ব্রেকআপের পরে (শেষ পর্ব)

দুজন মানুষের মধ্যে একটা রাস্তা চলে। সে রাস্তা নিজেই পথ হাঁটে। সে রাস্তার দিক ভুল হয়ে শুরু-শেষ গুলিয়ে গেছে। দুটো মানুষের পথকে তফাতে রাখতেই তার চলা, মাঝখানটিতে। ওই মাঝখানটিতে কিছু সুর উজ্জ্বয়িনীর মেঘটুকু ঠোঁটে করে কুড়িয়ে এনে রেখেছিল।দুটো চোখে বেজেছিল মেঘমল্লার আর খুব জোরে বৃষ্টি এসেছিল…বৃষ্টি…ঝাপসা করে দেওয়া বৃষ্টি।
ওই মাঝখানটিতে ঘট পাতা হয়েছিল, উলুধ্বনি, শাঁখ বেজেছিল মনে মনে, গায়ে হলুদের রঙে সোনার মতো সেজেছিল আকাশ,আর প্রথম চুম্বনের মতো তিরতির কেঁপেছিল পাতারা, তখন খুব হাওয়া দিচ্ছিল, পথের সব ধুলো উড়ে গিয়েছিল, এমন হাওয়া।ওই মাঝখানটিতে তারপর একসময় অন্ধ অন্ধকার, গর্তগুলো হাঁ করা।মনের মাধুরী বিছানো মোহগ্রস্ত পথে ছিল দুজনের স্পর্শের সৌরভ।তারপর অনেকটা পথের শেষপ্রান্তে যে আলোকশিখাটি জ্বলতে দেখে , খানিক নিশ্চিন্তি, খানিক আঙুল জড়িয়ে পথ হাঁটা, সেটার দপ করে নিভে যাওয়া।
দুটো মানুষের কিছু বলার থাকেনা। ওই নিশ্চিন্তিটুকু চলে গেলে কী ই বা পড়ে থাকে বলো?

পথ হাঁটে। সময় থমকায়।পদে পদে। ত্রস্ত জোছনায় গলে যায় চাঁদ।দুটো মানুষ এক রাস্তায় হাঁটে, দূরত্ব দোসর হয়।ঠোঁটের ফাঁকগুলো ভরিয়ে তোলে নিশ্চিন্ত এক ঘৃণা। মেরুকরণ ঘটে দুর্বার জলস্রোত আর ভেঙে যাওয়া পাড়ের গল্পের।

শেষবারের মতো চলে যাওয়ার আগে কিছুতেই বলা হয়ে ওঠেনা” আমার আকুল জীবনমরণ টুটিয়া লুটিয়া নিও,তোমার অতুল গৌরবে…।”

বিষাদ নিয়ে হাঁটছি দেখো বৃষ্টিজল
কপাল জোড়া আনমনা এক আলপনা
হোঁচট খেয়ে খুব বেসামাল রাত্রি দিন
তুমিও আমার আঙুল ছুঁতে পারলে না?

ফুরিয়ে যাবার দিকে এবার চলার বেগ
দুঃখ আমায় একলা করে,বিষাদ রাগ।
কতক্ষন আর একলা কাঁদা, মন-আনচান
বৃষ্টি ঝরে, শুকিয়ে থাকে জলের দাগ।

ফুরিয়ে যাওয়া রাতকথারা কী নিশ্চুপ
ঘুমপাড়ানি গানের কেন মুখটা ভার?
সমাপ্তি-গান গাইবে তুমি অসুখ-চোখ
তুমিও আমায় সামলে নিতে পারলে না??

 

 

 

 

 

.

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত