আকাশ ছোঁয়ার উড়াননামাঃ হোয়াইট মাউস ন্যান্সি ওয়েক

নারীর বিচরণ পৃথিবীর সর্বত্র, বহু বিস্ময় জাগানিয়া কৃতিত্বের সাথে স্বর্ণাক্ষরে জড়িয়ে আছে অসংখ্য গুণী নারীর নাম। এমনই কিছু অসমসাহসী, বীরাঙ্গনা নারীর গল্প নিয়ে আমাদের এই ধারাবাহিক আয়োজন ‘আকাশ ছোঁয়ার উড়াননামা‘।আজকের পর্বে থাকছেঃ- ন্যান্সি ওয়েক

ন্যান্সি ওয়েক

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দুর্দান্ত ভূমিকা রাখা এই নারীকে বলা হয় ‘হোয়াইট মাউস’ বা সাদা ইঁদুর। ১৯১২ সালে ওয়েলিংটনে জন্ম নেয়া ন্যান্সি শৈশবেই পাড়ি জমান সিডনীতে। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই অবশ্য বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। ক্যারিয়ার শুরু করেন নার্স হিসেবে। তবে নিউ ইয়র্ক আর লন্ডনে ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াতে প্রশিক্ষণ নেন সাংবাদিকতার উপর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর সময়ে তিনি হার্স্ট পত্রিকার ইউরোপিয়ান প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এক ফরাসি শিল্পপতিকে বিয়ের পর সাংবাদিকতাকে বিদায় জানান।১৯৩৩ সালে ভিয়েনায় হিটলারের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন এই নারী গোয়েন্দা। এই প্রতিবেদন তৈরি তাকে নারী গোয়েন্দা হিসেবে নাজি বাহিনীর কাছে সহজে পৌঁছার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। সেই সুযোগ বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগান তিনি। বিয়ের পর যোগ দেন ফ্রান্স রেজিস্ট্যান্সের গেরিলা বাহিনী মাকিসে। গোপন তথ্য সংগ্রহে হঠাৎই ধরা পড়েন তিনি। ১৯৪০ সালের ডিসেম্বরে জার্মানদের হাতে ধরা পড়েন। অবাক করা ব্যাপার হলো—সেখান থেকেও ছাড়া পেয়ে লন্ডনে যান ন্যান্সি। যোগ দেন ব্রিটেনের স্পেশাল অপারেশনস এক্সিকিউটিভ (এসওই)-তে। আবারও গোয়েন্দার কাজে মন দেন এই ভয়ঙ্কর নারী।১৯৪২ সালের পর গেস্টাপো বাহিনীর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার শীর্ষে ছিলেন ন্যান্সি ওয়েক। তাকে হত্যা করার জন্য উঠেপড়ে লাগে পুরো এলিট ফোর্স। এমনকি তার মাথার দাম ঘোষণা করা হয় ৫০ লাখ ফ্রাঙ্ক। ন্যান্সির হদিস না বলার জন্য তার স্বামীকে খুন করে গেস্টাপো। পরে ব্রিটিশ বিমান মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা বিভাগে চাকরি নেন ন্যান্সি। ২০১১ সালের ৭ আগস্ট ৯৮ বছর বয়সে মারা যান এই দুঃসাহসী নারী গোয়েন্দা।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত