বিভেদ ভুলে পাশে থাকা- ভালোবাসার অস্ত্রের নাম রাখী

 

খুব  ছোটো বেলায় আমাদের তিন বোনের কোনো ভাই না থাকায় কাঁদতে বসতাম এই ভেবে যে রাখী কাকে পরাবো!আমাদের তো ভাই নেই। তখন আমাদের ধারনা ছিল যে  ভাইকেই বুঝি শুধু রাখী পরাতে হয়।আমাদের সেই অভাব পূরণ হয়েছিল সামনের বাড়িতে থাকা জ্যাঠার দুই ছেলে বাপীদা আর বুড়োদা মানে দাদাভাই আর মেজদাকে রাখী পরিয়ে। বহুদিন পর্যন্ত জানতাম না তারা আমাদের নিজেদের জ্যেঠতুতো দাদা নয়।ফলে দীর্ঘদিন তারাই ছিল আমাদের দাদা ও রক্ষা কবচ। সেই পুরোনো পাড়া ত্যাগ করে তারা চলে গেল, আমরাও একদিন চলে এলাম নতুন পাড়ায়। ক্রমশ যোগাযোগ কমতে লাগল। এবং ভাইফোটার মতো রাখী পরানোর স্রোতেও ভাটা এলো। কিন্তু নতুন পাড়ায় ততদিনে নতুন দাদা হয়ে গেছে। আজও একমাত্র দুই বোনের পাশাপাশি তাকেই রাখী পরাই। সেই এই এত্ত বড় আমি, আমার এখনো রক্ষা কবচ তারাই।

কিন্তু সেই সব দিনে যখন বোনেরা একটা ভাই বা দাদার হাতে রাখী পরানোর বায়না করতাম, তখন বাবা শোনাতেন রাখী বন্ধন কিভাবে শুরু হল তার নানান গল্প। বলতেন,শুধু বাঙালিরাই রাখী পরায় না ভাইকে বা দাদাকে, হিন্দু, জৈন  শিখরা ই উৎসব পালন করে। এই দিন দিদি বা বোনেরা তাদের ভাই বা দাদার হাতে রাখী নামে একটি পবিত্র সুতো বেঁধে দেয়। এই রাখীটি ভাই বা দাদার প্রতি দিদি বা বোনের ভালবাসা ও ভাইয়ের মঙ্গলকামনা এবং দিদি বা বোনকে আজীবন রক্ষা করার ভাই বা দাদার শপথের প্রতীক বলে মনে করা হয়। তবে কেবল মাত্র বোনেরাই ভাই বা দাদাকে রাখী পরাবে বিষয়টা এমন নয়। যেকোনো প্রিয় মানুষ, সে বন্ধু হোক, বোন বা দিদি হোক, দাদু হোক যে তোমাকে বাইরের সব ঝড় ঝাপটা থেকে রক্ষা করবে তাকেই রাখী পরাতে বাধা নেই। তাই তো রাখীকে রক্ষাকবচ বলে। বাবার কথা শুনে আমি আমার দুই বোনকে রাখী পরাতে শুরু করি। আমার বোনেরাই তো বিপদে আপদে সুখে দুখে আনন্দে সমস্ত পরিস্থিতিতে আমার রক্ষাকবচ।

বাবা গল্পের ছলে বলতেন , শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব উদযাপিত হয়। মা শোনাতেন রাখীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানান পৌরানিক, ঐতিহাসিক গল্প।

বলিরাজা ও লক্ষ্মী   

পৌ্রানিক কাহিনী অনুযায়ী, দৈত্যরাজা বলি ছিলেন বিষ্ণুর ভক্ত। বিষ্ণু বৈকুণ্ঠ ছেড়ে বালির রাজ্য রক্ষা করতে চলে এসেছিলেন। বিষ্ণুর স্ত্রী লক্ষ্মী স্বামীকে ফিরে পাওয়ার জন্য এক সাধারণ মেয়ের ছদ্মবেশে বলিরাজের কাছে আসেন। লক্ষ্মী বলিকে বলেন, তাঁর স্বামী নিরুদ্দেশ। যতদিন না স্বামী ফিরে আসেন, ততদিন যেন বলি তাঁকে আশ্রয় দেন। বলিরাজা ছদ্মবেশী লক্ষ্মীকে আশ্রয় দিতে রাজি হন। শ্রাবণ পূর্ণিমা উৎসবে লক্ষ্মী বলিরাজার হাতে একটি রাখী বেঁধে দেন। বলিরাজা এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে লক্ষ্মী আত্মপরিচয় দিয়ে সব কথা খুলে বলেন। এতে বলিরাজা মুগ্ধ হয়ে বিষ্ণুকে বৈকুণ্ঠে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। বলিরাজা বিষ্ণু ও লক্ষ্মীর জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করেন। সেই থেকে শ্রাবণ পূর্ণিমা তিথিটি বোনেরা রাখীবন্ধন হিসেবে পালন করে। 

কৃষ্ণ ও দ্রৌপদী 

মহাভারতে আছে, একটি যুদ্ধের কৃষ্ণের কবজিতে আঘাত লেগে রক্তপাত শুরু হলে পাণ্ডবদের স্ত্রী দ্রৌপদী তাঁর শাড়ির আঁচল খানিকটা ছিঁড়ে কৃষ্ণের হাতে বেঁধে দেন। এতে কৃষ্ণ অভিভূত হয়ে যান। দ্রৌপদী তাঁর অনাত্মীয়া হলেও, তিনি দ্রৌপদীকে নিজের বোন বলে ঘোষণা করেন এবং দ্রৌপদীকে এর প্রতিদান দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। বহু বছর পরে, পাশাখেলায় কৌরবরা দ্রৌপদীকে অপমান করে তাঁর বস্ত্রহরণ করতে গেলে কৃষ্ণ দ্রৌপদীর সম্মান রক্ষা করে সেই প্রতিদান দেন। এইভাবেই রাখীবন্ধনের প্রচলন হয়।

সন্তোষী মা  

 জনপ্রিয় চলচ্চিত্র জয় সন্তোষী মা-এ (১৯৭৫) রক্ষাবন্ধন সংক্রান্ত একটি গল্প বলা হয়েছে। রাখীবন্ধনের দিন গণেশের বোন গণেশের হাতে একটি রাখী বেঁধে দেন। এতে গণেশের দুই ছেলে শুভ ও লাভের হিংসে হয়। তাদের কোনো বোন ছিল না। তারা বাবার কাছে একটা বোনের বায়না ধরে। গণেশ তখন তাঁর দুই ছেলের সন্তোষ বিধানের জন্য দিব্য আগুন থেকে একটি কন্যার জন্ম দেন। এই দেবী হলেন গণেশের মেয়ে সন্তোষী মা। সন্তোষী মা শুভ ও লাভের হাতে রাখী বেঁধে দেন।

এত তো গেল পুরান ও মহাভারতের গল্প। কিন্তু ইতিহাসেও নানাভাবে এর কথা উল্লেখিত হয়েছে।

মহামতি আলেকজান্ডার ও পুরু রাজা  

 কিংবদন্তী অনুযায়ী, ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করলে আলেকজান্ডারের স্ত্রী রোজানা রাজা পুরুকে একটি পবিত্র সুতো পাঠিয়ে তাঁকে অনুরোধ করেন আলেকজান্ডারের ক্ষতি না করার জন্য। পুরু ছিলেন কাটোচ রাজা। তিনি রাখীকে সম্মান করতে। যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি নিজে আলেকজান্ডারকে আঘাত করেননি।

রানি কর্ণবতী ও সম্রাট হুমায়ুন  

 জনপ্রিয় গল্প অনুযায়ী, চিতোরের রানি কর্ণবতী ১৫৩৫ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে একটি রাখী পাঠান। গুজরাতের সুলতান বাহাদুর শাহ চিতোর আক্রমণ করলে বিধবা রানি কর্ণবতী অসহায় বোধ করেন এবং তিনি হুমায়ুনকে একটি রাখী পাঠিয়ে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করেন। কর্ণবতীর রাখী প্রেরণে অভিভূত হয়ে হুমায়ুন চিতোর রক্ষা করার জন্য সৈন্য প্রেরণ করেন। তবে হুমায়ুনের সেনা পাঠাতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। বাহাদুর শাহ রানির দুর্গ জয় করে নিয়েছিলেন। শোনা যায়, বাহাদুর শাহের সেনাবাহিনীর হাত থেকে সম্ভ্রম রক্ষা করার জন্য ১৫৩৫ সালের ৮ মার্চ রানি কর্ণবতী ১৩,০০০ পুরস্ত্রীকে নিয়ে জহর ব্রত পালন করে আগুনে আত্মাহুতি দেন। চিতোরে পৌঁছে হুমায়ুন বাহাদুর শাহকে দুর্গ থেকে উৎখাত করেন এবং কর্ণবতীর ছেলে বিক্রমজিৎ সিংকে সিংহাসনে বসান। সমসাময়িক ঐতিহাসিকদের লেখা থেকে রাখী প্রেরণের কথা অবশ্য জানা যায় না। কোনো কোনো ঐতিহাসিক রাখী পাঠানোর গল্পটির সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেন। তবে মধ্য-সপ্তদশ শতকের রাজস্থানী লোকগাথায় এর উল্লেখ পাওয়া যায়।

রাখী বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ 

রাখী বন্ধন নিয়ে মাতামাতি শুরু হয় বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের একটা কর্মসূচি হিসেবে।বাবা বলতেন, অনেকেই মনে করে রাখী বন্ধন উৎসব বুঝি রবীন্দ্রনাথ শুরু করেছিলেন। কিন্তু আদতে তা নয়। বঙ্গভঙ্গ রোধ করতে সম্প্রীতির অঙ্গ হিসেবে রাখীকে গ্রহণ করা হয়। হিন্দুরা মুসলিম বা অন্য সম্প্রদায়ের হাতে এবং অন্যরাও হিন্দুদের হাতে রাখী বেঁধে ব্রিটিশের এই বিভাজন নীতি মানবে না।  

১৯০৫ সালের ২০ জুলাই বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়। ঐ বছরেরই ১৬ অক্টোবর (বাংলা মতে ১৩১২ খ্রিস্টাব্দের ৩০ আশ্বিন) থেকে তা কার্যকর করার কথা বলা হয়। শ্রেণি বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার সকল মানুষই এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হন। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে সামিল হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও। তিনি বলেন, আইনের সাহায্যে বাংলা ভাগ হতে চলেছে ৩০ আশ্বিন, কিন্তু ঈশ্বর বাংলার মানুষকে বিভক্ত করেননি। সেই কথা মাথায় রেখে এবং তা প্রকাশ্যে তুলে ধরতে ঐ দিনটি বাঙালির ঐক্যের দিন হিসেবে উদযাপিত করা হবে। তারই নিদর্শনস্বরূপ তারা একে অপরের হাতে বেঁধে দেবেন হলুদ সুতো। মুখে বলবেন- ভায়েদের মধ্যে বিভেদ করা যাবে না। দিনটিকে রাখি বন্ধনের দিন হিসেবে পালন করার ডাক দেন বিশ্বকবি। 

৭ আগস্ট বাগবাজারে রায় পশুপতিনাথ বসুর সুরম্য প্রাসাদপ্রাঙ্গণে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ আমন্ত্রিত হলেন। লক্ষ করেন বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সব প্রতীকই হিন্দুদের প্রতীক থেকে গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু বঙ্গদেশ কেবল হিন্দুদের নয়—হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান—সকল মানুষেরই দেশ। বঙ্গভঙ্গ রদ করতে হলে সকল মানুষের অংশগ্রহণ চাই। এমন আন্দোলন চাই যেখানে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষই অন্তর থেকে অংশ নিতে পারে। সুতরাং তিনি এই বিজয় সম্মিলনীতে হিন্দুদের সঙ্গে মুসলমানদের সম্ভাষণ করার আহ্বান করেন। তিনি লিখলেন,–হে বন্ধুগণ, আজ আমাদের বিজয়া-সম্মিলনের দিনে হৃদয়কে একবার আমাদের এই বাংলাদেশের সর্বত্র প্রেরণ করো। উত্তরে হিমাচলের পাদমূল হইতে দক্ষিণে তরঙ্গমুখর সমুদ্রকূল পর্যন্ত, নদীজালজড়িত পূর্বসীমান্ত হইতে শৈলমালাবন্ধুর পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত চিত্তকে প্রসারিত করো। যে চাষি চাষ করিয়া এতক্ষণে ঘরে ফিরিয়াছে তাহাকে সম্ভাষণ করো, যে রাখাল ধেনুদলকে গোষ্ঠগৃহে এতক্ষণ ফিরাইয়া আনিয়াছে তাহাকে সম্ভাষণ করো, শঙ্খমুখরিত দেবালয়ে যে পূজার্থী আগত হইয়াছে তাহাকে সম্ভাষণ করো, অস্তসূর্যের দিকে মুখ ফিরাইয়া যে মুসলমান নমাজ পড়িয়া উঠিয়াছে তাহাকে সম্ভাষণ করো।

অপরদিকে রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদিও অনশনের মাধ্যমে দিনটিকে শোকদিবস হিসেবে উদযাপনের প্রস্তাব দেন। দুটি প্রস্তাবই গৃহীত হয়। এসবেরই অঙ্গ হিসেবে রবীন্দ্রনাথের নেতৃত্বে ঐ দিন এক বিশাল মিছিল গঙ্গার উদ্দেশে রওনা হয়। মিছিলে অংশ নেন সমাজের বিশিষ্ট ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। ঐদিন সমস্ত দোকানপাট বন্ধ থাকে। রাস্তায় কোনও যানবাহনও ছিল না। বাংলার স্বাভাবিক জীবন ছিল সেদিন অচল । গঙ্গায় ডুব দেওয়ার পর তারা একে অপরের হাতে রঙিন সুতো বেঁধে দেন। বাংলা তথা বাঙালির ঐক্য, বাঙালির সংস্কৃতি, তাদের আশা আকাঙক্ষা তুলে ধরে গান লিখলেন রবীন্দ্রনাথ। সেদিন সারাদিনই কলকাতা তথা সমগ্র বাংলা জুড়ে ঐ গানটি ধ্বনিত হতে থাকে-
“বাংলার মাটি বাংলার জল বাংলার বায়ু বাংলার ফল-
পুণ্য হউক, পুণ্য হউক, পুণ্য হউক হে ভগবান।

 

কলকাতার বিডন স্কোয়ারে ও বাংলার নানান জায়গায় রাখি বন্ধন উৎসবের আয়োজন করা হয়। ঐদিনই বিকেলে বঙ্গভবন গড়ে তোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পার্সিবাগানে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়। ঐ সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য নিয়ে আসা হয় আনন্দমোহন বসুকে। তিনি তখন খুবই অসুস্থ। ফেডরেশন হল এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের কন্ঠের প্রবল বন্দেমাতরম ধ্বনির মধ্যেই সভাপতির ভাষণটি পড়ে শোনান সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ঘোষণাটি পাঠ করা হয়। ইংরেজি বয়ানটি পাঠ করেন আশুতোষ চৌধুরি। বাংলা বয়ান পড়ে শোনান বিশ্বকবি। সভার পর সেই বিশাল জনমিছিল বাগবাজারে পশুপতি বসুর বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। এই ঘটনার স্মরণে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ঘরোয়া বইটিতে লেখেন- সভার পর জনসাধারণ বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে জাতীয় আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। বিশাল মিছিলটি শহরের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে অবশেষে বাগবাজারে পশুপতিবাবুর বাড়িতে পৌঁছয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ কবিগুরুরই লেখা একটি গান গাইতে থাকেন। 

তারই কিছু অংশ- 

“চিরদিন টানবে পিছে, চিরদিন রাখবে নীচে-

এত বল নাই রে তোমার, সবে না সেই টান।

আমাদের শক্তি মেরে তোরাও বাঁচবি নে রে,

বোঝা তোর ভারী হলেই ডুববে তরীখান।” 

ইতিহাসের পাতা ছেড়ে বেরিয়ে এসে বাবা শেষ করতেন এই বলে যে, রাখী কেবল ভাই আর বোনের উৎসব নয়, রাখী আসলে ভালোবাসার কাছের মানুষগুলোকে পারস্পরিক ভাবে এক সুরে বেঁধে রাখার মাধ্যমও। তাই এই পবিত্র দিনে আমরা সকল বিভেদ ভুলে নিজের কাছের মানুষগুলোকে কেবল নয়, আশে পাশের মানুষগুলোকেও প্রতিবেশী হিসেবে পাশে থাকব এই নিশ্চয়তা দিতেই রাখী।

 

 

 

 

 

 

 

  

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত