তিস্তার কবিতাগুচ্ছ

আজ ২৬ জুন কবি তিস্তার জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা। 

এই শুভদিনে ইরাবতীর পাঠকদের জন্য রইলো কবি তিস্তার কবিতা।


Tumhe koi aur dekhe toh jalta hai dil
badi mushkilon se phir sambhalta hai dil


এইযে তুমুল জাগিয়ে তুললেন পাড়া

এইযে তুমুল হট্টগোল…
ছত্রে ছত্রে এইযে আপনার গভীর আর্তি
ভিতর থেকে উঠে আসা জ্বালা-কষ্ট-প্রেম…!

এই যে, আপনার তুখোড় কলমে –
বিপণনও কী অপরূপ শিল্প হয়ে উঠলো গোটা রাজ্য জুড়ে !

এরপরও আপনি বলবেন –
আমাকে নিয়ে লেখার সময় আপনি অন্যমনস্ক ছিলেন না !
অন্য আর কেউ ছিলনা আমাদের মধ্যবর্তী গল্পে !
আমাদের মান-অভিমান পর্বে সু-চিক্কণ ঢুকে পড়েনি কেউ ?

এরপরও আপনি বলবেন –
ভালোবেসেছিলেন ! তীব্র !

 

 

 

জীবন মানে আমি বরাবর-ই যুদ্ধ জেনেছি


আজানের সুর আজ কেমন উচ্চকিত বেজে যাচ্ছে…!

আমি বেশ টের পাচ্ছি –
ক্রমশ সম্পদশালী হয়ে উঠছে তোমাদের আলিপ্ত বাগান ।

যে মেয়েটা ইনবক্সে একেবারেই ফালতুমি পছন্দ করে না
সে-ও মধ্যরাত্রে একের পর এক উদ্বিগ্ন গোলাপ পাঠিয়ে যাচ্ছে –
তার প্রাজ্ঞ প্রেমিককে!
কী চূড়ান্ত পসেসিভনেসে, তুমি বিশ্বাস করতে পারবে না
উজান নামের ছেলেটি জাপটে ধরে রাখতে চাইছে
ওর হলুদ রঙের পাখিটিকে !

আর আমি, এই তীব্র বসন্তের দিনেও
যুদ্ধ রঙের পোষাক পরিয়ে দিচ্ছি আমার মনকে !
বলছি, ও মন, ওঠোগো, ঢের বিশ্রাম হল….

হাতের ওপর হাত থাকলে
আর পেটের ভিতর ভাত –
কে আর কবে যুদ্ধ চেয়েছে বলো ?

 

 

 

স্পাইনলেস


তারপর এভাবেই একদিন জমে উঠলো আসর
সন্ধ্যার তীক্ষ্ণ আলোয় হাতে উঠে এলো তাস ।

তুরুপেরও কত মায়া !

স্পর্ধার অহং ছিঁড়ে একে একে বেরিয়ে এলো নগ্ন মুখ ।

সরীসৃপ.!

মহাশূন্যের বুকে –

আমি তার ঝরে যাওয়া…
আমি তার ফুরিয়ে যাওয়া…
আমি তার বীর্যহীন…

চূড়ান্ত কিলবিল দেখি !

 

 

 

প্রেম ও পলিটিক্স : ছয়


নির্জন পার্কের কোণে –

পতাকার বদলে যাওয়া রঙ দেখতে দেখতে
আমাদের চৌত্রিশতম চুমুর স্মৃতি ফ্যাকাসে হয়ে উঠছিল ক্রমশ…

বুঝতেও পারছিলাম না,
পায়ে পায়ে চন্দনের কাঠ জড় হচ্ছিল রোজ ।

মধুমেয় রোগ এত গাঢ় হয়ে এলো, যে, তেতো করলার স্বাদ রাখতেই হল জিহ্বায়

প্রতিটা শব্দের পরে –
সত্যি করে বল, তুইও কি চাস নি একটা গল্প হোক
অন্তত একটা কবিতা !

 

 

 

চূড়ান্ত অভদ্র একটা কবিতা


মেলো ড্রামা বোঝেন ? ঝোপঝাড়… বিকিকিনি…!

ছেঁড়া ব্লাউজের মায়া এবার ত্যাগ করুন । চিটচিটে ব্রা-এর স্ট্র্যাপ বেরিয়ে আছে বউ-এর ছেঁড়া ব্লাউজের ভিতর থেকে । আগে তাকে একটা ব্রা কিনে দিন । তারপর অন্যের বউ-এর সাথে প্রেম মারাবেন । বড় বড় বুকনি শুধু ! আর মেয়েগুলো-ও তেমন হয়েছে ! ডায়লগ পড়তে না পড়তেই – ‘বাহঃ বাহঃ’! “আরে ওস্তাদ, বাহঃ নয়া তাজ বোলো”। তাজমহলের গল্পগাছা তো হল অনেক, বরের সাথে তাজমহল দেখতে গেছো , আর, ক্লিক্ ক্লিক্…ছবি তুলে বফকে সেন্ড করেছো । হোটেলের ঘরে বরের সাথে শুয়ে তাকে জাগিয়ে রেখেছো রাত রাত ! কবরের গল্প জানো সখী ? ও নেকু-পুষু মাগীরা, এবারে সাধের নাকছাবি খোল, কবরের কাছে এসো, আর প্রাণ ভরে শ্বাস টেনে নিয়ে দেখো তো, ঘৃণার দুর্গন্ধ…পাও কিনা । পাও ! পাচ্ছো ? পাচ্ছো বলো ? ‘ভালোবাসা’ শব্দটার ভিতর কাদা…চাপ চাপ রক্ত… পাচ্ছো দেখতে ! বলো পাচ্ছো ? একটার পর একটা বাচ্চা বিয়ানোর অক্লান্ত পরিশ্রম ! অথচ আজন্মকাল ধরে ইতিহাস আমাদের দিয়ে মুখস্ত করিয়ে নিল, কতজন শ্রমিক কত বছর ধরে তাজমহল তৈরি করেছিল ! ওয়ান ওয়ার্ড আনসার । ছাক্কা নম্বর ।

ছাক্কা নম্বর…মাইফুট ।

 

 

 

মি টু / চার


তখন-ও বিশ্বাসকে অবিশ্বাস করতে শিখিনি

তখন-ও মিশর সভ্যতা আসেনি ইতিহাসের পাতায়
সম্ভবত তখন-ও পিরিয়ড শুরু হয়নি আমার !

তার মধ্যেই স্বদেশী আন্দোলনে জেল খেটে আসা অবনী দাদু
স্বাধীনতা লড়াই-এর গল্প শোনাতে শোনাতে –
হঠাৎ করেই খুব জোরে আমার বুক টিপে দিয়েছিল !

আমি সেই দিন-ই স্পষ্ট জেনে গিয়েছিলাম –

এই আমার রাষ্ট্র
আমি তার আমৃত্যু পরাধীনতা

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত