| 20 মে 2024
Categories
ইরাবতী তৃতীয় বর্ষপূর্তি সংখ্যা

তৃতীয় বর্ষপূর্তি সংখ্যা: মজনু শাহর কবিতা

আনুমানিক পঠনকাল: < 1 মিনিট
 
 
ব্লু মুন
 
সমস্ত অতীত জুড়ে নূহের কিস্তির একখণ্ড কাঠ ভেসে আছে।
এখন চেঙ্গিস খাঁর নাম শুনে হেসে ওঠে তোমার সন্তান,
হাম্বুরাবির নাম শুনে যথারীতি ভাবলেশহীন।
আজই ফিরে আসবে জিগোলো আর অন্ধদের রাজা,
তার খাঁচায় পৃথিবীর অন্তিম ডোডো পাখি, তার সম্মানে
খাদ থেকে ক্রেন দিয়ে তোলা হচ্ছে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া ব্লু মুন
যাকে দেখে তুমি মূর্ছা গিয়েছিলে নটকনের বনে।
কে তোমাকে জাগায় বারবার, একটি ঋজু পথ নির্দেশ করে
তোমার জীর্ণ কুটির, যেখানে রুটি, মদ আর গুপ্ত পুঁথি –
জ্ঞানডাকিনী তুমি? প্রেতলোকের হাওয়া বয় যখন
তোমার খয়েরি মখমলের মতো ত্বক ভয়ে ভয়ে ছুঁয়ে দেখি,
কেননা কবিতার শব্দমালা এই লাবণ্যগল্পের সাপেক্ষে
অনুভবক্ষম, তাদের এমন এক অধ্যায়ে ঢুকে পড়তে হয়
যেখানে সাধুকে খায় বাঘে আর মদিলিয়ানির নগ্ন নারীদের দেখে
লিবিডো-উপবাসী ভবঘুরে পলায়ন করে স্বপ্নে।
 
 
 
 
 
 
ইরিথ্রিনা
 
টকটকে লাল ইরিথ্রিনা যেন অভিশপ্ত মুখ
যে হারিয়ে গেছে মেঘের ভিতর ক্যাসানোভা হতে চেয়ে
যার চোখে অভিনীত হতো একদিন মরুশহরের ছবি।
একদল উড়ন্ত শকুন সেই মেঘের কিনারে চক্র রচনা করে
এখানে হেমন্তের ছায়া নেমে আসে মৃতদের পুস্তকের ওপর
এখানে সূর্যাস্তে কোনো যৌনঅতৃপ্ত উট
বয়ে নেয় কিম্পুরুষ—
 
ইরিথ্রিনা, তোমার ইস্তেহার জুড়ে ঝরাপাতা
আর আলো নিভে আসা শব্দ। তুমি স্বপ্নে দেখা
ধূধূ পাণ্ডুলিপি,
শিশমহলের ভিতর এক টুকরো চবুতর—
 
 
 
 
 
 
জশু
 
নৃমুণ্ডমালা পরে এতক্ষণ ঘুরে বেড়াচ্ছিল যে ঘোড়াটি প্রান্তরে,
তার মুখ থেকে এখন মৃত্যুগন্ধী ফেনা ঝরে পড়ছে।
গ্রামার চুলোয় দিয়ে, এই দৃশ্য দেখে দূর থেকে হেঁকে উঠলাম আমি,
জশু, তুমি বলো, শব্দবন্দি করার আগে আমি কি আবার
খুলে রাখব জড়িনক্সা করা এই আলখাল্লা?
আমার বইগুলো নিশ্চয় একদিন উড়তে উড়তে মিশে যাবে
মহাজাগতিক আবর্জনার সঙ্গে।
পৃথিবীতে পড়ে থাকবে শুধু নষ্ট ঘুম, নষ্ট কলম, আমার নষ্ট আঙুল —
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত