জিললুর রহমান-এর তিনটি কবিতা

জতুগৃহে যারা জ্বলে

জতুগৃহে যারা জ্বলে, খাণ্ডবদাহন ছলে
জ্বলন্ত অঙ্গার কারা সদন্ত দণ্ডক বনে
এখন আষাঢ় নয় শ্রাবণ আশ্বিনও নয়
ঈষানের কোণে ঘন কালো মেঘ তবু বয়

গৃহকোণে পড়ে থাকা পোড়ানো মাংশের ঘ্রাণ
পড়ে থাকে কাষ্ঠ লাশ মাতা ও সন্তান
পাণ্ডবেরা পলাতক মাতা কুন্তী নির্বাসিতা
আত্মরক্ষা ন্যায়ধর্ম নীতিকর্ম যথা

পোড়াদেহ পড়ে থাকা লাশের বিচার তবে
বলো কৃষ্ণ বলো পার্থ মহাভীম এই কলরবে
নিষাদের কী জবাব দেবে কী উত্তর কীলকের প্রতি
কী হেতু নিশ্চিহ্ণ ছারখার অনর্থক ব্যর্থ আত্মাহুতি

ভবিষ্যৎ প্রাণভয়ে আত্মরক্ষা কৃৎ কী কৌশলে
হত্যা যদি করা যায় পাণ্ডবেরে বাঁচানোর তালে
ধরে নাও ন্যায়নীতি সুবিধাভোগীর জন্যে
স্বর্গলোকে বিরচিত তবে — বিজন দণ্ডকারণ্যে

এসবের কী বিচার কীবা প্রতিকার কীলকের প্রতি
নির্জ্ঞান নির্বাণে বুঝি স্বর্গে ধায় ধর্মপুত্র মহামতি

আগুন

হাড়িসরদার বাজারের ইটভাটাগুলো সব জ্বলছে
দমকে দমকে লাফিয়ে উঠছে পুড়ে যায় কাদা তাল তাল
আগুন কোথাও হলুদ কখনো কালোধোঁয়াটার রূপ নেয়

ভেতরের যত মামদোর ভূত আত্মার জটা খুলছে
ঘাসিগ্রাম থেকে লালবাগ থেকে জোড় কাননের সুনামে
উল্লাসে মরে ডাইনি কাহিনী ধনাইতরীতে রাত্রে

শুয়াগাজি পুড়ে মাটির নরম হৃদয়ের মোম লালচে
চৌধুরীভিলা সেবাসদনের ভুতগুলো বড় মনোরম
পদুয়াবাজার মাত করে লাল আগুনের শিখা গনগন

রক্তকণার মহা উল্লাসে ধমনী শিরারা
টগবগে বাঁকে কী যে ফূর্তিতে টলমল
মহাসড়কের আলোআঁধারিতে গলিঘুপচিতে কাতরায়
ধুকে ধুকে মরা ঘাসবিচালির অবশেষ যত যাতনা
মাস্টার পাড়া বিপনি বিতানে ইটভাটা যেন জ্বলছে

কতকাল ধরে জ্বলে জ্বলে সেই মানবের মহাস্রোত
মহাকাল থেকে মহাবিশ্বের লাভা ছোটে দিকে বিদিকে
জ্বলছে সূর্য তারকার সারি জ্বলে হোমশিখা ধূম্র
অন্তরজ্বালা জ্বালে ছারখার যত ঘরদোর সংসার
সাজানো বাসর পুড়ে ছাই হয় ফের আগুনেই সৃষ্টি

অনাদিকালের সকল আগুন মহাবিশ্বেতে ছড়িয়ে
নবনির্মাণে অগ্নিশিখারা প্রয়োজনে জেগে উঠছে

ঘর

এঘর ওঘর পাল্টে পাল্টে
যেঘর যাবার প্রস্তুতি নিই
সেঘর আমার কাঙ্ক্ষিত না
যেঘর আলোর বন্যা বহে
কলরব আর কোলাহলের
সেঘর আমার খুব আদরের
তবু সে ঘর প্রতি সাঁঝে
মগজ জুড়ে যে যন্ত্রণা
দু:সহ সব আঁকছে ছবি
হিম শীতলের অথর্বতা
সেঘর সবাই একা পথিক
নিয়তি কী কঠোর কঠিন
যাত্রা তবু যখন সময়
এদিক ওদিক নয় তাকাবার

.

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত