আনুমানিক পঠনকাল: 5 মিনিট
শিরোনামহীন
এই যে ভাষাপুল ডিঙিয়ে চলে যাচ্ছি আমরা
এই যে হবিগঞ্জে দেখে ফেলা সেই বাংলার
দাঁড়কাক
বিপন্ন আমার ভাষা।আজ লিলুয়া বাতাসে উড়ে
যায়।
কাঠের বন্দুক যদি শিরোনাম ভাবি
তবে মাঠে মাঠে জ্বলে উঠবে আগুন
আমাদের ভয়ভীতি নেই।পাগলের আলজিভ
থেকে
গড়িয়ে নামে লালা।
মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকা ডাহুক পাখি
শুকিয়ে যাওয়া চোখে জল নেই
আপাতত মুদ্রণপ্রমাদের কথাই বরং ভাবা
যাক
মানুষ পালটে যাবে এটাই স্বাভাবিক
খোলা মাঠে আমরা নামিয়ে দেব গানের
আসর
হিরে বসানো নারীর চোখ,তাকাতে পারি
না
গ্যাস চেম্বারের মধ্যে ঢুকে পড়ছে আমার
দেশ
লোকদেবতার থানে ঢাক বাজে
আমি বেলুনসমেত ঢুকে পড়ি
ঘুড়ি ও লাটাই নিয়ে ঢুকে পড়ি
উড়তে শেখা পাখি আমাকে সাইলেন্স
চেনায়
কেউ কি কান্না মুছে দিতে পারো!
দ্যাখো, পুরোন সার্কাসের হলুদ বাঘ আবার
ফিরতে চাইছে
টানেলে টানেলে হিম ঢুকে পড়ছে
হলদিবাড়ির রাস্তায় শুয়ে থাকছে মস্ত
অজগর
জীবন তো কনসার্ট।
সুপুরির ছায়া জড়িয়ে কেবল
বাজে
আমি ঢিল ছুঁড়ে ফাটিয়ে দেব মাটির
কলসি
জলাধারের ছবি তুলে উপহার পাঠাবো প্রাক্তন
বান্ধবীকে
এই বা-হাতি খালের দেশ
এই গান ও বাথানের দেশ
কাঠের বন্ধুকের গায়ে শ্যাওলা জমলে খুঁজতে
শুরু করি
শিকারকাহিনী।
গোপন গানের মত তুমি ঢুকে পড়েছিলে
জীবনে
প্রলাপ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিলে দিক ও দিগরের
ভিতর
এখন হালকা জঙ্গলে গান শুনতে যাই
গণকবরের পাশে মুখোশ পরে হাঁটি
শিরদাঁড়ায় কেউ বুঝি মরণ ঢুকিয়ে
দিচ্ছে
প্রবেশ কিংবা প্রস্থানের এই জীবন
এখন অবসর ও অবসাদ একসাথেই
আসে
আমাদের নখে সহজ হয়ে ডুবে থাকা
ময়লা
সেদ্ধ ডিম থেকে খসিয়ে দেওয়া
কুসুম
করমর্দন ভালোবাসি কারণ আমার করতল
মসৃণ
ঘোর চলে গেলে ডেকে আনা হবে ঘোড়ার
গাড়ি
এই অনেক রোদের পৃথিবীতে প্লিজ
পাশ কাটিয়ে চলে যেওনা আর
তুমি।
ফ্রেম
ধওলাঝোরার জলে পা ডুবিয়ে আমি দেখি
বৃষ্টিতে ভিজছো তুমি
হাতিপোতার রাস্তা থেকে ভুটান পাহাড়ের গায়ে
ঝুলে থাকা মেঘ দেখা যায়।
লেপার্ড-এর লুকোচুরির গল্প
তোমার জন্য জমিয়ে রেখেছি
তন্ত্রমন্ত্রের ওড়নায় জড়ানো তোমার
মুখ
লালপুল থেকে শুনি কোথাও সাইরেন
বাজছে
তোমাকে
তোমাকে দীর্ঘ কবিতার অংশ বলেই তো মনে
হয়
কখনো খোঁপা বেঁধেছো ছোট
চুলে!
অভিমানগুলি আগুনে পুড়িয়ে দিলেও
আজকাল দায়িত্ব নিয়েই কথা বলি
ভয় নেই,তোমার কণ্ঠার হাড়ে কখনোই ঠোঁট ছোঁয়াতে
চাইবো না
শোকযাত্রার প্রতিবেদন
জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে ভাসিয়ে দিই হলুদ
গাঁদাফুল
পান করি গরম কফি।
ঝাঁক ঝাঁক তাঁবু নামছে খেলার মাঠে
দিনদুপুরে হেঁটে যায় ব্রাউন সাহেবের
ঘোড়া
স্তব্ধতা ঝুঁকে পড়ে নিস্তব্ধতার ওপর
‘গোপন করবার মত আমার কিছুই
নেই’
বদলে ফেলছি রিংটোন ও বিছানার
চাদর
দু’দন্ড দাঁড়িয়ে পড়ি চুম্বনদৃশ্যের সামনে
কোথাও দুলে উঠছে সুপুরিবন
তোমার শান্ত দুচোখে সুনামির
সতর্কতা
প্রবল মেঘের ডাক শুনে বিবাহের গানে
মিশে যাই
‘শীতবিকেল মানেই তোমার একটানা উল
বুনে চলা’
হাসির গল্পের কাছে কিভাবে যাই বলো!
এইমাত্র পোড়োবাড়ির দিকে পদযাত্রা শুরু
করলেন ম্যাজিসিয়ান
ডার্কনেস ও চকলেটের কি ভীষণ
সুসম্পর্ক!
দীর্ঘ ভ্রমণের আগে অদ্ভূত সব দৃশ্য
ও
দৃশ্যান্তর।

জন্ম ১৯৭০, ০৩ জানুয়ারি. নয়ের দশকে লিখতে আসা এ কবি উত্তরের লোকজীবনের সাথে জড়িয়ে আছেন তীব্র ভাবে. ত্রিশ বছরের বেশী সময় ধরে কবিতা, গদ্য সহ বিভিন্ন ধারায় অনায়াস যাতায়াত করেছেন. বাংলা ভাষার প্রায় সব কাগজে নিয়মিত লেখালিখি করেছেন, করছেন. ১৯৯৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতাবই প্রকাশিত হয় কবিতা পাক্ষিক থেকে. গুরুত্বপূর্ণ কবিতা ও গদ্যের বইগুলো- ধানবাড়ি গানবাড়ি, মাহুত বন্ধু রে, নির্বাচিত কবিতা, বিবাহ বাজনা, নাচঘর, উত্তরজনপদবৃত্তান্ত, মাতব্বর বৃত্তান্ত, ভাঙা সেতুর গান. পেশায় শিক্ষক এ কবি ভালোবাসেন রবিশস্যের খামার বাড়ি, সাদা ঘোড়া আর যৌথ যাপনে চাঁদের আলোয় কবিতা আড্ডা, লোকগানের আমেজ।
অসাধারণ সব কবিতা!