অনুবাদ উপন্যাস: সুবালা (পর্ব-৭) । হোমেন বরগোহাঞি
লেখক পরিচিতি-১৯৩২ সনে লখিমপুর জেলার ঢকুয়াখনায় হোমেন বরগোহাঞির জন্ম হয়। ১৯৫৪ সনে কটন কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যের স্নাতক। সাময়িকভাবে সরকারি চাকরি করে সাহিত্যচর্চা এবং পরবর্তীকালে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। ‘নীলাচল’, ‘জনক্রান্তি’, ‘নাগরিক’,’অসম বাণী’ইত্যাদি কাগজের সম্পাদনা করেন। ‘পিতাপুত্র’ উপন্যাসের জন্য ১৯৭৭ সনে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ‘আত্মানুসন্ধান’,‘বিভিন্ন নরক’,‘সুবালা’, ‘মৎস্য গন্ধা’, ‘সাউদর পুতেকে নাও মেলি যায়’ লেখকের অন্যতম গ্রন্থ। লেখকের ছোটো গল্প উপন্যাস প্রবন্ধ এবং আত্মজীবনী মূলক রচনা অসমিয়া সাহিত্যকে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করে তুলেছে। ১২ মে ২০২১ সনে এই মহান লেখকের মৃত্যু হয়। সুবালা লেখকের প্রথম উপন্যাস।
১২
নরেন যে সত্যিই আসবে সে কথা আমি ভাবতেই পারিনি।মা ভাত রান্না করছিল, আমি কাছে বসে একটা বই পড়ছিলাম।। হঠাৎ বাইরে থেকে কেউ একজন আগে থেকে কিছু না বলে দরজাটা হুড়মড় করে ঠেলে ভেতরে চলে এল। আমরা দুজনেই চমকে উঠলাম। আমি মাথাটা উপর দিকে তুলে দেখলাম, আমার কাছেই উদ্ধত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে নরেন।
সিগারেটের ধোঁয়া নাক মুখ দিয়ে বের করে দিয়ে সে আমাদের হতভম্ব মুখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, কী একেবারে ভূত দেখার মতো চমকে উঠেছ দেখছি। বসতে বলবে না নাকি?
সত্যিই তার কথা শুনে আমার শরীরে চেতনা ফিরে এল। তাড়াতাড়ি করে বসা থেকে উঠে আমি বাইরে থাকা পিঁড়িটা নীরবে তার দিকে এগিয়ে দিলাম।তারপর আমি মাকে মাঝখানে রেখে তার শরীরের আড়ালে নিজেকে যতটা পারি লুকিয়ে দেওয়ালের কাছে জড়োসড়ো হয়ে বসে পড়লাম।
আমরা যে খুব আশ্চর্য হয়েছি, অস্বস্তি অনুভব করছি, সে কথা নরেন যে বুঝতে পারেনি তা নয়। তার মুখে সেই ভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠতে আমি দেখলাম। সে হয়তো আশা করে এসেছিল যে বিকেলের দিকে তার সঙ্গে হওয়া সাক্ষাৎ প্রসঙ্গের কথা আমি মাকে নিশ্চয়ই বলব, ফলে আমাদের বাড়িতে তার এই আকস্মিক আগমন খুব অপ্রত্যাশিত বলে মনে হবে না ।কিন্তু এখন সে নিশ্চয় বুঝতে পেরেছে তার ধারণা ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই সে খুব অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছে। কয়েকটি মুহূর্ত এই অস্বস্তিকর নীরবতার মধ্যে অতিবাহিত হওয়ার পরে সে সহজ হতে চেষ্টা করে বলল, খুড়ি তুমি দেখছি আমার সঙ্গে কথাই বলছ না ।তোমাদের বাড়িতে আসায় খারাপ পেয়েছ নাকি?
‘খারাপ পাব কেন? কিন্তু খুব আশ্চর্য হয়েছি। কোনোদিন না আসা মানুষটা কিসের জন্য হঠাৎ এসে হাজির হল?’
শরীরটা একটু নাড়িয়ে নরেন এবার ভালোভাবে বসে নিল।। মায়ের মুখের একটি কথায় সমগ্র পরিবেশটা যেন বদলে গেল।যা ছিল আশ্চর্য, অস্বাভাবিক, অভাবনীয়, সেই সমস্ত যেন সহজ এবং স্বাভাবিক হয়ে পড়ল। নরেনের মুখে স্বাভাবিক রূপ ফিরে এল, অর্থাৎ সে হয়ে পড়ল নগ্ন নির্লজ্জ এবং বেপরোয়া।অর্থহীনভাবে হো হো শব্দ করে হেসে সে এবার সপ্রতিভ ভাবে বলে উঠল, শুধুমাত্র কথা থাকলেই মানুষ মানুষের বাড়িতে আসে নাকি? আমি এমনিই এসেছি, কী হয়েছে তাতে? আমার ইচ্ছা হলে আমি প্রতিদিনই আসব।কী করবে তুমি তাড়িয়ে দেবে নাকি?’
‘তাড়িয়ে কেন দেব? কিন্তু তুমি আমাদের বাড়িতে প্রতিদিন আসবে, সেটাও বিনা কারণে,এরকম কপাল আমরা নিয়ে আসিনি বাবা। মিথ্যা কথাগুলো বল না। ‘
মা পান সুপারির বাটাটা কাছে টেনে নিয়ে সুপুরি কাটতে লাগল।
নরেনের মুখের দিকে আমি একবারও তাকাইনি, কিন্তু আমি স্পষ্ট অনুভব করলা্ম, মায়ের সঙ্গে কথা বলার মাঝেমধ্যে সে আমার মুখের দিকে ঘনঘন তাকাতে লাগল। বস্তুর স্পর্শের মতো মানুষের চোখের দৃষ্টিও যে ত্বক দিয়ে অনুভব করা যায় সেই অভিজ্ঞতা আমি সেদিনই প্রথম লাভ করলাম। কী উদ্দেশ্যে সে আমাদের বাড়িতে এসেছে সেই কথাটা আমি ভালোভাবে জানি, কিন্তু কতদূর পর্যন্ত সে অগ্রসর হতে পারে সেই কথা আমি মনে মনে চিন্তা করতে লাগলাম।
আরো পড়ুন: সুবালা (পর্ব-৬) । হোমেন বরগোহাঞি
মা পান সুপুরি তার দিকে এগিয়ে দেওয়ায় নরেন বলে উঠল ,‘পানটা এখন রেখে দাও খুড়ি একটু পরে খাব। আগে একটু ওষুধ খেয়ে নিই।’ এই কথা বলে সে কোটের পকেট থেকে মদের বোতল একটা বের করে মাটিতে রাখল। সে যে এতটা করতে পারবে
সে কথা বোধ হয় মা ও ভাবতে পারেনি। তিনি কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ভাবে তার দিকে তাকিয়ে বললেন,‘এইসব তো বাড়িতেও খেতে পারতে।’
‘বাড়িতে বড়ো জঞ্জাল খুড়ি। এই শক্তি কারো সঙ্গে দু-একটা কথা বলতে না পারলে খেয়েছি বলে মনে হয় না। কিন্তু বাড়িতে কার সঙ্গে কথা বলব? আগে যে সমস্ত জায়গায় খেতাম, সেই সব জায়গা আর ভালো লাগেনা, বড়ো গন্ডগোল। তোমাদের বাড়িটা বড়ো নির্জন, সেই জন্য এসেছি। ঠিক করেছি, তুমি যদি খারাপ না পাও, আজ থেকে প্রত্যেকদিনই এখানে আসব। একা খেলে কোনো হইচই হবে না, কেউ জানতেও পারবেনা। ‘
এক সঙ্গে এতগুলি কথা বলে মায়ের মনের প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্য সে কিছুক্ষণ তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। মায়ের মুখটা আমি দেখতে পাচ্ছিলাম না, তাই তার মুখে কী ভাব ফুটে উঠেছিল আমি কিছুই বলতে পারলাম না। যদিও আমি আশা করিনি মে মা নরেনের উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের বাধা দেবে, তথাপি তাকে নীরব হয়ে থাকতে দেখে আমার ভীষণ রাগ হল। আমার সঙ্গে যে মা রাক্ষসের মতো ব্যবহার করে, তিনি যে বাইরের মানুষের সঙ্গে কীভাবে এত মোলায়েম হতে পারে সে কথা নিজের চোখে না দেখলে যেন বিশ্বাসই করা যায় না।
মায়ের মৌনতাকে সম্মতি বলে ধরে নিয়ে নরেন পুনরায় বলে উঠল,কী তরকারি রেঁধেছ খুড়ি, একটু চেখে দেখি। এসবের সঙ্গে একটু ভাজাভুজি না হলে ভালো লাগে না।’
‘ভাজা কোথায় পাব বাপ, সেই সমস্ত জিনিস আমরা সাত জন্মে ও খেতে পাইনি। দুটো আলু ভাতে দিয়েছি, তা দিয়েই আমাদের খাওয়া হবে। তোমাকে এখন কোথা থেকে কী দেব। আলু ভেজে দেবার মতো ঘরে এক ফোঁটা তেল নেই।’
‘আজ প্রথম দিনেই আমি খালি মুখে যেতে পারব না। তুমি একটা কাজ কর খুড়ি। আমি টাকা দিচ্ছি, তুমি জগদীশের দোকান থেকে তেল,আলু,পিঁয়াজ যা যা লাগে এখনই গিয়ে নিয়ে এসো। আর একটি কথা। আমি যখন তোমাদের এখানে এই সমস্ত জিনিস খাওয়া ঠিক করে নিয়েছি, তোমাদের রাতের খাওয়ার খরচটা আমিই দেব। তুমি কেবল যত্ন করে আমাকে রেঁধে দেবে।’
মা হঠাৎ নির্লজ্জভাবে উৎসাহিত হয়ে উঠল—‘খাওয়ার মানুষ পেলে রেঁধে দেওয়ায় অসুবিধা কোথায়। লোকজন কেউ আসে না, বাড়িটা শ্মশানের মতো পড়ে থাকে। কোন ঈশ্বর তোমাকে আজ এখানে পাঠিয়ে দিয়েছে। তুমি কিছুক্ষণের জন্য বসো, আমি এক মুহূর্তের মধ্যে চলে আসব’–কথাটা বলতে বলতে মা যুবতী মেয়ের মতো চঞ্চল পদক্ষেপে এক লাফে বাড়ির গেটের সামনে পৌঁছে গেলেন।
আমি একটুও আশ্চর্য হলাম না। নরেন যে এই পথে এগোবে সে কথা আমি আগেই অনুমান করতে পেরেছিলাম। মায়ের ওপরে নির্ভর করা আমি অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমার নিয়তি সম্পূর্ণ আমার হাতের মুঠোয়। কিন্তু আমি নিজে কার হাতের মধ্যে সে কথা আমার জানতে বাকি ছিল।
‘এটা কি? দেখতো সুবালা’–কাগজে বাঁধা ছোটো একটা পুঁটুলি আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে নরেন বলে উঠল।
আমি পুঁটলিটা ধরার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলাম না, মুখেও কিছু বললাম না। কিন্তু মনে মনে থেকে যে আমি যুদ্ধে জিততে পারব, সে কথাও ভাবিনি। নিশ্চিত পদক্ষেপে, স্থির সংকল্পে একটা হিংস্র পশু আমার দিকে এক পা দু পা করে এগিয়ে আসছে, সে যখন আমার ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়বে, আমি খুব বেশি হলে একটা চিৎকার করতে পারি, কিন্তু তা কেবল মরনাহতের চিৎকার, সে কেবল অরণ্য- রোদন। পশুর আক্রমণে মরণের সময় প্রত্যেকেই এভাবে চিৎকার করে মরে। চিৎকার করে কারও কোনো লাভ হয় না, শিকারির কোনো ক্ষতি হয় না।
‘সুবালা, তুই আর ছোটো মেয়ে নস, তুই সমস্ত কিছু বুঝিস। তোর জন্য একটা ব্লাউজ এনেছি। রেখে দে। আমার কথা মতো চললে তোকে আমি রাজরানীর মত রাখব। না হলে তোর অবস্থাও তোর দিদির মতো হবে, তোর মা একদিন তোকে ও পাঞ্জাবির কাছে বিক্রি করে দেবে।’
‘তোমার কী কথা মতো আমাকে চলতে হবে?’–আমি প্রশ্ন করলাম।
নরেন এবার হো হো করে হেসে উঠল,‘ইস এতক্ষণে নির্বাক কন্যার মুখে কথা ফুটল। নে ব্লাউজটা ধর। আমার কথামতো এভাবে চলতে হবে’–কথাটা বলেই আমার হাত দুটি ধরে সে হঠাৎ টান মেরে দিল।
এই অতর্কিত আক্রমণের জন্য আমি বিন্দুমাত্র প্রস্তুত ছিলাম না। তার হাঁটুতে মুখ রেখে আমি প্রায় মাটিতে পড়ে যাবার মতো হলাম। সঙ্গে সঙ্গে সে দুই হাতে মুখটা জড়িয়ে ধরে আমার ঠোঁটে জোর করে চুমু খেতে লাগল।
আমি জোর করে তাকে ধাক্কা দিয়ে তার বাহুবন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম। প্রথম দিনই সে এতটা এগোবে সে কথা আমি ভাবতেই পারিনি। আমি কী করতে পারি? তাকে গালিগালাজ করে বা অপমান করে আমার কী লাভ? যার জন্মদাতা জননী নিজের সন্তানকে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে, সে সংসারে কার কাছে গিয়ে নারীত্বের অপমান বিষয়ে অভিযোগ করবে?আমি দাঁড়িয়ে দরজাটা খুলে চট করে বাইরে বেরিয়ে গেলাম।
কিছুক্ষণ পরে মা ফিরে এল। আমাকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেও কোনো প্রশ্ন না করে তিনি ভেতরে প্রবেশ করলেন। সঙ্গে সঙ্গে আমি নরেন কে বলতে শুনলাম,’সুবালার কান্ড দেখেছ খুড়ি ? আমি তাকে আদর করে একটা ব্লাউজ দিয়েছিলাম, সে কোথায় খুশি হবে, রাগ করে বাইরে চলে গেল। তুমি বলতো, আমি কী এমন দোষের কাজটা করেছি?’
ফণা ধরা সাপের মতো মা ফোঁসফোঁস করে উঠল, ‘ওর কথা আর বল না। ও আমার পেটের সন্তান নয়, জাত শত্রু। তুমি ব্লাউজটা রেখে যাও, ও পরে কিনা আমি দেখে নেব।’
‘ওর ওপরে তুমি রাগ কর না খুড়ি’–নরেনের কণ্ঠস্বর মমতায় বিগলিত হয়ে এল—’ছোটো মেয়ে, কথা বোঝার এখনও ঢের সময় বাকি।’
কিছুক্ষণ পরে রান্নার শব্দ শোনা যেতে লাগল এবং তার মাঝে মধ্যে মা এবং নরেনের ফিসফিস করে কথা শোনা যেতে লাগল। আমি ওদের কথা শোনার বিন্দুমাত্র আগ্রহ অনুভব করলাম না। দরজার কাছ থেকে সরে গিয়ে ঘরের এক কোণে বারান্দায় বসে পড়লাম। আজকের দিনটা যে আমার জীবন নাটকে একটা নতুন অংকের সূচনা, সে কথা বুঝতে আমার আর বাকি রইল না। কী সেই নাটকের পরিণতি? আমার জন্য ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে? আমার সামনে দুটো পথ খোলা রয়েছে—হয় আমাকে স্রোতে ভেসে যেতে হবে, নতুবা সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। স্রোতে ভেসে যাওয়া মানেই নরেনের কাছে আত্মসমর্পণ করা, আর তার রক্ষিতা হয়ে থাকাকে স্বীকার করে নেওয়া। এই মুহূর্তে মায়ের সঙ্গে তার হয়তো এই ষড়যন্ত্রটাই চলছে। কিন্তু হৃদয়ে যেখানে প্রশ্ন নেই, এবং অর্থের বিনিময়ে একজনের রক্ষিতা হয়ে থাকতে স্বীকার করলে সেই যে জীবনে শেষ মানুষ হবে, তার কি অর্থ আছে? এই পথে আমি একবার এগোলে আমার অবস্থা দিদির চেয়েও বেশি শোচনীয় হবে, কারণ দিদি বিক্রি হয়েছিল মাত্র একজনের হাতে, আমাকে হয়তো হাজার জনের কাছে বিক্রি হতে হবে। কিন্তু বাড়িতে থাকলে এটাই আমার একমাত্র অখন্ডনীয় ভাগ্যলিপি। মা দিদিকে বিক্রি করে পাওয়া এক হাজার টাকা ধীরে ধীরে শেষ হয়ে এসেছে, তিনি এখন আমার জন্যও গ্রাহকের সন্ধান করতে শুরু করেছেন। তার ভাগ্য ভালো, ঠিক সময়ে নরেন উপযাচক হয়ে বাড়িতে ঢুকেছে। আমার পছন্দমত কোনো মানুষ আমাকে বিয়ে করতে এগিয়ে এলেও তিনি যে বিয়ে দেবেন না সে কথাটা তিনি আগেই ঘোষণা করে দিয়েছেন। তাকে অগ্রাহ্য করে আমি নিজেই সেই মানুষের হাত ধরে বাইরে বেরিয়ে যেতাম, যদি ইতিমধ্যে আমার খোঁজে কেউ আসতেন। কিন্তু এখন তো অপেক্ষা করার মতো সময় নেই, কারণ তার আগেই আমার চরম সর্বনাশ ঘটে যাবে। বাড়ি নাকি মানুষের কাছে স্বর্গ, বাড়ির মতো জায়গা আর নেই, বাড়ি মানুষের একমাত্র দুর্ভেদ্য দুর্গ–কিন্তু আমার বাড়িটা দেখে ও মানুষ সেই একই কথা বলতে পারবে কি? এমনই আমার কপাল যে বাড়ি থেকে দূরে পালিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত আমার রক্ষা নেই। কিন্তু পালিয়ে বা আমি কোথায় যাব?
আমি চিন্তায় এত তন্ময় হয়েছিলাম যে, রাত কত হয়েছে সেই খবরই ছিল না। হঠাৎ নরনের কথায় আমার ধ্যান ভাঙল,’সুবালা যা ,যা ভেতরে যা। কতদিন আর বাইরে বসে থেকে রেহাই পাবি। আগামীকাল তোর জন্য একটা পাটের মেখেলা নিয়ে আসব।’

অনুবাদক