| 18 জুন 2024
Categories
দেহ ফিচার্ড পোস্ট স্বাস্থ্য

অটিজম: অনেকের মধ্যে রয়েছে ভ্রান্ত ধারণা । ডা. শাহীন আখতার

আনুমানিক পঠনকাল: 5 মিনিট

বিশ্বব্যাপী এক চরম আতঙ্কের মাঝে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। নভেল করোনাভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট কভিড-১৯ রোগের প্রাদুর্ভাবে সারা বিশ্ব যখন নাকাল, তখন অন্যদের সাথে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুরাও বেশি নাজুক। এই সময়ে তাদের বিশেষ যত্ন ও সেবার প্রয়োজন। তাদের প্রতি বেশি খেয়াল রাখা প্রয়োজন। 

আমরা জানি, Autism Spectrum Disorder (ASD) অথবা অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুদের লক্ষণ ও উপসর্গের মাত্রা বিচিত্র। একজনের সঙ্গে আরেকজনের হুবহু মিল নেই। কেউ সবাক, কেউ বা বাকশক্তি থাকা সত্ত্বেও কথা বলে না। কারও আচরণ অতি চঞ্চল, কেউ অতিরিক্ত গুটিয়ে-থাকা স্বভাবের। তবে এ বিষয়ে অনেকের মধ্যে কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। তাই সবার মাঝ থেকে এসব ভ্রান্ত ধারণা দূরীকরণে এর বাস্তবতা তুলে ধরা যাকঃ

ভ্রান্ত ধারণা – ১: অটিজম হলো মানসিক অসুস্থতা।

বাস্তবতা: অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার হল মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা। বিভিন্ন গবেষণা এবং মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখা গেছে যে, ASD বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের দুই পাশের গঠনে এবং নিউরোট্রান্সমিটার লেভেলে অসঙ্গতি আছে।

ভ্রান্ত ধারণা – ২: শুধুমাত্র ছেলে শিশুদেরই অটিজম হয়।

বাস্তবতা: মেয়ে শিশুদের অটিজম হতে পারে। বাস্তবে দেখা যায় সব জাতিতে, সব অর্থনৈতিক অবস্থা এবং সব বয়সভেদেই অটিজম হয়ে থাকে। দি সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) গবেষণা করে দেখিয়েছে যে, ৮ বছর বয়সী প্রতি ৬৮ জন শিশুর মধ্যে ১ জন শিশু ASD বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন (৪২ জন ছেলে শিশুর মধ্যে ১ জন ছেলে শিশু এবং ১৮৯ জন মেয়ে শিশুর মধ্যে ১ জন মেয়ে শিশু)। কৃষ্ণাঙ্গ শিশুদের চেয়ে ৩০% বেশি শ্বেতাঙ্গ শিশুদের ASD লক্ষণ নির্ণয় করা হয়েছিল। 

ভ্রান্ত ধারণা – ৩: অটিজম শনাক্তকরণের জন্য মেডিকেল টেস্টের প্রয়োজন হয়।

বাস্তবতা: অটিজম শনাক্তকরণের জন্য কোনো মেডিকেল টেস্ট নেই। এর পরিবর্তে চিকিৎসক এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা শিশুর আচরণ মূল্যায়ণ করে ASD নির্ণয় করে থাকেন। যেমন: চোখে চোখ না রাখা, নাম ধরে ডাকলে কোন প্রতিক্রিয়া না করা, দুলতে থাকা এবং খেলনা দিয়ে অর্থহীনভাবে খেলা করা, বার বার একই কথা বলা, একই কাজ করা ইত্যাদি। মেডিক্যাল টেস্ট সাধারণতঃ শারীরিক কোনো লক্ষণ বা অসুবিধা খুঁজে বের করার জন্য ব্যবহৃত হয়। 

ভ্রান্ত ধারণা – ৪: ASD বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুরা বুদ্ধিগতভাবে অক্ষম থাকে।

বাস্তবতা: ASD বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুদের মধ্যে ২১% শিশু বুদ্ধিমত্তা একেবারে কম, ২৩% শিশু  বুদ্ধিগতভাবে স্বাভাবিকের তুলনায় কম এবং ৪৬% শিশু স্বাভাবিক অথবা স্বাভাবিকের উপরে অবস্থান করে (সিডিসি-এর রিপোর্ট অনুযায়ী)। 

ভ্রান্ত ধারণা – ৫: টিকা দেয়ার কারণে অটিজম হয়।

বাস্তবতা: ASD বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন বেশিরভাগ শিশুর ক্ষেত্রে কোন একটা নির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পূর্বে এ ধারণা প্রচলিত ছিল যে, শিশুদের এমএমআর (Measles, Mumps, Rubela) টিকা দেয়ার ফলে অটিজম হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা একমত যে, এই টিকার সাথে অটিজমের কোন সম্পর্ক নেই। 

ভ্রান্ত ধারণা – ৬: অটিজম সেরে যাওয়া সম্ভব।

বাস্তবতা: অটিজমের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। বর্তমানে গবেষণায় দেখা গেছে, বিহেভিয়ার মডিফিকেশন টেকনিকসহ বিভিন্ন ইনটেনসিভ (নিবিড়) এবং আর্লি ইন্টারভেনশন-এর মাধ্যমে কিছু শিশুর অনেক উন্নতি হচ্ছে।

ভ্রান্ত ধারণা – ৭: অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন মানুষরা কখনো পরিবর্তিত হয় না এবং কখনো আত্মনির্ভরশীল হতে পারে না।

বাস্তবতা: অটিজম কোন একটা নির্দিষ্ট অবস্থা নয় এবং সময়ের সাথে সাথে এর ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক পরিবর্তন হতে পারে। বেশিরভাগ শিশুর ক্ষেত্রে বয়সের সাথে সাথে রোগের কারণগুলোও বৃদ্ধি পেতে পারে। কোন কোন শিশুর এপিলেপ্সি দেখা দিতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুরা বিষণ্নতায় ভুগতে পারে এবং তাদের মধ্যে বিভিন্ন আচরণগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সব ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা চিকিৎসার ধরন পরিবর্তন করার পরামর্শ দেন। এদের অনেকেই নিজের কাজগুলো করতে পারে এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকতে পারে।

ভ্রান্ত ধারণা – ৮: অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশু এবং প্রাপ্ত বয়স্করা একা থাকতে পছন্দ করে বা সামাজিকভাবে যোগাযোগ করতে চায় না।

বাস্তবতা: অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশু এবং প্রাপ্ত বয়স্করা প্রায়ই সামাজিকভাবে যোগাযোগ করতে চায় কিন্তু তাদের সামাজিক প্রায়োগিক যোগাযোগ দক্ষতায় অক্ষমতা থাকে বলে তারা পারে না। কখনো বা বন্ধুত্ব তৈরি করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা পরিলক্ষিত হয়।

ভ্রান্ত ধারণা – ৯: অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন এবং প্রাপ্ত বয়স্করা সামাজিক দক্ষতাগুলো শিখতে পারে না।

বাস্তবতা: বিশেষ ধরণের নির্দেশনা এবং প্রশিক্ষণ দেয়া হলে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশু এবং প্রাপ্ত বয়স্করা সামাজিক কাজেকর্মে দক্ষতা অর্জন করতে পারে। 

ভ্রান্ত ধারণা – ১০: অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুরা ভালভাবে মিশতে পারে না। চোখে চোখে তাকানো, ভালভাবে কথা বলার ক্ষেত্রেও তাদের সমস্যা থাকে।

বাস্তবতা: অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন কোন কোন শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কথা বলার পাশাপাশি অন্যের সাথে মিশতেও পারে। তাদের Eye Contact এর উন্নতি হতে পারে। সেই সাথে বাচনিক অথবা অ-বাচনিক যোগাযোগ দক্ষতাও বৃদ্ধি পেতে পারে। বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে তারা মেধাবী, সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন এবং চিন্তার দিক থেকে সক্ষম থাকতে পারে।

ভ্রান্ত ধারণা – ১১: অটিজম-শিশুদের বৈশিষ্ট্যগুলো সকলের ক্ষেত্রে একই রকম।

বাস্তবতা: যদিও অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন সকল শিশু এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যে মিল থাকে, তবুও অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন প্রত্যেকটি শিশুই স্বতন্ত্র এবং আলাদা।

ভ্রান্ত ধারণা – ১২: অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তিরা জীবনে কখনো সফল হতে পারে না এবং সমাজে অবদান রাখতে পারে না।

বাস্তবতা: সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন অনেক ব্যক্তিই জীবনে সফল হতে পারে এবং সমাজে অবদান রাখতে পারে।

ভ্রান্ত ধারণা – ১৩: অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তির কোন অনুভূতি থাকে না এবং তারা অন্যের প্রতি স্নেহ/সহানুভূতি দেখাতে পারে না।

বাস্তবতা: অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তি অন্যকে সহানুভূতি দেখাতে পারে এবং নিজেও অন্যের কাছ থেকে স্নেহ পেতে চায়। তবে সংবেদনশীলতার প্রক্রিয়াগত কারণে এবং সামাজিক বিষয় বোঝার পার্থক্যের কারণে সাধারণের চেয়ে তাদের প্রকাশভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন।

ভ্রান্ত ধারণা – ১৪: পিতামাতার দুর্বল অভিভাবকত্ব সন্তানের অটিজমের জন্য দায়ী।

বাস্তবতা: এ ধারণাটি অজ্ঞতাপ্রসূত এবং সম্পূর্ণ ভুল। অনিরুপিত অটিজমের ক্ষেত্রে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ না নেয়া হলে অবস্থার উন্নতি পিছিয়ে যায়; কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, জন্ম-পরবর্তী সময়কার দুর্বল অভিভাবকত্ব শিশুর অটিজমের জন্য দায়ী ছিল।

ভ্রান্ত ধারণা – ১৫: ASD বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুদের সবারই কোনকিছু শেখার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়।

বাস্তবতা: ASD বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুদের মধ্যে কারো কারো কোন কিছু বুঝতে পারার ও শেখার ক্ষেত্রে সমস্যা থাকে। কিন্তু কেউ কেউ, বিশেষত অ্যাসপারজার সিনড্রোম শিশুদের অনেকেই গণিতের মতো বিষয়ে মূলধারার শিশুদের মতোই দক্ষতা অর্জন করতে পারে। 

ভ্রান্ত ধারণা – ১৬: ASD বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষ ধরনের খাবার প্রয়োজন।

বাস্তবতা: এটা সত্য যে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুদের অনেকেই দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার, গ্লুটেন সমৃদ্ধ খাবার ইত্যাদির প্রতি অ্যালার্জিক। চিনিযুক্ত যেসব খাবারে এসিডের পরিমাণ বেশি এমন খাবারও কারো কারো আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে (উত্তেজনা বৃদ্ধি, খিটখিটে মেজাজ)। তবে এসব উদাহরণ কোন সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নয়।

ভ্রান্ত ধারণা – ১৭: এটি একটি সাময়িক সমস্যা; বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেরে যাবে। কোন বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার দরকার নেই।

বাস্তবতা: অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুর সমস্যাগুলো কখনোই পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়, যেটা করা যাবে তা হলো নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে তার ঘাটতি কমিয়ে আনা। স্বল্প মাত্রায় অটিজম, যেমন এসপারজার সিনড্রোম অথবা হাই-ফাংশনিং অটিজমের ক্ষেত্রে যথাযথ সহযোগিতা, সমর্থন ও শিক্ষা পেলে পরিণত বয়সে আত্মনির্ভরতা অর্জন করা সম্ভব। উচ্চমাত্রায় অটিজমের ক্ষেত্রে পরিণত বয়সেও অন্যের সাহায্য ছাড়া স্বনির্ভর দৈনন্দিন জীবনযাপন সম্ভব নাও হতে পারে।

ভ্রান্ত ধারণা – ১৮: একই পরিবারে অটিজম থাকার ঘটনা একবারের বেশি ঘটে না।

বাস্তবতা: যদিও অটিজমের সুনির্দিষ্ট কোন কারণ এখনও সুপ্রমাণিত নয়; তারপরও জেনেটিক ডিজঅর্ডার অটিজমের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে ধারণা করা হয়। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে একই পরিবারে ভাই-বোনদের মধ্যে একাধিকজনের এবং যমজ সন্তানদের উভয়ের অটিজম হবার প্রবণতা দেখা গেছে।

ভ্রান্ত ধারণা – ১৯: শিশুর কথা বলতে দেরি হলে বুঝতে হবে যে তার অটিজম আছে।

বাস্তবতা: শিশুরা কথা বলার পাশাপাশি  অঙ্গভঙ্গি দ্বারা  ‘আলাপচারিতায়’ অংশ  নিতে পারে। কথা বলতে দেরি হলেও অনেক শিশুই এই কাজটা করতে পারে। দুই বছর বা তারও কম বয়স থেকেই মুখের অভিব্যক্তি দিয়ে, হাত নেড়ে, কাঁধ ঝাঁকানোর ভঙ্গিতে অনেক কিছু বোঝাতে পারে। শিশু যদি সবার সাথে মেশে, কেউ ডাকলে সাড়া দেয়, অন্যদের চোখের দিকে তাকিয়ে (আই-কন্ট্যাক্ট করে) কথা শোনে বা প্রতিক্রিয়া দেখায়- তাহলে দুশ্চিন্তার তেমন কিছু নেই। 

ভ্রান্ত ধারণা – ২০: অটিজম থাকলে অন্য কোন ধরণের ডিজঅর্ডার থাকে না।

বাস্তবতা: অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রেও এপিলেপসি (খিঁচুনি), অন্ধত্ব, বধিরতা, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা, ডাউন সিনড্রোম কিংবা অন্য কোন শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। 

প্রাথমিক পর্যায়ে যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের অবস্থার উত্তরণ ঘটানো সম্ভব। এই শিশুরা পৃথিবীকে আপনার আমার চেয়ে আলাদাভাবে দেখে। অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুরা খুব ভাল পর্যবেক্ষক, তারা আশেপাশের অনেক কিছুই পর্যবেক্ষণ করে। তাদের প্রতি ভালো আচরণ, ভালোবাসা ও সহমর্মিতা দিয়ে তাদেরকে সমাজের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব।

 

 

 

 

পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম (ইপনা)

অধ্যাপক, শিশু নিউরোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত