বিমলার জীবনের ‘কারফিউ’

বিয়ের আগে :
বাবা—বিমলা, তোমাকে শেষবারের মতো বলে দিচ্ছি, সন্ধ্যার পরে বাড়ি ফেরা, দ্বিতীয়বার এই সাহস যেন না হয়!
মা—-মুখপুড়ি, মেয়ে হয়ে জন্মেছিস, জানিস না মেয়েদের রাতের আকাশ দেখতে নেই!
দাদা—বিমলা, আর একদিন যদি বাড়ির বাইরে আমার কোন বন্ধুর নজরে পড়েছিস, তো তোর একদিন না হয় আমার….
দাদু—-দিদিভাই, মাথা নীচু করে স্কুলে যাবে, আসবে |  ছেলেদের দিকে চোখ তুলে তাকাবেনা | বিকেল বিকেল বাড়ি ফিরবে | বলে দিলাম!
বিয়ের পরে :
স্বামী—বিমলা, মনে রেখো  তুমি একজন ভদ্রলোকের স্ত্রী | ভবিষ্যতে যেন আর কোনদিন সন্ধ্যার পরে তোমাকে বাড়ির বাইরে না দেখা যায়!
ছেলে—মা, বাইরের কাজগুলো তো দিনেই শেষ করতে পার, নাকি?
শ্বশুড়মশাই—বৌমা, সমাজে আমাদের পরিবারের একটা নাম-ডাক আছে | আমি চাইনা বাড়ির বউ হয়ে তুমি রাতের অন্ধকারে বাড়ির বাইরে থাক!
মেয়ে— বাবা, দাদা, দাদু, সবাইতো কত রাত করেও বাড়ি ফিরে | তবে তোমাকে কেন এত কথা শুনতে হয়, মা? তোমার বেলায় কেন নির্দিষ্ট গন্ডি টেনে দেওয়া হয়?
বিমলা— এ’ হচ্ছে একটা নারীর জীবনে আরোপিত ‘কারফিউ’, সোনা!

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত