অক্সফোর্ডের স্নাতক হলেন মালালা

পাক তালিবানরা কখনও চায়নি মেয়েরা ঘরের বাইরে বেরিয়ে স্কুলে পড়াশোনা করুক। তাই স্কুলমুখী তেরোর কিশোরীকে মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে সবক শেখাতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু, বিধি বাম। মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে, সব প্রতিকূলতাকে তুড়ি মেরে, নারীশিক্ষার প্রসারে সরব হয়েছিলেন। সেই মালালা ইউসুফজাই (malala yousafzai) বাইশে পৌঁছে অক্সফোর্ডের (Oxford University) গ্র্যাজুয়েট (Graduates) হলেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি মার্গারেট হল থেকে রাজনীতি, দর্শন এবং অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকের পড়াশোনা পর্ব সম্পন্ন করেছেন বলে মালালা নিজেই শুক্রবার ট্যুইট করে জানিয়েছেন।

২০১২-এর ৯ অক্টোবর তালিবান জঙ্গিরা মালালা ইউসুফজাইয়ের মাথা লক্ষ্য করে গুলি করেছিল। মালালা তখন মোটে তেরো। পিঠে স্কুলের ব্যাগ ঝুলিয়ে স্কুলের পথে রওনা দিয়েছিলেন। রক্ষণশীল তালিবানদের তা পছন্দ হয়নি। গুলি বিঁধেছিল মাথায়। আন্তর্জাতিক দুনিয়া ফলাও করে ছাপে সেই খবর। প্রচারের আলো এসে পড়ে কিশোরী কন্যার উপর। বর্বরোচিত হামলায় সর্বত্র নিন্দার ঝড় ওঠে।

তার পর একটানা ৪৯ দিন ধরে কঠিন এক লড়াই। চিকিত্‍‌‍সার জন্য পাকিস্তান থেকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ব্রিটেনের হাসপাতালে। শেষপর্যন্ত জীবনযুদ্ধে জয়ী হন এই অসম সাহসিনি পাককন্যা।

তবে জঙ্গি হামলা দমাতে পারেনি আত্মপ্রত্যয়ী এই তরুণীকে। ব্রিটেনে থেকেই শুরু হয় নব উদ্যোমে লড়াই। একটা সময় ভর্তি হন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। দীর্ঘপথ পরিক্রমার পর, স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে, নারীশিক্ষার বিরোধী তালিবানদের উপযুক্ত জবাব দিলেন এই পাককন্যা।

নারী শিক্ষার বিস্তারে মালালার (Pakistani activist) গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে ২০১৪ সালে তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে (Nobel Peace Prize) সম্মানিত করা হয়েছে। মালালার আগে আর কেউ অত কম বয়সে নোবেল পাননি।

স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর শুক্রবার ঘনিষ্ঠবৃত্তে ঘরোয়া ভাবে কেক কেটে উদ্‌যাপন করেন মালালা। সেই ছবি ১৯ জুন ট্যুইটারে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘দর্শন, রাজনীতি এবং অর্থনীতির উপর ডিগ্রি শেষ করলাম। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সামনে কী আছে জানি না। এই মুহূর্তে নেটফ্লিক্স,পড়া আর ঘুম নিয়েই আছি।

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত