আমি আর কোথাও যাবোনা

 
১.
একটা জঙ্গলের শরীরকে ভালোবেসে সেই চিঠি আপনি লিখবেন, যার উত্তর আসবেনা কোনোদিন। জেনেছেন সে হারিয়ে গেছে মেলার ভীড়ে। আঙ্গুল ছেড়ে কোথায়, কোন যন্ত্রের টানে। সেই শরীরে ফুল ফোটে, ফল হয়, বীজ আসে। সেই শরীরকে ভালোবাসেন আপনি সহজে।
২.
আমি আর কোথাও যাইনা, নিমেষে শেষ হয়ে যাওয়া তোমার দুচোখ ছেড়ে, তোমার গান, তোমার অভিমান ছেড়ে আমি আর যাবোনা কোথাও। তুমি আসবেনা ভেবে আমি একা ফলাবো সারাবছরের ফসল। থেমে থাকবেনা এই বেঁচে থাকা। জলে,বৃষ্টিতে দুজনের দুই রাশিতে আমি শুধুই দেখবো বিপরীত পতনের শব্দ। আমি তবু তোমাকেই ভাববো, আর কোথাও যাবোনা।
৩. 
আমি আছি। তুমিও থাকছো। শুধু ভেতরে নেই সেই ফিরে আসা। কোনো এক মহোৎসবের ভেতর বৃষ্টি নামবে। পন্ড হবে আয়োজন। ভিজে যাবে তোমার চোখ। ভিজে যাবে আমার চোখ। এক ভীষণ দূরত্বে থাকা স্বপ্নের কাঁচ ভেঙে কুচি হয়ে যাবে। আমি হয়ত ভাববো অতীত নিজেই কবিতা।
৪.
আমিও একদিন গোপনে গোপনে হবো প্রিয় কাশবন। দেয়ালে ঝুলবে পুরনো পাতা, ক্যালেন্ডার, কালি ঝুলি মাখা ছাড়পত্র, গভীরে ঢুকে যাব মন, ফেরার আর পথ পাবোনা।
 ৫.
তোমার মত এমন সবুজ, হৃদয়ে ঘাসের রঙ নিয়ে কেউ কাঁদতে দেখেনি আমাকে!
আমার সকল ক্ষুদ্রতাকে নিয়ে, একটা জীবন কাঁদবো বলে আকাশ হয়ে বাঁচি।
৬.
তোমাকে ডাকবার চেয়ে চাতকের বেঁচে থাকা ভাল। কিছু সুন্দর ধীরে ধীরে নামে। সিঁড়িতে দাঁড়ালে দেখি দূরে সাঁতার কাটছে অচেনা দুটো পা। সাঁতরে ফিরেনা জড়িয়ে থাকা জাল ও। 
যাচ্ছ? যাও। চলে যেতে হয় তীব্র। সাহসে। ভালোবেসে- 
 ঘুমিয়ে পড়া শিশুর মুখের মত নির্লিপ্ত সুন্দর কিছু মিথ্যে রেখে, চলে যেতে হয় একদিন।
৭.
তোমাকে প্রায় ছেড়ে যেতে যেতে লক্ষ্য করলাম আমি এক পুরনো চাকার বাস, যার জানালায় ইট মেরেছিলো কেউ, যার নামের অক্ষর মুছে গেছে খুব বৃষ্টির জলে, চাকার ভেতর গাছ জন্মেছে থমকে ছিল বলে। ছেড়ে যেতে যেতে প্রায়শ মনে হয় গাছ বাড়ছে, কিন্তু শেকড় কোথায়,স্পর্শ ছাড়া দুজন মানুষ মাটি ছাড়া গাছের মত হয়ে যাবেনা একদিন?

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত