| 28 মে 2024
Categories
ফিচার্ড পোস্ট সময়ের ডায়েরি

পদ্মশ্রী প্রত্যাখ্যান করেছেন যে সকল বঙ্গসন্তান

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

পদ্মশ্রী ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মাননা। শিল্পকলা, শিক্ষা, বাণিজ্য, সাহিত্য, বিজ্ঞান, খেলাধূলা, সমাজসেবা ও সরকারি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ভারত সরকার এই সম্মান প্রদান করেন। … ভারতীয় সম্মাননার মর্যাদাক্রম অনুসারে, পদ্মশ্রীর স্থান ভারতরত্ন, পদ্মবিভূষণ ও পদ্মভূষণের পরে। দেশে সর্বপ্রথম এই পদ্মশ্রী পুরস্কার যিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনিও ছিলেন এক বঙ্গসন্তানই। তারপর কালক্রমে বহু বাঙালি শিল্পীই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দেওয়া এই সম্মানকে আপন করতে অস্বীকার করেছেন। কারা? রইল সেই তালিকা।


একইদিনে পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন তিন বাঙালি। প্রবাদপ্রতীম কিংবদন্তী গায়িকা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় (Sandhya Mukherjee), বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বামপন্থী রাজনীতিবিদ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (Buddhadeb Bhattacharjee) এবং খ্যাতনামা তবলাবাদক শিল্পী (Anindo Chatterjee)। সেই প্রেক্ষিতেই নেটদুনিয়ার চর্চায় বর্তমানে ‘বাঙালির বুকের পাটা’! কিন্তু জানেন কি দেশে সর্বপ্রথম এই পদ্মশ্রী পুরস্কার যিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনিও ছিলেন এক বঙ্গসন্তানই। তারপর কালক্রমে বহু বাঙালি শিল্পীই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দেওয়া এই সম্মানকে আপন করতে অস্বীকার করেছেন। কারা? রইল সেই তালিকা।
 
সর্বপ্রথম পদ্ম পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন প্রবাদপ্রতীম নাট্যাচার্য শিশিরকুমার ভাদুড়ি (Sisir Bhaduri)। সালটা ১৯৫৯। সেবছর শিশিরকুমারকে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়ার কথা ঘোষণা করে নেহেরু সরকার। কিন্তু বাংলা থিয়েটার জগতের এই কিংবদন্তী পদ্ম পুরস্কার ফিরিয়ে দেন। কেন জানেন? ভাদুড়ি মশাই স্পষ্ট বলেছিলেন, কেন্দ্রের তরফে থিয়েটার মাধ্যমকে যেভাবে অবহেলা-অগ্রাহ্য করা হয়, এটা তার প্রতিবাদ। শিশিরকুমার জানিয়েছিলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার কখনও থিয়েটারকে গুরুত্ব দেয়নি, তাই এই পুরস্কার গ্রহণ করে আমি মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিতে চাই না।” সাফ জানিয়েছিলেন, “রাষ্ট্রীয় সম্মান আদতে স্তাবকের দল গঠনের একটা প্রচেষ্টা মাত্র।”
 
১৯৮৭ সালে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ও (Hemanta Mukhopadhyay) পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। যদিও সেই কারণ কখনও স্পষ্ট করেননি তিনি। তবে শোনা যায়, বাংলা ও হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিতে দাপটের সঙ্গে কাজ করা প্রবাদপ্রতীম এই শিল্পী কোনওরকম রাষ্ট্রীয় পুরস্কারের ধার ধারেননি কোনওদিনই। দশ রকম ভাষায় গানের সুর তৈরি করার দক্ষতা ছিল হেমন্তের, এমন মহানুভব মানুষটার সৃষ্টিই তো শ্রোতাদের কাছে পুরস্কার।
 
একধিকবার পদ্মশ্রী সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলা নাটকের ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র বাদল সরকার (Badal Sircar)। ১৯৬৯ সালে সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান তিনি। এরপরই সাতের দশকে পদ্মশ্রী প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। খ্যাতনামা নাট্যকার জানান, সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কারের মধ্য দিয়েই জীবনের সেরা সম্মান পেয়ে গেয়েছি। পরে ২০১০ সালে কেন্দ্র তাঁকে পদ্মভূষণ দিতে চাইলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন বাদল সরকার।
 
১ দশক আগের কথা। বঙ্গ সরোদ শিল্পী বুদ্ধদেব দাশগুপ্তও পদ্মশ্রী ফিরিয়ে দেন। সাফ জানান যে, অনেক আগেই তাঁর তুলনায় কমবয়সি এবং অযোগ্য শিল্পীরা পদ্মশ্রী সম্মান পেয়ে গিয়েছেন। পরে অবশ্য পদ্মবিভূষণে ভূষিত হন এই সরোদশিল্পী।
 
এই তালিকায় কিন্তু সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের (Soumitra Chatterjee) নামও রয়েছে। সাত-আটের দশকে ইন্দিরা গান্ধী সরকারের তরফে অভিনেতার কাছে পদ্মশ্রী প্রস্তাব এলেও তিনি তা ফিরিয়ে দেন। বলেছিলেন, “ভারতীয় সিনেমার উন্নতির জন্য কিছুই করছে না সরকার। তাই সিনেদুনিয়ার একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে এই পুরস্কার গ্রহণ করতে আমি নারাজ।” ২০০৪ সালে অবশ্য ভক্তদের ভাবাবেগে যাতে আঘাত না লাগে, সেই কারণে দেখিয়ে উচ্চতর পদ্মশ্রী সম্মান পদ্মভূষণ গ্রহণ করেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।
 
নয়ের দশকে আরেক বাঙালি নিখিল চক্রবর্তী পত্রপাঠ পদ্ম সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। নির্ভীক সাংবাদিকতার জন্য নিখিল চক্রবর্তীকে পদ্ম সম্মানে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। তবে পাল্টা তিনি জানিয়েছিলেন, “একজন সাংবাদিকের ওপর রাষ্ট্রের বদান্যতার বোঝা থাকা উচিত নয়।”
 
 
 
 
 
 
 
 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত