ব্রেকআপের পরে (পর্ব-২)

 

ব্রেকআপের পরেও সাধ্য সাধনা থাকে দেখা হওয়ার। উল্টো নিয়মে কিছু সুযোগ ও আসে। সেই মুহূর্ত থেকে শুরু হয় নতুন এক দোলাচল। দূরত্ব কী? দূরত্ব মানে দেখা করতে সেজে যাবো না, না সেজে যাবো ঠিক করা যায় না। সেজে গেলে হয়তো ভাববে, ‘এই তো দিব্য চলছে, কোথাও কোন অসুবিধে নেই’; না সেজে গেলে হয়তো ভাববে ‘সব ই তো ঠিক আছে, শুধু আমার সামনে দুখী সেজে ঘুরে বেড়ানোর কী মানে?’ হয়তো সামনের লোকটার এসব কিছুই মাথাতেই আসবেনা, তবু দূরত্ব মানে দুজন কাছের মানুষের মধ্যে ঢুকে পড়া বন্যা জল, সবটুকু সহজতা ভাসিয়ে নিয়ে যেতে সে সিদ্ধহস্ত। তবু দেখা হয়, একঘেয়ে কিছু অভিযোগ বাজে সারেঙ্গিতে, তুমি ছড় টানো, আমি ভেসে যাই।যে বাজাচ্ছে আর যে বাজছে, দুজনের মধ্যে একটুকরো জমি শুধু নো-ম্যানস ল্যান্ড হয়ে পড়ে রয়েছে।যে বাজাচ্ছে, তার আঙুল ক্ষত বিক্ষত,যে বাজছে টুকরো হয়ে শতধা হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। দূরত্ব অহঙ্কারী,সে পরিত্রাণ চায় না।সময় না থামলে কেউ ই থামেনা।
দূরত্ব ঘুরে দেখা প্রতিটি গলি, পথ যেখানে আমাদের ছায়ারা কাঁধে কাঁধ হেঁটেছিল, দূরত্ব ফিরে যাওয়া সেই নদীটির কাছে যার জলের ধারে কটা লাইন এখনো ঝাপটে মরছে, ‘যদি জানতেম, আমার কীসের ব্যথা।’ আমি সেই সব নদী, রাজপথ, ফেলে আসা ভাঙা নাটমন্দিরে বারবার যাই, সময় করে, অপব্যয় করি।
দূরত্ব কিছু সাদা চোখে দেখেনা।সন্দেহ তার স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য।
সে ফিরে ফিরে হাঁটা এক ই গলিতে দেখতে পায়না। সে ‘কার সঙ্গে ফিরে গেছ’ খোঁজে।
দূরত্ব সবটুকু আছড়ে, আঁচড়ে, ভেঙে ফেলার নাম।

দেখা হলে তুমি বারবার জবাবদিহি চাও, ‘কেন’ খোঁজ।
আজকাল তুমি বলো , আমি না থাকলেও সবসময় তোমার সাথেই থাকি, বলো‌ নিরন্তর কতো কষ্ট পাচ্ছ, বলো‌ একটুর জন্য ও সরিয়ে রাখতে পারোনা তুমি আমাকে; অথচ কী আশ্চর্য, গোটা সম্পর্কে র স্প্যান জুড়ে কখনো বলোনি এসব কথা। বলোনি ছায়ার মতো ঘিরে থাকি আমি তোমায়। বললে,আজ আঙুল ছোঁয়া দূরত্বে বসে অসীমের গান, শূন্যতার গান গাইতে হতোনা।
ব্রেকআপের একটা ভালো ফলাফল আমি অনেক খুঁজে বের করেছি। যা কখনো বলোনি, আজ কী অকপটে বলো যে তুমি আমাকে ভালোবাসো, তোমার মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষে আমার রিনরিন স্মৃতি হয়ে বাজে, আমার সঙ্গে কাটানো সময় তোমার জীবনে র সেরা মুহূর্ত!
এই সহজ কথাগুলো বলতে একটা ব্রেকআপের দরকার হল! মানুষ কী আশ্চর্য ভাবে মরুভূমির পথে হাঁটে।প্রেমহীনতার দোহাই দিয়ে প্রেম খোঁজে।
বারে বারে বোঝাও, আমার উপস্থিতি তোমাকে অসুবিধা য় ফেলে, অতএব…।

আমি জেদি , তাই তোমাকে পেয়েছিলাম, আমি জেদি, তাই হারাতে দিইনা কিছুতেই।

চাঁদের আলোয় এখন পূর্ণ স্নান
জোনাকরঙা দুঃখ ওড়ে কেমন
মায়াবী কোন সময় খিল তোলে
বিস্তার আর আলাপ গড়ে রাত

তোমার ছোঁওয়া জায়গাগুলো ছুঁই
সময় গোনে পলক ফেলার ঢেউ
পথের মধ্যে পথ রেখে যাই যতো
প্রহরগুলো আকুল কান্না-রোল

এসব তুমি বুঝবেনা কক্ষনো
তোমার কান্না ভিন্নরকম, একা।
আমার স্মৃতি হাতড়ে মরে, পোড়ায়
অভ্যাসেরা সঞ্চয়ী খুব, মানি।

চেষ্টা করি আলগা মুঠো রাখা
চেষ্টা করি ঘুমিয়ে পড়ার সুখ
সমস্ত দিন নিজের মধ্যে ঘোরা
তোমার পথেই নিত্য আগন্তুক।

.

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত