উৎপলকুমার বসুর গদ্য: এসো,মুখোশ

Reading Time: < 1 minute

আসামের বোড়ো অঞ্চল থেকে এসেছেন প্রদীপ মহন্ত। সঙ্গে তার নিজের বানানো গোটা আঠারো মুখোশ। প্রদর্শনী চলছে লিটিল গ্যালারিতে। জায়গাটা হলো লেকমার্কেটের উল্টোদিকে। ট্রামরাস্তার ওপর। এককথায় বলা যায় এই মুখোশের মেলা না দেখলে জীবন বৃথা। এমনও বলা যায় আমরা দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্য যেসব মুখোশ পরে থাকি — ভদ্রতার, জ্ঞানের, মিথ্যা আনন্দের বা বানানো দুঃখের — সেগুলির প্রতিদ্বন্দ্বী এই ট্রাইবাল মুখসজ্জা।

এগুলি চামড়া, কাঠ ও নানা ধাতু দিয়ে তৈরি। ভাস্কর্যের মতো। অথচ ভাস্কর্য নয়। সুন্দর অথচ ভয়ঙ্কর। অস্বস্তিকর মনে হয়েছে কি? হ্যাঁ। মুখোশগুলি চুপ করে থাকে, তবু মনে হয় কিছু বলছে। এরা চক্ষুহীন অথচ দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। এরা সেই জগতেরই লোক যেখানে জীবন শেষ হয়েছে অথচ মৃত্যু শুরু হয়নি। এরা জীবন্মৃত। এরা ধূসর।

এ-রকম নকশা প্রকৃতিতে তৈরি হয়। গাছের বাকলে, মাঠের প্রান্তে পড়ে থাকা গোরুর কঙ্কাল-মাথায়, কসাইয়ের দোকানে সাজিয়ে রাখা কাটা ছাগল-করোটিতে। আমরাও এগুলো বানাতে পারতাম একদা। যখন আমরা ছিলাম প্রকৃতির সন্তান। তখন আমাদের ছিল কুসংস্কার, ছিল ম্যাজিক, ছিল গভীরতর অন্ধকারের পর অত্যুজ্জ্বল দিন।

আজ আমাদের জীবন লেপা-মোছা। সবই যেন আলোয় আলোকময়। দশটা-পাঁচটা অফিস, ছেলেমেয়ের স্কুল কলেজ, ছুটিছাটায় দীঘা। মধ্যে মধ্যে এসে পড়েন প্রদীপ মহন্তর মতো মানিক-পীর, ভূতের ওঝা, শতমুখ শাম্মান, আদি শিল্পী।

আমাদের চিকিৎসা হয়।

             

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>