হট ফেভারিটের মতই বিশ্বকাপ শুরু করলো ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে এবার বিশ্বকাপ যে, নিজেদের ঘরেই ইংলিশরা রেখে দিতে প্রস্তুত তা আরো জোরালো দাবি রাখলো এই জয়ে। প্রথমে ব্যাট করে চার অর্ধশতকের ওপর ভর করে ৩১১ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন বেন স্টোকস।
বৃহস্পতিবার ওভালে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০৪ রানের বিশাল জয় পেয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ইংলিশদের ৩১১ রানের বিপরীতে ২০৭ রানে অলআউট হয়েছে প্রোটিয়ারা।

টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

সবাইকে অবাক করে দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফ্যাফ দু’ প্লেসি প্রথম ওভার করার জন্য তাহিরের হাতে বল তুলে দেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কোনও স্পিনার টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে বোলিং ওপেন করেননি। তাহির অবশ্য দু’ প্লেসির আস্থার প্রতি সুবিচারই করেন। দিনের দ্বিতীয় বলেই জনি বেয়ারস্টোকে ফিরিয়ে দেন তাহির। বেয়ারস্টো খাতাই খুলতে পারেননি।


তারপরও জেসন রয়, জো রুট, ইয়ন মরগান ও বেন স্টোকসের ফিফটিতে তিনশ পেরোনো সংগ্রহ গড়েছে ইংল্যান্ড।

দুটি শতরানের জুটি আসে। প্রথমটি আসে রয় ও রুটের ব্যাটে। দুজনে যোগ করেন ১০৬ রান। দুজনেই ফিরেছেন ফিফটি পার করেই। ৮ চারে ৫৩ বলে ৫৪ রানের ইনিংস রয়ের। ৫ চারে ৫৯ বলে ৫১ রানের ইনিংস রুটের। দুজনেই দ্রুত আউট হন ফিফটি করে।

পরপর দুই উইকেট হারিয়ে অবশ্য ভেঙে পড়েনি স্বাগতিকরা। আরেকটি শতরানের জুটি গড়ে ধাক্কা সামলান মরগান ও স্টোকস। এই জুটিও ঠিক ১০৬ রানের পর মরগানের বিদায়ে ভেঙ্গে যায়। ফেরার আগে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৬০ বলে ৫৭ রানের ঝলমলে ইনিংস আসে অধিনায়কের থেকে।

চার ফিফটির বড়টি স্টোকসের। ৯ চারে ৭৯ বলে ৮৯ রানের। এগারো রানের জন্য শতক হাতছাড়া করেছেন এ অলরাউন্ডার। পরে জস বাটলার ১৮ ও ক্রিস ওকসের ১৩ রানে তিনশ পেরিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

প্রোটিয়াদের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে সেরা লুনগি এনগিডি, যদিও খরচ করেছেন ৬৬ রান। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন তাহির ও কাগিসো রাবাদা, যথাক্রমে ৬১ ও ৬৬ করে রান খরচ করে। ৮ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ফেলুকোয়ও নিয়েছেন একটি উইকেট।

৩১২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ইংলিশ পেসার জোফরা আর্চারের বাউন্সিং বলে কপালে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাঠ ছাড়েন। ব্যাট করতে নেমে ভালো করতে পারেননি অ্যাইডেন ম্যাকরাম। ১১ রান করে আর্চারের বলে রুটের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। মাঠে নেমে ৫ রান করে বোলার আর্চারের দ্বিতীয় শিকার হলেন ডু প্লেসিস। চাপে পড়া আফ্রিকাকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন ওপেনার ডি কক। কিন্তু আশা দিয়েও হতাশ করেন তিনি। ৭৩ বলে ৬৮ রান করে ৬ চার ও ২ ছয়ে ৬৮ রান করে লিয়াম প্লাঙ্কেটের বলে জো রুটের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার। ব্যাট করতে নেমে ডুমিনি আউট হন ৮ রান করে। ড্যুয়েন পেটারিয়াস ১ রান করে রান-আউটের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। আহত হয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া হাশিম আমলা চিকিৎসা নিয়ে ছয় নাম্বারে পুনঃরায় ব্যাট করতে নামেন। রাসি ভ্যান ডার দুসেনর সঙ্গে আমলা কিছুক্ষণ মাঠে টিকে থাকলেও, বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে দারুণ এক ফিফটি হাঁকিয়ে ৬১ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় আর্চারের শিকার হয়ে ফেরেন দুসেন। আন্দিল পেহলিকায়ো করেন ২৪ রান। ভালো হয়নি আমলার ইনিংসও। ১৩ রান করে প্ল্যাঙ্কেটের শিকার হন। শেষ দিকে কাগিসো রাবাদার ১১ ও লুঙ্গি নিগিদির ৬ রানে ৩৯.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২০৭ রান করতে সক্ষম হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। আর প্রথম জয়ে ইংল্যান্ড টিম হয় আনন্দে আত্মহারা। দর্শকের তালিতে মুখরোতি হয় পুরো স্টেডিয়াম।

ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে জেফরা আর্চার ৩ টি, লিয়াম প্লাঙ্কেট ও বেন স্টোকস ২টি, মইন আলি এবং আদিল রশিদ একটি করে উইকেট শিকার করেন।

ব্যাট হাতে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৯ রানের ইনিংস খেলে ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে সেরা নৈপূণ্য দেখিয়ে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন ইংল্যান্ডের পেসার অলরাউন্ডার বেন স্টোকস।

 

 

 

 

.

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত