জয় দিয়ে শুরু করলো কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম

বঙ্গবন্ধু বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ১৬৩ রান লড়াকু টার্গেট দিয়েছিল সিলেট থান্ডার। শুরুতেই উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়ে গিয়েছিল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

তবে ইমরুল কায়েসের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে সেই বিপদ কাটিয়ে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে দলটি। মিরপুরে চলতি বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেট থান্ডার্সকে ৫ উইকেট আর ১ ওভার হাতে রেখেই জয় পেয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

সেই বিপদ থেকে দলকে উদ্ধার করেছেন চার নম্বরে নামা ইমরুল কায়েস। পঞ্চম উইকেটে চ্যাডউইক ওয়ালটনকে নিয়ে ৫২ বলে ৮৬ রানের ম্যাচ জেতানো এক জুটি গড়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

৩৮ বলে ২ বাউন্ডারি আর ৫ ছক্কায় ৬১ রানের ঝড় তুলে শেষ পর্যন্ত ইমরুল ফিরেছেন ইবাদত হোসেনের শিকার হয়ে। ততক্ষণে অবশ্য জয় বলতে গেলে নিশ্চিতই হয়ে গেছে চট্টগ্রামের। ১৪ বলে দরকার তখন ১৩ রান। ওয়ালটন ৩০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে জনসন চার্লসের শুরুর ব্যাটিংয়ের পর মোহাম্মদ মিঠুনের ঝড়ো ফিফটিতে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬২ রান তুলে সিলেট থান্ডার্স।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিপিএলের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ রংপুর রেঞ্জার্সকে ১০৬ রানে হারিয়েছে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। কুমিল্লার দেওয়া ১৭৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে রংপুর ১৪ ওভারে অলআউট ৬৮ রানে। টস জিতে আগে ব্যাটিং করা কুমিল্লার শুরুটা যদিও ভালো হয়নি। ইনিংসের মাঝেও স্বচ্ছন্দে এগোতে পারেনি তারা। ১৭ ওভারেও ৬.৩৫ রানরেটে কুমিল্লার স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১০৮। এভাবে এগোতে থাকলে স্কোর ১৩০ রানের বেশি হওয়ার কথা ছিল না কুমিল্লার। ম্যাচের চিত্রটা বদলে গেল এরপরই। ১৮তম ওভার থেকে চালাতে শুরু করলেন শানাকা। গ্রেগরির করা ওই ওভারে উঠল ১৬ রান।

নিজের প্রথম ৩ ওভারে দারুণ বোলিংই করেছিলেন মোস্তাফিজ। ৩ ওভারে ১২ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। সব চেষ্টা তাঁর বৃথা গেল ১৯তম ওভারে। শানাকা তাঁকে টানা চারটা ছক্কা মারলেন। একটা ছক্কা তো আরেকটু হলে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের ছাদ পেরিয়ে স্টেডিয়ামের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম! মোস্তাফিজের ওই ওভারে উঠল ২৬ রান। ইনিংসের শেষ ওভার করা জুনায়েদ খানও বাঁচতে পারেননি শানাকার ধোলাই থেকে! ২০তম ওভারে এল ২৩ রান।

শেষ ১৮ বলে কুমিল্লা নিয়েছে ৪৯ রান। এর মধ্যে শানাকার রানই ৪৬। কুমিল্লা অধিনায়ক অপরাজিত ৩১ বলে ৭৫ রান করে। বিপিএলে আজকের দ্বিতীয় ম্যাচ এতটায় শানাকাময়, পরের ইনিংসে কী হয়েছে সেটি বিশেষ কোনো তাৎপর্য বহন করে না! এমনকি শানাকার রানই করতে পারেনি রংপুর। ১৭৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে আল আমিন, সৌম্য সরকার, মুজিবুর রহমান, সানজামুলদের বোলিংয়ে খাবি খেয়ে রংপুরের ব্যাটসম্যানরা এসেছেন আর গেছেন। রংপুর পুরো ২০ ওভারও খেলতে পারেনি। ১৪ ওভারে ইনিংস থেমে গেছে ৬৮ রানে।

প্রায় শূন্য গ্যালারির মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শানাকার ব্যাটিং রাতে যা একটু রং ছড়াল। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই তিনি প্রমাণ করলেন, স্থানীয়দের পেছনে রেখে তাঁকে কেন অধিনায়ক হিসেবে বেছে নিয়েছে বিসিবির অর্থায়নে পরিচালিত কুমিল্লা।

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত