ছয়ফুল পাগলা আর তার পঙ্গু ছেলে

বলতে চাইলেই বলে ফেলাটা সহজ নয় পুত্র স্নেহে অন্ধ ছয়ফুল পাগলা কী করে একদিন নিজের হাতে কাটা পাঁচ ভাইয়ের যৌথ পুকুরের জল থেকে প্রান প্রিয় পুত্রের নিথর দেহ তুলে এনেছিলো পুত্রের পূর্ণ যৌবনে। আজন্ম পঙ্গু পুত্রকে জন্ম থেকে কাঁধে নিয়ে ঘুরলেও ছয়ফুল পাগলা সেদিন পাঁজাকোলা করে পুত্রের জলসিক্ত দেহ তুলে এনে দাঁড়িয়েছিল বাড়ির উঠোনে বউয়ের সামনে।

বউ আনিসরে … বলে এক চিৎকার দিয়ে ঢলে পড়েছিল উঠোনে ছড়ানো ধানের ওপর। পাগলা ছয়ফুল তখনো পুত্র কোলে দাঁড়িয়ে। পিতা পুত্রের গা বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরছে। ভিজে যাচ্ছে পুত্রের হামাগুড়ি দিয়ে বেড়ানো উঠানের মাটি। নিথর পুত্র আনিসের ভেজা চোখ তখনো আধখোলা। যেন বাবার কোলে নিবিড় ঘুমে আচ্ছন্ন পুত্র স্বপ্ন দেখছে।

আটপৌরে শাড়ি পরা লজ্জারাঙা বউ এসে রোজ সকালে তাকে ডেকে দিচ্ছে, ঘর ঝাট দিচ্ছে, ধান শুকোতে দিচ্ছে ঠিক মা যেমন করে রোজ। লোকে যাকে ছয়ফুল পাগলা বলে জানে সে নিথর পুত্রের দিকে তাকালে শুনতে পায় ‘আব্বা আমি বিয়া করমু’ রাগে দিকবিগিক হারিয়ে ধপাস করে নামিয়ে রাখে পুত্র দেহ। শালা ন্যাংড়া, তোরে বউ দিবো কেডা?

সেদিন সন্ধ্যায় পুত্র আনিসের কবরে মাটি দিয়েছিলো ছয়ফুল পাগলা। লোকে যারে খ্যাপায় এক ফুল, দুই ফুল, তিন ফুল, চার ফুল, পাঁচ ফুল এক্কেবারে ছয়ফুল ।

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত