আজই পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে রাক্ষুসে গ্রহাণু

বিপদের ওপর বিপদ। একদিকে করোনাভাইরাসের হামলায় যখন প্রায় বিপর্যস্ত মানব সভ্য়তা, তখন একের পর এক গ্রহাণু ছুটে আসছে পৃথিবীকে লক্ষ্য করে। শুক্রবারই পৃথিবীকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসছে এরকমই একটি বিশালাকার গ্রহাণু। এই বিষয়ে ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে নাসা। এই গ্রহাণুটি পৃথিবীর এত কাছ দিয়ে যাবে যে তাকে ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সূত্রে খবর, শুক্রবার যে গ্রহাণুটি এগিয়ে আসছে তা আয়তনে বিশালাকার। এমনকী লন্ডন আইয়ের চেয়েও দেড়গুণ বড় এই গ্রহাণু। বিজ্ঞানীরা এই গ্রহাণুর আগমনকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে করছেন। লম্বায় ১৭০ মিটারের অতিকায় গ্রহাণু পৃথিবীর ০.০৩৪ অ্যাস্ট্রনমিক্যাল ইউনিট (এইউ) দূরত্বের মধ্যে চলে আসবে। এক এইউ (১৪৯,৫৯৮,০০০ কিমি) পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে দূরত্বের সমান। আরও মারাত্মক তথ্য হল, গ্রহাণুটির গতিবেগ ঘন্টায় ৪৮ হাজার কিলোমিটার। তবে নাসার বিজ্ঞানীরা একথা জানিয়ে আশ্বস্ত করেছেন, পৃথিবীর কান ঘেষে পার করে যাবে গ্রহাণুটি।

লন্ডন আইয়ের চেয়েও বড় এই গ্রহাণুর নাম দেওয়া হয়েছে Asteroid 2020ND। প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীকে লক্ষ্যে করে ছুটে আসছে এটি। তবে পৃথিবী থেকে নিরাপদ দূরত্ব দিয়েই এটি পেরিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এ পেরিয়ে গেলেও বিপদ পিছু ছাড়ছে না পৃথিবীর। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অন্তর্গত নাসার জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরি জানিয়েছে যে বিভিন্ন আকারের আরও ৪৮টি গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। পৃথিবীর খুব কাছ দিয়েই গ্রহাণুগুলি যাবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

গ্রহাণু ও ধূমকেতু মতো যে সব মহাজাগতিক বস্তু পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে সেগুলিকে নিয়ার আর্থ অবজেক্টস (Near-Earth objects) বা এনইও বলা হয়। এই এনইওগুলি সাধারণত জল থেকে পরিণত বরফ এবং ঘন সন্নিবিষ্ট ধূলিকণা দিয়ে তৈরি হয়। সূর্যের কক্ষপথে প্রবেশ করার সঙ্গে এরা পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসতে থাকে।

এই মাসেই আরও তিনটি গ্রহাণু পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে নাসা। এর মধ্যে একটি পৃথিবীর পাশ দিয়ে যাবে আগামী ২৯ জুলাই এবং আগামী ৩১ জুলাই পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসবে আরও একটি গ্রহাণু। জুন মাসে পৃথিবীকে লক্ষ্য করে ছুটে আসে তিনটি গ্রহাণু। ৬ জুন, ৮ জুন এবং ২৪ জুন পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে তিনটি গ্রহাণু যায়।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত