টুনি আর টোনার অপেক্ষা

 
ষষ্ঠ শ্রেণী,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল।

দূরে কয়েকজন মানুষ একটা গাছ কাটছে। টুনি আর টোনা অন্য একটা গাছে বসে দেখছে। মানুষ তাদের বাসস্থান কেটে ফেলছে তাও তারা কিছু করতে পারছেনা। শুধু তারা কেন? কোনো পশু-পাখিই কিছু করতে পারছেনা। খালি এক বন থেকে অন্য বনে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

“আরেকটা গাছ কাটছে“, টুনি বলল।

“এর আগের বনের শেষ গাছটা যখন কেটে ফেলেছিল তখন আমরা এখানে এসেছিলাম তাইনা?” টোনা প্রশ্ন করে ।

“হ্যাঁ” টুনি মাথা নাড়ে।

“দেখ দেখ ফিঙেটা কিভাবে পালাচ্ছে। আমাদেরকেও পালাতে হবেরে“ টোনা দুঃখ করে বলে।

“হ্যাঁরে পালাতে হবে” টুনি বলল।

“কিন্তু কেন! আমরা কি কিছু না? আমাদের কি থাকার অধিকার নেই? এই পৃথিবী কি শুধুই মানুষের?” টোনা প্রশ্নের পর প্রশ্ন করতে থাকে ।

“না” টুনি গম্ভীর হয়ে যায়।

“কিন্তু কিভাবে না? তুই তো দেখতেই পাচ্ছিস ওরা সব কিছুই নিয়ে নিচ্ছে! গাছপালা ,মাঠ-ঘাট, নদী-নালা সব কিছুই কত দূষিত! এই প্রকৃতিতে ওরা আমরা কেউই থাকতে পারবোনা। ওরা সব বন কেটে ফেলছে।” টোনার চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করে।

“টোনা” টুনি আস্তে আস্তে ডাকে। “সব ঠিক হয়ে যাবে, মানুষ নিজেই বুঝবে, যখন প্রকৃতি প্রতিশোধ নেবে। খরা হবে, পানির অভাব হবে, দুর্ভিক্ষ হবে, বায়ু দূষণের কারণে কেউ নিশ্বাস নিতে পারবেনা তখন বুঝবে।

টুনিকে কেউ বলে দেয়নি, তবুও সে জানে প্রকৃতি প্রতিশোধ নেবে। সব পশু পাখিদের মানুষ যে কষ্ট দিয়েছে মানুষও সেই কষ্ট পাবে। টুনি আর টোনা তাদের ছোট্ট কুঁড়েঘরে বসে প্রকৃতির প্রতিশোধ এর অপেক্ষায় থাকে।

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত