দশপ্রেম খেয়ে নেয় বুকের পাঁজর
কাটাতারের ঐ নগ্নতায় ছেঁয়ে আছে আমার সব। চেতনগড়ে চিন্তারা খেয়ে নিচ্ছে মগজের গুহ্যকূপ। আমি ঝিম ধরে বসে আছি। ঈশ্বর রেগে যাবেন বলে বসে বসে দেখছি পাশা খেলা, আর কি অবলীলায় খেয়ে চলেছি দেবালয়ের লুচি সিংগারা আরও কত কি। অথচ তুমি সীমানার ওপার থেকে শুষে নাও তাপ। যেন ঝিঝি পোকার হঠাৎ চিৎকারে ফেটে যাবে মাটির কাঁসা সব, এমনিই ত্রাহি অবস্থা। সে ভয়ে তুমিও আসছো না এপারে না আমিও। কি দারুণ নিয়মে চলেছি মেঠে আইল থেকে কুঁড়ে নখরের পীচঢালা ছেঁচে ফেলা জীবনে। নারদ নকশায় ভাঁজের মন্ত্রে। একদিন ঠিক একদিন আজ থেকে ধরো কোন এক সন্ধ্যায় আমিও তো বুদ্ধগুপ্তের মতো দিকবিদিক ছুটে কুড়িয়ে এনেছিলাম মালা-শিউলি-বকুল-তমালের ঘরে বিদেশি অর্কিড, জিপসি আরও কত কি বর্গী প্রেম। সমুদ্রের নোনা স্রোত ভেসে ভেসে বঙ্গ থেকে সিংহল-সুমাত্রা-জাভা আর মালয়ের চিকন সারি দেহের ভাঁজ ছুয়ে অবশেষ নগ্ন প্রণালি ভেদে তোমার উজান এঁদোমাটির জমিন। তোমার সে বুকে আমিই তো রোপন করেছি ভাত সভ্যতার ফুল আর তুমি সে সভ্যতায় ফলিয়েছো ভাটফুল, ছেঁড়া আঁচলে মাঘের শীত। আর বিদিশার শরম চোখে লাগিয়েছো বাঙলার ঘোলা তেঁতো জল। যেন রাতের অন্ধকারে ছুয়ে দেওয়া নিঃশ্বাস যেমন জাগিয়ে দেয় ক্ষীণ দেহে আদি ঘ্রাণ। আমিও সে ঘ্রাণে ঝাঁপ দেই বাঁচার স্বপন ভেবে তোমার মরন ছোবলে। এভাবেই একদিন তোমার আঁচল ছিঁড়ে দু’ফাঁক হয়ে দাঁড়িয়ে যায়, গজে ওঠা আগাছার দেয়াল-কাঁটাতার। আমি এপাশে তুমি ওপাশে যেন আদি গঙ্গা ভাগ হয় অজাত শশ্রুর বুড়ি গঙ্গায়। যেখানে আজ খেলা করে বোকা চাঁদ হাটু জলে আর নুন পিরিতির বাঁসর হয়ে ওঠে দেশপ্রেম যেনো খেয়ে নেয় বুকের পাঁজর।

কবি