| 20 জুলাই 2024
Categories
কবিতা সাহিত্য

তানহিম আহমেদ’র তিনটি কবিতা

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

 

দুঃখের ইফিজি

এসেছি তোমার স্বকীয় সন্তাপের সংগ্রহশালায়—ভাঙা, নিষ্প্রভ, মুমূর্ষু হরিষে—সনাতন
রাত্রির স্কার্ট থেকে উড়ছে মৌ মৌ আঁতাতের ঘ্রাণ—সন্ধ্যারতির ঝাঁঝ মেখে। আমিও
এক স্বর্গ পলাতক আততায়ী, তনুমধ্যে লুকিয়ে রেখেছি পৌরানিক ছুরি—ইন্ধনে ইন্ধনে
তার পরিযায়ী আগুনের হল্কা পুড়িয়ে দ্যায় আহত সারসের শব, রঙিন সিম্ফনি ও

বৃহন্নলা শস্যের স্বপ্নরাশি—!

সহাস্য আঙুলে আঙুলে হৃদয়ংগম করেছি এ্যাতো অনন—ইতি স্বর্গ ছেড়ে আসা বিপ্লবী
আমি—যে কিনা জারজ মৃত্যুর সাথে করেছি দোস্তি—পুরে দিলেও দিতে পারি তোমার
কর্ণ কুহরে নিষিদ্ধ পারদের উত্তাপ —তাই, প্রেমের অতলে সন্ধান কোরো না কবিতার
সুবাতাস, সুহৃদ, বিভ্রমে বিভ্রমেই তো কেটে গ্যালো কত ধূসর ঊষর ঋতু, ভুললে মাতমে

মেতে ওঠা কলতান—মখমলে মহাকালের কেদারায় বসে ভাবি, কতটা অপচয়ে ফুরাবে

তীব্র প্রণয়বায়ু? কোন বা সে বিরহমলিন তানে?

ইয়ারি ও মরমের দোহাই দিও না আর গল্পের চাতালে—ভাষার অলিগলি মন্থন কোরে
পরিক্রমায় অবশেষে পেয়েছি ইশারা—এযুগের রাধারা, বহুব্রীহি সমাসের মতই দ্বিচারি;
ভাবের খাদ পেরিয়ে, তাই তো, চলে এলাম তব মোমের আঙিনায়৷ এবারে অনামিকার
স্বৈরাচারিতা সরিয়ে রেখে নোটবুকের মার্জিনের বাহিরে—এসো, বানাই দুঃখ-বিগলিত
মোমের ইফিজি, যুগল স্বরসংহতির অনিন্দ্য সন্চারণে৷

 

 

 

পেপারব্যাক লেখকের প্রতি

কাগুজে বাঘের হুংকারের মতোই একরকম
দুনিয়াটারে সিলি মিথ ও মিথ্যার
কাভার আপ দিয়া—


টেবিলে মুখ গুঁজে থাকো; টেবিলে মুখ গুঁজে থাকো
তুমি—পেপারব্যাক রাইটার মম—
ইজি পিজি হেড ডাউনে এড়ায়া যাও তীর্যক চাহনির ধাঁধাঁ;
তোমার স্বপ্ন থেকে যেই ডিমোনেরা বেরিয়ে আসে
রোজ
রাত্রি
পালা ক’রে ক’রে—
তুমি তাদের ধাওয়া সামলিয়ে ওঠার আগেই
রি রি পইড়া যায় পুরান ঢাকার অলিগলি, শাহবাগের
চিপায়—নৈঃশব্দ্য গলিয়ে চলে যায় কতো
রঙিন ইমেজারি—
তোমার মলিন শার্টের হাতার তল দিয়া—সন্তর্পণে৷
তাদের লাগি গেয়ে ওঠো গান,
মৃদু শাণ দাও সারগামে—অথচ—
তোমার ন্যাংটা গলার সুর
ফুসলিয়ে দ্যায় হরদম অতীতের সকল ফুসকুড়ি;


টিপ্পনী ও অট্টহাসির বুলেট ফুড়ে ফ্যালে তোমার
শব্দের পলেস্তারা—কবিতার বর্ম!


তবুও—চুপি চুপি আঁকো তুমি বুভুক্ষু দুনিয়ার মুখ,
দ্যাখ ছায়াছবি, আরও আঁকো ছয়ই অক্টোবর,
ব্যাঙের ছাতার
মতোন মহাযুদ্ধের দ্রিমি দ্রিমি বাজনা শোনো, গোণো
ক’দিন রইল আরেক আইস এইজের বাকি…


পদ্যের বাতাবরণে বেঁধেছো পাতার
সংসার, ওহে মোরোন—
হার্ডকভার দুনিয়ায় তুমি যেন এ্যাক নমনীয় কালো কৌতুক!

 

 

ক্যামোফ্লেজের ধাঁচে

হ্যাট খুলে বসে থাকি, নিরাভরণ—
অ্যামবুশ; অ্যামবুশ!—যুদ্ধ ও দাঁতাতের
সঙ্গমে নিভে গ্যাছে দুনিয়ার শেষ ঝাড়বাতি—
ঝুম ঝুম আঁধার…
বোসো, বোসো—ঈশ্বর—জিরিয়ে নাও
তুমি—এপাড়ার সিদর অটবীর ছায়ে, এক লহমা;
দুধের সরের মতোই এ্যানিগমা ভেসে আছে
কোথাও আকাশের গায়ে—যেই বোকাচোদা লু হাওয়া
প্রায়শই মৃদু
কাঁপন ধরিয়ে যেতো তোমার অস্তিত্বের দেয়ালে
—তাকে কি পেয়েছিলে খুঁজে সেদিন?

আমি তো পালিয়ে এসেছি ভেঙে ত্রস্ত পাখিদের শোক
সভা—রিটায়ার্ড হার্ট হওয়া স্মৃতিদের মেট্রোপলিসে—
এসেছি, এ্যাকা এ্যাকা—অপরিজ্ঞাত;

পকেটে আছে বারোয়ারি দ্বিধার ভ্রাতারা—আপোসের
সিয়ামেজ টুইন—আরো আছে অনন মেঘদল, নেবে?

পাঁজরের স্লেটে তাই লিখে রাখি
সে-গুঞ্জরিত বিহঙ্গের কথা—তোমাদের পাড়ায়,
শুনেছি
ভেগে গিয়েছে চলে আমাদের পোড়খাওয়া
আনাড়ি কুকুর— তারে খেতে দিও মাড়অলা ভাত,
দু’বেলা—দিও খেতে
ঊর্বশীদের আত্মসমাচার;
করিও যতন ৷
দুরুদুরু ডাউটের প্রশ্রয়ে হয়তো আমিও একদিন
তার পদাঙ্ক মেপে মেপে চলে আসবো
তোমার কানা গলির চৌমাথায়—

 

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত