| 23 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
খবরিয়া

রকি পর্বতমালায় মিলেছে সত্যিকারের গুপ্তধন

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

গুপ্তধনের সন্ধান। উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতমালায় মিলেছে সত্যিকারের গুপ্তধন। আর তা উদ্ধারের কাহিনি সত্যিই কোনও সিনেমার প্লটকেও হার মানাতে পারে। প্রায় ১০ বছর ধরে খোঁজ চালানোর পর অবশেষে রকি মাউন্টেনে পাওয়া গেল গুপ্তধন। এতে রয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ ডলারের স্বর্ণমুদ্রা, গয়না, চোখ ধাঁধানো সব সম্পদ। ১০ বছর আগে এই বিপুল সম্পদ লুকিয়ে ছিলেন ফরেস্ট ফেন নামে একজন। দশবছরে কেউ তা খুঁজে পাননি। পেলেন এতদিন বাদে।

দু’বছর আগে ফরেস্ট ফেন নামে এক বৃদ্ধ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রকি মাউন্টেনে গুপ্তধন থাকার। তিনি নাকি খেয়ালের বশে সেখানে পুঁতে রেখেছেন স্বর্ণ মুদ্রা ও মূল্যবান জিনিস ভর্তি সিন্দুকও। ৮৯ বছরের ফেন ভিয়েতনামের যুদ্ধে বিমানচালক ছিলেন। নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে ও কানাডার সীমান্তের কাছে হাজার মাইল দূরত্বের মধ্যেই রকি পর্বতমালায় রয়েছে এই গুপ্তধন। ২০১০ সালে এখানেই গু্প্তধন রেখেছেন, এমনটাই দাবি ছিল আর্ট ডিলার ফেনের।

শেষ পর্যন্ত তাঁর কথা সত্যি হল। রবিবার নিজের ওয়েবসাইটে সেই গুপ্তধন খুঁজে পাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন ফেন। যদিও কে সেই গুপ্তধন খুঁজে বের করলেন তাঁর নাম জানাননি ফেন। শুধু জানিয়েছেন, তাঁর লেখা কবিতার সূত্র ধরেই রকি পর্বতমালার বুকে উদ্ধার হয়েছে সোনা-রুপো-মণি-মাণিক্য। যিনি তা খুঁজে বের করেছেন, তিনি নিজেও মিডিয়াকে নাম জানাতে চান না নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে।

ওই ব্যক্তি ফেনকে সমস্ত উদ্ধার হওয়া ধনের ছবি তুলে পাঠিয়েছেন। তা দেখেই গুপ্তধন উদ্ধারের কথা ঘোষণা করেছেন ফেন। ২০১০ সালে নিজের বায়োগ্রাফি ‘দ্য থ্রিল অফ দ্য চেস’-এ ২৪ লাইনের একটি কবিতা লিখেছিলেন। সেই কবিতার মধ্যেই ছিল এই গুপ্তধন উদ্ধারের রহস্য সমাধানের ইঙ্গিত। ফেন জানিয়েছেন, মোটামুটি সাড়ে তিন লক্ষের বেশি মানুষ এই গু্প্তধনের সন্ধানে ঘুরছেন। শেষ পর্যন্ত তা খুঁজে পাওয়া গলে। উদ্ধারকারীকে তিনি শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।

২০১৬ সালে ফেন জানিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী শুধু জানেন রকি পর্বতের কোন দিকে রয়েছে এই গুপ্তধন। তিনি মারা গেলে তাঁর সঙ্গে সঙ্গেই গু্প্তধনও প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাবে। উদ্ধার হওয়া গুপ্তধনে থাকার কথা, সোনার বল, ৩০০ বছরের পুরনো সোনা ও রুপোর বাক্স। এছাড়াও রয়েছে প্রাচীন আমলের সোনার আয়না, যা পাঁচ ইঞ্চি পুরু তো হবেই। এছাড়াও নাকি রয়েছে দামি দামি গয়না, অ্যান্টিক গোল্ডের তৈরি ড্রাগন ব্রেসলেট, হিরে, পান্না, চুনী, স্যাফায়ার স্টোন, ৬ টা এমারেল্ড। ১৯৮৮ সালে যখন তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে, তখন তিনি ভেবেছিলেন বাক্স ভর্তি গুপ্তধনের মাঝেই তাঁকে সমাধিস্থ করা হবে। কিন্তু তিনি ক্যানসারের মতো মারণ রোগ জয় করে আবারও রহস্য গড়ে তোলার উৎসাহ ফিরে পান।

নিজের বাড়িতেও প্রত্নতত্বের সংগ্রহশালা রয়েছে ফেনের। একটা সময় মদ আর অসংখ্য ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার কথাও নাকি ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্যান্সার জয় করে নতুন উদ্যমে নিজের বিপুল ধন সম্পদ লুকিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করতে থাকেন তিনি। তিনি বলেছেন, কেউ যদি এই রত্নভাণ্ডার খুঁজে না পায়, তবুও ব্রোঞ্জের এই সিন্দুক শতাব্দী ধরে তার ধনসম্পদকে রক্ষা করত। অনেকেই তাঁর গু্প্তধন খোঁজার জন্য চাকরি ছেড়েছেন। চার জন মারাও গিয়েছেন গু্প্তধনের সন্ধান করতে গিয়ে, বলছে সংবাদ সংস্থা।

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত