ক্যাঙ্গারুর দেশে আমি (পর্ব-২)

                             

যখন  সিডনি কিংসফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পৌঁছালাম তখন সন্ধ্যে ৭টা বাজে। দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থানের জন্য এপ্রিল মাসে এখানে শীত কালের সূচনা হয়। ফলে সূর্য দেবেরও ঘুমিয়ে পড়ার তাড়া থাকে। চারিদিক দেখে মনে হচ্ছে যেন সন্ধ্যে পেরিয়ে রাত নেমে গেছে। 

কেমন করে যেন আকাশে ভেসে ভেসে সাড়ে পাঁচ ঘন্টা এগিয়ে চলে এলাম। ক্লান্ত মোটেই লাগছিলো না। আকাশের ওপরে সারাদিন গপগপ করে খেয়েছি, সিনেমা দেখেছি আর ভোঁস ভোঁস করে ঘুমিয়েছি। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এর আতিথিয়তায় ক্লান্ত হতে পারলাম কৈ? আর যাচ্ছি কার কাছে সেটাও তো দেখতে হবে। কতদিন পর আমি আমার জান কে দেখবো আর রুয়ম ওর পাইকে (এমন নামেই ডাকে বাবাকে)।

এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে আছে অনির্বাণ আমাদের জন্য ফুল আর গিফট হাতে। উফঃ সে কি উত্তেজনা! অবশেষে পৌঁছলাম ক্যাঙ্গারুর দেশে। অস্ট্রেলিয়া বলতেই কেমন ক্যাঙ্গারু আপনা থেকেই লেজে জুড়ে যায়। তবে এমনটা অবশ্য ভাবি নি যে বেড়িয়েই দেখবো চার পাঁচ টা ক্যাঙ্গারু ঘুরে বেড়াচ্ছে এয়ারপোর্ট চত্বরে! যাই হোক এক লাফে দুজনে জড়িয়ে ধরলাম আমাদের প্রাণের প্রিয় মানুষটাকে।

ট্যাক্সির লাইন এ কোনো হৈ চৈ নেই! এক এক করে এগোচ্ছে সবাই, কেউ কাউকে ধাক্কা দিচ্ছে না! যার যে পরিমান বাক্স পেটরা আর যত জন লোক সেই হিসেবে ছোট বড়ো ট্যাক্সিতে উঠে পড়ছে সবাই। আমি আগে এসেছি, আমার ট্যাক্সি কেন পরে আসবে এই ধরণের পরিচিত ঝগড়া ঝাটির কোনো লক্ষণ নেই!  মজার কথা যে ওখানে চারটে লোক দাঁড়িয়ে নেই এটা আপনার ট্যাক্সি, ওটাতে আপনি যান – এসব বলার জন্য।

আমাদের দুজন মিলিয়ে ৮০কেজি চেক ইন লাগেজ আর ১৪কেজি কেবিন লাগেজ ধার্য করা ছিল এয়ারলাইন্স থেকে। সেটার সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে আমরা ছোট বড়ো মিলিয়ে ১০টা লাগেজ নিয়ে এসে পৌঁছেছি। ফলে একটা সেভেন সিটার ট্যাক্সি না আসা অবধি অপেক্ষা করতে হলো। এয়ারপোর্ট থেকে বেশি দূরে নয় আমাদের নতুন ঠিকানা। বাড়ির সামনে যখন ট্যাক্সিটা থামলো তখন এই ৮.৩০মতো বাজছিলো।

চারিদিকে অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা। ভীষণ পরিচিত অথচ স্মৃতির অতল তলে তলিয়ে যাওয়া ঝিঁঝি পোকার ডাক শুনতে পাচ্ছি। রাস্তার দু ধারে লাইন দিয়ে গাড়ি পার্ক করা আছে।  বিশেষ কোনো আলো চোখে পড়লো না। কোনো লোকজনও দেখলাম না আসে পাশে। শোলে সিনেমার ডায়লগ টা মনে পরে গেলো – “ইতনা সন্নাটা কিঁউ হ্যায় ভাই”। রুয়ম মানে আমার বড়ো মেয়ে বলছে এ তো পুরো ভূতের সিরিয়ালের মতো লাগছে! কলকাতার গাড়িয়া থেকে সিডনির বেক্সলি, পরিবর্তন টা সাংঘাতিক চোখে পড়ার মতোই।

কার্পেট দিয়ে মোড়ানো সিঁড়ি দিয়ে দোতলার ইউনিট এ এসে পৌঁছলাম (এখানে ফ্ল্যাট না বলে ইউনিট বলে)। দরজা খুলতেই ফাঁকা ঘর। বিশাল বড়ো একটা লিভিং রুম। দুটো বেড রুম আর একটা বাথরুম। সামনে একটা সুন্দর বারান্দা। আর মাথার ওপর খোলা আকাশ। কত তারা ঝলমল করছে! এই তো সেই তারাটা যাকে ছোটবেলায় কোচবিহারের বাড়ির ছাদে বসে দেখতে পেতাম! তারপর আর আকাশ দেখা হয়েছিল কবে ভালো করে মনে নেই! মন টা শান্তিতে ভোরে গেলো।

 কলকাতার তীব্র গরম থেকে হঠাৎ ঠান্ডায় এসেছি বলে  শীত টা যেন একটু বেশিই লাগছিলো। এ দেশে ঘর গুলো হয় কার্পেট মোরা কিংবা কাঠের ফ্লোর। টাইলস ও দেখা যায় কোথাও কোথাও, কিন্তু সিমেন্টের মেঝে দেখা যায় না একেবারেই। আমাদের বাড়িটা কার্পেট ফ্লোরের না হলে এই ঠান্ডায় নিচে ঘুমোনো বেরিয়ে যেত।  হ্যাঁ, নিচেই তো শুতে হবে। খাট অর্ডার করা হয়েছে, ডেলিভারি হবে দু একদিন পর।

রান্নাঘরে কুক টপ ওভেন টা ছিল। এ দেশে গ্যাসের ব্যবহার সবাই করে না। তিন তলা কুকিং রেঞ্জ এ ওপরের টায় চারটে হট প্লেট থাকে, সেখানে রান্না হয় আর বাকি দুটো থাকে একটা গ্রিলার আর বড়ো ওভেন। বেশ কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র কিনে রান্নাঘর টা গুছিয়ে রেখেছিলো অনির্বাণ। কিন্তু বাকি সব জিনিস দুজনে মিলে একসাথে কিনবো বলে ঘর পুরো ফাঁকা। প্রচন্ড এক্সসাইটমেন্ট নিয়েই কার্পেটের ওপর দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া একটা চাদর পেতে আর একটা গায়ে দিয়ে ঘুম লাগলাম।

পরদিন সকালে অনির্বাণ অফিস বেড়িয়ে গেলে আমি আর রুয়ম পাড়া বেড়াতে বেরোলাম। বেশ চকচকে দিন টা। যদিও বায়োলজিক্যাল ক্লক টা তখনও এডজাস্ট হয় নি ঠিক মতো!  মাথাটা একটু ঝিমঝিম করছে বটে কিন্তু আমার উৎসাহ এত বেশি যে সময়ের ব্যবধানের জন্য শারীরিক অস্বস্তি খুব একটা মাথা চারা দিতে পারলো না। তা ছাড়া নতুন জায়গায় পায়ে হেঁটে ওলিগলি চিনে বেড়ানোর একটা নেশা আমার অনেক দিনের। আমার কলকাতার কলেজের বন্ধুরা বলতো আমি কলকাতায় ছোট থেকে না থেকেও ওদের থেকে বেশি রাস্তা ঘাট চিনি।

তা যাই হোক, ভাঁড়ার ঘরটাও তো খাদ্য দিয়ে একটু ভরতে হবে! বাড়ির কাছেই  কোগরা (kogarah) স্টেশন। অনির্বাণ বলেছিলো স্টেশনের মধ্যেই একটা শপিং সেন্টার আছে যেখানে প্রয়োজনীয় সবই পেয়ে যাবো। লক্ষ্য করলাম রাস্তা গুলো সমতল নয়। বেশ চড়াই উতরাই। উঠছি তো উঠছি, নামছি তো নামছি। হাঁটতে বেশ পরিশ্রম হলো বটে। কিন্তু নতুনকে চেনা জানার আনন্দে সেটা ঢাকা পরে গেলো।

পরের দিন অনির্বানের ছুটি। সেটা ছিল লং উইকেন্ড। ইস্টার হলিডে। ঠিক করলাম আসবাবপত্র কিনতে যাবো আইকিয়া (IKEA) তে। সকাল সকাল উঠে সকালের জলখাবার সেরেই বেড়িয়ে পড়লাম। সিডনাম (sydenham) স্টেশনে নেমে হাঁটতে হবে। কলকাতায় থাকতে গড়িয়া হিন্দুস্থান মোড় থেকে গড়িয়া মোড় কোনো দিন হেঁটে যাইনি কিন্তু এখানে তো রিক্সা বা অটো নেই যে টুক করে উঠে পড়বো।

সোনা ঝরা রোদ্দুর বাইরে। হালকা হালকা হিমেল হওয়া। বেশ চমৎকার লাগছিলো হাঁটতে। এই এলাকাটাতে গগনচুম্বী অট্টালিকার দাপট না থাকায় দু চোখ যত দূর যায় নীল আকাশ দেখা যাচ্ছিল। পেঁজা তুলোর মতো ধবধবে সাদা মেঘ গুলো দেখে গেয়ে উঠলাম, ” নীল আকাশে কে ভাসালো সাদা মেঘের ভেলা”… আসে পাশে একে তো লোকজন কম, আর যারা আছে তারাও নিজের তালে মত্ত কাজেই গলা ছেড়ে রাস্তায় গান গাইলে কেউ পাগল ভাবার নেই! যদিও আমার বড় মেয়ে একটু কড়া চোখে তাকালো।

হাঁটছি তো হাঁটছিই। মাঝে মাঝে রাস্তায় সুন্দর ফুলের গাছ দেখলে দাঁড়িয়ে ছবিও তুলে ফেলছি। একটা পার্ক দেখে সেখানেও খানিক ছবি তুললাম। এবার একটা রাস্তা পেরিয়ে প্রিন্সেস হাইওয়ে তে উঠতে হবে। একটা বোতাম টিপে দাঁড়ালাম আমরা। গাড়ির সিগন্যাল চারিদিক থেকে লাল হলো আর মানুষ যাওয়ার সিগন্যাল সবুজ হলো। টুক টুক করে রাস্তা পার করলাম।

যেখানে জেব্রা ক্রসিং এর মতো যেখানে সাদা কালো দাগ থাকে রাস্তায় সেখানে এইরকম গ্রীন ম্যান সিগন্যাল থাকে না। এখানে জেব্রা ক্রসিং কে ” পেডেস্ট্রয়ন (pedestrian crossing) ক্রসিং ” বলে এবং রাস্তায় যেখানে যেখানে সেই ক্রসিং থাকে সেখানে যখনই মানুষ হাঁটবে তখন দুদিকে গাড়ি দাঁড়িয়ে যাবে। আমার মেয়ের আবার সেটা খুব পছন্দ! বলে, “নিজেকে খুব ইম্পরট্যান্ট মনে হয়, আমি যাচ্ছি বলে দুদিকে গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ছে।”  তবে এই ক্রসিং গুলো সাধারণত ছোট রাস্তাতেই থাকে, মানে পাড়ার ভেতর। বড়ো রাস্তাতে সব বোতাম টেপা গ্রীন ম্যান লাইট।

যাইহোক, রাস্তা পার করে আবার হাঁটা শুরু।

“ওরে বাবারে আর কত হাঁটা “, খুব বিরক্ত হয়ে বলেই ফেললো রুয়ম।

“ওই তো দেখা যাচ্ছে, দেখ বিশাল করে লেখা আইকিয়া (IKEA)”, বলে অনির্বাণ আঙ্গুল দিয়ে দেখালো।

যে কোনো মলের থেকেও বড় বোঝা যাচ্ছে বাইরে থেকে। এটা একটা দোকান? বেশ অবাকই হলাম বটে!

চোখে দেখতে পাচ্ছি অথচ দরজা অবধি গিয়ে পৌঁছতে পারছি না এত বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে। গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা গুলো পেরিয়ে অবশেষে পৌঁছালাম দোর গোড়ায়।

“দরজার সামনে দাঁড়ালেই তো খুলে যাওয়ার কথা, খুলছে না কেন?”, বলতে বলতে অনির্বাণ মোবাইল টা নিয়ে আইকিয়ার (IKEA) টাইমিং দেখতে গিয়ে দেখলো লেখা আছে আজকে বন্ধ। পাবলিক হলিডের কথা যে মাথাতেই ছিল না বেচারার!

দুপুরের খাওয়ার এখানেই খাবার কথা। রান্নাও তো করিনি।এ বাবা, এবার? অগত্যা মন খারাপ করে আবার উল্টো পথে হাঁটা।

এতক্ষনে খেয়াল করলাম আমার পায়ে প্রচন্ড ব্যথা করছে। এতটা হাঁটতে হবে জানলে কি আর হীল জুতো পরে বেরোতাম? কেনে আঙুলে ফোস্কাও পরে গেছে। রুয়মেরও যে বেশ কষ্ট হচ্ছে সে ভালোই বুঝলাম। আমার দেখাদেখি সেও একটা হীল জুতো পড়েছে যে!

কোনো রকমে আবার এসে পৌঁছালাম সিডনাম স্টেশনে। এ দেশে পাবলিক হলিডে তে সব কিছুই বন্ধ থাকে সে অভিজ্ঞতা সেদিনই হলো। পরে জানলাম পাবলিক হলিডেতে যারা কাজ করে তাদের পারিশ্রমিক দু গুন্ হয়। তাই দোকান পাঠ রেস্টুরেন্ট সব বন্ধ রাখাই শ্রেয় মনে করে মালিক গণ। খুব ভাগ্য করে একটা বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট খোলা পেয়ে কোনো রকমে দুটো নাকে মুখে গিলে বাড়ির দিকে হাঁটা লাগলাম। পা দুটো ছিঁড়ে যাচ্ছে, একটু রেস্ট চাই! 

উফঃ অবশেষে বাড়ি। ব্যাগ থেকে চাবির থোকা টা বের করে বুঝতেই পারছি না কোন টা এই দরজার লকের। এখানে ওই অটোমেটিক দরজা। টেনে দিয়ে বেরিয়ে যাও। বড় গ্রিল নেই, তিন চারটে তালা লাগানোর ব্যাপার নেই। খুব সহজ যদি দরজা খোলার ঠিক চাবিটা  থাকে। কিন্তু এই চাবি গুলো তো একটাও এখানকার না!

“ওওওও এটা তো কলকাতার ফ্ল্যাটের চাবি!”, প্রচন্ড বোকার মতো বলে উঠলাম।

“এবার ???”, প্রচন্ড চিন্তিত মুখে রুয়ম প্রশ্ন করলো।

ভুল যে কারোরই হতে পারে এই মতে বিশ্বাসী হওয়ায় আমি বা অনির্বাণ কোনো ভুলের জন্যই কেউ কারো ওপর চিৎকার চেঁচামেচি করি না। বরং ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করি। এ অবশ্য আমার অনির্বানের কাছেই শেখা। তাই বকা খেলাম না কোনো। কিন্তু ডুপ্লিকেট চাবি তো রিয়েল এস্টেট এজেন্টের অফিসে! অনেক বার ফোন করা হলো কিন্তু কেউ ওঠালো না। মনে পড়লো সে তো আজ বন্ধ।পিটার নামক এক ভদ্রলোক আমাদের বাড়ির তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত এক ব্যক্তি। তাকেও ফোন করা হলো কিন্তু যথারীতি তুললো না।

উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে এক গুজরাটি ফ্যামিলি থাকতো তখন। ভরত  ভাইয়া আর সঙ্গীতা ভাবি। দুদিন হলো আলাপ হয়েছে। এখানে বিশেষ কেউ কলিং বেল লাগায় না বাড়িতে। অগত্যা তাদের ঘরের দরজায় ধাক্কা দেওয়া হলো। দরজা খুলে আমাদের কাচু মাচু চোখ মুখ দেখে ওরা বুঝলো কোনো বিপদে পড়েছি।

এরকম বিপদে পড়লে উদ্ধারের জন্য রয়েছে “লক স্মিথ (lock smith)। তাদের কল করলে এসে তাদের যন্ত্র পাতি দিয়ে খুলে দেয় দরজা। গুগল করলেই আসে পাশের লক স্মিথের নম্বর পাওয়া যায়। কিন্তু তার দরকার পড়লো না। ভাইয়া দেখালেন আমাদের সবার ঘরের দরজার ওপর ছোট্ট একটা স্টিকার লাগানো আছে। কোনো  কোনো আসে পাশের লক স্মিথ নিজের নম্বর দিয়ে স্টিকার বানিয়ে এরকম দরজার ওপরে লাগিয়ে দিয়ে যায়। আমরা খেয়ালই করিনি।

তাকে ফোন করতেই জানা গেলো সে আসে পাশেই কোথাও আছে। ৫মিনিটে চলে আসবে। আমরা নিচে গিয়ে দাঁড়ালাম যাতে ইউনিট খুঁজতে এক মিনিটও বেশি না লাগে ভদ্র লোকের। খানিকক্ষণের মধ্যেই একটা গাড়ি নিয়ে উপস্থিত হলো সে। এই ধরণের গাড়ি গুলোকে “ট্রেডি ট্রাক” বলে এখানে। বিশাল বড় বড় সব বাক্সে কত রকমের যন্ত্রপাতি যে থাকে কি বলবো! বুঝলাম নানা রকম দরজা খোলার বিশারদ উনি।

এসেই বললেন কোনো ফটো আইডেন্টিটি প্রুফ দেখাতে। কি বিপদ, সে সব তো ঘরের ভেতর! পাশের বাড়ির ভদ্রলোকও আমাদের সাথে বললেন যে আমরা নতুন এসেছি। দু মিনিটে দরজা খুলে দিলো। অনির্বাণ তাড়াতাতি ফটো আই ডি দেখিয়ে আশ্বস্ত করলো যে অন্যের বাড়ির দরজা খুলে ঢুকে পড়ছি না।

দরজা তো খুললো কিন্তু উনি বললেন কার্ড মেশিন নিয়ে আসে নি তাই ক্যাশ দিতে হবে। এখানে কম বেশি সবই ক্যাশলেস তাই ক্যাশ রাখার অভ্যেস টা খুবই কম। তায় আবার এনার চার্জ নেই নেই করে কম নয়। ভরত ভাইয়া আমাদের আশ্বস্ত করে ওনাকে পারিশ্রমিক দিয়ে বিদায় করলেন। ওনাকে পরে টাকা তুলে ফেরৎ দিয়েছিলাম।

ঘরে ঢুকে এক রাশ স্বস্তির নিঃস্বাস ফেললাম সবাই। কলকাতার বাড়ির চাবি ঢুকে গেলো আলমারি তে, এখানকার চাবি পাকাপাকি ভাবে স্থান নিলো ব্যাগে। সামনের সপ্তাহে প্রচুর কাজ। এক এক করে সব করতে হবে। ফাঁকা বাড়িটাকে নিজে হাতে ভালো-বাসা বানাতে হবে। আবার একবার শুরু থেকে শুরু।

মন্তব্য করুন




আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত