| 23 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
খবরিয়া

ফের সেনা শাসনের আশঙ্কা পাকিস্তানে

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট
করোনা পরিস্থিতিতে গত দু মাস ধরেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত মিলছিল। সেই ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হয়েছে যখন ইমরান প্রশাসনের কাছ থেকে বিমান মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ পরিষেবা, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ সহ ১২ টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও দফতরের দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছেন সেনা আধিকারিকরা৷ সূূত্রের খবর, নামেই গণতান্ত্রিক সরকার চলছে, পর্দার আড়াল থেকে আসলে সবটাই নিয়ন্ত্রণ করছে পাক সেনা জেনারেলরা।
১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের প্রথম রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা থেকে শুরু করে ১৯৯৯ সালে পারভেজ মুশারফ সরকারকে গদিচ্যুত করা, পাকিস্তানের অতীত ইতিহাস জানান দিচ্ছে স্বাধীনতার পর থেকে যখনই সে দেশের শাসনভার সেনা দখল করেছে তখন এই কায়দাতেই তারা এগিয়েছে। সে দেশে সেনা সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান৷ গত ৭ দশকে একটা বিরাট সময় পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতা সেনার হাতে ছিল৷
তবে এবার সেনা শাসনের ক্ষেত্রে পথটা সুগম করে দিয়েছেন খোদ ইমরানই। কারণ, ভেঙে পড়া পাক অর্থনৈতিক কাঠামোকে ঘুরে দাঁড় করানো ও দুর্নীতি মুক্ত পাকিস্তান গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন ইমরান খান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হয়ে সেরকম কিছুই করে দেখাতে পারেননি তিনি। উল্টে চলমান করোনা পরিস্থিতি সে দেশের অর্থনীতি আরও খারাপ অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছে৷
ওষুধ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশ ছোঁয়া হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যেই ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উঠছে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ৷ করোনা মোকাবিলায় সে যে ব্যার্থ তাও পরিস্কার। আর তার ফলে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জনপ্রিয়তাও তলানিতে ঠেকেছে৷ তাই দু’বছর আগে সেনার সমর্থনেই ক্ষমতায় এলেও পরিস্থিতি বিচার করে ইমরান খানের নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখতে পারছে না সেনাই৷
পাক সংসদে ৪৬ শতাংশ আসন রয়েছে ইমরান খানের তেহরিক ই ইনসাফ পার্টির৷ এছাড়াও বেশ কিছু ছোট দলেরও সমর্থন রয়েছে৷ কিন্তু সেনা ক্ষমতা দখল করলে এই সংসদীয় গণতন্ত্র অতীতের মতোই তুচ্ছ হয়ে যাবে।
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সম্প্রতি এই বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছে। ওই সংবাদমাধ্যম দেখিয়েছে যে কিভাবে ক্রমশ সেনাবাহিনীর দখলে চলে যেতে বসেছে পাকিস্তানের প্রশাসন। এছাড়া বর্তমানে পাকিস্তানের করোনা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় দেখা যাচ্ছে সহযোগিতা করছেন আর্মি অফিসারের। শুধু তাই নয় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল অসীম সালিম বর্তমানে ইমরান খানের কমিউনিকেশন এডভাইজার। আর এসব থেকেই ইঙ্গিত ক্রমশ যেন স্পষ্ট হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত