| 20 এপ্রিল 2024
Categories
কবিতা সাহিত্য

তিনটি কবিতা । যাজ্ঞসেনী গুপ্ত কৃষ্ণা

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট
কেষ্টযাত্রা 

দিনগুলো মাসগুলো লাঙল আর মইএর মতো। খোলা আকাশের নীচে প্রতিদিন জীর্ণ হয়ে যাচ্ছে –  

প্রাগৈতিহাসিক উপকরণের মতো সংরক্ষণযোগ্য হলেও বাতিল, তাই
সেগুলো দিয়ে আর চাষাবাদ হয় না।
 
নিষ্কর্মা ভবঘুরে আমি এখানে ওখানে কান পাতি।
কাছে দূরে হৈ চৈ শুনতে পাই, কলরব শুনতে পাই। অথচ এতসব কথার সঙ্গে আমার কেনো সম্পর্কই নেই। তবু এইসব হৈচৈ আর কলরবের ভেতর  
আমিও কেমন একটু করে ফতুর হয়ে যাচ্ছি।  ফুৎকারে উড়ে যাচ্ছে আমার এক একটা দিন।
কলম কেমন ভারী হয়ে যাচ্ছে, লাঙল মইএর মতো ভারী। 
কথার ফেনায়, ইয়ার্কি আর অসভ্যতার ক্বাথ মিশছে মরা গঙ্গায় 
যাও, যাও, মা গঙ্গা সব ভাসিয়ে নিয়ে যাও !
ইয়ার্কির মাঝে ধিনি কেষ্টর মতো দাঁড়িয়ে আছে দেশটা। 
আমরা সখার দল কেবল ধুয়োই তুলে চলেছি।   
 
 
 
 
 

অব্যক্ত 

এক

হাওয়ার আঘাত লেগে মনের পাতা ঝরে পড়ে

যেমন মাটির বন্দরে ভিড়ে চৈতি পাতারা সমুদ্রগামী হয়

ঠিক এখনই যেন এক জাদু মুহূর্ত –  আশ্চর্য নির্লিপ্তি ছড়িয়ে আছে চরাচরে

 

চরাচরই মগ্ন বুদ্ধ  

 

তবুও পৃথিবী কাঁদে হাওয়ার এস্রাজে 

আর জলের গাল বেয়ে কান্নার ফোঁটার মতো ভেসে যাচ্ছে নৌকোটি

   

দুই

 

এরপর বুদ্ধও মরে যায় স্বভাবতই , আর সামান্য হাওয়ার আঘাতে পাতার মতো মানুষও গড়িয়ে যাবেই 

ঈশানের মেঘ বরাবর পালিয়ে যেতে চায় জানলার শার্সি , তাঁবুর দড়ি –  

সদ্য রজঃস্বলা আমি এই সারদা কিস্কু, হলদেটে কাপড়ে শুষে নিতে চেয়ে সব বদরক্ত… তবু পরিত্রাণ নেই। দিগন্ত বেঁধছে আমায়, সেই বাঁধন কেটে আমি কি পালিয়ে যেতে পারি? তাই প্লাস্টিক কারখানায় দৌড়োই।

ব্যথাকে বেঁধেছি তলপেটে,  

বাসি উনুনের জন্য অন্য মেয়েদেরও জ্বালানির আগুন বাঁধতে কি দেখোনি?  

 

জলের খর স্রোতে তৃষ্ণার্ত কাকের চঞ্চু ঝাঁপায়  – পলায়নবাদী পা জুড়ন চায় জলের কাছে।

সেখানে জলের কুরুশে গল্প বোনা চলে… 

অথচ পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গের মতো ‘একতার মূর্তি’ অদ্বিতীয় ভগবান হয়ে 

পাহাড় জঙ্গল নদীর উপর দিয়ে চোখের ছুরি বিঁধে দিচ্ছে প্রতিটি সিনায় , 

তার নখের কণাটুকুর মূল্যেও কারও কারও পেটের আগুন নেভে ।- 

কিংবা নির্মাণের ঢলানিপনায় নখের কণিকা ধোয়া জলে সত্যিই কারও পেটের আগুন নেভে কি?     

 

টঙ্কার 

পলক ফেরাতেই কী যেন একটা গড়িয়ে নামল, ভাবলাম আমার হারানো ছায়াটা ফিরে এলো। কিন্তু না, আমার ছায়াকে কোথাও দেখতে পেলাম না।

এবার আমার আস্তিন গুটিয়ে নিচ্ছি, হাতে যত খুশি নোংরা ঘাঁটো, জামাটা সাদাই থাকবে। 
সাদা আর কালোর মধ্যে কোনটা সত্যি কোনটা মিথ্যে – 
এসব ভাবতে বসি তাদের দোরগোড়ায় – যারা আমাকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতে চায় যাঁতায় শস্য ভাঙার শব্দে
কিন্তু আমি ঘুরে দাঁড়াচ্ছি, একটা টঙ্কার ছড়িয়ে দিতে চাইছি শব্দের তরঙ্গ যতদূর 
 
 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত