জাহিদুর রহিমের একগুচ্ছ কবিতা

Reading Time: < 1 minute  কবির মৃত্যু হল কবির মৃত্যু হলে সাঁতার ভুলে থাকা কিছু অনাবিল হাঁস শতাব্দীর ক্লান্তি ঝেড়ে ঠোঁট বাড়ায় প্রত্যুষে; শেষ রাতে খসে পড়া কয়’টি তারা ছাই-ভস্ম হয়ে জীব জগতের অভেদ্য খাদ্য শৃঙ্খলে মিশে যায়; লতাগুল্ম ভেজা মাটি আর সারস মুখা গহবরে রটে যায় এই খবর; জলের গভীরে থাকা পোনারা ভাবে ‘হাঁসের ঠোঁটের গড়ন এমন অজাগতিক কেন’ঠোঁট যেন বিস্তৃত সমতল, তার প্রতি ভাজে থাকে ছাই মাখা এমন মায়াবী জলাশয়। হাঁসের উপমা খসে পড়া তারার চেয়ে অনুগত বাস্তব, যেমন কবির মৃত্যু হাঁসের ঠোঁটের চেয়ে সমতল আক্ষেপ। কবির মৃত্যু হলে কি করে থেকে যায় এই চৈত্রের সংসার।   নয় দূরে কোথাও রক্ত মাংসে ভিড় করা সুখ ,যাকে আদর করে ভালোবাসা ডাকসেওতো ক্ষণিক সেওতো সহজযেমন ফেলে আসা পথের চিহ্ন মুছে নির্ভুল পথ চেনে আয়ু ;বুকের বাঁ পাশ ঘুরে শিরার উপপথে তরঙ্গে তরঙ্গে ঘূর্ণন; কাব্যেনন্দনেঅমরতায়আবেগে ,যাকে তুমি মায়ার ছলনা বলসেও বুড়ো হয়আমাদের প্রাণময় স্পর্শের উষ্ণতার মতো, হয় ভিজে অস্তিত্বহীন -অবয়বহীন; থেমে গেলে সংগীতনদীও পেরুনো যায় বেড়ে যায় পরিচয়ের দেনা ,যেমন মাটির গন্ধে বেড়ে ওঠে ফসলের ঋণ; মুক্ত হওনিজেকে ভেঙ্গে দেখো হাওয়া ঘর ,জানবে সবকিছুপরাজয় লিপি, যেমন পতঙ্গ জেনে যায় সুগন্ধের গোপন সংসার, জানবে কি করে মিশে যায় গোপন দ্রবণফাল্গুনে পাখিদের ডানায়; যাতে ভুল করে হৃদয় পাথর না ভালোবেসে ফেলে।       ও ফেরিওয়ালা রাতের অসুখ হলে আকাশের গায়ে র‍্যাশ হয়, তারারা ব্যাথায় কাতরায়, অন্ধকার গুড়ো গুড়ো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে ছায়ায় আঠালো এক প্রলাপ কেবল ঘর ছাড়া বিড়ালের মতো এ বাড়ি ও বাড়ি, বলে দিও ফেরিওয়ালা এমন অনেক মুমূর্ষ রাত জেগে আছে রাতজাগা মানুষের মনে তারারা সেখানে দিশেহারা চাদের মুখ ম্লান জোনাকিরা মরে শেষ সারাক্ষণ চলছে যেন চন্দ্রগ্রহণ; মানুষের কথাগুলো অন্ধকারের মতো নিঃশব্দে উড়ে যাচ্ছে হাওয়ায়।  

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>