস্মৃতি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : জীবনস্মৃতি, ছেলেবেলা, চিঠিপত্র, ছিন্নপত্রাবলী

রমেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় : রমেশদার আত্মকথা

রাজনারায়ণ বসু : আত্মচরিত, সেকাল আর একাল

রাণী চন্দ : আলাপচারী রবীন্দ্রনাথ

রাসসুন্দরী দেবী : আমার জীবন

লক্ষ্মীনাথ বেজবড়ুয়া : আমার জীবনস্মৃতি (আরতি ঠাকুর অনূদিত)

শঙ্করীপ্রসাদ বসু : বিবেকানন্দ ও সমকালীন ভারতবর্ষ (৪র্থ খণ্ড)

শরৎকুমারী চৌধুরাণী : শরৎকুমারী রচনাবলী

শান্তিদেব ঘোষ : রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্র সঙ্গীত বিচিত্রা

শিবনাথ শাস্ত্রী : আত্মচরিত, রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ

শেফালিকা শেঠ : বাংলার স্ত্রীশিক্ষা

শৈলসুতা দেবী : পরিণয়ে প্রগতি

সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর : আমার বাল্যকথা সন্তোষকুমার দে ও কল্যাণবন্ধু ভট্টাচার্য (সম্পাদিত) : কবিকণ্ঠ

সাধনা বসু : শিল্পীর আত্মকথা (কল্যাণাক্ষ বন্দ্যোপাধ্যায় অনূদিত)

সাবিত্রী : গোন্দিলাল দত্ত প্রকাশিত

সাহানা দেবী : স্মৃতির খেয়া

সীতা দেবী : পুণ্যস্মৃতি

সুকুমার সেন : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (২য়, ৩য় ও ৪র্থ খণ্ড)

সুব্রত রুদ্র : কাদম্বরী দেবী

সুষমা মৈত্র : মার্কিন বিদুষী মহিলা

সুধীরচন্দ্র কর ও সাধনা কর : শান্তিনিকেতন প্রসঙ্গ

সোমেন্দ্রনাথ বসু : তবে তাই হোক

সোমেন্দ্রনাথ বসু (সম্পাদিত): স্মৃতিকথা

সুনীল দাস : ভারতী পত্রিকার সূচী (পাণ্ডুলিপি)

সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর : যাত্রী

হিরন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় : ঠাকুরবাড়ির কথা

হেমেন্দ্রনাথ ঠাকুর : আমার বিবাহ

Lotika Ghosh : Social & Educational Movement

Sapkar Sengupta : A Study of Women of Bengal

Usba Chakraborty : Condition of Bengali Women

পত্র-পত্রিকা

অমৃত, কিছুক্ষণ, কৃত্তিবাস, গীতবিতান পত্রিকা, ঘরোয়া, চতুরঙ্গ, তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা, দেশ, পরিচয়, পুণ্য, প্রবাসী, বঙ্গলক্ষ্মী, বসুমতী, বালক, বিশ্বভারতী পত্রিকা, ভারতী, রবীন্দ্রভারতী পত্রিকা, রবীন্দ্র প্রসঙ্গ, রবীন্দ্র চর্চা, রবীন্দ্র ভাবনা, শান্তিনিকেতন পত্রিকা, শ্রেয়সী, সবুজপত্র, সমকালীন, সমাজতান্ত্রিক জি. ডি. আর, সাধনা ও visva Bharati News.

ঠাকুরবাড়ির মহিলাদের রচনা

পাণ্ডুলিপি

ইন্দিরা দেবীর শ্রুতি ও স্মৃতি (টাইপ করা কপি): বিশ্বভারতী, রবীন্দ্রভবন

উমা দেবীর আত্মকথা : মেনকা ঠাকুর

কমলা দেবীর কবিতা : মুকুলা রায়

পূর্ণিমা ঠাকুরের ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণী : পূর্ণিমা দেবী

পূর্ণিমা দেবীর চাঁদের বুড়ি : পূর্ণিমা চট্টোপাধ্যায়

বিনয়িনী দেবীর কাহিনী : সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

রমা দেবীর অপ্রকাশিত রচনা : এণা দেবী

সুনয়নী দেবীর কবিত : মণিমালা দেবী

সুরূপা দেবীর কবিতা ও প্রবন্ধ: সুরূপা দেবী

সুষমা দেবীর অপ্রকাশিত রচনা : জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়

গ্রন্থ

অমিতা ঠাকুর : অঞ্জলি, জন্মদিনে

আরতি ঠাকুর : ছায়ারঙ্গ, গাঙ চিলের ডানা (অনু), আমার জীবনস্মৃতি (অনু)

ইন্দিরা দেবীচৌধুরাণী : রবীন্দ্রস্মৃতি, রবীন্দ্রসঙ্গীতে ত্রিবেণীসঙ্গম, নারীর উক্তি, হিন্দু সঙ্গীত (প্রমথ চৌধুরী সহযোগে), Tales of Four Friends (অনু), The Autobiography of Maharshi Devendranath Tagore (সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে), পুরাতনী (সম্পা), গীত পঞ্চাশতী (সম্পা), বাংলার স্ত্রী আচার (সম্পা)

উমা দেবী : বাবার কথা

কল্যাণী দেবী (চট্টোপাধ্যায়): মৌনরেখা

কল্যাণী দেবী (মল্লিক): নাথ সম্প্রদায়ের ইতিহাস দর্শন ও সাধন প্রণালী, নাথপন্থ, Siddha Siddhanta Paddhati and other works of the Nath Yogis জ্ঞা

নদানন্দিনী দেবী : সাত ভাই চম্পা, টাকডুমা ডুম, পুরাতনী (ইন্দিরা দেবী সম্পাদিত)

তনুজা দেবী: পাঁচমিশেলী

পূর্ণিমা দেবী : ঠাকুরবাড়ির গগন ঠাকুর

প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবী : আমিষ ও নিরামিষ আহার, জারক

প্রতিভা দেবী : আলোক

প্রতিমা দেবী : নৃত্য, চিত্রলেখা, স্মৃতিচিত্র, নির্বাণ

বাণী দেবী : The Vedic Songs and the Tagore, Applied Music, Cultural Contact and Music, Music and Tagore, Music and Diversional Therapy and Music, Indian Music and Simultaneous Harmony, Western Music and Ragraginies, The West and the East in Music they meet, Psychology and Music, PsycoMusic in war and after, Music in Basic Education Psychology.

মঞ্জু দেবী : নয়াচীনে যা দেখেছি মাধুরীলতা দেবী : মাধুরীলতার চিঠি, মাধুরীলতার গল্প (দুটিই পূৰ্ণানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত)

মীরা দেবী : স্মৃতিকথা

রমা দেবী : Lord Buddha and his Message (edited)

শোভনা দেবী : To Whom (অনু), The Orient Pearls, Indian Fables and Folklore, Indian Nature Myths, Tales of the Gods of India

সংজ্ঞা দেবী : কৃপাকণা

সরলা দেবী : বাঙালীর পিতৃধন, ভারত স্ত্রী মহামণ্ডল, নববর্ষের স্বপ্ন, কালীপূজার বলিদান ও বর্তমানে তাহার উপযোগিতা, জীবনের ঝরাপাতা, শ্রীগুরু বিজয়কৃষ্ণ দেবশর্মানুষ্ঠিত শিবরাত্রি পূজা, বেদবাণী, শতগন (স্বর)

স্বর্ণকুমারী দেবী : দীপনির্বাণ, মিবাররাজ, বিদ্রোহ, হুগলীর ইমামবাড়া, ফুলের মালা, ছিন্নমূল, কাহাকে, স্নেহলতা বা পালিতা, বিচিত্রা, স্বপ্নবাণী, মিলনরাত্রি, নবকাহিনী, মালতী ও গল্পগুচ্ছ, পাকচক্র, গাথা, পৃথিবী, বসন্ত-উৎসব, সখিসমিতি, বিবাহ-উৎসব, কনেবদল, দেবকৌতুক, কৌতুকনাট্য ও বিবিধকথা, দিব্যকমল, যুগান্ত কাব্যনাট্য, নিবেদিতা, রাজকন্যা, জাতীয় সঙ্গীত, সঙ্গীত শতক, ধর্মসঙ্গীত, প্রেম পারিজাত : কবিতা ও গান, গীতিগুচ্ছ (১ম ও ২য়), প্রভাতসঙ্গীত, মধ্যাহ্নসঙ্গীত, সন্ধ্যাসঙ্গীত, নিশীথসঙ্গীত, An Unfinished_Song, Short Stories, সেকেলে কথা। ছোটদের বই : গল্পসল্প, সচিত্র বর্ণবোধ (১ম-২য়), বাল্যবিনোদ, আদৰ্শনীতি, প্রথম পাঠ্য ব্যাকরণ, বালবোধ ব্যাকরণ, কোরকে কীট, কীর্তিকলাপ, সাহিত্য শ্রোত। হে

মলতা দেবী : অকল্পিতা, জ্যোতি, আলোর পাখি, দুনিয়ার দেনা, মেয়েদের কথা, দেহলি, জল্পনা, দুপাতা, শ্ৰীনিবাসের ভিটা, পরমাত্মায় কি প্রয়োজন, সৃষ্টি ও স্রষ্টা কাহার নাম, চৈতন্যময় পূর্ণ ও সর্বশক্তিমান ঈশ্বর কাহার নাম, সত্য লাভের উপায় কি।

অন্যান্য রচনা

অমিতা দেবী : প্রতিমা দেবী, মীরা দেবী, দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবির কথা, শ্ৰীমতী দেবী, রবীন্দ্রনাথের অভিনয় প্রসঙ্গে অমিয়া দেবী : কী ধ্বনি বাজে (সুভাষ চৌধুরী অনুলিখিত) ইন্দিরা দেবী : সঙ্গীতে রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রসঙ্গীতের শিক্ষা, রবীন্দ্রসঙ্গীতে তানের স্থান, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীতপ্রভাত, রবীন্দ্রসঙ্গীতের বৈশিষ্ট্য, স্বরলিপি পদ্ধতি, হারমণি বা স্বরসংযোগ, আমাদের গান, স্বরলিপি, বিশুদ্ধ রবীন্দ্রসঙ্গীত, শান্তিনিকেতনে শিশুদের সঙ্গীতশিক্ষা, রবীন্দ্রনাথের গান, বির্জিতলাও, আঁদ্রেজীদ-র ফরাসী গীতাঞ্জলির ভূমিকা (অনু), মাদাম লেভির ভারতবর্ষ (অনু), রেনে গ্রুসের ভারতবর্ষ (অনু), পিয়ের লোতির কমলকুমারিকাম (অনু), দশদিনের ছুটি, বালিকার রচনা, The Music of Rabindranath Tagore, ৪৯ নং পার্ক স্ট্রীট

কমলা দেবী : গান

কল্যাণী দেবী (মল্লিক): রঙ্গসাহিত্যে গোরক্ষনাথের সাধনা, যোগীজাতির অতীত গৌরব, বই পড়া, মধ্যযুগে সন্ত ও নাথসাধনা, আচার্য জগদীশচন্দ্র ব, সরোজিনী নাইডু, স্বর্গীয় স্বর্ণকুমারী দেবী, স্বগীয়া জ্ঞানদানন্দিনী। দেবী, দিদিমা ও মার কথা, ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্রের সংকীর্তনপ্রীতি, প্রীতিমিলন, চাচা নেহেরুর জন্মদিন, বঙ্গে স্ত্রীশিক্ষার প্রসার, যুগাচার্য শ্ৰীমদ বিবেকানন্দ, সিকিম যাত্রা, কুমায়ুন ভ্রমণকারীর স্বর্গ—শততাল, কাশ্মীরের পথে, কাশ্মীরের ঈশানাথ, অলঙ্কার নির্বাচন, কে, বুড়োখোকা, স্ত্রীশিক্ষা, বঙ্গে স্ত্রীশিক্ষার প্রসার, নব্যভারতে শিক্ষিত নারীর দায়িত্ব, আদর্শ শিক্ষা, সেকাল ও একাল, শিশুশিক্ষা, জাতীয় পতাকা, বসন্ত উৎসব, কল্পতরু উৎসব, মাতৃতর্পণ, নারী শক্তি সংঘ, রবীন্দ্র স্মৃতিবার্ষিকী, ভ্রাতৃস্মরণে, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ক্রমবিকাশ, কর্মজগতে নারী -ভাঁড়ার ঘর, স্বর্ণকুমারী দেবী, শিশুস্বাস্থ্য, রমাগৃহে রসচক্রের বৈঠক। Saiut Gorakhuath, The Hoary Shrine of Gorakhnath, Gorakhnaths Sadhana in Bengali Literature, Godhead in Sankhya, Visit to the Taj, Story of the Four Winds, Indiau State Railways Special Tour in 1929, Women and University Education, Sri Sarada Devi as the Living Embodiment of the Divine Mother, The Nath Yogis, The Brahmo Samaj -One World Fellowship, Women as the Living Embodiment in the Sadbana of Sri Ramkrishna, Gradual Development of Womens Education in Bengal, Pramathanath Chowdhury.

জ্ঞানদানন্দিনী দেবী : ভাউ সাহেবের বখর, ইংরাজনিন্দা ও দেশানুরাগ, স্ত্রীশিক্ষা, কিন্টারগার্ডেন, আশ্চর্য পলায়ন

নন্দিতা দেবী: ব্ৰেজিলে এক বৎসর, সোনার দেশ

প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবী : গোপালন

প্রতিভা দেবী : সহজ গান শিক্ষা, সাংখ্যস্বরলিপি, তানসেন, সা সদারঙ্গ, শৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুর, বৈজুবাওয়া নায়ক, আত্মকথা

প্রতিমা দেবী : গুরুদেবের ছবি, মহাত্মাজী

প্রফুল্লময়ী দেবী : আমাদের কথা

মনীষা দেবী : পুঁতির পর্দা

মাধবী দেবী : বাংলার স্ত্রী আচার : পশ্চিমবঙ্গ (ঠাকুরবাড়ি)

মীরা দেবী : ভারতের ভাগবত ধর্ম, হিন্দুধর্ম ও রাষ্ট্রনীতি, হিন্দু মুসলমান সমস্যা, প্রাচীন ভারতে বিদেশী, মৌর্য সাম্রাজ্যের লোপ, ধর্ম ও বিজ্ঞান, ডাউলিঙ, দরিদ্র ঘটনা, জাতির স্বাতন্ত্র, রণক্ষেত্রের কুকুর, পাঞ্জাবের বিবাহ প্রথা, শীলশিক্ষা, হাতির দন্তচিকিৎসা, ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল, [প্রবাসীর জন্যে সংকলিত। ইংরেজী প্রবন্ধের সারমর্ম ও অনুবাদরূপে এগুলি প্রকাশিত হয়]

রমা দেবী : রবীন্দ্রসাহিত্যে নারী, সাপুড়ের গল্প

শ্ৰীমতী দেবী : এখনকার নৃত্যকলা, ভরতনাট্যম, মণিপুরী নৃত্য

শোভনা দেবী : কহাবৎ বা জয়পুরী প্রবচন, লক্ষ টাকার এককথা, আনার রাণী বা ডালিমকুমারী, গঙ্গাদেব, ফুলচাদ, লুব্ধবণিক তেজারাম, ছেড়া কাগজের ডোমলা, য়ুরোপে মহাসমরের পরে লণ্ডনে, রণক্ষেত্রে বঙ্গ মহিলা, মহাযুদ্ধের পরে প্যারী নগরীতে

সরলা দেবী : দুর্ভিক্ষ, বাবলা গাছের কথা, পিতামাতার প্রতি কি ব্যবহার করা কর্তব্য, বকুলের গল্প, কুড়ান, প্রেমিকসভা, প্রবাসীর দু-চার কথা, মালবিকা-অগ্নিমিত্র, রতিবিলাপ, স্বরলিপি আলোচনা, সংস্কৃত গান, জাপানী উপাখ্যান, মালতীমাধব, জাপানী প্রহসন, পিয়ের লোতি, বাঙালী ও মারহাটি, ব্রাউনিংয়ের একটি কবিতা, নতুন ধরনের উপন্যাস, ভালবাসা না চক্ষুলজ্জা, বাংলা রঙ্গভূমি, বাংলা এ্যাকাডেমি, বঙ্কিমবাবু, অশ্বপৃষ্ঠে, লারাণের উজীর (মূল পারসী থেকে অনু), মুদ্রারাক্ষস, একা, বাংলার হাসির গান ও তাহার কবি, নৈনিতালের অপরাধ, শ্রমিক, সম্পাদকের চিত্ৰচয়ন, বাঙালীর পরীক্ষা, মৈত্রের শংকা, শংকানিবারণ, চরিত্রগঠন, ভাবের ঠেলা, বাঁশি, বিজয়াদশমী, রবীন্দ্র বারমাস্যা, মারহাট্টা পানসুপারী, মহিসুরী গান, লালন ফকির ও গগন, চিত্ৰদৰ্শনে, একালে সেকাল, স্বামী বিবেকানন্দ, গীৰ্বাণী, মানুষ গড়ার রাজনীতি, মহারাণীর অন্ত্যেষ্টি সমারোহ, ভাদুড়িমহাশয়ের খেতাবত্যাগ, ব্ৰতমন্ত্র, বাঙালী পাড়ায়, বাংলার ইতিহাসের উপকরণ, প্রত্যাহার, জাতীয় মহাসভা ও জাতীয় সজ্জা, শুনঃসেপের বিলাপ, মৃত্যুচর্চা, সাতপুরুষের কমে হিন্দুবিবাহ, বোম্বাই সিগনলারের ধর্মঘট, শক্তিচর্চা, পারস্য পুলক, ওমর খৈয়াম, ভারতনারীর সম্রাজ্ঞী, বিলাতে ও ভারতে (রুবায়াৎ গদ্য অনু), ভাষাতত্ত্ব, স্বামী বিবেকানন্দ ও রামকৃষ্ণ মিশন, বাঙালীর পিতৃধন, বিলাতী ঘুসি বনাম দেশী কিল, পাষাণের আবেদন, কুমার উদয়াদিত্য, ভারতের হিন্দু মুসলমান, আমাদের উচ্চশিক্ষা, আমার বাল্য-জীবনী, মায়াবতী : কামনাদেবীর পীঠ, জাতীয় স্বভাবের অভাব, কংগ্রেস ও স্বায়ত্তশাসন, চেতনা, জাপানে ফুলবিন্যাস, পলাশবন, উৎস, খেয়ালের চৌহদ্দি, ব্যাপ্তি, বারমাসা, অভয়মন্ত্র, যোগাযোগ, দিল্লীর দরবার, রূপকথার রূপান্তর, কবি সম্বর্ধনা, বাইবেলের ইনজেকসান, জাতীয়কাল বৈশাখ, বরফগলা, বিজয়াদশমী, গোড়ায় গাফিলি, জন্মস্মর, চিত্রাবলী, আহ্বান, পলায়নপর ও পলায়নের পর, উদ্বোধন, বঙ্গীয় সেনরাজগণের উত্তরচরিত, রামপ্রসাদের পদাবলী, অগ্নিপরীক্ষা, স্বাধীন ত্রিপুরার ঠাকুরগণ, লাইব্রেরী, সত্যাগ্রহ, সেনাপতা, কালের প্রবাহ, ভূতশুদ্ধি, তাঞ্জর, তারকেশ্বরে পুজা দেওয়া, নাচঘর, অকালে বাসন্তী পূজা, নানা কথা : ঢাক-খাদিপ্রতিষ্ঠান-খদ্দর, বর্ষামঙ্গল ও শেষবর্ষণ, মহর্ষি, বসন্ত পঞ্চমী; খেলায় পূজা : তারুণ্যের অভিষেক, বড়মামা, হিরন্ময়ী দেবী, রাজায় প্রজায়, বাঙালী ও বঙ্গভাষা, ভাষার ভোর (উপন্যাস), অপরাজিতা (উপন্যাস), সাহিত্যিকের প্রতি, ননকোঅপারেশনের আদিকতা কে? ইংরেজ না ভারতবাসী, ভারতীয় মহাজাতি সংঘ, দুর্গা ও চণ্ডী, চিরাগের মেলার পথে, আত্মতৃপ্ত, বিরাগের মেলার পথে, বীরাষ্টমীর গান, হালী বিলাতী নাট্য, হিন্দু ও নিগর, হিন্দোল, হিমালয়, অনাথবন্ধু, অহল্যার শাপকথার দ্বৈধ, আলোচনা : ভাষা পুষ্টি সম্পর্কে, একগান তিনসুর, কালের প্রবাহ, কুমার লাইব্রেরীর কুমারগণের প্রতি, স্বদেশীসভার স্মৃতিচারণ, স্বয়ম্বর গীতি, সুরেশের উপহার, সাধের তরণী আমার, A Problem of Indian Girls School কবিতা : সুরসরিৎ, সাহারারাগ, জাতীয়সঙ্গীত, শিবগীতি, যুদ্ধগীতি, রাখীবন্ধন, বিশ্ববিজয়ী বিভূতি, চোখের জলের মিলন আমার, হিন্দোল, প্রভুর দান, নারীর প্রতিদান, আহিভাগ্নিকা, হৃদয়বন, হিমালয়ে, কাজের বোঝা, আমার শ্রোতা, মাঙ্গলিক, অহংকার, আত্মতৃপ্ত, লীলাধারী, অরূপ, শ্রাবণ।

সংজ্ঞা দেবী : ইউরিশিমা, মৎসুয়ামার আয়না, ওঁকে যেমন দেখেছি (জয় অনুলিখিত)

সুজাতা দেবী : গগনেন্দ্রনাথ

সুদক্ষিণা দেবী : রান্না : লক্ষ্যে প্রণালী

সুনৃতা দেবী : ব্রহ্মে শূলীনাথ

সুরূপা দেবী : সোমেন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ

সুষমা দেবী : হারিয়েট বিচার স্টো, লিণ্ড, মাদার দ্য স্টেল, হারিয়েট মার্টিনো, আমেরিকায় হিন্দুধর্মের প্রভাব, আমেরিকায় বেদান্ত ধর্মের প্রভাব ও সমাদর, শ্রীনগর, শ্রীনগরের পথে, শ্রীনগরের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বন্য অধিবাসী, রামপুরের পথে, রাউলপিণ্ডির পথে, আধুনিক ছাত্রজীবন।

সৌদামিনী দেবী : পিতৃস্মৃতি, গান

স্বর্ণকুমারী দেবী : ভারতবর্ষীয় জ্যোতিষশাস্ত্র, বিজ্ঞানশিক্ষা, সৌর পরিবারবর্তী পৃথিবী, প্রলয়, অন্যান্য গ্রহগণ নিবাস ভূমি কিনা, তারকা-জ্যোতি, পদার্থের চতুর্থ অবস্থা বা কিরন্ত পদার্থ, সৌর জগতে কত চঁদ, তারকারাশি, যমক ও বহুসঙ্গিক তারকা, পরিবর্তনশীল তারকা, তারকাবর্ণ ও তারকার নির্মাণ-উপাদান, তারকাগুচ্ছ, নীহারিকা, সূর্য, ইন্দ্রিয়ের সাহায্য বিনা মনের কথা জানা, সমুদ্রে, হেঁয়ালি খেলা, ইংরেজদিগের ক্রীড়াকৌতুক, অমরগুচ্ছ, উপকথা, কাহহাজি আথ্রে, গান্ধীপল্লীর সম্বৰ্ধনা, গিলটির বাজার, খসরুবাগ, পাণ্ডারপুর, পুরী, ঝুসি, টর্কিটো ট্যাসে, দার্জিলিং, প্রগষত্র, প্রয়াগে, প্রয়াগদর্শন, প্রয়াগের দুয়েকটি দৃশ্য, প্রয়াগের কয়েকটি মন্দির, নীলগিরির টোডজাতি, কবি নাস্তিকত ও শেলি, আমাদের কর্তব্য, মেসমেরিজম বা শক্তিচালনা, কর্তব্য কোন পথে, নব্যবঙ্গের আন্দোলন, লর্ড কার্জন ও বর্তমান অরাজকতা, পুরুষের শ্রেষ্ঠত্ব, পুস্পাঞ্জলি : বড়দাদা পূজার তত্ত্ব, প্রকৃতি, ফুলের মালা (গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত উপন্যাস), বাঙালীর রসবোধ, বিজ্ঞানশিক্ষা, বিদায়গ্রহণ, বিধবা বিবাহ ও হিন্দু পত্রিকা, বিবাহ, বৈজ্ঞানিক সংবাদ, ভারতী আরতি, সমুদ্রে, ভূগর্ভ, মঙ্গলে জীব কিতে পারে কিনা, মনের কুয়াশা, মহারাজা সূর্যকান্ত, রমাবাঈ, মহিলা মজলিশ, রাজ্যের কথা, রাজনৈতিক প্রসঙ্গ, রাজ্যের কথা ও মন্তব্য, রাণাবংশে ইরানীত্ব লোপ, রাণী জ্যোতির্ময়ী, শরৎকুমার, শিল্পশিক্ষা, সচিত্র হিন্দু পেট্রিয়ট, সুজানদ্বীপ, সূর্য, স্ত্রীশিক্ষা ও বেথুন স্কুল, সাত বৎসরে সখিসমিতি,স্বদেশী সার্কাস।

হিরন্ময়ী দেবী : অপেক্ষা, আথেন্সের ব্যবস্থাবলী, আপেল আম্রাণে, উদ্ভিদের জীবনরক্ষার নবাবিষ্কৃত উপায়, ঋণ পরিশোধ, নকশা, কাফ্রিগণৎকার, কেন হাহাকার, কিরণের মৃত্যু, কৈফিয়ৎ, ধর্মজ্ঞান, ডীন জোনাথান সুইফট, দৈবঘটনা, নবযুগ, নবীন, দূরস্থ সম্পাদকের নিবেদন, নীলাম, নিউহাম কলেজ, পাষ্টের আবিষ্কৃত চিকিৎসা, পিথাগোরস, বর্ষ, বর্ষবরণ, বান্দেলের গির্জা, চন্দ্রালোক (অনু. : গী, দ্য, মোপাসা), জাতীয় কাল বৈশাখ, মহিলা শিল্প সমিতি, মনের মানুষ, মাতৃপূজা, বিলাতের পত্র, রমণীর স্বদেশব্রত, রুশিয়া, রুশিয়ার কারাগার, রুশিয়ার শাসনপ্রণালী, রুশিয়ার বাণিজ্য, রুশীয় ভাষা ও সাহিত্য, সমারভিল হল, সসীম ও অসীম, সূতিকাগৃহে বানরত্ব, হেঁয়ালি নাট্য, মনে মনে বার্তাবহন। কবিতা : সরসী ও তটিনী, সুরূপা ও কুরূপার খেদ, হরপার্বতীর তপস্য, শারদপ্রীতি, শ্রীপঞ্চমী, সংসার, মিনতি, মানী, মালঞ্চ, কবি, বিশ্ব, বিশ্বাস, ভাইফোঁটা, মরণ, প্রেমর্ফোটা, বউ কথা কও, বর্ষের বিদায় গান, ঝুমঝুমি, ছবি, ঘুঘু, নববর্ষের অকিঞ্চন, খুলি নাই বা খুলি, গতবর্ষ ও নববর্ষ, অন্তঃপুরবদ্ধা, আগমনী, আগমনী (দীর্ঘ কবিতা), একই গান, এ নহে বিদায়, কত ভালবাসা, হায়, কবিতা, একা, বসন্তের পাখি, কাজ নেই, কে, কেন ডাকি।

হেমলতা দেবী; সংসারী রবীন্দ্রনাথ, মনের ছবি, শ্বশুর মহাশয়, রবীন্দ্রনাথের বিবাহবাসর, বৈশাখের রবীন্দ্রনাথ, আশ্চর্য মানুষ রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথের অন্তমুখীন সাধনার ধারা, ব্যবহারক্ষেত্র, যোগস্থিতি, পুষ্পাঞ্জলি : বাবামহাশয়, প্রাণের কথা, মোক্ষের আভাস, মঙ্গল, নতুনতর মানুষ দ্বিজেন্দ্রনাথ। কবিতা : আলোর পথ, একই, জাগাও, জীবনস্বামী, দেবশক্তি, কে সে পরমসুন্দর, ধরা, নবীনপ্রভাত, পরিণতি, ভুল, প্রাতঃসূর্য, বাণীবিতান, ভাঙাচোরা, মহর্ষি রুদ্র, মহাশুচি, যোগীবেশ, স্মৃতিতীর্থ।

পত্র-পত্রিকা সম্পাদনা

জ্ঞানদানন্দিনী দেবী : বালক

প্রজ্ঞা দেবী : পুণ্য

প্রতিভা দেবী : আনন্দ সঙ্গীত পত্রিকা (যুগ্ম সম্পাদিকা ইন্দিরা দেবী)

মঞ্জুশ্রী দেবী : ঘরেবাইরে, জয়া

সরলা দেবী : ভারতী, হিন্দুস্থান

স্বর্ণকুমারী দেবী : ভারতী

হিরন্ময়ী দেবী : ভারতী

হেমলতা দেবী : বঙ্গলক্ষ্মী

ব্যক্তিঋণ

অক্ষয়কুমার কয়াল, অজিত পোদ্দার, অতসী বড়ুয়া, অমিতা ঠাকুর, অমিয়া ঠাকুর, অমৃতময় মুখোপাধ্যায় (ডঃ), অরুণ বসু (ড), অরুণ বসু, অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় (ডঃ), ইরা সেনগুপ্ত, উমা দেবী, এণা রায়, কমল মুখোপাধ্যায়, কল্যাণী মল্লিক (ডঃ), কল্যাণাক্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্ষিতীশ রায়, গৌতম চট্টোপাধ্যায়, গৌর সাহা, গৌরী চৌধুরী, গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়, চম্পা হালদার, চিত্তরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, চিত্রা ঠাকুর, জগমোহন মুখোপাধ্যায়, জয়ন্তমোহন চট্টোপাধ্যায়, জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়, জীমূতেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, তপন দাস, দীপ্তি চৌধুরী, দ্বারকানাথ চট্টোপাধ্যায়, দ্বিজেন্দ্রনাথ বসু, নমিতা দাশগুপ্ত, নৃপেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, পারুল ঠাকুর, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, পার্থ বসু, পূর্ণিমা দেবী, পূর্ণিমা ঠাকুর, প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, প্রসূন মুখোপাধ্যায়, প্রসেন মুখোপাধ্যায়, প্রণতি ঘোষাল, প্রকৃতি ঘোষাল, বন্দনা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাণী চট্টোপাধ্যায়, বিপুল গুহ, বুদ্ধদেব গুহ, বেলা চৌধুরী, ভবতোষ দত্ত, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, মঞ্জু দেবী, মুকুল রায়, মেনকা ঠাকুর, মণিমালা দেবী, মীরা চৌধুরী, মিহিরেন্দ্র ঠাকুর, রত্না বড়ুয়া, শুভ্রা রায়, শোভনলাল গঙ্গোপাধ্যায়, শ্ৰীপান্থ, শ্ৰীমতী ঠাকুর, সঞ্জয় দে, সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, সনৎ বাগচী, সবিতা দেবী, সুষীমা গুহঠাকুরতা, সমর ভৌমিক, সমরেশ্বর বাগচী, সুজাতা ভট্টাচার্য, সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়, সুধাময়ী মুখোপাধ্যায়, সুমোহন চট্টোপাধ্যায়, সুনন্দ সেন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সুনীল দাস, সুপ্রিয় ঠাকুর, সুভাষ চৌধুরী, সুরমা ঠাকুর, সুরূপা দেবী।

চিত্ৰঋণ

বিশ্বভারতী, রবীন্দ্রভবন : অমিয়া দেবী, নন্দিতা দেবী, প্রতিমা দেবী, মাধুরীলতা দেবী, মীরা দেবী, সর্বসুন্দরী দেবী, সাহানা দেবী, সুজাতা দেবী, সুপ্রভা দেবী, সুশীলা দেবী, সৌদামিনী দেবী (গঙ্গো)।

বিশ্বভারতী, গ্রন্থনবিভাগ : জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবী, মৃণালিনী দেবী, রেণুকা দেবী, স্বর্ণকুমারী দেবী, হিরন্ময়ী দেবী।

রবীন্দ্রভারতী, সংগ্রহশালা : বিনয়িনী দেবী, সুনয়নী দেবী, সুশীলা দেবী, হেমলতা দেবী।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও গ্রন্থ

আনন্দবাজার পত্রিকা: কাদম্বরী দেবী। ইন্দিরা সঙ্গীত শিক্ষায়তন : প্রতিভা দেবী। ঘরের মানুষ গগনেন্দ্রনাথ গ্রন্থ থেকে : সৌদামিনী দেবী। রবীন্দ্র রচনাবলী (১০ম খণ্ড) (পঃ বঙ্গ সরকার প্রকাশিত) থেকে : সারদা দেবী। সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর গ্রন্থ থেকে : সংজ্ঞা দেবী। To Whom গ্রন্থ থেকে : শোভনা দেবী।

ব্যক্তিগত সংগ্রহ :

অমিতা ঠাকুর : অমিতা দেবী। গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় : মঞ্জুশ্রী দেবী (সুভাষ। চৌধুরীর সৌজন্যে)। চিত্রা ঠাকুর : চিত্রা দেবী। জয়ন্তমোহন চট্টোপাধ্যায় : উষাবতী দেবী। দ্বারকানাথ চট্টোপাধ্যায় : অভা দেবী, কমলা দেবী, সুনন্দিনী দেবী। পূর্ণিমা চট্টোপাধ্যায় : অপর্ণা দেবী, পারুল দেবী, পূর্ণিমা দেবী, সুরমা দেবী। প্রসূন মুখোপাধ্যায় : রমা দেবী। বাণী চট্টোপাধ্যায় : ইন্দিরা দেবী, নীপময়ী দেবী, প্রফুল্লময়ী দেবী, বাণী দেবী, সরলা দেবী, সুদক্ষিণা দেবী। ভাস্কর মুখোপাধ্যায় : অভিজ্ঞ দেবী, মনীষা দেবী, সুনৃতা দেবী, সুষমা দেবী। মেনকা ঠাকুর : উমা দেবী, মেনকা দেবী। শুভ রায় : মাধবিকা দেবী। শ্রীমতী ঠাকুর : শ্ৰীমতী দেবী। সুজাতা ভট্টাচার্য : সরোজাসুন্দরী দেবী। সুনন্দ সেন : জয়শ্রী দেবী (সুভাষ চৌধুরীর সৌজন্যে)। সুভাষ চৌধুরী: পূর্ণিমা দেবী। সুরূপা দেবী : সুরূপা দেবী।

রবীন্দ্রভারতী সংগ্রহশালা : ম্যাক্সমুলারের পত্র প্রতিলিপি।

বংশলতিকার সংযোজন

ঠাকুরবাড়ির বংশলতিকা প্রস্তুত হবার পর যাঁদের নাম আমরা জানতে পেরেছি এখানে তাঁদের নামের তালিকা দেওয়া হল।

গিরীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বংশধারায় যেখানে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর (কাদম্বিনী ও যজ্ঞেশপ্রকাশ গঙ্গোপাধ্যায়) রয়েছেন সেই পরিবারের পর্ণ পরিচয় হল :

রথীন্দ্রনাথ ও অণিমা-র কন্যা রঞ্জিতা ও জামাতা জ্যোতিরঞ্জন মজমদারের পুত্র-কন্যার নাম ইন্দ্রজিৎ ও রীণা।

রথীন্দ্রনাথের পুত্র রাসেন্দ্রনাথ ও পুত্রবধ, শ্রীলেখার তিন কন্যার নাম মধুশ্রী, দীপশ্রী ও রপশ্রী।

দেবেন্দ্রনাথের বংশধারায় যেখানে সুশীলা (শরকুমারী ও যদকমল মুখোপাধ্যায়) রয়েছেন সেই পরিবারের ইলারাণী মুখোপাধ্যায়ের পর্ণ পারিবারিক পরিচয় হলঃ

রণেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ও মাধুরীলতার কন্যা ইলারাণী জামাতা মাখনলাল মুখোপাধ্যায়। তাঁদের জ্যেষ্ঠা কন্যা ভারতী জামাতা অম্বরেন্দ, চক্রবতী। এদের একমাত্র কন্যা নীতা জামাতা সমীর বন্দ্যোপাধ্যায়। এদের কন্যা স্মরণকা।

ইলারাণী ও মাখনলাল মুখোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় সন্তান অধীশ পুত্রবধ, রেবা। এদের পুত্র অভিজিৎ কন্যা সঙ্গীতা।

ইলারাণী ও মাখনলাল মুখোপাধ্যায়ের কনিষ্ঠ পুত্র অর্ণব পুত্রবধ কাবেরী। এদের দুই কন্যা সঞ্চিতা ও পারমিতা।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত