কথোপকথনঃ টনি মরিসন


ছবিঃ সংগৃহীত

আমি মনে করি এটা সবচেয়ে ভাল যে বাবা-মা দু’জনেই একত্রে থেকে তাদের সন্তানদের জন্য যৌথভাবে কিছু করবে। যদি এটা শুধু বাচ্চাদের মায়ের একার জন্য হয় অথবা বাবার একার করার জন্য হয় সেটা কিন্তু অনুমোদনযোগ্য নয়। -টনি মরিসন


টনি মরিসন লিখতে পারেন যেমন, বলতেও পারেন তেমনি।
তাঁর শুরু হয়েছিল’প্যরাডাইস’ বই দিয়ে। কী ধারালো চিন্তনের বিন্যাস!
তাঁর পরিমিতি বোধ, সাহিত্যমোদীদেরকে সম্মানিত করেছে।
টনি মরিসনের জন্ম – ১৯৩১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে।
লেখাপড়া করেছেন, হার্বার্ড, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইংরেজী ভাষা ও
সাহিত্য ছিল তার পঠনের প্রধান বিষয়।
উইলিয়াম ফকনারের উপর তার থিসিস তাঁর পরিচিতি বাড়িয়ে দেয়।
তাঁর প্রথম উপন্যাস- দ্যা ব্লুয়েস্ট আই( ১৯৬৯)।
দ্বিতীয় উপন্যাস- সুলা( ১৯৭৩)। ‘ সং অব সলোমন’ (১৯৭৭)
তাঁর খ্যাতিতে নতুন পালক যোগ করে, ন্যাশনাল বুক ক্রিটিক সার্কেল
এওয়ার্ড পায়। ‘টার বেবি’ ( ১৯৮৭) ১৯৮৮ সালে পুলিৎজার পুরস্কার
লাভ করে। তাঁর প্রখ্যাত উপন্যাস ‘জ্যাজ’ প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে।
১৯৯৩ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান।

টনি মরিসনের সাথে কথা বলেছিলেন- জিয়া জাফরি। বাংলায় সেই কথোপকথনের
তর্জমা রইল ইরাবতীর পাঠকদের জন্য।


প্রশ্ন : আপনি কি আপনার বইয়ের রিভিউগুলো পড়েন?
টনি : হ্যাঁ, অবশ্যই।
প্রশ্ন : মিচিকো কাকুতানি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় যে আপনার ‘প্যারাডাইস’ বইটির খুব নেতিবাচক রিভিউ করেছেন সে ব্যাপারে আপনি কি ভাবছেন?
টনি : ভাল কথা মনে করেছেন, আমি বুঝতে পারি যে একটি বই কি বোঝাচ্ছে অথবা বইটিকে কেমন লাগছে সে বিষয়ে আলাদা আলাদা মতামত থাকতে পারে। কিছু মানুষ আছে যারা বই পড়ার সময় এটার কাঠামো কিছু সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করে। এ বইয়ের ব্যাপারে নিউইয়র্ক টাইমসের দৈনিক রিভিউ সত্যি সত্যিই একেবারে সুনাম বা সম্মান দেখানোর মতো নয়। এবং আমি গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি ভেবেছি তা হচ্ছে রিভিউটি একেবারেই সুন্দর করে লেখা নয়। সুনাম করছে না বা ভাল বলছে না এমন একটি রিভিউ কিছু দিনের জন্য লেখকের কাছে বেদনাদায়ক হয়; কিন্তু খারাপভাবে দুর্বলভাবে লেখা একটি রিভিউ কিন্তু সত্যি সত্যিই ভীষণ রকম বিদ্রূপাত্মক। এই আলোচনাকারী বইটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য আসলে কোন সময়ই দেয়নি।
প্রশ্ন : আপনার কি মনে হয় আপনার কি এইসব সমালোচনাকারীদের কাছ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য কোন উপায় গ্রহণ করা উচিত?
টনি : এটা আপনি পারবেন না।
প্রশ্ন : আপনার তো জানা উচিত তারা কী বলছে?
টনি : আমি জানি সেখানে লেখকরা আছেন যারা তাদের সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়ায়ই কোন ধরনের রিভিউ না দেখেই, অথবা কোন বাজে আলোচনা না দেখেই, অথবা তারা নিজেদেরকে ছাঁকনির মধ্যে বা শ্রেষ্ঠত্বের বিচারের মধ্যে ফেলে, এটা তাদের জন্য দরকারি হিসেবে খুঁজে পাবেন, কারণ এগুলো কখনো কখনো তাদের জন্যই বিষাক্ত হয়ে উঠবে। আমি এ ধরনের স্বতন্ত্রীকরণ অনুমোদন করি না। এ দেশ আফ্রিকান-আমেরিকান সাহিত্য কীভাবে মনের মধ্যে গ্রহণ করছে, কীভাবে লিখছে, কীভাবে দেখছে, তা জানার জন্য আমি খুবই আগ্রহী। এটা একটি দীর্ঘ এবং কঠোর সংগ্রাম, এবং এখানে যথেষ্ট পরিমাণ কাজ করতে হবে। নারীদের কাজ কীভাবে রিভিউ হচ্ছে এবং অনুধাবন করা হচ্ছে তা জানার জন্য আমি বিশেষভাবে আগ্রহী। এবং এটা জানার সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে আমার নিজের বইয়ের রিভিউ পাঠ করা, এটার শুধুমাত্র এ কারণ নয় যে, আমি কীভাবে লিখি তা জানা। আমি বোঝাতে চাইছি, আমি এই কাজ দিয়ে কিছুই পাই না। আমি অন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, যারা দেখাচ্ছে আমি কীভাবে এ সকল কাজ করছি, কীভাবে এ সকল কাজে সফলতা আনছি সে বিষয়ে তাদের কাজের আকার-প্রকার বা ধারণা বক্তব্যের সঙ্গে নিজের কাজ মিলিয়ে ফেলছি না। কাজেই আমাকে এসব আদৌ প্রভাবিত করছে না। কিন্তু আমি সাধারণভাবে প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য খুবই উদগ্রীব। এবং বেশি কিছু কৌতূহলোদ্দীপক এবং মজাদার বিষয়ও আমি রিভিউতে দেখতে পাই।
প্রশ্ন : ‘প্যারাডাইস’ কে ‘নারীবাদী’ উপন্যাস বলা হচ্ছে। আপনি কি এটার সাথে একমত?
টনি : একেবারেই না। আমি কখনো কোন ধরনের ‘বাদী’ জাতীয় কিছু লিখিনি। আমি কখনো কোন ‘বাদী’ উপন্যাস লিখিনি।
প্রশ্ন : যেহেতু বইটিতে প্রচুর পরিমাণে নারী চরিত্র রয়েছে, সেজন্য এটাকে কোন দলে ফেলে দেয়া সহজ।
টনি : হ্যাঁ। শ্বেতাঙ্গ পুরুষ লেখকদের ক্ষেত্রে ঘটে না। কেউ বলতে পারবে না যে সলজেৎসিন ঐসব রাশিয়ানদের নিয়ে লিখেছে, আমি বোঝাতে চাইছি, তার সঙ্গে কী ঘটেছিল? সে কেন ভেরমন্ট নিয়ে লেখেনি? যদি আপনি একটা বই পান যার প্রায় সব চরিত্রই পুরুষ এবং অল্প গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নারী-
প্রশ্ন : আপনি যা বললেন, তাতে তো কেউ এমন কি খেয়ালও করবে না। কেউ একঝলকও দেখবে না যে হেমিংওয়েরও নারীদের নিয়ে এ রকম বড় ধরনের সমস্যা রয়ে গেছে।
টনি : হ্যাঁ, কেউ তো তা মিটমিটিয়েও দেখবে না।
প্রশ্ন : ‘প্যারাডাইসের’ অনেক পুরুষ চরিত্রের প্রচুর কঠোর সমস্যা রয়েছে। আমি বিস্মিত হয়েছি যদি আপনি তাদের কোনটির মতো নৈতিকভাবে শক্ত চরিত্র হিসেবে নিজেকে চিহ্নিত করতেন?
টনি : আমি ধরে নিচ্ছি এ রকম একটা নিকট অনুভূতির মধ্যে নৈতিক সমস্যা তরুণ মন্ত্রী রেভ মেইজনার এর। সে তার ধর্ম মতবাদ, নাগরিক অধিকারের চাপ, নাগরিক অধিকারের ধ্বংসাত্মক অবস্থা নিয়ে কঠোর সংগ্রাম করছে।
প্রশ্ন : এবং সে তরুণদের বিষয়ে খুবই ভীত।
টনি : এবং তরুণদের সমস্যা নিয়েও সংগ্রাম করছে। সে এ বিষয়ে খুবই সচেতন যে তারা আসলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, আসলে সে হয়তো সঠিক যে, একই সময়ে, কিছু উচ্চ প্রত্যাশাও তাদের মধ্যে লুকিয়ে আছে, এবং হঠাৎ করে নীরবতা নেমে এলো, এবং তারা সব মারা পড়ল।

প্রশ্ন : সে যেন ঠিক লেভ তলস্তয়ের ‘আন্না কারেনিনা’।
টনি : একেবারে ঠিক বলেছেন।
প্রশ্ন : নীতি নৈতিকতার জন্য যুদ্ধ করছে-
টনি : সে যে এটার সব কিছুর জন্যই ইতিবাচক তা কিন্তু নয়, কিন্তু সে-ই এই আলোচনাকে শুরু করেছে। সে এ ধরনের ভয়াবহ কাজ করতে চেয়েছিল, যা বাচ্চারা শুনছে। আরো একবার বলছি, এটা উল্লেখ করেছি বা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ‘প্যারাডাইস’ কে ঠিকঠাক মতো পড়া হয়নি, কেননা এটা সেই গুরুত্বহীন মেধাবী টপিক নিয়ে, যেটার বিষয়বস্তু ধর্ম।
প্রশ্ন : ‘প্যারাডাইস’-কে এছাড়াও একটি ‘জটিল’ বই হিসেবেও ধরা হয়।
টনি : এটা আমাকে খুব আহত করে-এটা আমার নিশ্বাস বন্ধ করে ফেলে-এটা বলা হয় যে এটার লেখা খুব ‘জটিল’। কেউ এটা বলতে পারবে না যে এ সকল ইস্যুগুলো এখনো চলছে না।
প্রশ্ন : আপনার বাড়ন্ত বয়সে ‘নারীবাদ’ কথাটির সঙ্গে কোন রকম কোন সম্পর্ক ছিল কি, অথবা আপনার নিজের কি প্রথমে এই উপলব্ধি হয়েছে যে, আপনি প্রথমে একজন কৃষ্ণাঙ্গ জাতির মানুষ তারপরে আবার নারী?
টনি : আমার মনে হয় যে আমি যখন বড় হয়ে উঠছিলাম তখন আমি এই দুটো শব্দ কালো এবং নারীবাদী, দুটোকেই একত্রে মিলিয়ে ফেলেছিলাম, কারণ আমি এমনসব কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিলাম যারা খুবই কষ্টসহিষ্ণু এবং উদ্যমী এবং যারা সব সময় স্বপ্ন দেখত তারা কাজ করে অর্থোপার্জন করছে এবং বেশি বাচ্চার জন্ম দিচ্ছে না এবং ঘরসংসারও একই সঙ্গে পরিচালনা করছে। তাদের কন্যা-সন্তানের কাছে তাদের প্রত্যাশা ছিল ভীষণ ভীষণ বেশি, এবং তা থেকে কোন ছাড় ছিল না আমাদের; এটা আমার কাছে কখনো মনে হয়নি যে এটা একটা নারীবাদী কার্যক্রম, আপনি জানেন, আমার মা সেই ছোট্ট শহরে মাত্র খুলেছে এমন একটা থিয়েটারে হেঁটে হেঁটে যেতেন শুধুমাত্র এ কারণে যে কর্তৃপক্ষ যেন জনগণদের কৃষ্ণাঙ্গ শ্বেতাঙ্গ এভাবে পৃথক না করে ফেলে। এবং যত তাড়াতাড়ি এটা খুলল, সে ওটাতে সবচেয়ে প্রথম গেল, এবং দেখল অভ্যর্থনাকারী তাকে একজন কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে কোথায় বসায়, এবং কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে কোন সমস্যা যদি হয় চারদিকে সে দেখে নিয়েছে কারুর কাছে অভিযোগ করার জন্য। এ রকম কাজকর্ম করা ছিল দৈনিক ব্যাপার, এবং পুরুষরাও এ রকম করত, দেখত যে কোন সামাজিক সাংস্কৃতিক বা অর্থনৈতিক ব্যাপারে শ্বেতাঙ্গরা তাদের কে কতখানি গুরুত্ব দেয় বা অপমান করে। কাজেই আমার কখনো এটা মনে হয়নি যে তার কৃষ্ণাঙ্গদের অস্তিত্বের এ ধরনের নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা থেকে নিজেকে সরিয়ে বৃহত্তর পৃথিবীতে নিয়ে যাওয়া দরকার। এবং মূল ঘটনা হচ্ছে সে একজন নারী তাই বলে তাকে কখনো বাধাগ্রস্ত করা হয়নি। বাচ্চারা সিনেমায় গেলে-কৃষ্ণাঙ্গ বাচ্চারা-তার মেয়ে বাচ্চারা, একই ভাবে তার ছেলেরাও সিনেমায় গেলে তাদের সঙ্গে অন্য শ্বেতাঙ্গরা কি ব্যবহার করে তা দেখার জন্য তিনি খুবই উৎসুক ছিলেন। কাজেই আমি এমন সব মানুষের দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিলাম যারা এই সব নিয়মকানুন কাজকর্ম খুব গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালনা করত এবং নিজেরা এসব কাজ করত। পরবর্তীতে এগুলোকে বলা হতে লাগল যে এগুলো ‘নারীবাদী’ আচরণ। শুরুর দিকে এ রকম ব্যাখ্যার কারণে আমি প্রচুর ঝামেলার মধ্যে পড়েছি। এবং আমি এ বিষয়ে বেশ কিছু প্রবন্ধ নিবন্ধ লিখেছি, এবং সত্যিকার অর্থে, আমি ‘সুলা’ বইটিও লিখেছি সে কারণেই, নতুন ধারণার ওপর তাত্ত্বিক ভিত্তিতে, যেটাতে ছিল : নারীরা অবশ্যই একে অন্যের বন্ধু। এবং যে কম্যুনিটিতে আমি বেড়ে উঠেছি, সেখানে এমন অবস্থা যে, যে কোন সময়ে, যে কোন প্রেক্ষিতে, একজন নারী একজন পুরুষের চাইতে একজন নারীর বন্ধুত্ব ও সঙ্গ বেশি পছন্দ করে। তারা এই চেতনায় সত্যি সত্যিই একে অন্যের ‘বোন’।

প্রশ্ন : আপনি কি নারী লেখকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও সঙ্গ রাখেন? আপনার কি এটার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন?
টনি : আসলে আমার বন্ধুদের মধ্যে খুব অল্প কয়েকজনই আছেন যারা লেখক। আমার কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছেন যারা লেখক, কিন্তু এটা এ কারণে যে তারা এ ধরনের বিশেষ গুণের অধিকারী মানুষ। আমার মনে হয়, বন্ধুত্বের জন্য লেখালেখির প্রসঙ্গ আসাটা আসলেই হঠাৎ করে ঘটতে পারে। রুটিন মেনে হবে না যে, লেখক হলেই আমরা বন্ধু হব। এটা আমার জন্য খুবই মজাদার ব্যাপার যে, যখন কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের বই জনপ্রিয় হতে শুরু করল, সেখানে কোন ধরনের সুস্পষ্ট ও সুবিন্যস্ত নয় এমন, অনালোচিত, নিয়মনীতি দেখা যেতে লাগল যারা এটা পরিচালনা করছে তাদের ভেতর, সেগুলো হচ্ছে : একে অন্যের বাজে ব্যাপারগুলো অবশ্যই কোথাও ছাপাতে যাওয়া উচিত হবে না। আমরা অবশ্যই একে অন্যের কাজকে অত্যন্ত অপছন্দ করার ব্যাপারে স্বাধীন ছিলাম। কিন্তু কেউ-ই আমাদের মধ্যে ‘কে শ্রেষ্ঠ’ তা বিচার করতে যাইনি। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতাহীনতা ছিল। এবং তখন প্রায় প্রত্যেকটা রিভিউ তৎক্ষণাৎ আমি দেখেছি-একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী লেখক অন্য আরেকজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী লেখকের বইয়ের রিভিউ করত, সাধারণত একটি সমালোচনা ছিল, কিন্তু সচরাচর এটার ক্ষেত্র ছিল সাংস্কৃতিক আলোচনাই। কারণ এটা সব সময় সবাই বুঝত যে এটা এমন একটা অধিত্যকা যেখানে প্রচুর পরিমাণে কাজ করার মতো জায়গা রয়েছে।
প্রশ্ন : আপনি কি লক্ষ্য করেছেন বছর বছরে আপনার বইয়ের আলোচনা-সমালোচনার ক্ষেত্রে এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে?
টনি : হ্যাঁ, আমি লক্ষ্য করেছি। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা আরো বেশি বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিচ্ছে, আরো বেশি স্পর্শকাতর হয়ে উঠছে, আগে তাদের যে অলসতা ছিল সেই অলসতা থেকে তারা বেরিয়ে আসছে। একটা সময় ছিল যখন আমার বই ছিল অন্য সবার বইয়ের মতোই সামাজিক আন্দোলনের বিষয়টা কী পরিমাণে আছে দেখে নিয়ে যেমন তেমন করে রিভিউ করা হতো। ভাবটা এমন, এটা কি কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারগুলোর জন্য সর্বোচ্চ দৃষ্টিভঙ্গি, অথবা সে রকম নয়? আমার মনে আছে একবার নিউইয়র্কার পত্রিকায়, এমন একটা রিভিউ ছাপা হয়েছিল, আমার যতদূর মনে পড়ে রিভিউটা ‘বিলাভড’ সম্পর্কে, এবং রিভিউ যিনি করছেন তিনি রিভিউ করতে শুরু করে প্রচুর সময় ব্যয় করলেন বিল কসবির টেলিভিশন শো সম্পর্কে-এ ধরনের কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের সঙ্গে ‘বিলাভড’-এর কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের তুলনা করা যায়, এ রকম বক্তব্য ও মতামত। এটা এত ন্যাক্কারজনক ছিল। এবং এই মতামত-নিউইয়র্ক রিভিউ অব বুকসে একবার অন্য দু’জন কৃষ্ণাঙ্গ লেখকের বইয়ের সঙ্গে আমার বই আলোচিত হয়েছিল। আমাদের এই তিনজন, যারা লেখালেখির আঙ্গিক, চরিত্র বা বিষয় কোন কিছুই একরকম লেখে না, যাদেরকে মোটের ওপর ধরা হয়েছিল শুধুমাত্র শরীরের রঙ এক বলে, এবং আলোচনাকারী শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছুলেন যে, তিন বইয়ের মধ্যে কোনটা শ্রেষ্ঠ। এবং তিনি একটাকে বেছে নিলেন শ্রেষ্ঠ হিসেবে, কিন্তু এটা বেছে নেবার কারণ হচ্ছে এটা প্রকৃত কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের মতোই ‘খাঁটি’ মানে তাদের জীবনযাপন আচার-আচরণের মতো মনে হচ্ছিল তার। এখানে লেখার কৌশল, আঙ্গিক, বিষয়বস্তুর গভীরতা, নতুনত্ব কোন বিষয়ই বিচার্য ছিল না। এটা সত্যি নিরুৎসাহজনক। কাজেই আপনি যদি এ ধরনের লঘুকরণের বাজে রকম শিকার হন, আপনাকে শুধু চেষ্টা করে যেতে হবে তাদের মানসিকতার পরিবর্তনের জন্য, যে শুধু কৃষ্ণাঙ্গ বা নারী হিসেবে নয়, আন্তর্জাতিকভাবে লেখার বিচার করা হোক।

প্রশ্ন : হাল্কা ধরনের সাহিত্য, সমকামীদের সাহিত্য, ভারতীয় সাহিত্য, কৃষ্ণাঙ্গদের সাহিত্য, কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের সাহিত্যের জন্য একটা জায়গা রয়েছে, আপনি কি এটাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন?
টনি : ওহ্ হ্যাঁ অবশ্যই, এটা সবকিছু পরিবর্তন করে দিচ্ছে। তারা হয়তো দীর্ঘ সময় নিচ্ছে; এ বইগুলোর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারছি এর মার্কেটিংয়ের ব্যাপারটা কেমন হচ্ছে। কিছু ন্যাটিভ আমেরিকান লেখক যাদের নেটিভ আমেরিকান লেখক ডাকা হলে খুব আনন্দ বোধ করেন। আমার ন্যাটিভ আমেরিকান একজন ছাত্র ছিল এবং আমি তাকে বলেছিলাম, ‘তোমার কাছে হয়তো এই বই বুঝতে খুব কষ্ট হচ্ছে, কারণ এসব বইয়ে কোন মোকাসিন জুতো নেই, নেই কোন টোমাহক (আদিম আমেরিকার আদিবাসীদের কুঠার) কুঠার।’ এবং সত্যি তার সমস্যা হলো। তার প্রচুর ঝামেলা হলো। আমি বোঝাতে চাইছি, আনুগত্য স্বীকার করতে হয়েছে, আমি এমনকি এর সংখ্যাও পুনরুল্লেখ করতে চাই না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে তার বইটি প্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছিল, এবং আপনি বিশ্বাস করতে পারবেন না, এটা একটা প্রথম উপন্যাস ছিল-এটার খুব চমৎকার সব আলোচনা এসেছে-কিন্তু মূল বিষয়টা হচ্ছে ওটাকে বর্জন করা, আমি জানি, ন্যাটিভ আমেরিকানদের ভাবনার ভিত্তির অযোগ্যতা, এ ক্ষেত্রে একজন বিশেষ রকম আমেরিকানের।
প্রশ্ন : আপনি প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে লেখালেখি পড়ান। এই সাহিত্য রচনা কি পড়ানো সম্ভব?
টনি : আমি মনে করি, সাহিত্য রচনার বিভিন্ন দিক শেখানো সম্ভব। অবশ্যই আপনি এখানে দর্শন অথবা মেধা শিখে আসবেন তা প্রত্যাশা করতে পারেন না। কিন্তু আপনি সহজ সাবলীলতার বিষয়টায় সহযোগিতা করতে পারেন।
প্রশ্ন : আপনি একজন সম্পাদক, একজন লেখক এবং একজন মা হিসেবে একসঙ্গে এত কাজ করার ভেলকি কীভাবে দেখালেন?
টনি : যখন আমি পিছনের বছরগুলোর দিকে তাকাই, যখন আমি প্রতিদিন অফিসে যেতাম, যখন আমার বাচ্চারা খুব ছোট, আমি এখন সত্যিই বুঝতে পারি না, কীভাবে এসব কিছু আমার দ্বারা করা সম্ভব হয়েছিল। আমি এসব কিছুই কি একই সময়ে করেছি? অংশত, এটা হতে পারে যে আমি নিজেকে সংসারের ভরণপোষণকারী মনে করতাম, কাজেই আমাকে আমার পরিবারকে স্বাধীনভাবে পরিচালনা করতে গেলে, পরিবারের সবার খাবার যোগান দিতে গেলে, পরিবারের প্রধান হতে গেলে, পরিবারের দেখাশোনা করতে গেলে অবশ্যই এসব কিছুই একই সঙ্গে করতে হবে। কিন্তু লেখালেখি আমার নিজের কাজ, কাজেই আমি চুরি করতাম, আমি নিজেকে পৃথিবী থেকে চুরি করে সরিয়ে নিতাম।

প্রশ্ন : এত কাজ করার পরে আপনি কখন লিখতেন?
টনি : ভীষণ ভীষণ সকালে, আমার বাচ্চারা জেগে ওঠার আগে। আমি রাতের বেলায় খুব ভালভাবে কাজ করতে পারি না। আমি তখন কাজ করলে লেখালেখি খুব একটা এগিয়ে যায় না। কিন্তু আমি খুব সকালে জেগে উঠি, কাজেই আমি ওটা করতাম, এবং আমি সপ্তাহান্তের ছুটির দিনেও লিখতাম। গ্রীষ্মকালে বাচ্চারা আমার বাবা-মায়ের কাছে ওহিও-শহরে যেত, যেখানে আমার বোন বসবাস করেÑআমার পুরো পরিবার সেখানে বসবাস করে-কাজেই পুরো গ্রীষ্মকালটাই আমি লেখালেখির কাজে নিজেকে উৎসর্গ করতাম। এবং এভাবেই আমি ওগুলো শেষ পর্যন্ত করতে পেরেছি। এটা এখন আমার জন্য কতকটা ভীতিকর বলেই মনে হয়, কিন্তু যখন আমি একজন সাধারণ গৃহবধূর জীবনযাপন করার কথা মনে করি অথবা অন্য কোন কিছু করার কথা ভাবি-তখনও এই গৃহবধূর জীবনযাপন বা অন্যরকম বিলাসী জীবনযাপনও সেই একই রকম ভীতিকর বলেই মনে হয় নিজের কাছে। তারা যা পারে তার সবকিছ্ইু করতে পারে। তারা এটা সংঘবদ্ধ করে নেয়। এবং তারা জানে সময়কে কী করে ব্যবহার করতে হয়। কীভাবে প্রতিবার থালাবাসন ধুতে হবে তা কিন্তু আপনাকে প্রতিবার করার সময় শিখতে হবে না। আপনি এরই মধ্যে জানেন কীভাবে ওটা করতে হয়। যখন আপনি ওই থালাবাসন ধুচ্ছেন, আপনি তখনও কিন্তু চিন্তা করতে পারছেন। আপনি জানেন, এই থালাবাসন ধোয়াটা আপনার পুরো মনকে আচ্ছন্ন করছে না। অথবা আপনার লেখার বিষয়ে চিন্তাটা একটা আলাদা চিন্তারেখার মধ্যেই আছে। আমি লেখালেখির বিষয়ে প্রচুর পরিমাণ সমস্যা অথবা কোন চরিত্র সম্বন্ধে চিন্তা প্যাকড ট্রেনের মধ্যে বসে সমাধান করেছি, যেখানে আপনি আর কোন কিছু করতে পারবেন না। ঠিক আছে, আপনি হয়তো সেখানে বসে বড়জোর পেপার পড়তে পারেন। এবং এরপর আমি হয়তো চিন্তা করতাম সে সম্বন্ধে, আচ্ছা, সে কি এটা করেছে? এবং এরপর হয়তো কখনো কখনো আমি সত্যিই ভাল কিছু পেয়ে যেতাম। আমি অফিসে নামার সঙ্গে সঙ্গেই মানে অফিসে ঢুকেই যা চিন্তা করেছিলাম তার সংক্ষিপ্ত সারমর্ম লিখে নিতাম এ কারণে যে আমি পরে আবার তা ভুলে না যাই। এটা খুবই শক্তিশালী একটা অন্তর্জাগতিক জীবন যেটা আমি এসব চরিত্রদের মধ্যে দিয়ে উন্নয়ন করেছি, এবং আমার নিজের জন্য এটা ছিল, কারণ কী বলব, সবসময়েই আমার মনের মধ্যে মন্থন হচ্ছিল। সেখানে কোন ফাঁকা সময় ছিল না। আমি এটা ছাড়া আর কিছ্ইু করতে পারতাম না। কিন্তু এখন পর্যন্ত, আমি প্রচুর পরিমাণে বিষয়ের সঙ্গে জড়িত, আমি বোঝাতে চাইছি, আমি খুব বেশি একটা বাইরে যেতে পারি না।
প্রশ্ন : আপনি বলেছেন, এটা খুব সম্ভবত টাইমসে, যেখানে এখনও কাজ করছেন, আপনি কি হৃদয়ঙ্গম করতে পেরেছেন, ‘প্যারাডাইস’-এর ব্যাপারটা?
টনি : আমি তাদের সব দিক দিয়ে সম্মান জানাই, যেসব বই আমি লিখেছি। অনেক বছর পরে, আমি সেগুলো পড়েছি, অথবা অন্য কেউ পড়িয়েছে, এবং বলেছি, …
প্রশ্ন : ‘এটা অবশ্যই করা উচিত ছিল…’
টনি : অথবা, ‘এটা করা উচিত ছিল না,’ অথবা হয়তো, আপনি জানেন, এই পঙক্তিটিই। এবং এটা ভুলে যাবার মধ্যে চলে গেছে।
প্রশ্ন : ‘প্যারাডাইসে’ আপনার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন কী…
টনি : আমি কি করতে পেরেছি? আমি প্যাট্রিসিয়ার কাছ থেকে আলাদা ধরনের আক্রমণাত্মক মুখোমুখি দাঁড়ানোর ভূমিকা চেয়েছিলাম, যার একটা হচ্ছে যে বংশগতির সংঘবদ্ধতা ধারণ করতে পারে।
প্রশ্ন : হ্যাঁ, যা সে শেষ পর্যায়ে জ্বালিয়ে দেয়।
টনি : এবং ও-রকম আরো কিছু তরুণ নারী। ঠিক যেন আন্নার মতো। তার রেভারেন্ড মেইজনারের সঙ্গে ও-রকম মুখোমুখি হবার ব্যাপার ছিল, কিন্তু আপনি তো তার সম্পর্কে জানেনই, তার সম্পর্কে তারা কী ভাবত, কিন্তু তার দর্শন ছিল খুবই বস্তুগত। সে এমন একজনের কন্যা ছিল তাতে সে তাদের মূল্যহীন অনুভব করত, কাজেই তার একটা কুঠারে শান দেবার দরকার ছিল। কাজেই সে সবকিছুই জড়িয়ে নিয়েছিল, এবং কিছু ভয়ানক জিনিস শিখেছিল, সে শহরটা সম্পর্কে ভাবত।
প্রশ্ন : আমার এক বন্ধু আমাকে বলেছিল, ‘তুমি টনি মরিসনকে জিজ্ঞেস করো না কেন যে তাকে সত্যি সত্যিই কোন ব্যাপারটা ক্রোধান্বিত করে তোলে?’
টনি : আপনি জানেন, আমি ওটা হারিয়ে ফেলেছি [রাগ]। এটা ভীষণরকম অদ্ভুত একটা জিনিস। আমি এই গ্রীষ্মে বলেছি যে আমি কিছু অনুভব করছি [ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়], এবং আমি জানি না ওটা কি। এটার কারণ হতে পারে যে আমি এখন আমার রাগ হারিয়ে ফেলেছি এবং আমি সত্যি খুব দুঃখিত বোধ করছি। এবং আমার কাছে খুবই দুঃখের বলে মনে হচ্ছে। এখন, আমি সম্প্রতি ক্রোধান্বিত হয়ে উঠেছি, এই বালিকা সম্বন্ধে [এই বইয়ের]। এবং আমি এটার জন্য তত হিংসাত্মক মনে করছি না যে আমার ব্যক্তিগত জীবনে সে নেই। সে শুধুমাত্র বইয়ের একটি মেয়ে চরিত্র। কারণ আমি বিষয়সমূহের ওপর রাগ করি, কোন ব্যক্তির ওপর নয়, এবং তারপর কাজ করতে চলে যাই। এবং আজ আমি কিছুটা ক্রোধান্বিত হয়েছি জাস্টিনার ব্যাপারে।
প্রশ্ন : জাস্টিনা?
টনি : জাস্টিনা হচ্ছে সেই ছোট্ট মেয়েটি যার মা তার প্রেমিককে বাচ্চাটিকে মেরে ফেলতে সহযোগিতা করেছে।
প্রশ্ন : হায় খোদা, এটা নিউইয়র্ক পোস্টের খবর ছিল, তাই তো।
টনি : এবং যে অংশটায় আমার রাগটা ধিকি ধিকি জ্বলছে তা হচ্ছে যখন সে বলেছিল যে সে জাস্টিনার হাত ধরে রেখেছে মেয়েটি পানিতে যেন ডুবেই থাকে।
প্রশ্ন : এটা ছিল একেবারে ভয়াবহ বিস্তৃত বর্ণনা।
টনি : আমি বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করছিলাম, শুধু চিন্তা করছিলাম যতক্ষণ না রেগে উঠেছি। এবং আমি সত্যি তার ব্যাপারে লিখতে চেয়েছিলাম, ঐ শিশুটির ব্যাপারে। তাই আমি এ রকম কিছুর ব্যাপারে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিলাম, কিন্তু সাধারণভাবেই বলেছি, আমার মনে হয়েছিল যখন আপনার ৬৪ বছর বয়স হবে, আপনি শুধু এক ধরনের অবসাদেই পতিত হবেন।
প্রশ্ন : হতাশাগ্রস্ত বা অবসাদগ্রস্ত-মানে আপনি আপনার প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিষণ্ন হয়ে পড়েছেন, অথবা অক্রিয় হয়ে পড়েছেন?
টনি : এটা আসলে আমার জন্য বেশি রকম চাপ হয়ে যাচ্ছে। যখন আপনার বয়স আমার মতো হবে আপনি চারটা বিষয় চালিয়ে নেবার পর নতুন করে আর কোন কিছুতে জড়াতে চাইবেন না। আমি এমনকি আমার ছাত্রদেরকেও বলেছি যে : চারটা জিনিস, অন্যদের থেকে তোমাকে কিছুটা হলেও আলাদা করে ফেলবে।
প্রশ্ন : চারটা জিনিস?
টনি : যে চারটা জিনিস আমি করে থাকি?
প্রশ্ন : প্লিজ বলেন, গত বছরের কথা?
টনি : ঠিক আছে বলছি, আমার মনে হয় বই লেখালেখি একটা [আমার শিক্ষকতা] আরেকটা, এবং অন্য দুটো, আমি সে ব্যাপারে বলতে চাই না।
প্রশ্ন : আমরা কি এক মিনিটের জন্য ও. জে. সম্পর্কে কথা বলতে পারি?
[মরিসন শুধু উচ্চস্বরে হেসে উঠলেন]
প্রশ্ন : ‘বিচার শক্তি শূন্য কৃষ্ণাঙ্গ’ সম্পর্কে আপনার মতামত কি?
টনি : এ গল্পটার বিষয় হলো এটা একটা বাজারযোগ্য গল্প। এবং এ গল্পটা কৃষ্ণাঙ্গদের বিচারশক্তি শূন্যতা, কৃষ্ণাঙ্গদের চাতুরি, কৃষ্ণাঙ্গদের বোকামি এবং কৃষ্ণাঙ্গ লুণ্ঠনকারীদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এ গল্পের এটাই বিষয়বস্তু। কাজেই আপনি যদি গল্পটা থেকে কৃষ্ণাঙ্গদের বিচারশক্তিশূন্যতা টেনে বের করেন আপনি কোন গল্প পাবেন না। একজন কৃষ্ণাঙ্গকে পৃথকভাবে দেখে, এবং সকল কৃষ্ণাঙ্গ লোকদের সাধারণভাবে, তাদেরকে প্রতিপক্ষের-শেষ দেখে নিতে সমর্থ হিসেবে ধরে নিয়ে, আমরা কিন্তু কোন ধারণা তৈরি করতে পারব না। আমাদেরকে সবসময় চাঁদে পাওয়া পাগল, আবেগী এবং অযৌক্তিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কাজেই আপনি যদি এমন কাউকে পান যে এটার এই মূলস্রোতধারার ঠিক বিপরীতটাকে গ্রহণ করে, এই হুমকি থাকে যে সেই একজন সবসময় এখানের এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়বে। এটা শুধুমাত্র ঘটনা নয়। এটা শুধুমাত্র হুমকির মতো চলছে, অন্যথায় এটা সবকিছুর জন্যই সত্য-বর্ণনার ক্ষেত্রে, গল্পে, ব্যক্তি বিশেষ কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের ক্ষেত্রেও। কাজেই এটা আমাকে সচেতন করে যা শুধুমাত্র একটু বাঁকা হাল্কা ব্যাপার নয়…
প্রশ্ন : এখানে অন্য একটা প্রশ্ন করি, সমসাময়িক লেখকদের মধ্যে, কার লেখা, আপনি খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ে ফেলেন?
টনি : হুম, আমি মার্কেজের লেখা পড়ি। আমি মার্কেজের সব লেখা পড়ি। পিটার ক্যারির লেখা আমি মাঝে মধ্যে পড়তাম কিন্তু এখন আমি তার সব লেখা পড়ছি। আমি পেনকনের লেখা পড়ি। আমি তাদের বইগুলো খুব কম দামে কিনে নিয়েছি। এবং আর কারা? জ্যামাইকা কিনকেইডের একটি নতুন বই বেরিয়েছে যা আমি এখনো পড়িনি। আমি তার লেখা পছন্দ করি। আমি যেন তার লেখার স্বাদ গ্রহণ করি। তার লেখা একই সঙ্গে তীক্ষè এবং চমৎকার।

প্রশ্ন : আপনি কি দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে চেয়েছিলেন? আমি বোঝাতে চাইছি, বিয়ে সম্পর্কে আপনার ধারণা কি আপনার নিজের বিবাহটা পরিবর্তন করে ফেলেছে?
টনি : না। আমি বিয়ে পছন্দ করি। বিয়ের ধারণাটা আমি পছন্দ করি। আমি মনে করি এটা সবচেয়ে ভাল যে বাবা-মা দু’জনেই একত্রে থেকে তাদের সন্তানদের জন্য যৌথভাবে কিছু করবে। যদি এটা শুধু বাচ্চাদের মায়ের একার জন্য হয় অথবা বাবার একার করার জন্য হয় সেটা কিন্তু অনুমোদনযোগ্য নয়। এটা এক ধরনের ভয়ানক নিঃসঙ্গ ব্যাপার। আমি একটি বিশাল-একটি যৌথ-যেখানে পরিবারের সবাই একসঙ্গে থাকছে এ রকম একটি পরিবারের সন্তান, কারণ…তারা এই যৌথপরিবারের সদস্য হয়েছে কিন্তু বিয়ের মাধ্যমেই, আপনি চিন্তা করেন, সেখানে আমার, ঐ ছোট্ট একক পরিবার, যার জন্য আমি পরিতাপ করি, আমি সেই একক পরিবারের প্রধান। আমি আমার বিয়ে এবং ডিভোর্স থেকে প্রচুর পরিমাণে শিখেছি। আমি মনে করি প্রত্যেক নারীই এটা শেখে। তারা জানেও না তারা কী করছে। আমার মনে আছে, একবার আমরা কয়েকজন বান্ধবীদের নিয়ে বসেছিলাম যারা প্রত্যেকেই হয় ডিভোর্সি নতুবা সেপারেশনে আছে অথবা দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়ে করে আবদ্ধ জীবন নিয়ে তাদের জীবন কাটিয়ে দিচ্ছে এবং আমি তাদের বললাম, ‘আমার সন্দেহ হচ্ছে আমরা সবাই বলবো আমরা সকলে যেন একেবারে ব্যর্থ। কিন্তু আমি তোমাদের বলতে চাই, ‘তোমরা কি শিখেছ? এ ধরনের নিঃশেষ হওয়া জীবন থেকে?’ এবং তখন তারা চিন্তা করতে শুরু করল, এবং আমিও চিন্তা করতে শুরু করলাম; এবং তারা একেবারে আলাদা কিছু বলল। একজন নারী বলল, ‘আমি শিখেছি কীভাবে কথা বলতে হয়। প্রথমবারের জন্য আমি কথা বলতে শিখেছি।’ এবং আরেকজন নারী বলল, ‘আমি খুব উঁচু মানের সাংগঠনিক দক্ষতা শিখেছি। দেখ, একজন তরুণ নারী হিসেবে ঘরসংসার সামলানোর ব্যাপারে আমি খুবই আগোছালো ছিলাম।’ এবং তার স্বামী ছিল তার চেয়েও খারাপ। কাজেই তার সঙ্গে একত্রে থেকে থেকে, সে সত্যিই এটা শিখেছিল। এখন সে তার এই দক্ষতা সবসময় ব্যবহার করে। কাজেই আমি বলেছিলাম, আমরা অবশ্যই এর এ সকল প্রতিপক্ষমূলক বা বিয়ে ভেঙ্গে আমাদের কত খারাপ হয়েছে এসব ভাবনাচিন্তা ত্যাগ করব-যা হোক তারা তা করেছিল, কারণ তারা শেষপর্যন্ত তত ব্যর্থ কিন্তু ছিল না। যখন সত্যি প্রত্যাশার বাইরে বেদনাদায়ক কিছু ঘটে, তখন আপনাকে তা থেকেও ভাল কিছু খুঁজে নিতে হবে।
প্রশ্ন : যখন আপনার সন্তানেরা বেড়ে উঠলো, আপনি কি তাদেরকে জাতিগত হিংসার বিষয়গুলো যা হয়তো তারা প্রতি জবাব দেবে এ রকম বিষয়গুলো থেকে বিরত রাখার জন্য কোন ধরনের প্রতিরোধমূলক অথবা পরামর্শমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন?
টনি : না, আমি এ ব্যাপারটায় ব্যর্থ হয়েছি। প্রকৃতপক্ষে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছি। আমার একটা বাচ্চা জন্মগ্রহণ করেছে ১৯৬৮ সালে। আমি ভেবেছিলাম আমার যেসব দুঃখজনক অভিজ্ঞতা হয়েছে তারা হয়তো সেসবের মুখোমুখি হবে না। আমি বোঝাতে চাইছি, তারা অনেক ধরনের রাজনৈতিক ঝামেলার মধ্যে পড়েছিল, অবশ্যই ব্যাপারটা এ রকম, তারা আছে অথবা তারা নেই, এবং এ ধরনের আরো কিছু বিষয়। কিন্তু তাদের অবশ্যই ও-রকম ঘৃণা বা অপমানের স্তরে যাওয়া উচিত হয়নি যা আমার ভাইদের আমার বোনদের এবং আমাদেরকে মানুষের সামনে অনাবৃত করে দেয়। এবং সবচেয়ে খারাপ হলো, আমাদের মাকে প্রকাশ করে দিয়েছে, তার চেয়েও খারাপ হলো, তারও মাকে আমার নানিকে প্রকাশ করে দিয়েছে। যেটা পরে সব ক্রমান্বয়ে ভাল হয়েছিল। কোনটাই একেবারে সঠিক এবং তত ভাল হয়নি, কিন্তু সেই একই স্তরে তাদের থাকা উচিত হয়নি। আমি একেবারেই ভুল ছিলাম।
প্রশ্ন : আপনি কি কখনো আফ্রিকা গেছেন?
টনি : না।
প্রশ্ন : আপনি কি সেখানে যাবার জন্য কোন তাগিদ বোধ করেন?
টনি : ভীষণ তাগিদ বোধ করি। হ্যাঁ, ভীষণ।
প্রশ্ন : আপনি কি মনে করেন সাধারণভাবে বোঝাতে গেলে, এটা কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের জন্য একটা খুব দরকারি ভ্রমণ?
টনি : আমি জানি না। আমরা এটা ব্যাপারে খুব কল্পনাপ্রবণ হয়ে পড়ি। হয়তো এটা একটা কারণ হতে পারে। কেননা আমরা এত সহজেই চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ি, আপনি জানেন, পুরাণে-যা ঘটুক-ইতিহাসে ছোটখাটো দরকারি স্বাদ আছে। এবং আমি সেনেগালে যেতে চাই, কারণ আমি সেখান থেকে আউসমানি সিমবানির কাছ থেকে নিমন্ত্রিত হয়েছি, এবং আমি যাবার জন্য খুবই উদগ্রীব। এবং এখন সাউথ আফ্রিকা থেকেও সেখানে যাবার জন্য আমি বেশ কয়েকটা নিমন্ত্রণ পেয়েছি।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত