শ্রীচরনষেু বিদ্যাসাগর মহাশয়

আজ ২৯ জুলাই বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবস। ইরাবতী পরিবার তাঁকে স্মরণ করছে কৃষ্ণা রায়ের লেখায়।


পরম শ্রদ্ধেয় মহাশয়,

জানিনা এ চিঠি আপনার কাছে পৌঁছবে কি না। জাগতিক মৃত্যুর পর পরকাল বলে কিছু আছে কিনা  তাও  জানিনা, তবে এটুকু জানি,  জীবদ্দশায় আপনার কাছে পরকাল বলে কিছু ছিলনা।  আপাদমস্তক যুক্তি নিষ্ঠ পণ্ডিত আপনি, তাই সুযোগ পেলে এই ধরণের বাক্য উচ্চারণের জন্য নির্ঘাত তিরস্কার করতেন। আসলে  আপনাকে বলার জন্য অনেক কথা জমে আছে, হয়তো সে  সব কথা আমার একার নয়, শতাব্দী কাল ধরে   কত সহস্র বাঙালি মেয়ের  নিভৃত অন্তরের  কথা।

সেই  অন্তর- তাড়নায়  আপনার কাছে এই পত্র লেখা। আজকাল কেউ আর বিশেষ পত্রটত্র লেখেনা।   কিন্তু  আপনি তো “মুখবই” বা  হলো  টা কী গোছের  আধুনিক প্রযুক্তির কৌশলে লেখালেখি চেনেন না। তাই সাবেকি চিঠির আশ্রয় নেওয়া ভাল বলে মনে হল। কিন্তু  কি বলে যে আপনাকে সম্বোধন করব বুঝতেই  পারছিনা। আপনি সম্ভবত আমার অতি বৃদ্ধ পিতামহের বয়সী।  ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ভাবে আপনাকে কাছে পাওয়া  সম্ভব হয়নি।  বিস্মৃতিময় অতি প্রাচীন শৈশব থেকে আবছা আবছা বুঝতে পারার বেলা অবধি  আপনার শুধু ছবিই দেখেছি। শুনেছি আপনি সুদর্শন ছিলেন না। কাকে বলে সুদর্শন আজও বুঝিনা। আমার অতি মধ্যবিত্ত পারিবারিক পরিমন্ডলে, কিছুটা   দারিদ্র লাঞ্ছিত শৈশবে,  অথবা প্রতিহত প্রেমের দিনে, কিংবা একলব্যের সাধনায় যখন উচ্চশিক্ষার দরজায় পৌঁছনোর  নিয়ত চেষ্টা করে চলেছি, সেই  সব রৌদ্রময় প্রহরে আপনার লেখা   বর্ণ-পরিচয় নামক পুস্তকটির মলাটে  ছাপা আপনার  দৃঢ বদ্ধ ওষ্ঠের গম্ভীর  মুখশ্রী সম্বলিত  ছবিটির কথা মনে করে আপনাকে আমার একই রকম সুদর্শন পুরুষ মনে হয়েছে। তখন হয়ত স্পষ্ট অনুভব করিনি, আজ বুঝি এ সৌন্দর্য-বোধের  উৎসে রয়ে গেছে   যুক্তি  নিরপেক্ষ  এক শ্রদ্ধার  ছবি, যা  এঁকে দিয়েছিলেন আমার পূর্বসূরীরা,  পরিবারের মানুষ-জন, বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা।  সেই শ্রদ্ধার কারণ বা মাপকাঠি তখন চিনতাম না, আজ বুঝি, মাপকাঠি একটাই, রবীন্দ্রনাথের ভাষায়  আপনার  অজেয় পৌরুষ আর অক্ষয় মনুষ্যত্ব।

আসলে আপনি তো আমাদের প্ৰপিতামহী, পিতামহী, আরো কত সহস্র মেয়েদের জীবনে  সেই উজ্জ্বল আলোক স্তম্ভ,  আরো স্বচ্ছ ভাবে বলতে হলে আপনি মেয়েদের জীবনে ছিলেন সেই স্বাবলম্বনের স্বপ্ন ছোঁয়া জাদুকাঠি, যা চিনে  নিতান্ত সাধারণ বালিকাটিও স্বপ্ন দেখতে শিখে ছিল।  আপনার লেখা শিশুপাঠ্য  পুস্তক বা প্রাইমারী বর্ণ- পরিচয়ে গোপাল, রাখাল, নবীন, যাদবদের সঙ্গে আমাদের জায়গা আপনি  দেননি।  কেন দেননি? আপনিই তো মেয়েদের লেখা পড়া শেখানোর জন্য এত ব্যাকুল হয়েছেন, বাংলার জেলায় জেলায় কত স্কুল গড়ে দিয়েছেন, বেথুন  স্কুলের  প্রতিষ্ঠা লগ্নে  অগ্রণী ভূমিকা  নিয়েছেন। তাহলে?   হয়তো  ভেবেছেন মেয়েদের সতী দাহ প্রথা রদ হয়েছে, বিধবা বিবাহ আইন করে শুরু হয়েছে, বহু বিবাহ বন্ধের জন্য কত আয়োজন শুরু হয়েছে।

এবার তাহলে অপার শক্তিময়ী মেয়েরা নিজেদের জায়গা নিজেরাই অর্জন করবে, পাঠ্যপুস্তকের পাতায় পাতায় অথবা জীবনের পথে।  কতকাল আগে আপনিই তো শিখিয়েছেন বিজ্ঞান নির্ভর শিক্ষার কথা। ক’জন বাঙালি জানে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনো না করেও আপনি কী  অপরিসীম বিজ্ঞান মনস্ক ছিলেন, বিদ্যালয় স্তরে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞা্নের চর্চার জন্য   এবং  বিজ্ঞানীদের  জীবনী জানানোর জন্য কত লেখা  লিখেছেন, বিদেশী শাসকদের সঙ্গে, কত  লড়াই করে গেছেন, তৈরি করেছেন বাংলায় বিজ্ঞানের সার্থক পরিভাষা। মাত্র একাত্তর বছরের জীবনে আপনি অনেক কিছু দেখে যেতে পারেন নি। ভাগ্যিস!

আপনি পুরাণের মুনি ঋষিদের মত দুশ বছর বেঁচে থাকেন নি। থাকলে দেখতেন আপনার প্রিয় বাংলাদেশে বিধবা- বিবাহ এখনো প্রায় ব্রাত্য। প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত মেয়েদের আত্মসম্মানের দীক্ষা দেওয়া হয়না। সমাজ চায়না, পরিবার ও কি  চায়? নিজেরাও  তারা সেই  চাওয়ার কথা সাহস করে ভাবতে পারেনা।  মেয়েরা মাথা উঁচু করে বাঁচুক, সেই  সত্য তাদের কাছের মানুষেরা  যদি তেমন করে চাইত , তাহলে হয়তো তাদের শ্বশুর ঘরে  আত্মহত্যা করতে হোত না, বা কেউ তাদের পুড়িয়ে মারতনা। 

প্রাচীন  সতীদাহ প্রথা এভাবেই নব কলেবরে ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে।   তাই এখনো নারী,  গার্হস্থ্য হিংসা,  পণপ্রথার বলি হয়, তারা বিশ্বাস করে সংসারে সব ধরণের অসম্মানের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার নাম প্রকৃত  নারীত্ব।  বিপনণ-কেন্দ্রিক  গণ মাধ্যম গুলিতে ঘটা করে দেখানো হয়  সেই নির্দয় , নির্লজ্জ নারী নির্যাতনের চিত্র।  কে আর আছে আপনার মত যে সব  ধরণের নীতিহীনতার বিরুদ্ধে গর্জে উঠে বলবেন, “ওগো দয়া করে আমার দুশ বছরের জন্মদিনে অযথা আড়ম্বর না দেখিয়ে নারীজাতিকে আরেকটু সম্মান করতে শেখো, দেবী জ্ঞানে যত্র তত্র তাদের পুজো না করে   মানুষ হিসেবে তাদের স্বীকৃতি দিয়ে নিজেদের সভ্যতার বনিয়াদটিকে মজবুত করো। নিজের মাতৃভাষাটাকে একটু ভাল করে চেনো, জানো, আরো একটু সম্মান বোধ করি তার পাওনা আছে।  প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের জ্ঞানের সংশ্লেষে আমার স্বপ্নের ভারত কে সারা বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দাও।”   

জীবনের উপান্তবেলায়  ভারতবর্ষের ইতিহাস আপনি লিখতে চেয়েছিলেন। লেখার অজস্র রসদ  জোগাড় করেছিলেন।  কিন্তু জীবন আপনাকে সে সুযোগ দেয়নি।  সে ইতিহাস লেখা হলে কি  আমরা  করতাম, কি ভাবতাম সে কথা না হয়  আপাতত থাক।

এবছর, আপনার  দু’শ বছরের  জন্মদিনের প্রাক্কালে “ বর্ণ –পরিচয়” গ্রন্থটি  আবার নতুন করে ছাপা হল, বিতরণ করা হল কলকাতার  সুশীল সুভদ্র সমাজে। কী আশ্চর্য! আমাদের দেশের এত পন্ডিত, সংস্কৃত, বাংলায় এত তাদের ব্যুৎপত্তি, তবু কেউ আপনার লেখার যথাযোগ্য মান্যতা দিয়েই  আধুনিকীকরণে এগিয়ে এলেন না । কেন ? আপনার প্রতি অপার শ্রদ্ধায়? নাকি অনিঃশেষ উপেক্ষায়। জীবিত অবস্থায়  আপনার  বর্ণ পরিচয়ের অজস্র সংস্করণ হয়েছে,  আর বারে বারে আপনি তার  সযত্ন পরিমার্জনে ব্যস্ত হয়েছেন। এখন আপনার অনুপস্থিতিতে  যুক্তি-নিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক মনোভাব  আশ্রয় করে পরিমার্জনার কাজটি কি নেহাত অসম্ভব ছিল? একটা উদাহরণ দেওয়া যাক ,  বর্ণের পরিচয় করাতে আপনি দেড়শ বছরেরও বেশি আগে লিখেছিলেন “ত”- এ তিমি মাছ। আধুনিক ছাত্রের বর্ণ পরিচয়ে   আপনার  প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই  এখন কিন্তু “ত”- -এ তিমি মাছ লেখার  বিষয়টি সংশোধন করাই  যেত । কারণ তিমি মোটেই মাছ নয়, একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী বিশেষ। আপনার জীবদ্দশায় এই  তথ্য প্রচারিত হলে আপনি নির্ঘাত   শিক্ষার্থীর স্বার্থে সংশোধন করেই ছাড়তেন। তা না হলে মাত্র আঠারো বছর বয়সে সংস্কৃত কলেজের ছাত্র আপনি কি করে ভূগোল বিষয়ক শ্লোক রচনায় সদ্য আবিষ্কৃত ইউরেনাস গ্রহের কথা লিখলেন? গ্রামের  দরিদ্র পণ্ডিত বংশের ছেলে আপনি,  অত অল্পবয়সে অত আধুনিকমনা মানুষ কী  করে   যে  হয়ে উঠেছিলেন!

তবু কিছু প্রশ্ন থেকেই যায় । কে দেবে এর উত্তর?  সমকালের প্রেক্ষিতে যথেষ্ট আধুনিকমনা  হয়েও এত কোমল মন আপনার। দুঃখী মানুষের    জন্য সারাজীবন প্রাণপাত করেছেন, বিশেষত নারী-জাতির কষ্টে আপনার মন সদাই বিচলিত থাকত।

খুব জানতে ইচ্ছে করে চোদ্দ বছর বয়সে বাবার নির্দেশে যে  বালিকাটিকে জীবন সঙ্গিনী করতে হয়েছিল, তার জন্য আপনার জীবন ব্যাপী কর্ম সাধনায়  কতটুকু প্রহর ব্যয় করেছিলেন? যখন বীরসিংহ গ্রামে আপনার নিজস্ব নারীটি  কিশোরী থেকে যুবতী হয়ে উঠছে,  সন্তান জন্ম না দেওয়ার অপরাধে  পল্লী সমাজে নিয়ত নিন্দিত হয়ে  চলেছে,  আপনি তখন সংস্কৃত কলেজে  মেধাবী নিবিষ্ট ছাত্র। অধ্যয়ন, অধ্যাপনার জোয়ারে  আপনাদের যৌথ বসন্তদিনগুলো বার বার ফিরে গেছে। স্ত্রী দীনময়ী  একের পর এক সন্তানের জন্ম দিয়ে গেছেন,

আপনার  সাধনায় কিন্তু  ভাটা পড়েনি। আপনার জীবনীকারদের রচনায়   স্ত্রী- পরিবৃত গৃহস্থের ভূমিকায় আপনাকে  কখনো দেখা যায়নি, স্ত্রীকে  শিক্ষার প্রথম পাঠ টুকুও তেমন করে দিতে  পারেন নি,  কিছুটা  সম্ভবত পারিবারিক বি্রোধিতার কারনে (সেও নাকি নিদারুণ মাতৃ- আজ্ঞায়)। রবীন্দ্রনাথের সেই গানের কলিগুলো খুব মনে পড়ছে— 

পড়োনি কাহার নয়নের ভাষা/ বোঝোনি কাহার মরমের আশা/ দেখোনি ফিরে কার ব্যাকুল প্রাণের সাধ/ এসেছ দলে …” 

আপনার  তীব্র সংবেদী হৃদয় , অসম্ভব সমবেদনায় আকীর্ণ  মন কি দীনময়ীর জন্য কখনো  তেমন ব্যাকুল হয়েছে? কে জানে! যে মানুষ সীতার বনবাস গ্রন্থে   এত মধুর কোমল ভাষা প্রয়োগ করেছেন, তাঁর অন্তরের নিভৃত পথে নিরুচ্চারিত প্রেম কিছুই কি একেবারে  ছিলনা? না হলে স্ত্রীর মৃত্যুশয্যায় তাঁর অনুরোধে কেন  নিজে্র সিদ্ধান্তে অটল  আপনি কুলাঙ্গার আত্মজকে ক্ষমা করেছিলেন,  কেন আদ্যন্ত ঈশ্বর -বিমুখ  আপনি শ্রদ্ধা সহকারে স্ত্রীর পারলোকিক কাজ  না করে পারেন নি?

আজকের সারস্বত সমাজে  বিস্তর  মধ্য-মেধার ভিড়ে হারিয়ে গেছে শিক্ষার  মূল লক্ষ্য। আপনার  শিক্ষা ভাবনায়, শিক্ষা সংস্কারে যে অপ্রমেয় অনুধ্যান এবং প্রখর ব্যক্তিত্ব ছিল, শিক্ষা প্রশাসক আপনি যে অহংকারে মাত্র আটত্রিশ  বছর বয়সে মোটা মাইনের সরকারী চাকরি ছেড়ে বাকি জীবনখানা শিক্ষার বিস্তারে ব্যয় করেছেন,  সংস্কৃত ভাষার  দাসত্ব থেকে বাংলা ভাষাকে মুক্ত করে বাংলা গদ্যের  নিজস্ব জগত তৈরি করে দিয়েছেন, সে কথা কতটা আমরা মনে রেখেছি?   পরাধীন দেশে  সরকারি  সাহায্য ছাড়া, ব্রিটিশ অধ্যাপক ছাড়া ইংরেজি ভাষায় শিক্ষিত একটি তরুণ সম্প্রদায় তৈরি করে দিয়েছিলেন মেট্রোপলিটন কলেজ প্রতিষ্ঠা করে। আপনি সে কালের মানুষকে মহাজীবন সাধনার পাঠ দিয়েছেন একাধিক মানুষের জীবনী রচনা করে। তবু আপনার মূর্তি ভাঙ্গা হয় বারে বারে। কখনো  কিছু উন্মত্ত  রাজনীতির পৃষ্ঠ পোষকতায়, কখনো  অজ্ঞান, কূপমণ্ডূক কিছু মানুষের ভ্রান্ত অবিমৃষ্যকারিতায়। তারা আপনার জীবনবেদ জানেনা, জানেনা সিপাই বিদ্রোহের সময় সংস্কৃত কলেজে যুদ্ধের সাজ সরঞ্জাম রাখার অনুমতি আপনি দেননি, জানেনা  সমসাময়িক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অক্ষয় কুমার দত্তের মত কৃষক সংগ্রামে  প্রত্যক্ষ ভাবে সম্পৃক্ত হওয়া আপনার মত  আদ্যন্ত শিক্ষাসংস্কারকের মানসিকতায় সম্ভব ছিলনা। আপনি দারিদ্র চিনতেন ,  সমাজের মানুষের কষ্টে নিজের ব্যক্তিগত চাহিদাকে তুচ্ছ করেছেন,  কিন্তু  ধর্ম এবং রাজনীতি বিষয়ে সমান উদাসীন  আপনার পক্ষে  সারা দেশের অজস্র মানুষের  বিচিত্র যন্ত্রণার ভার নেওয়া  সম্ভব ছিলনা।

এই তিমির ঘেরা  সংশয় দীর্ণ প্রহরে  আপনার মত একজন  মাথা উঁচু করা অভিভাবকের খুব দরকার। যার মধ্যে আমরা  মেয়েরা গচ্ছিত রাখতে পারব  অনশ্বর প্রেম আর আপামর ভারতবর্ষের মানুষ  প্রত্যক্ষ করতে পারে একটি প্রকৃত মানুষকে।

কল্পলোকের পৃথিবীতে তাই আপনার উদ্দেশে উড়িয়ে দিলাম এই চিঠি। পৌঁছক বা না পৌঁছক, আশীর্বাদ করুন যেন শুধু দুইশ বছরের জন্মদিনে  নয় আপনার প্রতিটি জন্মদিনে আপনার অনুকরণীয় অস্তিত্ব আমাদের সত্তায় লগ্ন থাকুক।

আমার দেশের মাটিতে আভূমি প্রণত হয়ে আমৃত্যু  আপনার আদর্শকেই  যেন শিরোধার্য করতে পারি।

বিনয়াবনত

একুশ শতকের  এক  নারী

One thought on “শ্রীচরনষেু বিদ্যাসাগর মহাশয়

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত