কবির মৃত্যু হল
কবির মৃত্যু হলে সাঁতার ভুলে থাকা কিছু অনাবিল হাঁস শতাব্দীর ক্লান্তি ঝেড়ে ঠোঁট বাড়ায় প্রত্যুষে; শেষ রাতে খসে পড়া কয়’টি তারা ছাই-ভস্ম হয়ে জীব জগতের অভেদ্য খাদ্য শৃঙ্খলে মিশে যায়; লতাগুল্ম ভেজা মাটি আর সারস মুখা গহবরে রটে যায় এই খবর; জলের গভীরে থাকা পোনারা ভাবে ‘হাঁসের ঠোঁটের গড়ন এমন অজাগতিক কেন’—ঠোঁট যেন বিস্তৃত সমতল, তার প্রতি ভাজে থাকে ছাই মাখা এমন মায়াবী জলাশয়।
হাঁসের উপমা খসে পড়া তারার চেয়ে অনুগত বাস্তব, যেমন কবির মৃত্যু হাঁসের ঠোঁটের চেয়ে সমতল আক্ষেপ। কবির মৃত্যু হলে কি করে থেকে যায় এই চৈত্রের সংসার।
নয় দূরে কোথাও
রক্ত মাংসে ভিড় করা সুখ ,যাকে আদর করে ভালোবাসা ডাক—সেওতো ক্ষণিক সেওতো সহজ—যেমন ফেলে আসা পথের চিহ্ন মুছে নির্ভুল পথ চেনে আয়ু ;বুকের বাঁ পাশ ঘুরে শিরার উপপথে তরঙ্গে তরঙ্গে ঘূর্ণন;
কাব্যে—নন্দনে—অমরতায়—আবেগে ,যাকে তুমি মায়ার ছলনা বল—সেও বুড়ো হয়—আমাদের প্রাণময় স্পর্শের উষ্ণতার মতো, হয় ভিজে অস্তিত্বহীন -অবয়বহীন; থেমে গেলে সংগীত—নদীও পেরুনো যায়— বেড়ে যায় পরিচয়ের দেনা ,যেমন মাটির গন্ধে বেড়ে ওঠে ফসলের ঋণ;
মুক্ত হও—নিজেকে ভেঙ্গে দেখো হাওয়া ঘর ,জানবে সবকিছু—পরাজয় লিপি, যেমন পতঙ্গ জেনে যায় সুগন্ধের গোপন সংসার, জানবে কি করে মিশে যায় গোপন দ্রবণ—ফাল্গুনে পাখিদের ডানায়; যাতে ভুল করে হৃদয় পাথর না ভালোবেসে ফেলে।
ও ফেরিওয়ালা
রাতের অসুখ হলে আকাশের গায়ে র্যাশ হয়,
তারারা ব্যাথায় কাতরায়, অন্ধকার
গুড়ো গুড়ো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে ছায়ায়
আঠালো এক প্রলাপ কেবল ঘর ছাড়া বিড়ালের
মতো এ বাড়ি ও বাড়ি,
বলে দিও ফেরিওয়ালা
এমন অনেক মুমূর্ষ রাত জেগে আছে
রাতজাগা মানুষের মনে
তারারা সেখানে দিশেহারা
চাদের মুখ ম্লান
জোনাকিরা মরে শেষ
সারাক্ষণ চলছে যেন চন্দ্রগ্রহণ;
মানুষের কথাগুলো অন্ধকারের মতো নিঃশব্দে
উড়ে যাচ্ছে হাওয়ায়।

জাহিদুর রহিম,
জন্ম ১৭ ডিসেম্বর ১৯৮৬; রংপুর।
জনস্বাস্থ্যে স্নাতকোত্তর। বর্তমানে জনস্বাস্থ্য নিয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত।
প্রকাশিত বই : কবিতা— সুন্দর দাঁড়িয়ে আছে নিঃসঙ্গ [ম প্রকাশনী, ২০১৫] প্রবন্ধ— কথারা আমার মন [বেঙ্গল পাবলিকেশন, ২০১৮]
ই-মেইল : [email protected]