তোকে 

 
 
সব্যসাচী হক,
 
জানি, ভাবছিস ছয় বছরের অভ্যস্ত নামে না ডেকে তোর ভাল নাম দিয়ে চিঠি কেন? বা ভাবছিস চিঠি কেন, তাও আজকের দিনে? কি করতাম? আর তুই তো যোগাযোগর কোন মাধ্যমই রাখিস নি। কিন্তু তোকে যে কিছু কথা বলতেই হত! নাহলে আমার অপরাধ ঘুচবে না। কি অদ্ভুত দেখ, তোর আমার প্রথম দেখা আর আমার বিয়ের দিনটাও একদিনে পড়েছে। হাসছিস তো! ভাবছিস ন্যাকামি করছি তোর জীবন শেষ করে।
 
মনে পড়ে তোর, যেদিন তোর বাড়ি প্রথম নিয়ে গেলি আমায় আর দেখালি সেই ছবির ঘর যেখানে চার দেয়ালে ছিল শুধু আমার অস্তিত্ব? জানান দিচ্ছিল – না, আমি একা নই। আমাকেও ভালোবাসে কেউ। না, সে শুধু রূপের আগুনে সেঁকতে আসেনি আমার কাছে। সে ভালবাসে আমার হাসিকে, ভালোবাসে আমার কান্নাকে, রাগকে, সবটাকে, সবটাকে, সবটাকে! জানিস, আমি ভুলিনি তোর গাওয়া গানের সেই পঙক্তি – “এ খুদা, এ খুদা জব বানা উসকা হি বানা”।
 
তোর এই ভালবাসার বিনিময়ে সত্যি কিছু দিতে পারিনি আমি। কিন্তু বিশ্বাস কর আমি তোকে ভালবেসেছি, হয়তো তোর মতো বাসতে পারিনি, পারবো না।
চিঠি টা ছুঁড়ে ফেলতে যাচ্ছিস তো? সিগারেটটাও জ্বালিয়ে নিয়েছিস  তো! ফেলিস না, কথা শেষ হয়নি আমার। তুই ঠিক বললি শেষদিন তোকে কেন কথা দিয়েছিলাম? কেন ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখিয়ে ছিলাম? কেন সেদিন বাবার সম্মান, স্ট্যাটাস, ধর্ম নিয়ে ভাবিনি? বিশ্বাস কর ভেবেছিলাম, খুব আটকে ছিলাম নিজেকে কিন্তু পারিনি। তোর ঐ হাসিটা পারতে দেয়নি, তোর ঐ চাহনি পারতে দেয়নি। ভাসিয়ে নিয়ে গেছে আমায়।
 
আজ ভারী মিষ্টি দেখাচ্ছে আমায়, জানিস? ঠিক তোর জোয়ার মতো।বাবা বারবার মাকে পাঠাচ্ছে, আমায় দেখতে, আমি ঠিক আছি কিনা, ঠিক সাজছি কিনা, আমি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি কিনা! আমাদের সমঝোতা হয়েই আছে আমার কপালে সম্রাটের সিদূর উঠবে আর তোর বাড়ির চারদিক থেকে বাবার ভাড়া করা ক্ষুধার্ত হায়না গুলোও সরে আসবে।
 
অবাক হচ্ছিস! এখন খারাপ লাগছে তো সেদিনের নিজের বলা আমাকে ঐ নোংরা কথাগুলো ভেবে! কষ্ট পাসনা সব্য, তুই ভাবলি‌ কি করে, যে তোর সামনে ব্রার হূক খুলতে দু’বার ভাবেনি, সে এতো সহজে আরেক জনকে সঁপে দেবে! তুই আমাকে চিনতে পারলি নারে, পারলি না!
যাক, আমার ভিতর আর কোন কথা নেই। আমি মুক্ত হলাম আজ তোর দেওয়া বদনাম থেকে আর এই জীবন থেকেও। চমকে উঠলি? হ্যাঁ, ঠিক ভেবেছিস সেদিনের কেনা ঘুমের ওষুধের প্রেসক্রিপশন বাবারই, কিন্তু ওষুধ গুলো আমার। সব কটা আমার। যা ঢুকে গেছে আমার রক্তে, শিরায়, উপশিরায়। সময় আর বেশি নেই রে হাতে। ভাল থাকিস। তোর জোয়া কিন্তু লোভী নয়, নোংরা নয়। সে সবটুকু দিয়ে তোকে শুধু তোকেই ভালোবেসেছিল। তাই তোর হয়েই এই পৃথিবীর থেকে বিদায় নিল।
কাঁদছিস তো? আবার নাক কান লাল‌ হয়ে গেল! শোন না, আরে শোন-ই না; ঐ গান টা একবার কর‌ না “মুসকুরানে কি ওয়াজা তুম হো, গুন গুনানে কি ওয়াজা তুম হো, জিয়া জায়ে না, জায়ে না, জায়ে না, ওরে পিয়া রে”
ভাল থাকিস সব্য, ভালোবাসিস আমায়।
 
তোর জোয়া 
বাকি সবার – বিজয়া ভট্টাচার্য্য 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত