জুয়েল মাজহারের অনুবাদে এলিয়ট


আজ ১৩ জুন নোবেলজয়ী (১৯২৩) আইরিশ সাহিত্যিক উইলিয়াম বাটলার এলিয়টের শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবারের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

‘চৈতন্য’ থেকে প্রকাশিত কবি জুয়েল মাজহারের ‘দূরের হাওয়া ‘নামে অনুবাদ-কবিতার বই থেকে পাঠকদের জন্য উইলিয়াম বাটলার এলিয়টের দুটি কবিতা এখানে ছাপা হলো।


উইলিয়াম বাটলার এলিয়ট (William Butler Yeats)

(১৩ জুন ১৮৬৫—২৮ জানুয়ারি ১৯৩৯)


দ্বিতীয়াগমন
[The Second Coming]
.

ক্রমায়ত চক্রতে অবিরাম খেয়ে খেয়ে পাক
শুনতে পায় না বাজ মনিবের ডাক;
ধসে পড়ে সবকিছু, কেন্দ্র পারে না আগলাতে,
নিখিল নৈরাজ্য এক আরূঢ় হয়েছে পৃথিবীতে;
রুধির-মলিন ঢেউ ভেঙেছে অর্গল, আর
সারল্যের নান্দীপাঠ ডোবে দিকে দিকে;
শ্রেষ্ঠরা প্রতিজ্ঞাহীন বিলকুল, আর নিকৃষ্টজনেরা
আতীব্র উল্লাসে বেসামাল।

নিশ্চয় আসন্ন কোনো পুনরুন্মোচন
নিশ্চয় আসন্ন সেই দ্বিতীয়াগমন
দ্বিতীয়াগমন আহা! কথাগুলি বলতে-না-বলতেই
জগতের মর্মবিদারী এক মূর্তি আলিশান,
আমার দৃষ্টিকে সে করছে পীড়ন; মরুবালু-জঞ্জাল এক খরসান;
এক অবয়ব, যার দেহটা সিংহের আর মুণ্ডু মানুষের,
সূর্যের মতো সেই চাহনিটা ফাঁকা, নির্মম;
চলেছে মন্থর-ধীর ঊরু টেনে টেনে, আর তাকে ঘিরে
ক্রুদ্ধ মরুপক্ষীদের ছায়াগুলি অবিশ্রাম মারছে চক্কর।
ঘনায় আঁধার ফের, তবু আমি জেনেছি এবার
পাষাণ-নিদ্রায় মগ্ন সুদীর্ঘ কুড়ি শতকেরে
দুঃস্বপ্নে করেছে তাড়িত এক দোদুল দোলনা,
আর কত কদর্য সেই জানোয়ার, অবশেষে যার অন্তিম মুহূর্ত সমাগত,
পা হড়্‌কে চলেছে সে বেথ্‌লেহেমে জন্ম নেবে বলে?

 

সুরাপানের গান
[A Drinking Song]
.

সুরা আসে মুখে
আর প্রেম আসে চোখে;
জরা ও মরণ ঘনাবার প্রাক্কালে
এটুকুই শুধু জানবো সত্য বলে।
তুলে ধরি মুখে সুরার পাত্রখানি,
তোমাকে দেখি, আর হু-হু শ্বাস টানি।

 

 

 

.

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত