মধুলীনা

মধুলীনা তুমি যে দেশে থাকো

সে দেশে এখন সন্ধে হয়েছে সবে,

আমাদের দেশে ভোর হয়ে এলো প্রায়

কিছুটা সময় পরে পাখি উড়ে যাবে।

 

তোমারও ফ্লাইট ছেড়েছিল ভোর বেলা

তুমি গিয়েছিলে সব পেয়েছির দেশে,

আমি জানতাম এ উড়ান কাঙ্ক্ষিত,

তুমি যেতে চাও এমন এক পরিবেশে-

 

যেখানে তোমার স্বাধীন চিত্ত পাবে

ডানা মেলবার প্রকাণ্ড আসমান,

তুমি সেই দেশে মাধুকরী খুঁজে নিয়ে

একাকী গাইবে আগল ভাঙার গান।

 

সেই মতো তুমি উড়ে গেলে দূরদেশে,

ধীরে ছিঁড়ে গেলো কথাবার্তার সুতো,

এখনও আমরা দুজনে রয়েছি বেঁচে

যোগাযোগ নেই,শুধু এই দেশতুতো-

 

সম্পর্কের মতোন তো কিছু আছে,

যদিও সেটুকু আমারই তরফ থেকে-

তবু মধুলীনা মনে পড়ে বারবার,

নানা অছিলার অবসাদে থেকে থেকে।

 

একাকী তখন আয়নায় কথা বলি

মনে করি এই সামনেই তুমি আছো,

তোমার সে টিপ আজও আরশিতে আঁটা

তোমার সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছে কাঁচও।

 

অথচ তোমার এখন অন্য দেশ

অথচ তোমার এখন অন্য ঘর,

তবু মনে পড়ে, মনে পড়ে মধুলীনা,

এই আমাদের একসাথে থাকা ঘর।

 

ওই আমাদের কাবার্ড আর আলমারি

এই আমাদের ফুলশয্যার খাট,

এ ঘরের প্রতি ইঞ্চিতে শ্বাশত-

হয়ে বেঁচে আছে কত দিন,কতো রাত!

 

শুধু তুমি নেই, এখন তোমার দেশে

বিকেল পেরিয়ে সন্ধে হয়েছে সবে,

আমাদের দেশে ভোর হয়ে এলো প্রায়

কিছু সময়ের পরে পাখি উড়ে যাবে!

 

যাবে পাখিদের সঙ্গীরা ঝাঁকে ঝাঁকে

আকাশের নীলে ওরা মেলে দেবে ডানা,

তোমারও বিমান রানওয়ে ছেড়েছিল

তুমিও তো ভোরে উড়েছিলে মধুলীনা!

 

তবে তুমিও পাখিদের থেকে শিখে

ভেবেছিলে যাবে সব পেয়েছির দেশে,

তবে কেন আগে চুলে কেটেছিলে বিলি!

কেন দিয়েছিলে অধিকার ভালবেসে?

 

যদি ভুলে যাবে যাবতীয় উপাদান

কেন কানে কানে ডেকেছিলে বাবুসোনা?

যদি যাবে তুমি সব পেয়েছির দেশে,

তবে কেন কাছে এসেছিলে মধুলীনা?

One thought on “মধুলীনা

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত