ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥
আবারও শুরু হচ্ছে ইউরো ফুটবলের ডামাডোল। আগামী বছর হবে ইউরোপীয়ান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসরের চূড়ান্ত পর্ব। এর আগে আগামীকাল থেকে মাঠে গড়াচ্ছে বছরব্যাপী বাছাইপর্ব। ২০২০ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৫৫টি দেশ বাছাইপর্বে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে। বাছাইপর্ব থেকে উঠে আসা ২৪ দল নিয়ে আগামী বছর হবে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের মূল আসর।
ইউরোপের ১২টি দেশে মূল পর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ ২০২০ সালের ১২জুন থেকে ১২ জুলাই মূলপর্বের ম্যাচগুলো হবে এই ১২টি শহরে আমাস্টারডাম, বাকু, বিলবাও, বুখারেস্ট, বুদাপেস্ট, কোপেনহেগেন, ডাবলিন, গ্লাসগো, লন্ডন, মিউনিখ, রোম ও সেইন্ট পিটার্সবার্গ। এবারই প্রথমবারের মত সরাসরি কোন দল মূল আসরে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে না। এমনকি স্বাগতিক হিসেবেও বাড়তি কোন সুবিধা কোন দলই পাচ্ছেনা। বাছাইপর্বে উয়েফার ৫৫টি দেশ ১০টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশ নিবে। এর মধ্যে ৬টি দল পাঁচটি গ্রুপে ও ৫টি দল পাঁচটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেলবে। গ্রুপে প্রতিটি দল একে অপরের সাথে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল অর্থাৎ ২০টি দল মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জণ করবে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শেষে শীর্ষ ২০টি দলতো চূড়ান্ত পর্বে যাবেই, তবে বাকি চারটি পজিশনের জন্য প্লেঅফের নিয়ম এবার কিছুটা জটিল করা হয়েছে। গত বছর উয়েফার শীর্ষ সারির ৫৫টি দল নিয়ে প্রথমবারের চালু করা হয়েছে নেশন্স লীগ।
দলগুলো তাদের অবস্থানের ভিত্তিতে চারটি টায়ারে (লীগ এ-ডি) চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশ নিয়েছে। গ্রুপ পর্ব শেষে নেশন্স লীগের ১৬টি গ্রুপ বিজয়ী প্লেঅফে খেলার দৌড়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। তবে বাছাইপর্বে শীর্ষ দুইয়ে থাকতে ব্যর্থ হলেই কেবলমাত্র তারা প্লে অফ খেলার সুযোগ পাবে। অর্থাৎ দলগুলো পাচ্ছে বাড়তি সুবিধা। প্রতিটি লীগ তাদের নিজস্ব ধারায় শীর্ষ দল বাছাই করবে। লীগে চারটি দল সেমিফাইনালে দুই লেগে ও ফাইনালে একটি লেগে খেলবে। প্রতি লীগের বিজয়ী দল ইউরো ২০২০ এর চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ১-৫৫ এর মধ্যে থাকা দলগুলো নিয়ে নেশন্স লীগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেশন্স লীগের গ্রুপ বিজয়ীরা যদি বাছাইপর্বেও নিজেদের গ্রুপে শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে থাকে তবে লীগের পরবর্তী সেরা দল ইউরোতে খেলার যোগ্যতা অর্জণ করবে।
আগামী জুনে প্রথমবারের মত মাঠে গড়ানো নেশন্স লীগের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড, হল্যান্ড, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড। বাছাইপর্বে যদি এদের মধ্যে কোন দল উতরে যায় তবে নেশন্স লীগের ফাইনালের ফলাফল তাদের কোন কাজে আসবে না। চলতি বছর মার্চ থেকে নবেম্বরের মধ্যে বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। নেশন্স লীগের ফাইনালে যে দলগুলো খেলবে তাদের জুনে বাছাইপর্বের কোন ম্যাচ নেই।
বাছাইপর্বে ১০টি গ্রুপে দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে। ‘এ’ গ্রুপে লড়বে ইংল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, বলুগেলিয়া, মন্টেনিগ্রো ও কসোভা। ‘বি’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল, ইউক্রেন, সার্বিয়া, লিথুনিয়া ও লু´েমবার্গ। ‘সি’ গ্রুপে হল্যান্ড, জার্মানি, নর্দান আয়ারল্যান্ড, এস্তোনিয়া ও বেলারুশ। ‘ডি’ গ্রুপে সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড, জর্জিয়া ও জিব্রাল্টার। ‘ই’ গ্রুপে ক্রোয়েশিয়া, ওয়েলস, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান। ‘এফ’ গ্রুপে স্পেন, সুইডেন, নরওয়ে, রোমানিয়া, ফ্যারো আইল্যান্ড ও মাল্টা। ‘জি’ গ্রুপে পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, ইসরাইল, স্লোভেনিয়া, মেসোডোনিয়া ও লাটভিয়া। ‘এইচ’ গ্রুপে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, তুরস্ক, আলবেনিয়া, মলদোভা ও অ্যান্ডোরা। ‘আই’ গ্রুপে বেলজিয়াম, রাশিয়া, স্কটল্যান্ড, সাইপ্রাস, কাজাখস্থান ও সান ম্যারিনো এবং ‘জে’ গ্রুপে লড়বে ইতালি, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, ফিনল্যান্ড, গ্রীস, আর্মেনিয়া ও লিচেনস্টেইন। এর মধ্যে আগামীকাল রাতে মাঠে নামছে মোট ২০টি দল। এতে মুখোমুখি হচ্ছে হল্যান্ড-বেলারুশ, নর্দান আয়ারল্যান্ড-এস্তোনিয়া, ক্রোয়েশিয়া-আজারবাইজান, স্লোভাকিয়া-হাঙ্গেরি, অস্ট্রিয়া-পোল্যান্ড, ইসরাইল-স্লোভেনিয়া, মেসোডোনিয়া-লাটভিয়া, কাজাখস্থান-স্কটল্যান্ড, সাইপ্রাস-সান ম্যারিনো ও বেলজিয়াম-রাশিয়া।
