আকাশে ওড়ার দিনগুলো (পর্ব-২)

প্রথম পর্বের পরে…

ছবিঃ লেখক
দুদিন ধরে মেসেজবক্সে টুংটাং শব্দ পাচ্ছিলাম। বিদেশ বিভুঁইয়ে আমার এত সুজন আছে তা আমার ধারণাতেই ছিল না। কিন্তু দুএকদিনের মধ্যে টের পেলাম আমার অনেক বন্ধু-বান্ধব এখন সিডনি প্রবাসী এবং এরা আমার আসার খবর পেয়ে খুব আগ্রহ নিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। নুপূর, পান্না, তারিন, নিশি, জেসি, মৌটুসি, ইভা, সোহেল, মোয়াজ্জেম…আমার সাথে সিডনিতে দেখা করার বিষয় নিয়ে যোগাযোগ করাতে মনে হচ্ছিল, ভ্রমণকাল নির্ঘাৎ চমৎকার কাটবে।
১৭ মার্চ রাত আটটার আগেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমার ভাই জিকু আমাকে পৌঁছে দিলো। গাড়িতে বসে আমার চোখ বারবার ভিজে উঠছিল, বাচ্চাদের কথা ভেবে। এই প্রথমবারের মতোন ওদের রেখে আমি এতদিন আলাদা থাকবো। রাতে ছেলেটা ঘুমোবার সময় বিড়ালের মতোন বুকের ভেতর গুটিসুটি মেরে থাকতে চায়, অকারণে আহ্লাদ করে। মেয়েটা তো আমার সাথে ঝগড়াই করে বেশি।
তবে আমি জানতাম, আমাকে ছাড়া ওরা ঠিকই ভালো থাকবে; আমিই কেবল নিজেকে দুঃখী ভাববার মতোন বিলাসিতা করবো। রাজশাহী থেকে যেদিন আসি, ১৪ মার্চ; বাসা থেকে বের হবার সময় আমার মেয়ে মুনতাহা বলছিল, ‘তুমি বাসাতে না থাকলেই ভালো, ভীষণ মজা।’ মেয়ের কথা শুনে আমার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠেছিল; মনে মনে দোয়া করেছি, ভালোই থাকিস তোরা।
আমার মেয়েটা আবেগ প্রকাশে একেবারে নির্লিপ্ত থাকে। নিজের ভেতরের কষ্টগুলো পুষে রাখে, তারপর হুট করে ফুঁসে ওঠে। আমি প্রায় ১৫/১৬ দিন বাসায় থাকবো না; তা নিয়ে আমার মেয়ের ভেতর তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখতে পাচ্ছিলাম না। আমি না থাকলে ওর কিসের মজা বুঝতে আমি বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসা করার পর সে বলেছিল, ‘মা, আমার জন্য ফ্রোজেনের অ্যালসার পুতুল এনো তিনটা।’ আমি একটু দুঃখী দুঃখী চেহারায় জানতে চেয়েছিলাম, ‘কিরে, আমি না থাকলে তোর খারাপ লাগবে না?’ আমার মেয়ে খুশি খুশি চেহারাতে বলেছিল, ‘তুমি বাসায় না থাকলেই ভাল, কেউ শুধু শুধু না না ও করবে না, বকবেও না।’
মাকে পুরো বিব্রত দেখে আমার ছেলে আমার কাছে ছুটে এসেছিল, ‘মা, আমার খুব মন খারাপ হবে, আমি বলব, আমার মা কই, মা কই, মা ছাড়া বাসাটা খালি খালি লাগে।’
আমার আট বছরের ছেলে আবার মানুষ পটাতে ওস্তাদ। অনেকদিনের জন্য মা চলে যাচ্ছে বলে সে রেলস্টেশনে মাকে বিদায় দিতে এসেছিল, আমাকে গালে আচ্ছাসে চুমু দিয়েছিল, বেশ কয়েকবার কাঁদো কাঁদো ভঙ্গি করে বলেছিল, ‘মা, তোমাকে ছাড়া আমি রাতে ঘুমাবো কী করে।’ তবে আমি ঢাকা যাবার সময় ট্রেনে বসেই খবর পেয়েছিলাম, বাড়ি ফিরেই সে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে গেছে। এই হচ্ছে আমার ছেলে!
মানুষের মনের রঙ খুব দ্রুত বদলায়। বিমানবন্দরের যেতে যেতে আমাদের ব্যাচমেটদের ফেসবুক গ্রুপ ৯৬৯৮ গ্রুপের যেসব বন্ধু সিডনিতে থাকে, আমাকে ওয়েলকাম জানানোর অধীরতা নিয়ে ওদের করা মেসেজের টুংটাং আমার মনের রঙও বদলে দিচ্ছিল। ভাবছিলাম, কত বছর পর দেখা হবে অনেকের সাথে, আবার ভার্চুয়াল লাইফে পরিচিত হওয়া কারও কারও সাথে প্রথমবারের মতোন দেখাও হবে। কত কী আবোলতাবোল ভেবেছি বিমানবন্দরে বসে, একা একা নিজের সাথে কথা বলেছি, চোখ মুছেছি, নিজেকে বুঝিয়েছি-মাত্র তো কটা দিন, দেখতে দেখতে চলে যাবে।
একসময় একে একে আমাদের প্রশিক্ষণার্থী দলের স্যার-ম্যাডামরা চলে আসলেন। এরপর প্রটোকল অফিসারের তৎপরতায় বোর্ডিং ও ইমিগ্রেশন শেষে আমরা সবাই বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে অপেক্ষা করতে থাকি।
ছবিঃ লেখক
নিজের ভেতরের অনিশ্চয়তা আর উত্তেজনা চেপে রেখে রাত ১১:৫৫ মিনিটে যখন সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ইকোনমি ক্লাসে নিজের জন্য নির্ধারিত সিটে বসি তখন ক্ষণিকের জন্য বুকের ভেতরে একটা অশুভ হাহাকার হয়েছিল। ভাবছিলাম, আবার ফিরতে পারবো তো? বাচ্চাগুলোকে আবার ছুঁয়ে দেখতে পারবো তো?
এই যে আকাশে উড়বো, বেঁচে ফিরবো কি ফিরবো না, তার তো কোনো ঠিক নেই। মেয়েটার সাথে ভিডিও কলে কথা হচ্ছিল, কিছুতেই ফোন রাখতে চাচ্ছিল না। আমি তখন ইমিগ্রেশনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তাই ওকে তাড়া দিয়ে ফোন রেখে দিয়েছি, সে কথা মনে করে করে ভীষণ অনুতপ্ত হচ্ছিলাম উড়োজাহাজ ঢাকার মাটি ছাড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে।
সার্ভিসে আমার ব্যাচমেট, সহকর্মী ঝুমা বারবার বলছিল, ‘আপা দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে। খুব ভালো লাগবে আপনার, লেখার খোরাক পাবেন। অদ্ভুত সুন্দর জায়গা সিডনি।’ ঝুমা AusAid scholarship পেয়ে সিডনিতে অবস্থিত Universitz of New South Wales, School of Law  থেকে ২০১৪-২০১৫ সালে Human Rights Law & Policz  মাস্টার্স করেছিল। মেধাবী, চটপটে, বুদ্ধিমতী সহযাত্রী ঝুমা আমাদের টিমের প্রত্যেক সদস্যের আস্থাভাজন মানুষ ছিল।
উড়োজাহাজে ওঠার পর সুন্দর, অমায়িক এয়ারহোস্টেস মেয়েগুলোর পেশাদার হাসি দেখে আরও আশ্বস্ত হচ্ছিলাম। তবে বিপত্তি বাঁধলো খাবার পরিবেশনের সময়।

যারা নিয়মিত বিদেশ ভ্রমনে বের হন তারা হয়তো বিমানের খাবার দেখে বিব্রত হন না নয়তো মুসলিম হলে তারা আগেই জানিয়ে রাখেন যে হালাল ফুড বা মুসলিম ফুড খাবেন (আমার পাশের সিটে বসা ভারতীয় এক নাগরিককে বিশেষভাবে ভেজ ফুড পরিবেশন করা হলো, জানলাম বিষয়টা তিনি আগেই বলে রেখেছেন)। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইটে এটা আমার প্রথম ভ্রমণ হওয়াতে আমি অতিসতর্কতায় খাবারাতংকে ভুগছিলাম। 


আমি আর যাই হোক খাওয়ার কষ্ট করতে পারি না। আমি যে খেতে ভালোবাসি তা আমার শত্রু-মিত্র সকলেই আমাকে দেখে কমবেশি আন্দাজ করতে পারেন। সেই আমি ঢাকা টু সিঙ্গাপুর এর প্রথম চার ঘন্টার উড়ালপথে এয়ারহোস্টেসদের মায়ার জাদুতে না ভুলে আমি তোতাপাখিকে শেখানো বুলির মতোন বারবার বলেছি, ‘নো মিট, ফিস অর ভেজিটেবল ওনলি।’
ছবিঃ লেখক
কানের কাছে ঝুমার ফিসফিস শুনছিলাম, ‘আপা দেখছেন, সবকিছুতে পর্ক, মেনু কার্ড দেখে সাবধানে খেতে হবে!’ আমি খাওয়ার টেনশনে আকাশে ওড়া বিষয়ক বাড়তি চাপ ততক্ষণে ভুলে গেছি। কী অদ্ভুত মানুষের মন, না? যে মানুষ, কিছুক্ষণ আগে বাঁচা-মরা আর পরিবারকে ছেড়ে আসার চিন্তাতে অস্থির ছিল সে কি না পরিশ্রম ছাড়া বসে বসে খাবার পেয়েও হালাল-হারামের চিন্তাতে অস্থির হচ্ছে!
সত্যি জীবনে সততা-অসততার মধ্যে যারা সূক্ষ্ম কিংবা মোটা দাগেও যারা ফারাক রেখে চলেন না তাদের ভেতরেও কেন যেন এই খাবার নিয়ে হারাম-হালালবোধ ব্যাপকভাবে জেগে ওঠে। আমার গল্পকার বন্ধু স্মৃতি ভদ্র বলে, ‘মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি খুব ঠুনকো হয়, সামান্য টোকাতেই ভেঙে পড়ে। নাহ্ খুব কঠিন কথা হয়ে গেলো। আমি তো ভেবেছি অন্তত সিডনী ভ্রমণকালীন সময়ে জীবনের কঠিন কঠিন বিষয়গুলো শিকেয় তুলে রাখবো।

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সুপরিসর উড়োজাহাজে নিজেদের জন্য নির্ধারিত আসনে বসে আমি আর ঝুমা আশেপাশের যাত্রীদের দেখছিলাম। আমরা টের পেয়েছি, শুধু আমরা দুজন না, খাবার নিয়ে আমাদের মতোন অনেকেই অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। এর মাঝখানে এয়ারহোস্টেসদের উদারভাবে আইসক্রিম আর জুসের অফার আমাদের সবাইকে কিঞ্চিৎ স্বস্তি দিচ্ছিল। অবাক হওয়া আমার পুরোনো স্বভাব। এই হাসিখুশি মার্কা ছবির মতোন ফিটফাট আকাশকন্যাদের দেখে আমি অবাকও হচ্ছিলাম। বেশ কয়েকজন আকাশবালক ও ছিল। তাদের কর্মদক্ষতা আর পেশাগত তৎপরতা দেখে ভাল লাগছিল।

ছবিঃ লেখক
একজন যাত্রী কয়েকজনকে খুব খাটাচ্ছিলেন, এসে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই ফরমায়েস জানাচ্ছিলেন-জুস, বিয়ার, আইসক্রিম…তারাও ছুটতে ছুটতে বলছিলেন-জাস্ট এ মিনিট স্যার, থেঙ্কিউ স্যার…। সারাক্ষণ ছুটছে তবু মুখে হাসি বাঁধানো, এরা এমনই পেশাদার। মুখে কৃত্রিম হাসি আর যান্ত্রিক স্বরে ক্রমাগত বাতাসকেও বলে চলে, ‘থেঙ্কিউ স্যার, ওকে স্যার…নো ওরিস স্যার…ম্যাডাম…। এদের আরেকটি ক্ষমতা হলো; পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্বাদ খাবার হাতে নিয়েও এরা সবচেয়ে মোলায়েম ভঙ্গিতে হাসি হাসি মুখে খাবার পরিবেশন করতে থাকে, যেন এর চেয়ে সুস্বাদু খাবার এই মহাজগতে নেই।

লবণ-মরিচ ছাড়া ফিস ফিলে নামক মাছ সিদ্ধ আর আধকাঁচা সবজি (ম্যাশড পটেটো উইথ বিনস/ আর অচেনা কোনো বিচি বা ডাল) খেয়ে প্রথমযাত্রা কাটলেও সিঙ্গাপুর বিমানবন্দর থেকে কানেক্টিং ফ্লাইটে ওঠার পর দীর্ঘ আট ঘন্টার পথ এসব খেয়ে কীভাবে কাটাবে তা নিয়ে উসখুস করছিলাম। যাহোক আপেল আর অরেঞ্জ জুসের বদৌলতে দফায় দফায় আধকাঁচা সবজি নতুবা ব্রেড খেয়ে একসময় ঠিকই লম্বা পথ পাড়ি দিলাম। 


সিঙ্গাপুরের বিশ্ববিখ্যাত চাঙ্গি বিমানবন্দরে আমাদের তিন ঘন্টার ট্রানজিট ছিল। এই সময়ের মধ্যে বিমানবন্দরের বাইরে যাবার সুযোগ ছিল না বলে আমরা এই দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দরে ঘুরে সময় কাটিয়েছি। ঝকঝকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এই বিমানবন্দরটি এত বিশাল যে এই সময়ের মধ্যে পুরোটা ঘুরে দেখার সুযোগ আমাদের হয় নি। অর্কিড বাগান, সুন্দর সুন্দর ফুলের গাছ, স্থাপত্য নিদর্শন, বর্ণিল বাতিতে আলোকসজ্জা, কৃত্রিম ফোয়ারা, কৃত্রিম পুকুর, বিলাসবহুল চেয়ারে বসে সয়ংক্রিয়ভাবে ফুট ম্যাসেজ নেওয়ার সুযোগ, খেলার জন্য নির্ধারিত স্থান, পার্লার, খাবার-পোশাক-অলংকারসহ পৃথিবীর বিখ্যাত সব ব্র্যান্ডের জিনিসপত্রে সুসজ্জিত অনেক দোকান রয়েছে এই সুপরিসর বিমানবন্দরে। এই বিমানবন্দরের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গাতে যাওয়ার জন্য স্লাইড, চলন্ত সিঁড়ি রয়েছে এবং এক টার্মিনাল থেকে আরেক টার্মিনালে যাওয়ার জন্য ট্রেনও রয়েছে।
ট্রানজিট শেষে এরপর আবার আমাদের দলবেঁধে আকাশে ওড়া। দীর্ঘ সাড়ে বারো ঘন্টার জার্নি শেষে ১৮ মার্চ সিডনির সময় রাত সাড়ে আটটায় আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম সিডনির মাটিতে। এ এক অন্যরকম অনুভূতি, আমরা নতুন একটা দেশে চলে এসেছি! বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ অস্ট্রেলিয়া আর সিডনি অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর ও অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের রাজধানী ও দেশটির সবচেয়ে বড় শহর যা বিশ্বের উন্নত শহর গুলোর শীর্ষ দশে আছে।
সিডনি এয়ারপোর্টে আমাদের স্বাগতম জানাতে ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটি থেকে নাহিদ ভাই উপস্থিত হয়েছিলেন। বিমানবন্দর থেকে আমরা অনেকেই নতুন সিম সংগ্রহ করে ‘নিরাপদে পৌঁছে গেছি’ খবরটা বাংলাদেশে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়ে টিম লিডার স্যারের নেতৃত্বে নাহিদ ভাইয়ের সাথে বাসে করে রওনা দিয়েছিলাম আমাদের নতুন গন্তব্য, প্যারামাটা, হোপ স্ট্রিটে। বাসে বসা অবস্থায় ক্লান্তিতে জানালার বাইরে চোখ রাখতে ইচ্ছে করছিল না। নতুন শহরে আসার উত্তেজনা মিইয়ে গিয়ে ক্লান্তি ভর করেছিল সারা শরীরে।
সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টে কাটানো তিন ঘন্টার ট্রানজিট আর বিমানে থাকাকালে আমি এক ফোঁটাও ঘুমাতে পারি নি তবু এপিএক্স হোটেল এপার্টমেন্টসে নিজের জন্য বরাদ্দ রুম আর সফেদ-তুলতুলে বিছানা পাবার পরও আমার একফোঁটা ঘুম আসছিল না।
ক্রমশ…

2 thoughts on “আকাশে ওড়ার দিনগুলো (পর্ব-২)

  1. বিমান যখন দেশের মাটি ছেড়ে উড়াল দেয় তখন কেমন একটা কষ্ট গলার কাছে দলা পাকায়। সম্প্রতি বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি।

    খাবার খুব একটা সুস্বাদু নয়, বিশেষ করে শিশুদের জন্য যা দেয়া হয় তা রীতিমতো বিস্বাদ বলা চলে।

    ভালো লাগছে পড়তে, পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত