বব ডিলানের নোবেল ও প্রবল বাঙ্গালী কানেকশন

১০ বারের বেশি গ্র্যামী আওয়ার্ড, একবার গোল্ডেন গ্লোব ও সঙ্গীতে অস্কার বিজেতা বব ডিলানকে নোবেল পুরস্কার ২০১৬ দেয়া হল সাহিত্যে। ১৯৯৩ সালের পরে ২০১৬ তেএকজন আমেরিকান সাহিত্যিক এ পুরস্কারটি পেলেন।

যাহোক বিষয়টি নিয়ে অনেক বিতর্ক হচ্ছে-কারণ তিনি সঙ্গীতজ্ঞ; তবে তাঁকে সঙ্গীতে অবদানের জন্য নয়, সাহিত্যে অবদানের জন্যই দেয়া হয়েছে এ পুরস্কার, কারণ তার গানের কথাগুলো সাহিত্যের ধারায় বদল এনেছে, যেমন এনেছিলেন বাঙ্গালী গীতিকার ও কবি রবীন্দ্রনাথ (১৯১৩),চিলির কবি গাব্রিয়েল মিস্ট্রাল (১৯৪৫ সালে), স্প্যানিশ কবি হুয়ান র‍্যামন হিমেনেজ (১৯৫৬), ইতালির কবি সালভাতর কোয়াসিমোডো (১৯৫৯) ও সুইডিশ কবি নেলি স্যাশ (১৯৬৬);তাদের নোবেল স্বীকৃতি দানের ধারাবাহিকতায় ডিলানকেও এ বছর বেছে নিল নোবেল কমিটি।

ডিলানের ‘ব্লোয়িন ইন দ্য উইন্ড’ আর ‘টাইমস দে আর-আ-চেঞ্জিং’আমেরিকার সিভিল সোসাইটিতে প্রবল আন্দোলন তৈরি করেছিল । এই আন্দোলনে তার গান ছিল কিছুটা জাতীয় সঙ্গীতের মত। ডিলানের জীবনের প্রথমদিককার গানের কথা ছিল মূলত রাজনীতি, সমাজ, দর্শন ও সাহিত্যিক প্রভাব সম্বলিত। এগুলো তখনকার জনপ্রিয় ধারার কথিত নিয়ম বহির্ভূত ছিল এবং এ ধারার বিপরীত হিসেবে ধরা হত। নিজস্ব সঙ্গীত ধারা প্রসারের পাশাপাশি তিনি আমেরিকার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীতের প্রতি আকর্ষন অনুভব করেছেন। তিনি আমেরিকান লোকগীতি ও কান্ট্রি/ব্লুজ থেকে রক অ্যান্ড রোল, ইংরেজ, স্কটিশ, আইরিশ লোকগীতি, এমনকি জ্যাজ সঙ্গীত, সুইং, ব্রডওয়ে, হার্ডরক এবং গসপেলও গেয়েছেন। ডিলান সাধারণত গিটার, কিবোর্ড এবং হারমোনিকা বাজিয়ে গান করেন। ১৯৮০ দশক থেকে কিছু সংগীতজ্ঞকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন সঙ্গীত ভ্রমণ করে থাকেন যা তার ভাষায় ‘নেভার এন্ডিং ট্যুর’।

তার জীবনের সেরা কনসার্টগুলোর একটি ছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ যা ঘরকুনো, আত্মকেন্দ্রীক আমেরিকানদের দুনিয়ার একটি ছোট্ট ভূখন্ড ও মুক্তিকামী মানুষদের সম্পর্কে শুধু জানানই দেয়নি, জানান দিয়েছিল তৎকালীন নিক্সন সরকারের যুদ্ধংদেহী ও নীতিহীন পররাস্ট্রনীতি সম্পর্কে। একটি ছোট্ট দেশকে কেন্দ্র করে পুরো সরকার একদিকে আর সমস্ত সিভিল সোসাইটি ও জনগন একদিকে ছিল। কেনেডি, রবীশংকর, জর্জ হ্যারিসন, অ্যালেন গীন্সবার্গদের সাথে তিনিও ছিলেন বাংলাদেশের বন্ধু। কনসার্ট ফর বাংলাদেশ মঞ্চে তিনি গেয়েছিলেন-‘ইট টেকস আ লট টু লাফ’, ‘লাভ মাইনাস জিরো’ এবং ‘জাস্ট লাইক আ ‘ওম্যান’,‘ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড্‌ ‘আ হার্ড রেইনস আ-গনা ফল’ যা আলোড়ন তুলে একদিনেই বাংলাদেশের নাম জানিয়ে দিয়েছিল সারা পৃথিবীকে। কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত আড়াই লাখ মার্কিন ডলার ইউনিসেফের মাধ্যমে দেয়া হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা ও স্বরনার্থীদের সাহায্যার্থে।

পরবর্তীতে রেকর্ড বিক্রির টাকাও ফান্ডে দিয়ে দেয়া হয়। এক একজনের জন্য ৪ টি টিকেট বাধ্যতামূলক হলেও গুনে গুনে ৪০,০০০ দর্শক হয়েছিল সে কনসার্টে।

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ মঞ্চে গাওয়া গানের লিংক – লাইভ ইন ১৯৭১,১লা আগস্ট

এরপরেও ডিলানের বাঙ্গালী কানেকশন আর আছে প্রচুর। তার বাঙ্গালী বন্ধু পূর্ন দাস বাউল। তার ছেলের বিয়েতে কলকাতা এসেছিলেন ১৯৯০ সালে।
যেটা তেমন কেউ জানেনা সেটা হল, তিনি একজন চিত্রশিল্পীও বটে। কিছু নিরীক্ষাধর্মী গ্রন্থ, গদ্যকবিতাও আছে তার। নোবেল কমিটি সেগুলোর কথাও বলেছে।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত