এক সময়ের বিশ্বসেরা খেলোয়াড় লুইজ ফিগো খেলতেন পর্তুগালে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ফর্মের তুঙ্গে থাকলেও ২০১০ বিশ্বকাপে পর্তুগাল শেষ ষোলোয় বিদায় নেয়। ব্রাজিল বিশ্বকাপে রোনালদোরা গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। রাশিয়া বিশ্বকাপে ইউরো চ্যাম্পিয়নের দম্ভ নিয়ে গিয়েছিলেন রোনালদোরা। অথচ থামতে হয় শেষ ষোলোয়।
শুধু যে এক-দুজন বিশ্বসেরা ফুটবলার থাকলে বিশ্বকাপ জেতা যায় না পর্তুগাল তার ভালো উদাহরণ। দলটির সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার রুবেন দিয়াজ ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দলের সকলের শক্তির জায়গাটা বুঝতে হবে। সেটার ঠিকঠাক ব্যবহার করতে হবে। তবেই জেতা যাবে বিশ্বকাপ। সাক্ষাৎকারের মূল অংশ তুলে ধরা হলো:
ফিফা: আপনার প্রথম বিশ্বকাপের চার বছর পেরিয়ে গেল। এবার কাতারে যে দিয়াজ যাচ্ছে তার মধ্যে পার্থক্য কী দেখছেন?
রুবেন দিয়াজ: বিশ্বকাপের মতো আসরে সফল হতে হলে সর্বপ্রথম আপনার শক্তিশালী একটা দল থাকতে হবে। আপনার দলে ব্যক্তিগত শক্তির জায়গা থেকে সেরা সব ফুটবলার থাকতে পারে। কিন্তু দল হিসেবে কতটা শক্তিশালী এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটা এমন এক প্রতিযোগিতা যেখানে পুরো দেশ আপনার পেছনে আছে, এইটা বুঝতে হবে। ২০১৮ বিশ্বকাপে আমি ওটাই শিখেছিলাম। বিশেষ এক মুহূর্ত। অনুভূত হওয়া সেরা মুহূর্ত। এবার আমি কিছুটা অভিজ্ঞ হয়েছি। এসব আসরে দেশ সম্মিলিতভাবে সমর্থন দিলে বাড়তি শক্তি পাওয়া যায়।
ফিফা: এটাকে পর্তুগালের সবচেয়ে প্রতিভাবান প্রজন্ম বলা হচ্ছে। সম্প্রতি আপনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দলগতভাবে কাজ করার সেরা উপায় খুঁজে বের করতে হবে। ওই উপায়ই কি পর্তুগালকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে পারে?
রুবেন দিয়াজ: কোন সন্দেহ নেই। আমি এই বিষয়ে সৎ, আমি মনে করি এটাই বিশ্বকাপ জয়ের গোপন তত্ত্ব। সন্দেহ নেই যে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও দক্ষতা পার্থক্য গড়ে দেয়। কিন্তু দিন শেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের প্রত্যেকের সামর্থ্য, দক্ষতা একটার সঙ্গে আরেকটা জুড়তে পারা এবং একসঙ্গে খেলতে পারা। দিন শেষ এটাই মূল পার্থক্য তৈরি গড়ে দেয়। আপনার হাতে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় থাকতে পারে, কিন্তু প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা বের করতে না পারলে দল হিসেবে আপনি ঠিকঠাক এগোতে পারবেন না। তখন অন্যরা আপনার দলটাকে সাধারণ হিসেবেই দেখবে।
ফিফা: আপনাদের কোচ ফার্নান্দো সান্তোস কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে বলেছেন, পর্তুগালের সেরাটা সামনে অপেক্ষা করছে। আপনিও কি মনে করেন, পর্তুগালের ২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১৯ উয়েফা নেশনস কাপের মতো প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের ভালো সুযোগ আছে?
রুবেন দিয়াজ: অবশ্যই, এ বিষয়ে কোন প্রশ্নই নেই। আমাদের প্রজন্মটা অনেক প্রতিভাবান ফুটবলারে ভরা। তবে অন্য দলেরও প্রতিভা আছে। প্রতিভাবান দল কেবল আমরা একা নই। আমাদের দলটায় এমন ফুটবলারে ভরা যারা জাতীয় দলের হয়ে এবং ক্লাব পর্যায়ে দারুণ ফর্মে আছেন। এই ফর্মের সর্বোচ্চটা ঘরে তুলতে হবে। আমি আবারও বলবো, এটা কেবল আমাদের পূর্ণশক্তি অনুশীলনে সমন্বয় করার অপেক্ষা।
ফিফা: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পেপে, জোয়াও মতিনহোর এটাই শেষ বিশ্বকাপ। তাদের সুন্দর একটা বিদায় দেওয়ার এটাই শেষ সুযোগ। এটা কি আপনাদের বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে?
রুবেন দিয়াজ: আমি সত্যিই মনে করি, এটা অনুপ্রেরণার বিষয়। বিশ্বকাপ মানেই অনুপ্রেরণা। কিন্তু বাড়তি কোন অনুপ্রেরণার কথা যদি বলেন, অবশ্যই এটা আমাদের আলাদাভাবে উজ্জ্বীবিত করবে। এই তিন ফুটবলার পর্তুগালের এই প্রজন্মের ওপর একটা পরিষ্কার ছাপ রেখেছে। বিশ্ব ফুটবলে তারা নিজেদের আলাদা করে চিনিয়েছেন। তাদের পাওয়া আমাদের জন্য বড় ব্যাপার।
ফিফা: ইউরোপিয়ান ফুটবলের মাঝামাঝি মৌসুমে এবারই প্রথম বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। একেবারেই কাছে চলে এসেছে আসর। শারীরিক এবং মানসিকভাবে কেমন অনুভব করছেন?
রুবেন দিয়াজ: আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। কী হতে যাচ্ছে আগে থেকে বলার কোন উপায়ই নেই। কিন্তু আপনি যখন মৌসুমের শেষে বিশ্বকাপ বা ইউরো খেলবেন শারীরিকভাবে সেরা পর্যায়ে থাকবেন না। অনেক ম্যাচ বা প্রতিযোগিতা থাকে যা শারীরিক এবং মানসিকভাবে আপনার সেরাটা নিয়ে নেবে। সেজন্য যে দলগুলো শারীরিকভাবে শক্তিশালী হয়ে আসরে আসে তারা সুবিধা পায়।
মজার বিষয় হলো, এবারের আসরটি এমন সময়ে হচ্ছে যখন খেলোয়াড়রা তাদের সেরা ছন্দে পৌঁছেছে। প্রাক মৌসুমের কটা ম্যাচ, লিগ মৌসুমের কিছু ম্যাচ হয়েছে এবং সকলেই সেরা ছন্দে পৌঁছেছে। জানি না, কাতারের তাপমাত্রা কেমন হবে। ইংল্যান্ডের মতো জায়গা থেকে কাতারে গিয়ে (গরমে) খেলা সহজ হবে না। হয়তো মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে সবকিছু যেভাবে করা হচ্ছে এবং বলা হচ্ছে তাতে ভালো একটা বিশ্বকাপ হবে বলেই মনে করছি।
