মিছিল
দুর্দান্ত সাহসী মিছিলের সন্মুখ
প্ল্যাকার্ড, ব্যানার আর ফেস্টুনে সুশোভন প্রতিচ্ছবি
শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর হলো আজ।
যে জীবনে ফুল ফোঁটানো হলো না আমার
সূর্যাস্ত কিম্বা সূর্যোদয়ের রক্তিম আভার মতো
সেই আমি আজ মিছিলের সম্মুখে।
আজ আমাদের মিছিলের শ্লোগান হবে জীবনের জন্য
আমাদের পেটে কেন অন্ন জোটে না দু’বেলা?
আমাদের জীবনের মূল্যবোধ নেই
আমাদের বেঁচে থাকার কোনো আনন্দ নেই
আমাদের ভালোবাসার কোনো ফুল নেই;
আজ এ মিছিল হোক জীবন এবং ভালোবাসার।
কাল সারারাত
কাল সারারাত তোমাকে ভেবেছিলাম
কতো অসহায় তুমি, বেদনায় নীল হয়ে আছো;
অথচ নীল শাড়িতে তোমাকে মানাতো বেশ।
ধাবমান চিত্রল যেমনি চেয়ে দেখে সুদূর নীলিমা
তেমনি তোমার ওই চোখ বড় প্রিয় ছিলো আমার
গভীর বিপন্ন তোমার দু’চোখে চেয়ে দেখলাম
তৃতীয় একটি চোখ-খুবই অন্ধকার, ছায়া পড়ে বেশ।
ঝকঝকে রূপালি চাঁদ
কেমন যেনো ম্লান দেখাচ্ছিল কালরাতে
নদীরে পাগল করা
উম্মাতাল ঢেউয়ের শব্দ শোনা যায় না
শাল-ঝাউ আর দেবদারুর বন আর মুখরিত হয় না
পাখির ক‚জনে
তুমি এক অনিন্দ্য সুন্দর রূপকার-
আমার হৃদয়ে তুমিই এঁকে ছিলে ভালোবাসার মানচিত্র
অথচ কাল সারারাত কেবলই মনে হলো তুমি অসহায়!
কেবলই অসহায়!!
অলৌকিক ভালোবাসা
সবুজ মাঠের ওই পাশে স্বর্ণালী হাওয়ায়-সন্ধ্যায়
আকাশ-নীল রঙ শাড়ি উড়ছে হাওয়ায়-সন্ধ্যায়
এ কোন্ এলোকেশী স্বপ্নের হাত ছুঁয়ে ছুঁয়ে
আমার চৈতন্যে হৃদয় ছোঁয়ালো!
আমার বুকের কষ্ট হঠাৎ কেঁদে উঠলো
বৈরি হাওয়ায় ছিটকে পড়লাম আমি
চোখ খুলে দেখি মাঠ নেই-
স্বর্ণালী হাওয়া নেই!
সন্ধ্যা নেই!
আমার বুকের ভিতর গোপন ঝড় তুলে
নীলশাড়ি-এলোকেশী কই?
গভীর স্বপ্নের রাত আমার অলৌকিক ভালোবাসা।
শব্দঋণ
যদি কথা বলার উপর কোন আইন হতো
যদি বলা হতো,
প্রতেকে কথা বলবে একশ শব্দ একদিনে।
তাহলে আমি সারাদিন মৌনব্রত পালন করতাম,
আমি বোবা হয়ে যেতাম,
মাঝ রাতে তোমায় ফোন করে বলতামÑ‘হ্যালো’
বাকি নিরানব্বই বার আমি তোমায় বলতাম ‘ভালোবাসি’।
আমি সারাদিন সব কথা জমিয়ে রাখতাম তোমার জন্য,
একটি শব্দ বলার জন্য।
তুমি সারাদিনে খরচ করে ফেলতে প্রায় সবগুলো শব্দ,
একটি শব্দ কেবল বাকি থাকতো আর,
তুমি বলতে, ‘আমিও’’।
এই একটি শব্দ শুনে আমি ঘুমিয়ে যেতাম সুখ বুকে নিয়ে,
পরদিন আমি আবার মৌনব্রত শুরু করতাম ঘুম থেকে জেগে,
আমাকে সবাই বলতো ‘অসামাজিক’।
তবু আমি কথা জমিয়ে রাখতাম মাঝ রাতের একটি ফোনকলের জন্য।
সরল অণুকাব্য
আমি তার নাম ভুলে গেছি
ফুলের মতো হয়তো ছিল কোনো নাম।
তার নাম একসময় আমি সকাল-বিকাল জপতাম।
তার নাম আর মনে নেই,
‘শিশিরের সাথে হয়তো মিশে গেছে তার ঘ্রান’,
সেই ঘ্রানে সারা রাত, এক আলোর সকাল আমি বুঁদ হয়ে থাকতাম।
অসুখের চিঠি
অসুখের দিনে আমি সব কথা জমিয়ে রেখেছিলাম
তবু হলুদ খামে কখনো ডাক রেজিস্ট্রি হয় নি তোমার ঠিকানায়।
আমার বড় অসুখ হয়েছিল, আমি সুখি ছিলাম না,
কারণ সে কথাগুলো কখনো বলা হয় নি,
যেগুলি আমি জমিয়ে রেখেছিলাম জ্বরের ঘোরে, কাঁথার ভিতরে।
অসুখের দিন আমি বড় দুঃখী ছিলাম,
কারণ কপালের উপর জল পটটি দেয়ার জন্য তুমি ছিলে না।

জন্ম ৭ এপ্রিল ১৯৮৩; মাইজদী, নোয়াখালী। এমবিএ। জার্নালিজমে ডিপ্লোমা। পেশা : সাংবাদিকতা। প্রকাশিত বই : কবিতা— অন্ধকার, নীল গান [স্বরাজ প্রকাশনী, ২০১১] কালো মেয়ের প্রতি ভালোবাসা [স্বরাজ প্রকাশনী, ২০১২] কবি হয়ে জন্মাতে চাইনি [অভিযান পাবলিশার্স, ২০১৬] গদ্য— লেখা-অলেখা [কলামসমগ্র; দেশ পাবলিকেশন্স, ২০১৫] একুশে ফেব্রুয়ারি : আঁধারে বাঁধা অগ্নিসেতু [সাকী পাবলিকেশন্স, ২০১৩] মুক্তিযুদ্ধের আগুনমুখো গল্প [সাকী পাবলিকশেন্স] অধ্যক্ষ আবদুল জলিল [স্মারক, যৌথ সম্পাদনা; স্বরাজ প্রকাশনী, ২০০৯]