স্বাধীনতার বয়স তখন সবে দেড় মাস। স্বাধীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম বিদেশ সফর ছিলো কলকাতায়। যেখানে দশ লাখ মানুষের এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন জাতির পিতা।
দরাজ কণ্ঠের সেই ভাষণে ছিলো স্বাধীনতার আনন্দ, স্বজন হারানোর বেদনা, ভারতের প্রতি অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা, পশ্চিম পাকিস্তানিদের হুঁশিয়ারি আর যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা। দিয়েছিলেন সদ্য স্বাধীন দেশের পথ চলার দিক নির্দেশনাও।
ময়দানে লাখো মানুষতো বটেই। ইথারে ইথারে ছড়িয়ে পড়ছিলো লাল সবুজের আগমনী বার্তা। স্বাধীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম বিদেশ সফর ছিলো কলকাতায়। ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রায় দশ লাখ মানুষের সমাবেশে ভাষণ দেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু।
কবিগুরুর কবিতার লাইন আওড়ে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সহযোগিতার জন্য ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ আর সংবাদ মাধ্যমকে কৃতজ্ঞতা জানালেও বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে ছিল দেশটির সরকারের কড়া সমালোচনা।
স্বাধীনতার পরও পশ্চিম পাকিস্তানীদের নানা অপপ্রচারের বন্ধেও দিয়েছেন হুঁশিয়ারি। সদ্য স্বাধীন দেশ কীভাবে চলবে সেই দিক নির্দেশনাও দেন বঙ্গবন্ধু। ৪৪ বছর আগের সেই ভাষণেই ভারত-বাংলাদেশের সম্প্রীতির বয়ান করে গেছেন জাতির পিতা। দৃপ্ত কণ্ঠে বলেছেন, এই বন্ধুত্ব ভাঙতে পারবে না কেউই।
